November 16, 2018

টাকার অভাবে দেউলিয়া হবার পথে বরিশাল সিটি কর্পোরেশন !

1

সাইয়েদ কাজল বরিশাল থেকে ঃ বকেয়া বেতনের দাবীতে বরিশাল সিটি কর্পোরেশন এখন উত্তাল এ দিকে টাকার অভাবে ্এখন দেউলিয়া হবার পথে বরিশাল সিটি কর্পোরেশন । এক বিদ্যুৎ বিল পরিশোধ করতেই এখন হিমশিম খেতে হচ্ছে এ কর্পোরেশনকে ।
টাকার অভাবে কর্পোরেশনের কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের বেতন ভাতা গত ৯ মাস পর্যšত বন্ধ রয়েছে। প্রসংগত যে বকেয়া বেতনের দাবীতে কর্পোরেশনের কর্মকর্তা কর্মচারীরা চলতি বছরের ৩ রা জানুয়ারী কর্পোরেশনের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তার দপ্তর ঘেরা ও করে তাকে তালাবদ্ধ করে রাখেন । ঐ সময়ে প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা মোঃ ওয়াহিদ্দুজ্জামান জানুয়ারী মাসের দ্বিতীয় সপ্তাহের মধ্যে কর্মকর্তা কর্মচারীদের বকেয়া বেতন ভাতা পরিশোধ করার সর্বাতœক চেষ্ঠা করা হবে বলে তিনি জানান। প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা ওয়াহিদ্দুজ্জামান আরো জানান বিসিসির কর্মী সংখ্যা ১৪০০। এর মধ্যে ¯হায়ী মাত্র ৫০৩ জন । বাকী সব অ¯হায়ী বা মাষ্টার রোল । ঐ কর্মকর্তা জানান পে-স্কেলের কারনে বিসিসির ব্যায় বেড়ে গেছে। এবারের বাজেটে নতুন করে কোন কর আরোপ না করার কারনে আয় বাড়ে নি ।
কর্তপক্ষের দেওয়া ঘোষনা অনুযায়ী গত মাসে বেতন না দেওয়ায় বুধবার থেকে কর্মচারীরা আন্দোলনে নামেন।ঐ দিন কর্পোরেশনের বিভিন্ন বিভাগীয় প্রধান সহ অন্যান্য কর্মকর্তা কর্মচারীরা বিক্ষোভ মিছিল করে তাদের দাফতরিক কাজ ফেলে কর্মবিরতি শুর করেন । আজ বুধবার অনুরুপ কর্মসূচী পালন করা হয় । আগামী রোববার আন্দোলনরতরা বিভোক্ষ মিছিল সহ অব¯হান ধর্মঘট পালন করবেন এবং পাশাপাশি নগরীর রাস্তার বাতি না জ্বালানোর এবং পানিরপাম্প বন্ধ রাখার ঘোষনা দেন। বেতন ভাতা দাবৗ আদায়ের লক্ষ্যে কর্মচারীরা আমরন অনশন সহ সিটি কর্পোরেশনের সকল কাজকর্ম বন্ধ এবং কর্পোরেশনে তালা দেওয়ার কর্মসূচী গ্রহন করবে বলে আন্দেলনরত কর্মচারীরা জানান ।
এ দিকে আন্দোলনে নেতৃত্বে থাকা কনজারভেটিভ অফিসার দীপক লাল জানান মেয়রের নিজ লাভে টেন্ডার বিহীন উন্নয়ন কাজ করে অর্থলুট এর কারনে কর্মচারীদের বেতন ভাতা বকেয়া রয়েছে ।
