April 25, 2019

টিআইবি’র রিপোর্ট ষড়যন্ত্রকে আরো বেশি প্ররোচিত করবেঃ বিকেএমইএ

56

রফিকুল ইসলাম রফিক,নারায়ণগঞ্জঃ  গার্মেন্ট মালিকদের সংগঠন বিকেএমইএ পরিচালনা পর্ষদের পক্ষে সভাপতি সেলিম ওসমান স্বাক্ষরিত প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে, গত বৃহস্পতিবার, ১৪ জানুয়ারী’১৬ ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশ (টিআইবি) বাংলাদেশের পোশাক খাতে দুর্নীতি ও অনিয়ম সম্পর্কে যে গবেষনা প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে তা আমাদেরকে (বিকেএমইএ) যুগপৎ বিস্মিত ও হতাশ করেছে। একইসাথে এই প্রতিবেদন বাংলাদেশের পোশাক শিল্পের বিরুদ্ধে চলমান দেশি-বিদেশি ষড়যন্ত্রের নীল নকশা বাস্তবায়নের কোন অংশ কিনা, তাও ভেবে দেখার অবকাশ রয়েছে বলে বিকেএমইএ মনে করে।

প্রথমত টিআইবি কর্তৃক প্রকাশিত গবেষণা পত্রে তথ্য সংগ্রহের ক্ষেত্রে যে ধরনের গবেষণা পদ্ধতি গ্রহণ করা হয়েছে এবং যে সকল ক্ষেত্র থেকে তথ্য সংগ্রহ করা হয়েছে তার যথাযথ কোন বর্ণনা খুঁজে পাওয়া যায়নি। অন্যথায় মানদন্ড হিসেবে শুধুমাত্র এবং পোশাক খাতের কাঠামোগত কলেবর বিবেচনায় সংখ্যাতত্ত্বীয় বিচারে অতি নগন্য ৭০টি অংশীজন প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধিদের সাক্ষাৎকার নিয়ে এতো বড় পোশাক শিল্পখাতের (রপ্তানী পরিসংখ্যানে সারা বিশ্বে দ্বিতীয়) উপর এ ধরনের প্রতিবেদন টিআইবি প্রকাশ করতো না।

কারন ৭০টি প্রতিষ্ঠান বা ব্যক্তি কোনভাবেই ৫,৫০০ শিল্প প্রতিষ্ঠানের প্রায়োগিক ও কাঠামোগত কার্যক্রমকে প্রতিনিধিত্ব করে না। তাই এই প্রতিবেদনটি বাংলাদেশের তৈরী পোশাক শিল্পকে সমগ্রিক ভাবে প্রতিফলিত করে কিনা তা নিয়ে যথেষ্ট সংশয় রয়েছে। বাংলাদেশে ছোট, বড় ও মাঝারী সব ধরণের কারখানা রয়েছে। কিন্তু গবেষণা পত্রে কোন ধরণের কারখানা কি পরিমাণ নেওয়া হয়েছে তা উল্লেখ নেই। তাছাড়াও কারখানা গুলো বিভিন্ন অ লে অবস্থিত এবং তারা বিশ্বের বিভিন্ন দেশে রপ্তানী করে থাকে। অবস্থানগত কারণে বিশ্বের বিভিন্ন অ লে বিভিন্ন ধরনের কমপ্লায়েন্স ও অন্যান্য শর্ত বিরাজমান রয়েছে। কিন্তু উক্ত গবেষণা পত্রে অ ল ভিত্তিক কারাখানা ও বায়ার নির্বাচনের কোন তথ্য উল্লেখ না থাকার কারণে প্রাপ্ত তথ্য নিয়ে যথেষ্ট সন্দেহ রয়েছে।

সবচেয়ে আশ্চর্যের বিষয়, বাংলাদেশের তৈরী পোশাক খাতের (নীট ও ওভেন) রেগুলেট্রী সংগঠন বিকেএমইএ ও বিজিএমইএ’র নের্তৃবৃন্দের সাথে এই গবেষনার প্রস্তুতিপর্বে, গবেষনা চলাকালে কিংবা গবেষনালব্দ ফলাফল পাওয়ার পরে বিষয়টি নিয়ে কোন আলোচনা করা হয়নি। ফলে এটি টিআইবি’র কোন ষড়যন্ত্রমূলক কার্যক্রমের অংশ কিনা, সে বিষয় নিয়ে সন্দেহ না করে আর কোন উপায় থাকছে না।

তাছাড়া বাংলাদেশের সামাজিক ও অর্থনৈতিক উন্নয়ন কার্যক্রমকে বাঁধাগ্রস্ত করে এমন একটি গবেষনা কার্যক্রমের জন্য (যেটি টিআইবি পোশাক শিল্পখাতের উপর করেছে) সরকারী অনুমোদন নেয়া হয়েছে কিনা বা এরজন্য আর্থিক পৃষ্ঠপোষকতা কে বা কারা করেছে, সে বিষয়ে স্বচ্ছতা থাকা জরুরী। কিন্তু টিআইবি’র উক্ত প্রতিবেদনে এ সমস্ত বিষয়ে কোন দিক নির্দেশনা নেই।

