November 17, 2018

ট্রাম্পের অনুষ্ঠানে ‘বাংলাদেশের ক্যাপ’ নিয়ে মিশ্র প্রতিক্রিয়া

ডেস্ক রিপোর্টঃ অভিষেক বক্তৃতাতেও কট্টর জাতীয়তাবাদী মতাদর্শের প্রতিফলন ঘটিয়ে নেটিভ আমেরিকানদের সঙ্গে অন্যদের পার্থক্য করেছেন ট্রাম্প। ‘বাই আমেরিকা, হায়ার আমেরিকা’ শ্লোগানে বিভক্ত করেছেন জাতিকে, বুঝিয়ে দিতে চেয়েছেন ‘বাই আমেরিকা’ তথা নেটিভ আমেরিকানরা বেশি সুযোগ সুবিধা পাবে তার কাছে। তবে সেই অভিষেক বক্তৃতা শুনতে আসা ট্রাম্প সমর্থকদের কেউ কেউ হঠাৎই আবিস্কার করেন, আমেরিকান শ্রেষ্ঠত্বের যে সব টুপি পড়ে তারা ট্রাম্পের বক্তৃতা শুনছেন, সেই টুপিগুলো বাংলাদেশ-ভিয়েতনাম-চীনে বানানো। আমেরিকান শ্রেষ্ঠত্বের সংরক্ষণশীল নীতির প্রচারণা হচ্ছে ভিনদেশে বানানো টুপিতে, এতে তাদের কারও কারও স্বপ্নভঙ্গ হয়। তারা এক স্ববিরোধী বাস্তবতার সম্মুখীন হন। কেউ কেউ আবার বিষয়টি নিয়ে ভাবতে চান না। বোঝেন না, এতে কী সমস্যা। সবমিলে এ নিয়ে মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা যায় সমর্থকদের মধ্যে।

ব্রিটিশ বার্তা সংস্থা রয়টার্সের এক প্রতিবেদনে উঠে এসেছে এইসব কথা। তারা লিখেছে, অভিষেক বক্তৃতায় ‘বাই আমেরিকা হায়ার আমেরিকা’ বলে ডোনাল্ড ট্রাম্প তুমুল হাততালি কুড়োলেও, ‘মেইক আমেরিকা গ্রেট ইগেইন’ খচিত টুপিতে বাংলাদেশ, চীন আর ভিয়েতনামের নাম দেখে হতাশ হয়েছেন তার সমর্থকরা। তবে দাবির পক্ষে যথাযথ তথ্যপ্রমাণ হাজির করতে সক্ষম হয়নি রয়টার্স। তারা যে সব সমর্থকদের সাক্ষাৎকারের ভিত্তিতে প্রতিবেদনটি তৈরি করেছে, সেই সাক্ষাৎগুলোতে মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা গেছে।

‘মেক আমেরিকা গ্রেট এগেইন’ স্লোগানকে নির্বাচনি প্রচারণার অস্ত্র করেছিলেন ট্রাম্প। তার এই মহান আমেরিকা দিয়ে তিনি সেই কলম্বাসের আবিষ্কৃত আমেরিকাকে বুঝিয়ে থাকেন; যা শ্বেতাঙ্গ আাধিপত্যেরই নামান্তর। কালজয়ী ঐতিহাসিক হাওয়ার্ড জিন তার ‘পিপলস হিস্টরি অব আমেরিকা’য় লিখেছেন কিভাবে আদিবাসীদের ওপর হত্যা-নির্যাতন চালিয়ে, তাদের সম্পদ লুণ্ঠন করে এই কথিত আমেরিকায় শ্বেতাঙ্গ আধিপত্য কায়েম করা হয়েছিল আর তার নাম দেওয়া হয়েছিল আমেরিকা আবিষ্কার। সেই শ্বেতাঙ্গ আধিপত্যের রাজনীতির বিপরীতে বিভিন্ন জাতি-গোষ্ঠী ও শ্রেণি-পেশার মানুষকে স্থাপন করেছেন ট্রাম্প। তাদের মধ্যকার বিভক্তিকে সামনে আনতে চেয়েছেন।

মেক্সিকোর সীমান্ত নয় কেবল, মানুষের মনের মধ্যে থাকা বিভক্তির দেয়ালকে উসকে দিতে চেয়েছেন তিনি। বিভক্তির সূত্র ব্যবহার করে নেটিভ আমেরিকানদের জন্য চাকরির বাজার এবং ব্যবসার সুযোগ উন্মুক্ত করার আশ্বাস দিয়ে নভেম্বরের নির্বাচনে জয়ী হন তিনি।কট্টর জাতীয়তাবাদের আলোকেই নির্বাচনী প্রচারে অভিবাসীদের বিরুদ্ধে কথা বলেছিলেন তিনি; বলেছিলেন মার্কিন বাজারে চীনের একাধিপত্য নিয়েও।শুক্রবার অভিষেকের ভাষণেও সেই আলোকে আমেরিকান পণ্য কিনতে এবং চাকরিতে নিজের দেশের নাগরিকদের নিতে ব্যবসায়ীদের আহ্বান জানান ট্রাম্প।

