November 16, 2018

ঝুঁকিপূর্ণ ভবনগুলো অপসারণ জরুরী!

রফিকুল ইসলাম রফিক,নারায়ণগঞ্জঃ  নারায়ণগঞ্জ শহরের দেওভোগ পানির ট্যাংকি এলাকাতে হেলে পড়া ভবনটি একটি পুকুর কিংবা জলাশয়ের উপর নির্মাণ করা হলেও সেটা হয়েছে অপরিকল্পিতভাবে জানিয়েছেন সিটি করপোরেশন কর্তৃপক্ষ। এ ব্যাপারে তারা প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নিবেন জানা গেছে।

সোমবার সকালে শহরের দেওভোগ পানির ট্যাংকি এলাকাতে ২১৯/৩ হোল্ডিংয়ের চার তলা ভবনটি পাশের কামাল মিয়ার ৫ তলা ভবনের উপর হেলে পড়ে।

এদিকে নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশন এলাকায় ভূমিকম্প ঝুঁকিতে রয়েছে ৪২টি ঝুঁকিপূর্ণ ভবন। বার বার চিঠি দিয়ে তাগিদ দেয়ার পরও এসব ভবন না ভাঙ্গা হচ্ছে না। বড় ধরনের ভূমিকম্প ঘটলে নারায়ণগঞ্জ নগরীর এসব ভবন ধসের সম্ভাবনা রয়েছে। ভূমিকম্প ছাড়াও নকশা বহির্ভূতভাবে শহর ও শহরতলীতের গড়ে ওঠা অপরিকল্পিত অনেক ইমারত ও বহুতল ভবন ধসে পড়তে পারে যে কোন সময়ে। আর ভূমিকম্প হলে ঘনবসতিপূর্ণ নারায়ণগঞ্জে ভয়াবহ মানবিক বিপর্যয়ের আশঙ্কা করা হচ্ছে। তবে অচিরেই নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশন (নাসিক) এসব ভবন ভাঙ্গার কাজ শুরু করবে বলে নিশ্চিত করেছেন।

সিটি করপোরেশনের একটি সূত্র জানায়, পৌরসভা থাকতে কর্তৃপক্ষ ৫৬টি ঝুঁকিপূর্ণ ভবনের তালিকা করেছিল। এর মধ্যে ২০টির ন্যায় ভাঙ্গা হয়েছে। তবে নোটিশ পাওয়ার পর বাড়ি মালিকদের রিট দায়েরের ফলে আইনগত মারপ্যাঁচে পড়ে ঝুঁকিপূর্ণ এসব ভবন ভাঙ্গা হয়নি। এসব ভবনে এখনো বিপুল সংখ্যক লোকজন পরিবার পরিজন নিয়ে বসবাস করছে। সিটি করপোরেশন হওয়ার পরে আরো ৬টি ঝুঁকিপূর্ন ভবন চিহ্নিত করা হলে ঝুঁকিপূর্ণ ভবনের সংখ্যা দাড়ায় ৪২টিতে। বাকি ভবনকে ভেঙ্গে ফেলার জন্য বাড়ির মালিকদের একাধিকবার নোটিশ প্রদান করেছে সিটি করপোরেশন কর্তৃপক্ষ।

নাসিকের নগর পরিকল্পনাবিদ মঈনুল হোসেন জানান, তালিকা অনুযায়ী ওইসব ভবন মালিকদের নোটিশ দেয়া হয়েছে। অচিরেই এসব ব্যাপারে ব্যবস্থা নেয়া হবে।

