November 15, 2018

জয়ী প্রার্থীর বাড়িতে পরাজিত প্রার্থীর হমলা-গুলি বর্ষণ!

রফিকুল ইসলাম রফিক             
নারায়ণগঞ্জ প্রতিনিধিঃ
নারায়ণগঞ্জের সোনারগাঁওয়ে লাধুর চর গ্রামে বিজয়ী প্রার্থী আনোয়ার হোসেনের বাড়িতে পরাজিত প্রার্থী কাউসার আহম্মেদ র্দপন ও সমর্থকরা হামলা চালিয়ে মহিলাসহ ১০ জনকে আহত করে বাড়িঘর ভাংচুর ও লুটপাট করেছে বলে অভিযোগ উঠেছে। এসময় হামলাকারীরা এক রাউন্ড গুলি বর্ষণ করেছে। গতকাল রোববার সকালে এ হামলা চালায়। ঘটনার পর পুলিশ ওই এলাকায় অভিযান চালিয়ে খোকা নামের একজনকে আটক করেছে।  এ ঘটনায় আনোয়ার হোসেন বাদী হয়ে সোনারগাঁও থানায় অভিযোগ দায়ের করেছেন।

পুলিশ ও এলাকাবাসী সূত্রে জানা যায়, উপজেলার নোয়াগাঁও ইউনিয়নের লাধুর চর এলাকায় আনোয়ার হোসেন ও কাউসার আহম্মেদ দর্পন মেম্বার পদে নির্বাচন করে। নির্বাচনে আনোয়ার হোসেন নির্বাচিত হয়। পরে গতকাল রোববার সকাল ৯টার দিকে পরাজিত প্রার্থী কাউসার আহম্মেদ দর্পনের নেতৃত্বে আওলাদ, নাদিম, সিরাজুল খোকা, হৃদয়, আসিক, নাদিমসহ ২০-৩০ জনের একটি দল আনোয়ার হোসেনের বাড়িতে হামলা করে নবী হোসেন, সাগরিকা, আলাফি, রাশিদাসহ ১০ জনকে পিটিয়ে আহত করে বাড়িঘর ভাংচুর ও লুটপাট করে। আহতদের সোনারগাঁও উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেসে ভর্তি করা হয়। ঘটনার সাথে জড়িত থাকার অভিযোগে খোকা নামের এক হামলাকারীকে আটক করেছে পুলিশ। এ ঘটনায় রোববার বিকেলে আনোয়ার হোসেন বাদী হয়ে সোনারগাঁও থানায় অভিযোগ দায়ের করেছেন।

সোনারগাঁও থানার ওসি শাহ মো. মঞ্জুর কাদের পিপিএম জানান, এ ঘটনায় অভিযোগ গ্রহন করা হয়েছে। ঘটনার সাথে জড়িত থাকার অভিযোগে একজনকে আটক করা হয়েছে।

আমাদের প্রতিনিধির পাঠানো নারায়ণগঞ্জের আরো কিছু খবর…………
না’গঞ্জে ইউপি নির্বাচনে চ্যালেঞ্জের মুখে জাপা

সদ্য অনুষ্ঠিত জেলার ৩১টি ইউনিয়নে মাত্র ৩জন দলীয় চেয়ারম্যান প্রার্থী দিলেও তাতে জয়ী হয়েছেন মাত্র একজন প্রার্থী। যার ফলে আসন্ন ষষ্ঠ ধাপের নির্বাচনে দলীয় প্রার্থীদের জয়ী করতে চ্যালেঞ্জের মুখে পড়েছে নারায়ণগঞ্জ জেলা জাতীয় পার্টি।

জানাগেছে, গত ২৩ এপ্রিল অনুষ্ঠিতব্য সদর ও রূপগঞ্জ উপজেলাধীন ১১টি ইউনিয়নের মধ্যে মাত্র এনায়েত নগর ইউনিয়নে জাতীয় পার্টির প্রার্থী হিসেবে নির্বাচনে অংশ গ্রহন করেন কামরুল ইসলাম তুহিন। যিনি নির্বাচনের দিন ভোট কারচুপির অভিযোগ এনে পরবর্তীতে নির্বাচন বয়কট করেন।