ওয়াশিংটনে কনকনে শীতের মধ্যে ট্রাম্পের বক্তব্য যখন নেটিভ আমেরিকান সমর্থকদের একটুখানি উষ্ণতা দিয়েছে, তখনই তারা আবিস্কার করেন স্ববিরোধিতা। যে সব টুপি তারা পড়ে আছেন, সে সব টুপিতে লেখা ‘মেক আমেরিকা গ্রেট এগেইন’। কিন্তু সেগুলো ভিনদেশে বানানো। কোনটা ভিয়েতনামে, কোনওটা চীনে আর কোনওটা আবার বাংলাদেশে। রয়টার্স বলছে, সমর্থকরা নতুন প্রেসিডেন্টের ট্রেডমার্ক হিসেবে পরিচিত ‘মেইক আমেরিকা গ্রেইট এগেইন’ লেখা লাল টুপিগুলো ভিনদেশে তৈরি দেখে হতাশ হয়েছেন সমর্থকরা। যদিও তাদের প্রতিবেদনেই হতাশ না হওয়া সমর্থকদের কথাও উঠে এসেছে।

হতাশ সমর্থকদের একজন ৪৪ বছর বয়সী রব ওয়াকার। স্ত্রীকে সঙ্গে করে জর্জিয়া থেকে রাজধানীতে এসেছিলেন প্রিয় নেতার অভিষেক বক্তৃতা শুনতে। পথে গাড়ি থামিয়ে কিনে নেন আমেরিকাকে পুনরায় শ্রেষ্ঠ বানানোর প্রতিজ্ঞা সমন্বিত টুপিটি। রয়টার্সের প্রতিবেদকের কাছে তার প্রশ্ন, ‘নিশ্চয়ই এটি চীন বানায়নি’, নিজেই নিজেকে বলছিলেন। টুপির ভেতরটা পরীক্ষা করে দেখছিলেন ওয়াকারের ৩৬ বছর বয়সী স্ত্রী অ্যাবি। খানিক পরেই চুপসে গিয়ে বললেন, ‘চীন!’।

শপথের দিন ওয়াশিংটনের রাস্তায় মাত্র ২০ ডলারে বিকোচ্ছিল ওই টুপিগুলো। রয়টার্সের প্রতিবেদন অনুযায়ী, এর বেশিরভাগই বাংলাদেশ, চীন বা ভিয়েতনামের কারখানাগুলোতে বানানো। ট্রাম্পের ওয়েবসাইটে থাকা টুপিগুলোর চেয়ে এগুলোর দাম কম হওয়ায় সমর্থকরাও এগুলোতেই ঝুঁকছিলেন। ওয়েবসাইট থেকে কিনলে টুপিগুলোর দাম পড়ছে ২৫ থেকে ৩০ ডলার। আর বাজারের টুপিগুলো সস্তা হলেও ভিনদেশে বানানো। তাই ‘মেক আমেরিকা গ্রেট এগেইন’ নামের যে শ্লোগানে তারা সুন্দর ভবিষ্যতের স্বপ্ন দেখছেন তা আহত হয়। তবে সব সমর্থকের বেলায় এটা বাস্তব নয়। কেউ কেউ ভিন্ন কথাও বলেছেন।

এমনই একজন ট্রাম্প সমর্থক এলিস। তিনি এসব নিয়ে ভাবছেন বলে মনে হয় না। এই টুপি কি আমেরিকায় বানানো? রয়টার্স প্রতিবেদকের এমন প্রশ্নের জবাবে এলিস টুপি খুলে বললেন, ‘ঠিক জানি না, এটি কোথায় বানানো’। একটু পরেই বলে উঠলেন, ‘এটা তো দেখছি ভিয়েতনামের’।

২২ বছর বয়সী আরাকোর বাস আরকানসোতে। ট্রাম্পের সিগনেচার হ্যাট পরেই তার অভিষেক দেখতে ওয়াশিংটনে আসেন তিনি। বললেন, ট্রাম্প জেতার পরপরই হ্যাটটি কেনেন তিনি। ‘তার ওয়েবসাইট থেকে কিনেছি; আমি চেয়েছি যেন এর মাধ্যমে তার তহবিলেও খানিকটা সাহায্য করা যায়; আমি ধরা খেতে চাইনি। এজন্য পরিবহন ব্যায়সহ ৩০ ডলারেই হ্যাটটি কিনে নিয়েছি।’
উৎসঃ banglatribune

Related posts