September 21, 2018

ট্রাফিক আইন চলে পুলিশ টোকেনে! বন্ধ হচ্ছে না টোকেন ব্যবসা

received_497982667328378বিশ্বনাথ (সিলেট) প্রতিনিধি :: সিলেটরে মহাসড়কে বন্ধ হচ্ছে না পুলিশের টোকেন ব্যবসা। বন্ধ হচ্ছে না অধৈ যানচলাচল ও সড়ক দূর্ঘটনা। রোডপারমিট ছাড়া ছোট যানবাহন চরাচলের ফলে অহরহ ঘটছে প্রাণহানী।

আইন সবার জন্য সমান! এই স্লোগান সামনে রেখে গত ৬ আগষ্ট থেকে চলছে ট্রাফিক সপ্তাহ। নিরাপদ সড়ক আন্দোলনের দাবি পূরণ করতে নতুন আইন তৈরী হচ্ছে। ইতিমধ্যেই মন্ত্রী সভায় প্রস্তাব পাস করা হয়েছে। আগামী সংসদ অধিবেশনে প্রস্তাব টি পাস করা হবে।

যে আইন নিয়ে ছাত্র আন্দোলন করা হচ্ছে, তার মধ্যে অন্যতম ড্রাইভিং লাইসেন্স, গাড়ির ফিটনেস, রোড পারমিট।

এগুলো দেখার দায়িত্ব ট্রাফিক পুলিশের। কিন্তু এই ড্রাইভিং লাইসেন্স, ফিটনেস, রোড পারমিট পরিবর্তে প্রতি মাসে ৫শত-১২শত টাকার “স্টিকার” (পুলিশ টোকেন) বিক্রি করাচ্ছে ট্রাফিক পুলিশ। তাদের নির্দিষ্ট বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের নামে স্টিকার গাড়ির সামনের গ্লাসে লাগানো হলে ট্রাফিক সার্জেন্ট সিগন্যাল করবে না। এই স্টিকার ক্রয় করলে গাড়ির কাগজপত্র ও চালকের লাইসেন্স না হলে চলবে। রেজিস্টেশন হউক বা নাইবা হউক স্টিকার থাকতে হবে। যদি কোন চালক এই স্টিকার না ক্রয় করেন- তাহলে যতই বৈধ্য কাগজপত্র হউক , তাকে হয়রানির স্বীকার হতেই হবে। এই স্টিকার এর জন্য একেক লাইনে এক একজন দায়িত্ব পালন করছেন।
ট্রাফিক পুলিশ যেকোন গাড়ি দাড় করিয়ে ১০ টাকা থেকে হাজার টাকা আদায় করতে দেখা যায়।

অনুসন্ধানে দেখা যায়- সিলেট জেলায় বিভিন্ন রোডে প্রতিটি অটোরিকশা গাড়ির সামনের গ্লাসে বিভিন্ন নামের স্টিকার রয়েছে। যেমন- দৈনিক আজকের জনবাণী, ইউনিটি ফর ইউনিভার্স হিউম্যান রাইটস্ অফ বাংলাদেশ ফাউন্ডেশন, দক্ষিণ সুরমা ভূইয়ার পাম্প ভার্থখলা, দক্ষিণ সুরমা সিলেট, “T” SA-10 ইত্যাদি। একেক লাইনের জন্য একেক ধরনের স্টিকার করা হয়েছে। প্রতি মাসে এই স্টিকারের রং এবং মার্কা বদলি করা হয়। অনেক স্টিকারে তারিখ ও মাসের নাম উল্লেখ করা থাকে। আপনারা লক্ষ্য করে দেখবেন- একি নামের স্টিকারের মধ্যে কখনো বিশ্বকাপ, কখনো আপেল, কখনো কবুতর প্রতীক দেখা যায়।

এসব স্টিকার (পুলিশ টোকেন) লাগানো গাড়ি কখনো ট্রাফিক সার্জেন্ট সিগন্যাল করবে না। কারণ- এই স্টিকারের মালিক প্রতি মাসে ট্রাফিক সার্জেন্ট ও উচ্চ পদস্থ কর্মকর্তা কে বড় অংকের টাকা দিয়ে আসছে। ওদের সাথে অনেক সাংবাদিক ও রাজনীতি নেতা জড়িত রয়েছেন। যার কারণে- তাদের দেওয়া স্টিকার ওয়ালা গাড়ি ধরতে পারবেন না। বিশ্বরোড সহ তাদের দেওয়া নির্দিষ্ট সীমানায় গাড়ি চালাতে পারবে।

ক্রেতা হয়ে এই স্টিকার গুলোর মালিক- সাংবাদিক শামীম ও আছাব এর সাথে মোবাইলে কথা বলে তার সত্যতা পাওয়া যায়।

