November 16, 2018

ঝিনাইদহ শহরে ইজিবাইকের দৌরাত্ম্যে দিশেহারা শহরবাসী!

জাহিদুর রহমান তারিক
ঝিনাইদহ প্রতিনিধিঃ
ঝিনাইদহ এখন ইজিবাইকের শহরে পরিণত হয়েছে। বৈধ ইজিবাইকের সঙ্গে পাল্লা দিয়ে বাড়ছে অবৈধ ইজিবাইকের সংখ্যা। কোনোভাবেই ঠেকানো যাচ্ছে না ইজিবাইকের দৌরাত্ম্য।

ঝিনাইদহ পৌরসভার দেয়া তথ্য মতে, এক সময় ঝিনাইদহ শহরটি রিকশাতে গিজ-গিজ করতো। কিন্তু এখন এর সংখ্যা কমতে কমতে দুইশতে নেমে এসেছে। আর অন্যদিকে ২০০০ সালের পর এই শহরে দুই-চারখানা ইজিবাইক আসে। এখন ইজিবাইকের দৌরাত্ম্যে রিকশা কোণঠাসা হয়ে পড়েছে।

পৌরসভার দেয়া তথ্যে আরো জানা যায়, বর্তমানে লাইসেন্সকৃত ইজিবাইকের সংখ্যা ১৭০০। অথচ প্রায় আড়াই হাজার ইজিবাইক চলাচল করছে। এতে ট্রাফিক সমস্যা বাড়ছে।

আমেনা খাতুন নামে এক গৃহিণী জানান, ঝিনাইদহ শহরে ইজিবাইকের সঙ্গে প্রতিযোগিতায় টিকতে পারছে না রিকশা। দ্রুত জায়গা দখল করে নিচ্ছে ইজিবাইক। ছোট্ট এ জেলা শহর এখন ইজিবাইকের শহরে পরিণত হয়েছে।

আঃ জলিল শেখ নামে এক রিকশাচালক জানান, রিকশার মালিকরা ভাড়া পাচ্ছেন না। তারা রিকশাগুলো গ্যারেজে ফেলে রেখেছে।

হাকিম নামে এক স্কুলছাত্র জানান, শহরের সড়কগুলোতে পিঁপড়ার সারির মতো ইজিবাইক চলছে। স্কুলের ছাত্র-ছাত্রীদের রাস্তা পারাপারে সমস্যা হচ্ছে।

এ ব্যাপারে ঝিনাইদহের মেয়র আলহাজ্ব সাইদুল করিম মিন্টু জানান, সবদিক বিবেচনা করে এখন ঝিনাইদহ পৌরসভায় ইজিবাইকের লাইসেন্স দেয়া সম্পূর্ণ বন্ধ করে দিয়েছি। আমরা এটা নিয়ন্ত্রণে সচেষ্ট আছি।

ঝিনাইদহের জুড়ে পাটের বাম্পার ফলনঃ কৃষকের মুখে হাসি!

ঝিনাইদহের জেলাজুড়ে চলতি মৌসুমে পাটের বাম্পার ফলন হয়েছে। কৃষকরা পাট কাটতে ও জাগ দিতে এখন ব্যস্ত সময় পার করছেন।

ঝিনাইদহের মহেশপুর উপজেলার বিভিন্ন এলাকা ঘুরে দেখা গেছে, মাঠ জুড়ে শুধু পাটের সবুজ ক্ষেত। চাষীরা বলছেন, পাটের দাম বৃদ্ধিসহ উৎপাদন মূল্য কম হওয়ায় অধিক লাভের আশায় পাট চাষ করেছেন তারা । তাছাড়া পাট কেটে জাগ দেওয়াটাও এবার সহজ হবে।

উপজেলার ঘুগরী পান্তাপাড়া গ্রামের আবু হানিফ জানান, আবহাওয়া অনুকূলে থাকা, সময় মতো ন্যায্য মূল্যে সার, বীজ ও কীটনাশকের সহজ প্রাপ্তিতে এবার পাট ভালো হয়েছে।

