November 19, 2018

ঝিনাইদহে ছাত্রদলের বিক্ষোভ মিছিলে অতর্কিত হামলা!

জাহিদুর রহমান
ঝিনাইদহ প্রতিনিধিঃ
বিএনপি’র চেয়ারপার্সন বেগম খালেদা জিয়ার নামে গ্রেফতারী পরোয়ানা জারির প্রতিবাদে ঝিনাইদহে বিক্ষোভ মিছিল ও সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়। কেন্দ্রীয় কর্মসূচীর অংশ হিসাবে বৃহস্পতিবার দুপুরে ঝিনাইদহ জেলা ছাত্রদল এ কর্মসূচীর আয়োজন করে।

ঝিনাইদহ জেলা ছাত্রদল এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে জানান, কর্মসূচী উপলক্ষে বৃহস্পতিবার দুপুর ১২টার দিকে শহরের কেপি বসু সড়ক থেকে একটি বিক্ষোভ মিছিল বের করা হয়। মিছিলটি পোষ্ট অফিস মোড়ে পৌছালে পুলিশ সেখানে বাধা দেয়।

বাধা পেয়ে মিছিলকারীরা সেখানেই এক সংক্ষিপ্ত সমাবেশ করে। বিবৃতিতে বলা হয় সমাবেশে জেলা ছাত্রদলের আহ্বায়ক আরিফুল ইসলাম আনন বক্তব্য দেয়ার সময় ছাত্রলীগের নেতাকর্মীরা লাঠি-সোটা ও ইট-পাটকেল নিয়ে হামলা চালায়।

হামলায় জেলা ছাত্রদলের যুগ্ম-আহ্বায়ক মোস্তাক, নয়ন. শাওনসহ ছাত্রদলের ৫ কর্মী আহত হয়। তাদের বিভন্ন ক্লিনিকে ভর্তি করা হয়। মিছিলে পৌর বিএনপি’র সভাপতি জাহিদুজ্জামান মনা, কেন্দ্রীয় ছাত্রদলের সাবেক সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক আশরাফুল ইসলাম পিন্টু, আবুল বাশার বাশি উপস্থিত ছিলেন।

আরও খবর……।

ঝিনাইদহের সাদা পোশাকে তুলে নিয়ে যাওয়া দুই ব্যক্তিকে গ্রেফতারের দাবী র‌্যাবের !

সাদা পোশাকে তুলে নিয়ে যওয়ার পর ঝিনাইদহের বঙ্গবন্ধু পরিষদের এক নেতার ছেলেসহ দুই জনকে জেএমবির সদস্য হিসেবে আটকের দাবী করেছে র‌্যাব-১। বুধবার ভোরে টঙ্গীর স্টেশন রোড এলাকা থেকে ঝিনাইদহের রাশেদুজ্জামান রোজ ও আব্দুল হাইসহ ৩ জনকে আটকের দাবী করা হয়।

র‌্যাবের গণমাধ্যম শাখার পরিচালক কমান্ডার মুফতি মাহমুদ খান বুধবার কথা বলেন মিডিয়ার সাথে। তিনি জানান, গত ২১ জুলাই টঙ্গী থেকে গ্রেপ্তার জেএমবি নেতা মাহমুদ হাসান এবং ১৬ অগাস্ট ঢাকায় গ্রেপ্তার জেএমবির নারী শাখার উপদেষ্টা আকলিমা রহমানকে জিজ্ঞাসাবাদে পাওয়া তথ্যের ভিত্তিতে মঙ্গলবার রাতে তারা টঙ্গীতে অভিযান চালান। স্টেশন রোড এলাকা থেকে আটক করা হয় রাশেদুজ্জামান রোজ, আব্দুল হাই ও শাহাবুদ্দিনকে।