সিটি কর্পোরেশনের হিসাব রংক্ষন কর্মকর্তা মশিউর রহমান জানান রাজস্ব আদায়ের উপর কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের বেতন হয়ে থাকে । গত বছরের রাজস্ব আদায়ের টার্গেট এখনো পূর্ন না হওয়ায় কর্মকর্তা কর্মচারীদের বেতন ভাতা ৯ মাস যাবত বন্দ্ব রয়েছে । প্রতিমাসে সিটি কর্পোরেশনের নিয়মিত কর্মকর্তা কর্মচারীদের এবং অনিয়মিত কর্মচারীদের বেতন ভাতা পরিশোধ করতে প্রয়োজন হয় প্রায় আড়াই কোটি টাকার মত। সেখানে সিটি কর্পোরেশনের কোন মাসে আয় হয় এক থেকে দেড় কোটি টাকা আবার কোন মাসে তারও কম । ফলে বেতন ভাতা নিয়মিত পরিশোধ করা সম্ভব হয় না ।
এ দিকে বরিশাল সিটি কর্পোরেশনের কাউন্সিলর হাবিবুর রহমান টিপু জানান সিটি কর্পেরেশনের অর্থনৈতিক সমস্যা রয়েছে । রাজস্ব আদায়ে ঘাটতি রয়েছে । এ ছাড়া প্রায়ত মেয়র শওকত হোসেন হিরনের অসু¯হতার সময়ের তিন মাস বেতন বকেয়া ছিলো । অন্য দিকে সরকারের দেয়া পে-স্কেলের বর্ধিত বেতন পরিশোধ হওয়ায় সিটি কর্পোরেশনের কোষাগার প্রায় শুণ্যের কোটায় ।
একটি সুত্র থেকে জানা গেছে রাজস্ব আদায়ের টাকা দিয়ে ¯হানীয় ঠিকাদারদের ঠিকাদারী কাজের বিল পরিশোধ করা হয়ে থাকে । এ কারনে ও বেতন ভাতা পরিশোধ করা সম্ভব হয় না ।
এ দিকে বরিশাল সিটি কর্পোরেশনের কাছে( বাংলাদেশ বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ডের প্রতিষ্টান )ওয়েষ্টজোন পাওয়ার ডিষ্ট্রিবিউশন কোং লিঃ এর বরিশাল সার্কেলের ২ দুটি দপ্তরের পাওনা ২৭ কোটি ১১ লাখ ৩৪ হাজার ৬৪৩ টাকা। এ বকেয়া থাকার কারনে এ দপ্তর দুটি এবার রাজস্ব আদায় থেকে বঞ্চিত হবার আশংকা প্রকাশ করেছে খোদ সংশ্লিষ্ঠ বিভাগই । নাম প্রকাশ না করার শর্তে ওজোপাডিকোর এক কর্মকর্তা জানান সিটি কর্পোরেশনের কাছে বিদ্যুৎ বিভাগ গত ২০০৫ সালের পূর্ব থেকে বর্তমান গত বছরের ডিসেম্বর ১৬ পর্য্যন্ত বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ড এর নব গঠিত কোম্পানী ওয়েষ্টজোন পাওয়ার ডিষ্ট্রিবিউশন কোং লিঃ এর বরিশাল সার্কেলের বিক্রয় ও বিতরন বিভাগ -১ এবং বিক্রয় বিতরণ বিভাগ-২ দপ্তরের পাওনা প্রায় ২৭ কোটি ১১ লাখ ৩৪ হাজার ৬৪৩ টাকা । যার মধ্যে বিক্রয় ও বিতরন বিভাগÑ ১ এর পাওনা ১৫কোটি ৪২ লাখ ৩৫ হাজার ৩৭৩ টাকা এবং বিক্রয় ও বিতরন বিভাগ- ২ এর পাওনা ১১ কোটি ২৮লাখ ৯৯ হাজার ২৭০ টাকা ।এ বকেয়া আদায়ের জন্য সিটি কর্পোরেশনের কাছে বার বার তাগিদা দেওয়া সত্বে ও তার াঐ বিল পেিরশধে গড়িমসি করছে বার বার । এ দিকে সিটি কর্পোরেশনের এক কর্মকর্তা জানান বিদ্যুৎ বিভাগ কর্পোরেশনের বিভিন্ন ¯হানে ¯হাপিত মিটার না দেখেই ভৌতিক বিল করে আসছে । যা তাদের কে সংশোধনের জন্য তাদের দপ্তরে ঔ বিল প্রেরন করা হচ্ছে। কিন্তু বিল সংশোধন না করেই তারা সংযোগ বিচ্ছিন্ন করে দিচ্ছে কিংবা ঐ বিল প্রেরন করে আসছে ।
সাইয়েদ কাজল বরিশাল প্রতিনিধি ০২/২/১৭ইং মোবাঃ ০১৭১২৪১৭০২৬

Related posts