November 19, 2018

টিকিটের দুর্ভোগ কমলেও কাটছে না পথের শঙ্কা

ঢাকাঃ  দুইটি ‘দুর্ভোগ’ সঙ্গে নিয়ে মানুষ ঈদে ঘরে ফেরে। একটি আগাম টিকিটি প্রাপ্তি এবং পথের দুর্ভোগ। কিন্তু এবারে টিকিট প্রাপ্তির দুর্ভোগ লাঘব হয়েছে। কিন্তু রইল পথের। কিন্তু সংশ্লিষ্ট দফতর ও পুলিশ জানিয়েছে, পথে এবার দুর্ভোগ হবে না। কিন্তু পরিবহন মালিক ও শ্রমিকরা জানিয়েছেন, সব ভালো যার শেষ ভালো তার। যাত্রীদের সময় মত তাদের গন্তব্যে পৌঁছে দিতে পারলেই এটা নিশ্চিত করে বলা যাবে, পথে ভোগান্তি হয়নি। অপরদিকে গতকাল পর্যন্ত রমজানকে ঘিরে রাজধানীতে আইন অবনতির মত তেমন কোন ঘটনা ঘটেনি। তবে অজ্ঞান পার্টির দৌরাত্ম্য কিছুটা বেড়েছে। উল্লেখ্য,বাস, ট্রেনের আগাম টিকিটি বিক্রি শেষ হয়েছে। লঞ্চের টিকিট বিক্রি চলছে। তবে অন্যান্য বারের তুলনায় লঞ্চে যাত্রী চাপ অনেক কম।

পুলিশ সদর দফতর থেকে জানানো হয়েছে,  ট্রেন বাস ও লঞ্চ যাত্রীদের নিরাপত্তায় ব্যাপক প্রস্তুতি (মহা আয়োজন) নেয়া হয়েছে। তারই ধারাবাহিকতায় টিকিটি বিক্রির আগেই ট্রেন, বাস ও লঞ্চঘাটে নিরাপত্তা জোরদার করার জন্যই টিকিট কালোবাজারি হয়নি।

সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের জানিয়েছেন, ঈদে ঘরমুখো যাত্রীদের যাতায়াত নির্বিঘ্ন ও নিরাপদ করতে সরকার বিভিন্ন ব্যবস্থা গ্রহণ করেছে। যানজট নিয়ন্ত্রণে রাখতে ১৪টি পয়েন্টে ১ হাজার স্বেচ্ছাসেবক নিয়োজিত থাকবে। ঈদের আগে ৫ দিন স্বেচ্ছাসেবকগণ ট্রাফিক পুলিশকে পরিবহন ব্যবস্থাপনায় সহায়তা করবে ।

যানজট নিরসনে পবিত্র ঈদের আগের ৩ দিন ও পরের ৩ দিন সকল মহাসড়কে ট্রাক, কাভার্ড ভ্যান ও লরি চলাচল বন্ধ থাকবে। ঢাকা মহানগরীতে প্রবেশ ও বহির্গমন মুখসমূহ যানজটমুক্ত রাখা হবে। ঈদের ১০ দিন আগে থেকে সড়কের খোড়াখুড়ি বন্ধ থাকবে। বঙ্গবন্ধু সেতু, মেঘনা সেতু ও গোমতী সেতুসহ সকল গুরুত্বপূর্ণ সেতুর টোল বুথ ২৪ ঘণ্টা চালু রাখা হবে।

বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন সমিতির মহাসচিব খন্দকার এনায়েত উল্যাহ বলেন, পথের ভোগান্তির শঙ্কা পুরোপুরি উড়িয়ে দেয়া সম্ভব নয়। তবে সড়কের অবস্থা অনেক ভালো,তাতে আশা করছি ভোগান্তি ছাড়াই মানুষ গন্তব্যে পৌঁছাতে পারবে। প্রায় একই কথা বলেছেন, বাংলাদেশ বাস ট্রাক ওনার এসোসিয়েশন ভাইস প্রেসিডেন্ট ও শ্যামলী পরিবহনের মালিক রমেশ চন্দ্র ঘোষ। ঢাকা-চট্টগ্রাম ও ঢাকা-ময়মনসিংহ ফোর লেনের কাজ শেষ হয়েছে। ঢাকা-টাঙ্গাইল রোডে চন্দ্রা ও এলেঙ্গা এবং ঢাকা-সিলেট গাউছিয়া সমস্যা আছে। তবে ঈদের সময় সড়কের নির্মাণ কাজ বন্ধ থাকলে তেমন কোন সমস্যা হবে না।