“প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে তারা বলেছে, রাশেদুজ্জামান রোজ ও আব্দুল হাই চট্টগ্রাম থেকে এবং সাহাবুদ্দিন পাবনা থেকে টঙ্গীতে জড়ো হন। এদিকে রোজ ও আব্দুল হাইয়ের পরিবার বলছেন ভিন্ন কথা। ছেলে নিখোঁজের পর ঝিনাইদহ বঙ্গবন্ধু পরিষদের সহ-সভাপতি ও সাবেক জনতা ব্যাংক কর্মকর্তা খয়বার রহমান সাংবাদিকদের জানিয়োিছলেন,

তার ছেলে রাশেদুজ্জামান রোজকে হলিধানী বাজার থেকে গত ২ জুলাই তুলে নিয়ে যায়। এরপর র‌্যাব তার ঢাকায় বাসা থেকে রোজের ছবি ও মোবাইল নং নিয়ে যায়। এ নিয়ে গত ৩ জুলাই ঝিনাইদহ সদর থানায় একটি জিডি করেন।

তিনি বলেন আমার ছেলে রোজ যদি জঙ্গীদের সাথে সম্পর্ক করে তবে বাংলাদেশের প্রচলিত আইনে বিচার হোক। রোজ কানাডায় পড়ালেখা করে সেখানে চাকরী করতেন। এরপর তিনি বাড়ি ফিরে সদর উপজেলার হলিধানী বাজারে ব্যবসা করতেন।

তার চলাফেরা কট্টর ইসলামী মনোভাবের বলে ছেলে রোজোর সাথে পরিবারের অন্যান্য সদস্যদের বনিবনা হতো না বলে বাবা খয়বর রহমান জানান। রোজের পরিবারের দাবী, ৫২ দিন পর নিষিদ্ধ জঙ্গি সংগঠন জেএমবির নারী শাখার প্রশিক্ষক ও দক্ষিণা লের ভারপ্রাপ্ত আমির হিসেবে তাকে আটকের কথা বলে র‌্যাব-১।

ঝিনাইদহ সদর থানার সাবেক ওসি হাসান হাফিজুর রহমান সে সময় সাংবাদিকদের জানিয়েছিলেন, রোজকে পুলিশ আটক করে। কিন্তু তার মধ্যে খারাপ কিছু না পাওয়ায় ছেড়ে দেওয়া হয়। এদিকে গত ১৩ জুলাই তুলে নিয়ে যাওয়া হয় কালীগঞ্জের ষাটবাড়িয়া গ্রামের আশরাফুল আলমের একমাত্র ছেলে আবদুল হাইকে (৩৫)। তিনি ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয় থেকে পড়ালেখা শেষ করে বাড়িতে হোমিও চিকিৎসা দিতেন। পাশাপাশি বাড়ির পাশের মসজিদে ইমামতি করতেন।

তাঁর স্ত্রী লিমা খাতুন বলেন, স্বামীকে অনেক জায়গায় খুঁজেছেন, কিন্তু পাননি। পুলিশের সঙ্গে যোগাযোগ করলে তারা কিছুই জানে না বলে জানিয়েছে। অবশেষে ৪১ দিন পর বুধবার (২৪ আগষ্ট) বিভিন্ন টিভিতে তার স্বামীকে আটকের কথা জানতে পারেন। লিমা খাতুন অভিযোগ করেন,

তার স্বামীকে তাহলে ১৩ জুলাই করা নিয়েছিলেন? এ বিষয়ে ঝিনাইদহ র‌্যাবের কোম্পানী কমান্ডার মেজর মোঃ মনির আহমেদ জানান, বাড়ি থেকে নিখোঁজ হয়ে রোজ এবং আব্দুল হাই জঙ্গীদের সাথে সম্পৃক্ত হয়। এর মধ্যে রোজ ২০০৬ সালে কানাডা থেকে পড়ালেখা শেষ করে ২০১২ সালে দেশে ফিরে আসে।

কানাডায় থাকা অবস্থায় তিনি জঙ্গী কার্যক্রমে জড়িয়ে পড়েন। এরপর হলিধানী বাজার এলাকায় ব্যবসার আড়ালে জেএমবির নারী সদস্যদের রিক্রুট করতে থাকেন।