মহেশপুর উপজেলার কৃষি কর্মকর্তা কৃষিবিদ আবু তালহা বলেন, মহেশপুর উপজেলায় এই বছর ৬,২০৮ হেক্টর জমিতে পাটের আবাদ হয়েছে। যা গত বছরের তুলনায় ২০০০ হেক্টর বেশি।

তিনি আরো বলেন, ফলন বিঘা প্রতি ১০-১২ মণ হবে বলে ধারণা করা হচ্ছে। ধানের দাম কম এবং গত বছর পাটের দাম ভালো থাকায় এই বছর পাটের আবাদ বৃদ্ধি পেয়েছে।

ঝিনাইদহের কেসি কলেজের ২২৩ শিক্ষার্থীর ভাগ্যে কি আছে?

ঝিনাইদহের কেসি কলেজে সবাই মিলে কেন্দ্রে গিয়ে পরীক্ষা দিয়েছি। হাজিরা খাতায় স্বাক্ষরও করেছি। কিন্তু জাতীয় বিশ্ববিদ্যালযের ওয়েবসাইটে প্রকাশিত ফলাফলে দেখি ওই বিষয়ে অনুপস্থিত দেখানো হচ্ছে। পরে খোঁজ নিয়ে জানতে পারি বিভাগের সবার একই অবস্থা। এভাবেই নিজেদের অভিব্যক্তি প্রকাশ করেন সোনালী খাতুন, তাছলিমা খাতুন, মুক্তা রানীসহ বেশ কয়েকজন পরীক্ষার্থী।

সরকারি কেসি কলেজ সূত্রে জানা গেছে, গত ৬ ফেব্রুয়ারি ঝিনাইদহ কলেজ কেন্দ্রে অনুষ্ঠিত পরীক্ষায় বাংলা বিভাগের ২২৩ জন শিক্ষার্থী বাংলা ভাষার ইতিহাস ও ব্যবহারিক বাংলা (কোড ২১১০০৩) বিষয়ে অংশগ্রহণ করেন। তারা ওই সময় হাজিরা খাতায় স্বাক্ষরও করেছেন।

কিন্তু গত বৃহস্পতিবার (৪ আগস্ট) জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের ওয়েবসাইটে প্রকাশিত ফলাফলে ২২৩ জন পরীক্ষার্থীকে একই বিষয়ে অনুপস্থিত দেখানো হচ্ছে। তবে ৬টি বিষয়ের মধ্যে বাংলা ভাষার ইতিহাস ও ব্যবহারিক বাংলা বাদে যাদের ৫টির কোনোটিতে ফেল নেই তাদের ফলাফল প্রমোট দেখানো হচ্ছে।

আর যাদের এক বা একাধিক বিষয়ে ফেল আছে তারা নন প্রমোটেড দেখানো হচ্ছে। তবে যারা পাঁচটি বিষয়েও পাস করেছেন তারা ওই একটি বিষয়ের জন্য পুর্ণাঙ্গ ফলাফল পাচ্ছে না। এ নিয়ে শিক্ষার্থীদের মধ্যে চরম হতাশা সৃষ্টি হয়েছে।

শিক্ষার্থীরা বলছে, কলেজ কর্তৃপক্ষের গাফিলতির কারণে শিক্ষার্থীদের ফলাফলে এমনটি ঘটেছে। অবিলম্বে এ সমস্যা সমাধানের দাবি জানিয়েছেন শিক্ষার্থীরা।

ঝিনাইদহ কেসি কলেজের অধ্যক্ষ ড. বিএম রেজাউল করিমকে এ বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন, আমি এ ব্যাপারে যথাযথ পদক্ষেপ নেওয়ার জন্য বিভাগীয় প্রধানকে নির্দেশ দিয়েছি।

দ্যা গ্লোবাল নিউজ ২৪ ডটকম/রিপন/ডেরি

Related posts