প্রথমে দক্ষিণ সুরমা ভূইয়ার পাম্প ভার্থখলা স্টিকারের মালিক আছাবের সাথে যোগাযোগ করলে- তিনি অফিসে যাওয়ার কথা বলেন।
দ্বিতীয়ত সাংবাদিক শামীমের সাথে মোবাইলে যোগাযোগ করলে, তিনি জানান- ১২ শত টাকা দিয়ে ১ মাসের জন্য একটি স্টিকার দেওয়া হয়। যদি নিতে চান, তাহলে বিকাশে টাকা পাঠাতে হবে। পরে বিশ্বনাথ একটি দোকান থেকে স্টিকার সংগ্রহ করতে হবে। ঐ দোকানে ফোন করে জানিয়ে দিবেন। তিনি আর বলেন- যদি সার্জেন্ট গাড়ি ধরে- বড় ভাই সাংবাদিক শামীমের গাড়ি বলে দিলে সার্জেন্ট গাড়ি ছেড়ে দিবে।

তবে দৈনিক আজকের জনবাণী সম্পাদক মোস্তফা কামালের সাথে মোবাইলে যোগাযোগ করলে, প্রথমে বলেন- এই স্টিকার আমার ছোট ভাই দিতে পারে। পরে আমাকে চিনে পেলার পর বলেন- স্টিকার বিক্রির বিষয়ে আমি কিছু জানিনা। তবে এরকম স্টিকার বিক্রি করছে হাইওয়ে পুলিশ সহ অনেকে সার্জেন্টের নাম প্রকাশ করেন।

সরেজমিনে দেখা যায়- দৈনিক আজকের জনবাণী, ইউনিটি ফর ইউনিভার্স হিউম্যান রাইটস্ অফ বাংলাদেশ ফাউন্ডেশন স্টিকারের মধ্যে মোস্তফা কামাল ও শামীমের মোবাইল নাম্বার রয়েছে।

অটোরিকশা মালিক ও চালকের মধ্যে অনেকে জানান- এই সব স্টিকার না হলে বিশ্ব রোড ও শহরে গাড়ি চালানো যায় না। তাই প্রতি মাসে ৫শত টাকা থেকে ১২শত টাকা দিয়ে দালাল দের মধ্যে স্টিকার কিনে নিতে হয়। তাহলে নিশ্চিন্তে গাড়ি চালানো যায়। আর কোন ট্রাফিক বা সার্জেন্ট আমাদের কে সিগন্যাল করবে না।

আমাদের সিলেট জেলায় প্রায় ৪০ হাজার অটোরিকশা আছে। বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন কর্তৃপক্ষ (বিআরটিএ) সিলেট অফিস থেকে জানা যায়- ২১ হাজার ২৩২ টি অনটেস্ট রয়েছে। তালিকা ভুক্ত ছাড়া তো আরো অনেক রয়েছে। যদি গড় ২৫ হাজার অটোরিকশা ১ হাজার টাকা করে একটি স্টিকার ক্রয় করে, তাহলে প্রতি মাসে আড়াই কোটি টাকা হাতিয়ে নিচ্ছে ট্রাফিক সার্জেন্টের কর্মকর্তারা।
এখন আসি আমাদের সিলেট বিভাগে ৪ টি জেলায় এক থেকে আড়াই কোটি টাকা করে হলে ৮-১০ কোটি টাকা হাতিয়ে নিচ্ছে ট্রাফিক সার্জেন্ট সহ তাদের সহচরা।

এদিকে অটোরিকশা যদি রেজিস্টেশন করার সুযোগ থাকতো, তাহলে সিলেট জেলায় ২১ হাজার ২৩২ টি গাড়ি থেকে সরকার রাজস্ব পেতো প্রতি গাড়ি থেকে প্রায় ১৫-১৮ হাজার টাকা করে। সাথে প্রতি বৎসরে রোড পারমিট বাবত ৭-৯ হাজার টাকা করে। অতএব সরকার কয়েক শত কোটি টাকা থেকে বঞ্চিত হচ্ছে সরকার। সারা বাংলাদেশ থেকে সরকার একদিকে রোড পারমিট, ফিটনেস, ড্রাইভিং লাইসেন্সের রাজস্ব থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন কয়েক হাজার কোটি টাকা হতে পারে?

সরকার এই সব গাড়ি রেজিস্টেশন বন্ধ করায় যেমন অটোরিকশা গাড়ির মালিকরা চরমভাবে ভোগান্তি করছেন। মধ্যভাগে শত কোটি টাকা হাতিয়ে নিচ্ছে একটি চক্র। দেখার যেন কেউ নেই

Related posts