গবেষনা প্রতিষ্ঠান হিসেবে টিআইবি’র কার্যক্রম নিয়ে বিকেএমইএ’র কোন অভিযোগ নেই। বরং বাংলাদেশের সামাজিক ও অর্থনৈতিক উন্নয়নকে ত্বরান্বিত করার টিআইবি’র বিভিন্ন অতীত গবেষনাকে আমরা সাধুবাদ জানাই। তবে “সুশাসনের দায় আমাদের এবং মুনাফা স্বচ্ছ করার জন্য সুশাসন দরকার” — এই ধরনের মানদন্ড ধরে বাংলাদেশের অর্থনৈতিক বুনিয়াদের মূল হাতিয়ার তৈরী পোশাক শিল্পের ষড়যন্ত্রকারীদের হাতে এ ধরনের গবেষনা প্রতিবেদন তুলে দিয়ে প্রকারান্তরে বাংলাদেশের অর্থনীতিকে ক্ষতি করার এবং পোশাক রপ্তানীর ক্ষেত্রে “বাংলাদেশের ব্র্যান্ডিং ইমেজ”–কে ধ্বংস করার টিআইবি’র এই সহায়তামূলক প্রক্রিয়া (ইচ্ছায় বা অনিচ্ছায়) বিকেএমইএ কোনভাবেই সমর্থন করতে পারে না। তাই তাদের এই প্রতিবেদনকে আমরা প্রত্যাখান করছি।

প্রতিবেদনটিতে যে ১৬ ধরনের দুর্নীতি বা অনিয়মের কথা বলা হয়েছে, তা মেনে নিতে হলে আমেরিকা ও ইউরোপের দুই বায়ার/ক্রেতা সংগঠন এ্যালায়েন্স ও এ্যাকর্ড এর গত আড়াই বছরের ফ্যাক্টরী ফ্যাক্টরী গিয়ে করা কঠোর ফায়ার সেফটি, ইলেকট্রিক্যাল সেফটি এবং ষ্ট্র্যাকচারাল সেফটির ইন্সপেকশনগুলোকে মূল্যহীন হিসেবে মেনে নিতে হবে। কেননা এ্যালায়েন্স, এ্যাকর্ড, আইএলও এই পর্যন্ত মোট ৩৪৯৬ টি কারখানার (প্রায় ৫,৫০০ কারাখানা) প্রাথমিক পরিদর্শন  কার্যক্রম শেষ করেছে এবং এর মধ্যে মাত্র ২ শতাংশের ও কম ফ্যাক্টরী পরিদর্শনে সফলকাম হতে ব্যর্থ হয়েছে। এতে বুঝা যায়, বাংলাদেশের পোশাক শিল্পখাত আন্তর্জাতিক মানদন্ডে নিজেদের প্রতিস্থাপিত করতে পেরেছে। তাদের ইন্সপেকশন প্রতিবেদনের বিপরীতে তাই টিআইবি’র এই দুর্নীতি ও অনিয়ম বিষয়ক প্রতিবেদন খুবই অগ্রহণযোগ্য ও হাস্যকর মনে হয়।

তাছাড়া আমাদের মনে রাখা দরকার যে, বাংলাদেশের পোশাক শিল্পের বিস্তার ও বিকাশের জন্য ক্রেতা প্রতিষ্ঠানগুলোর মূখ্য ভূমিকা রয়েছে। সেখানে সুশাসনের কথা তুলে ক্রেতা প্রতিষ্ঠানগুলোর ব্যবসায়ীক পরিকল্পনাগুলোকে অনিয়ম হিসেবে তুলে ধরে কার্যত তাদেরকে (বায়িং/ক্রেতা প্রতিষ্ঠান) অন্য কোন দেশ হতে সোর্সিং করানোর একটি সুপ্ত অভিপ্রায়/প্রয়াস রয়েছে টিআইবি’র উক্ত প্রতিবেদনে। কিছু কিছু ক্ষেত্রে যে অনিয়ম ঘটে না, তা আমরা বলি না। তবে টিআইবি রিপোর্টে যেভাবে দুর্নীতি ও অনিয়মের কথা ভয়াবহভাবে তুলে ধরে পুরো পোশাকখাতের আন্তর্জাতিক বিকাশের পর্যায়কে বিশ্বব্যাপী প্রশ্নের মুখে ফেলে দেয়ার চেষ্ঠা করা হয়েছে, তা টিআইবি’র প্রাতিষ্ঠানিক অবস্থানকে প্রশ্নবিদ্ধ করে তোলার জন্য যথেষ্ট বলে বিকেএমইএ মনে করে।

দি গ্লোবাল নিউজ ২৪ ডট কম/রিপন/ডেরি

Related posts