এ দিকে সদরঘাট সংযুক্ত বিভিন্ন নৌপথে যাত্রী পরিবহনে ভোগান্তি রোধে প্রথমবারের মত ‘ঈদ ম্যানেজমেন্ট কমিটি’ নামে একটি কমিটি গঠন করা হয়েছে। বাংলাদেশ অভ্যন্তরীণ নৌ-পরিবহন কর্তৃপক্ষের যুগ্ম পরিচালক জয়নাল আবেদীনকে আহ্বায়ক করে এ কমিটি গঠন করা হয়। এ কমিটির অন্য সদস্যদের মধ্য রয়েছেন লঞ্চ মালিক সমিতির প্রতিনিধি নৌ পুলিশসহ সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন পর্যায়ের কর্মকর্তা-কর্মচারী।

বাংলাদেশ নৌ পুলিশের পুলিশ সুপার আতিয়ার রহমান জানান, নৌ পথে এবং ফেরিঘাটের ঈদে ঘরে ফেরা মানুষের নিরাপত্তায় বিশেষ ব্যবস্থা নেয়া হয়েছে। তিনি আশা করেন, এবারে মানুষ নৌ এবং সড়ক পথে নির্বিঘ্নে ঘরে ফিরতে পারবেন।

অজ্ঞান পার্টির দৌরাত্ম্যঃ  রাজধানী বাস টার্মিনাল, পাটুরিয়া ও মাওয়া ফেরিঘাটে মলম পার্টির দৌরাত্ম্য বেড়েছে। বিভিন্ন সূত্র থেকে প্রাপ্ত তথ্যে জানা যায়, গত ১৫ দিনে এসব এলকায় ৫০ জন মানুষ অজ্ঞান পার্টির খপ্পরে পড়ে সর্বস্ব খুইয়েছেন।

ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশের উপ-কমিশনার (পূর্ব)  মাহবুব আলম জানিয়েছেন, ইতোমধ্যে শতাধিক অজ্ঞান পার্টির সদস্যকে গ্রেফতার করা হয়েছে। রমজান মাস জুড়ে অজ্ঞান ও মলম পার্টির বিরুদ্ধে এ অভিযান অব্যাহত থাকবে। মানিকগঞ্জ জেলা পুলিশ সুপার মাহফুজুর রহমান জানান, অজ্ঞান পার্টি প্রতিরোধে সাদা পোশাকের পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। পাশাপাশি ফেরিতে হকার ওঠাও বন্ধ করা হয়েছে। অপর দিকে সড়ক যানজট ও দুর্ঘটনা এড়াতেও ব্যাপক প্রস্তুতি নেয়া হয়েছে। তিনি আশা করেন, ঢাকা আরিচা সড়কে কোন ধরনের দুর্ভোগ হবে না। একই কথা জানিয়েছেন, মুন্সীগঞ্জের পুলিশ সুপার বিজয় তালুকদার। তিনি বলেন, মাওয়া ফেরি ঘাটে যাত্রী নিরাপত্তায় বিপুল পরিমাণ পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে।

পুলিশের জরুরি পরামর্শঃ  নির্বিঘ্নে ঈদ উদযাপনের জন্য জনসাধারণকে কতিপয় পরামর্শ দিয়েছে পুলিশ সদর দফতর। গতকাল বুধবার এক জরুরি বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে পরামর্শগুলো দেয়া হয়।

বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, দ্রুতগতিতে গাড়ি চালানোর জন্য চালককে তাগাদা না দেয়া। শুধু তাই নয়, চালক যেন নিয়মতান্ত্রিকভাবে গাড়ি চালায় সেদিকে যাত্রীদের লক্ষ্য রাখতে বলা হয়। নিজের জীবনের ঝুঁকি নিয়ে অতিরিক্ত যাত্রী হয়ে ট্রেন, বাস, লঞ্চ বা স্টিমারের ছাদে ভ্রমণ না করতে বলা হয়। যথাসম্ভব ভিড় এড়িয়ে নিরাপদে ভ্রমণ করতে পরামর্শ দেয়া হয়।

মহাসড়কে নসিমন, করিমন, ভটভটি ইত্যাদি অবৈধ যানবাহন চালানো সম্পূর্ণ নিষেধ। এসব বিপজ্জনক যানবাহনে চলাচল পরিহার করে নিরাপদে থাকতে বলা হয়। যাত্রাপথে রেলস্টেশন, বাস ও লঞ্চ টার্মিনালে অপরিচিত কোনো ব্যক্তির কাছ থেকে কোমল পানীয় বা অন্য কোনো খাবার গ্রহণ না করতে বলা হয়।

Related posts