নাসিকের সূত্র মতে, ঝুঁকিপূর্ণ ৪২টি ভবন হচ্ছে, নাসিকের ১৫নং ওয়ার্ডের ৪৭ নং মহিম গাঙ্গুলী রোড এলাকার উইলসন মার্কেট টানবাজার এলাকার সাইদুর রহমান ইদুর মালিকানাধীন ৫ তলা ভবন। এ ভবনটির ফাউন্ডেশন ছিল ৩ তলার। একই ওয়ার্ডের ২১নং এস এম মালেহ রোড টানবাজার এলাকার এমদাদুল হক ভূইয়ার ২ তলা ভবন, টানবাজার মথুয়া রায় রোড এলাকার দস্তগীর আহমেদ এর ২ তলা ভবন, ৩৪ নং মহিম গাঙ্গুলী রোডের সাধনা ঔষধালয়ের ২তলা ভবন, এস এম মালেহ রোডের সানাউল্লাহ মিয়ার ২ তলা ভবন, ২১ নং এস এম মালেহ রোড এলাকার এমদাদুল হক ভূইয়ার ২ তলা ভবন, ১৬ নং এম এম রায় রোড এলাকার আবুল কাশেম মিয়ার এক তলা ছাদবিহীন পরিত্যক্ত ভবন, ৩৭ নং এস এম মালেহ রোড টানবাজার এলাকার ফাতেমা বেগমের মালিকানাধীন ৩ তলা ভবন, ৩৩ মহিম গাঙ্গুলী আলী সুপার মার্কেট এলাকার মোহাম্মদ আলী এর মালিকানাধীন ৩ তলা বিশিষ্ট পুরাতন ভবন, ৩৫ নং মহিম গাঙ্গুলী রোড টানবাজার এলাকার এইচ এম ইউসুফ ৪তলা বিশিষ্ট পুরাতন ভবন, এস এম মালেহ রোড এলাকার অতিরিক্ত জেলা প্রশাসকের কার্যালয় (রাজস্ব) এর ২ তলা বিশিষ্ট ভবন, এস এম মালেহ রোড এলাকার শাহীন ভূইয়ার মালিকানাধীন ২ তলা ভবন, ২১ এস এম মালেহ রোড এলাকার মোমেনা খাতুনের মালিকানাধীন ৩ তলা ভবন, ২০নং এস এম মালেহ রোড এলাকার হাজী ছাত্তার ভূইয়ার মালিকানাধীন ২ তলা ভবন, নিতাইগঞ্জের ২৫ আর কে দাস রোড এলাকার ইলিয়াছ দেওয়ানের ২ তলা ভবন, নিতাইগঞ্জ বিকে দাস রোড এলাকার আবদুর রহিম ভূইয়ার ৩তলা বিশিষ্ট ভবন, ৩০ বিকে রোড এলাকার আবদুল কাইউম গং এর ২তলা বিশিষ্ট আবাসিক ভবন, শাহসূজা রোড নিতাইগঞ্জ এলাকার একেএম লুৎফর এর মালিকানাধীন ২তলা বিশিষ্ট ভবন, ৮ ওল্ড ব্যাংক রোড নিতাইগঞ্জ এলাকার মাইনুদ্দিন গং এর ২তলা বিশিষ্ট ভবন, ৮ ওল্ড ট্যাংক রোড নিতাইগঞ্জের আবুল কাইউম এর মালিকানাধীন ২তলা বিশিষ্ট ভবন, ৩৬৭/২ ডিপি রোডে ফরিদ আহাম্মেদ ও সামুসজ্জোহা এর মালিকানাধীন হাকিম প্লাজা, ২৫৮ ডিপি রোড এলাকার তাহমিনা খাতুনের মালিকানাধীন চার তলা ভবন, একই রোডের কামরুন্নেছা বেগমের মালিকানাধীন ৩তলা ভবন, রহিমা খাতুনের ২তলা ভবন, সাহেরা খাতুনের ৩তলা ভবন, নাসির মিয়ার ৪ তলা ভবন,  ১৪ নং ওয়ার্ডের ১০৪ বিবি রোডের খাজা নাজমুল হুদা খন্দকারের মালিকানাধীন ২তলা ভবন, ১০৮ নং বিবি রোডের জিয়াউল হকের মালিকানাধীন ১ তলা ভবন, নিউ চাষাঢ়া জামতলায় হীরা কমিউনিটি সেন্টার সংলগ্ন আলী ইমামের মালিকানাধীন ২তলা ভবন, শহরের গলাচিপা এলাকায় ২তলা বিশিষ্ট বাংলাদেশ স্কাউটস ভবন, ৬৪ নং (পুরাতন ৯০ নং) কলেজ রোড গলাচিপা এলাকার ছালেনুর রহমানের ভবন, সনাতন পাল লেন ফকিরটোলা মসজিদ এলাকায় আবদুস সোবহান এর মালিকানাধীন ৩তলা ভবন, শহীদ সোহরাওর্দী সড়কের আলতাফউদ্দিন আহমেদ খন্দকারের মালিকানাধীন ২তলা ভবন, তামাকপট্টি এলাকায় মহিউদ্দিন বেপরীর মালিকানাধীন ২ তলা ভবন, দেওভোগ পাক্কা রোড এলাকার উম্মে কুলসুম এর মালিকানাধীন চার তলা ভবন, দেওভোগ পাক্কা রোড এলাকার জাহানারা বেগমের মালিকানাধীন ৩ তলা ভবন। এছাড়া নিতাইগঞ্জ ৩/১ ওল্ড ব্যাংক রোডের দুলাল রায়ের (বর্তমান মালিক পাইকপাড়ার সেলিম) ২ তলা ভবন, টানবাজারস্থ ৩০নং মহিম গাঙ্গুলী রোডের সালাম, আসলাম ও মাসুম গংয়ের মালিকানাধীন ৪ তলা ভবন, ২৭ নং মীনাবাজারের লোকমান গাজীর ৩ তলা ভবন, ৪২ নং নয়ামাটির হিমাংশু কুমার সাহার ২ তলা ভবন, ১৩২ সুলতান গিয়াসউদ্দিন রোড তামাকপট্টির অজিত রায়ের ২ তলা ভবন।

দ্যা গ্লোবাল নিউজ ২৪ ডট কম/রিপন ডেরি/২৫ এপ্রিল ২০১৬

Related posts