তিনি জানান, উচ্চ শিক্ষিত একজন ব্যক্তি ভাল চাকরী না করে গ্রাম এলকায় ঘাপটি মেরে ব্যবসার আড়ালে তিনি সংগঠন করতেন। উপযুক্ত তথ্য প্রমানের ভিত্তিতে র‌্যাব এ দুইজনকে আটক করেছে বলে তিনি জানান।

পরিবারের দাবী মতে সাদা পোশাকে তুলে নিয়ে যাওয়ার বিষয়ে মেজর মোঃ মনির আহমেদ জানান, তাদের পরিবারের দাবী ঠিক নয়। জেএমবির সংগঠন করার জন্য রোজ এবং হাই নিখোঁজ হয়েছিলেন।

ঝিনাইদহে ভিন্ন ঘটনায় তিন শিশুর মৃত্যু !

ঝিনাইদহের শৈলকুপা ও কালীগঞ্জ উপজেলার পৃথক ঘটনায় পানিতে ডুবে ও সাপে কেটে তিন শিশুর মৃত্যু হয়েছে। নিহত শিশুরা হলো শৈলকুপা উপজেলার পাইকপাড়া গ্রামের সেলিমুল ইসলামের ছেলে আমিমুল ইসলাম (৬), কালীগঞ্জ উপজেলার বুজিডাঙ্গা মুন্দিয়া গ্রামের মাসুদ রানার ছেলে সাজ্জাদ হোসেন (৪) ও একই উপজেলার পাতবিলা গ্রামের প্রবাসি মোঃ মনিরুল ইসলামের ছেলে সায়েম (৫)।

এ বিষয়ে শৈলকুপার হাকিমপুর ইউনিয়ন পরিষদের মেম্বর শরিফুল ইসলাম জানান, উপজেলার মাদলা আশ্রয় কেন্দ্রে মামা হবিবর রহমানের বাড়িতে বেড়াতে আসে আমিমুল ইসলাম। বৃহস্পতিবার সকালে বাড়ি থেকে বের হয়ে নিখোঁজ হয় সে। অনেক খোঁজাখুঁজির পর আশ্রয় কেন্দ্রের একটি পুকুরে তার মৃতদেহ পাওয়া যায়। কালীগঞ্জ উপজেলার বুজিডাঙ্গা মুন্দিয়া গ্রামে ডোবার পানিতে ডুবে সাজ্জাদ হোসেন নামে এক শিশুর মৃত্যু হয়েছে।

বৃহস্পতিবার বেলা সাড়ে ১১টার দিকে ডোবা থেকে তার মরদেহ উদ্ধার করা হয়। কালীগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আমিনুল ইসলাম জানান, বুধবার বিকেলে বাড়ি থেকে বের হয়ে নিখোঁজ হয় সাজ্জাদ। অনেক খোঁজাখুঁজির পর বৃহস্পতিবার সকালে বাড়ির পাশের ডোবায় তার মৃতদেহ পাওয়া যায়।

ঝিনাইদহের কালীগঞ্জ উপজেলার পাতবিলা গ্রামে বৃহস্পতিবার ভোরে সায়েম (৫) নামে এক শিশু সাপের কামড়ে মৃত্যু হয়। সায়েম উপজেলার ৫নং শিমলা রোকনপুর ইউনিয়নের পাতবিলা গ্রামের প্রবাসি মোঃ মনিরুল ইসলামের ছেলে। প্রতিবেশি আলমগীর হোসেন জানায়, শিশুটি তার মায়ের সাথে ঘুমিয়ে ছিল।

বৃহস্পতিবার ভোরের দিকে সাপের কামড় দিলে শিশুটি মৃত্যু যন্ত্রনায় ছটফট করতে থাকে। কিছুক্ষণ পর শিশিুটি মারা যায়। ৫নং শিমলা রোকনপুর ইউনিয়নের চেয়ারম্যান আলহাজ্ব গোলাম রসুল সায়েমের মৃত্যুর কথা নিশ্চিত করেন।

Related posts