অপরদিকে, গত ২৮ মে সোনারগাঁ ও আড়াইহাজার উপজেলার ২০টি ইউনিয়নে অনুষ্ঠিত নির্বাচনে শুধুমাত্র সোনারগাঁতে দুটি ইউনিয়নে প্রার্থী দেয় জাতীয় পার্টি। কিন্তু সেখানেও মাত্র একটিতে জয়লাভ করে লাঙ্গলের চেয়ারম্যান প্রার্থী। উক্ত উপজেলায় জামপুর ইউনিয়নে জাতীয়পার্টির প্রার্থী ছিল বর্তমান চেয়ারম্যান শাহ মো: হানিফ। কিন্তু তিনি ধরাশায়ী হন নৌকার প্রার্থী হামিম শিপলুর কাছে। তবে জয়ী হন শম্ভুপুরা ইউনিয়নে জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যান প্রার্থী আব্দুর রউফ।
আসছে আগামী ৪ জুন ষষ্ঠ ও শেষ ধাপের ইউপি নির্বাচনে বন্দর উপজেলার ৪টি ইউনিয়নে প্রার্থী দিয়েছে জেলা জাতীয় পার্টি। যারা প্রত্যেকেই সম্প্রতি নারায়ণগঞ্জ-৫ আসনের সাংসদ সেলিম ওসমান ও নারায়ণগঞ্জ-৩ আসনের সাংসদ ও জাতীয় পার্টির যুগ্ম মহাসচিব আলহাজ্ব লিয়াকত হোসেন খোকার নেতৃত্বে দলীয় চেয়ারম্যান হুসেইন মোহাম্মদ এরশাদের সাথে সৌজন্য সাক্ষাত করে জাতীয় পার্টিতে যোগ দেন।

এরা হলেন, কলাগাছিয়া ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান দেলোয়ার হোসেন প্রধান, বন্দর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান এহসান উদ্দিন, মুছাপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মাকসুদ হোসেন ও ধামগড় ইউনিয়ন পরিষদের প্রয়াত চেয়ারম্যান আয়নাল হকের ছেলে চেয়ারম্যান প্রার্থী কামাল হোসেন।

এদিকে, জাতীয় পার্টি মনোনীত চার চেয়ারম্যান প্রার্থীকে বিজয়ী করতে জনগণের কাছে ভোট প্রার্থণাও করেছেন নারায়ণগঞ্জ-৫ আসনের সাংসদ সেলিম ওসমানের সহধর্মিনী নাসরীন ওসমান। তবে উক্ত ইউনিয়ন গুলোতে রয়েছে ক্ষমতাসীন দল আওয়ামীলীগের চেয়ারম্যান প্রার্থী। যারা নিজেদের মাঠ দখলে রাখতে নির্বাচনে জয়ের ব্যাপারে কঠোর পরিশ্রম করে যাচ্ছেন।
তাইতো আগামী ষষ্ঠ ধাপের ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে বন্দর উপজেলায় দলীয় প্রার্থীদের বিজয়ী করাটা এখন চ্যালেঞ্জ হিসেবে নিয়েছেন জেলা জাতীয় পার্টি বলে মন্তব্য করেন তৃণমূলের নেতৃবৃন্দরা।

না’গঞ্জে শিক্ষক লাঞ্ছনাঃ ডিসি-এসপির রিপোর্টে হাইকোর্ট অসন্তোষ

বন্দরের শিক্ষক শ্যামল কান্তিকে লাঞ্ছিত করার ঘটনায় দায়সারা প্রতিবেদন দাখিলের কারনে নারায়ণগঞ্জ জেলা প্রশাসক, জেলা পুলিশ সুপার ও বন্দর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তার প্রতি অসন্তোষ প্রকাশ করেছেন হাইকোর্ট। শিক্ষক লাঞ্ছিত করার ঘটনায় আবারো প্রতিবেদন চেয়ে নারায়ণগঞ্জের ডিসি, পুলিশ সুপার ও বন্দর থানার ওসিকে আগামী ৮ জুনের মধ্যে ঐ প্রতিবেদন দাখিল করতে বলা হয়েছে। এই বিষয়ে পরবর্তী শুনানী ৯ জুন ধার্য করেছে আদালত।
রবিবার (২৯ মে) দুপুরে বিচারপতি মইনুল ইসলাম চৌধুরী ও বিচারপতি ইকবাল কবিরের বে  এ আদেশ দেন।

শিক্ষকের পক্ষে আদালতে ছিলেন সাবেক অতিরিক্ত অ্যাটর্নি জেনারেল এন কে রহমান ও অ্যাডভোকেট মহসিন রশিদ। আর রাষ্ট্রপক্ষে ছিলেন ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল মোতাহার হোসেন সাজু।

এর আগে নারায়ণগঞ্জের ডিসি, এসপি, ওসি, মাউশির  প্রতিবেদন আদালতে দাখিল করা হয়। পরে আদালত প্রতিবেদনগুলো দেখে বলেন, প্রতিবেদন পূর্ণাঙ্গ হয়নি, তাই আগামী ৮ই জুন আবারো প্রতিবেদন জমা দিতে হবে।

আদালত বলেন, এরপরে যেন প্রতিবেদন দায়সারাভাবে দাখিল করা না হয়।
এ বিষয়ে ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল মোতাহার হোসেন সাজু সাংবাদিকদের বলেন, প্রশাসনের পক্ষ থেকে যে প্রতিবেদন দেওয়া হয়েছে, তাতে আদালত অসন্তোষ প্রকাশ করেছেন। ৮ জুন পূর্ণাঙ্গ প্রতিবেদন দিতে বলা হয়েছে।

এর আগে গত ২৫ মে সেলিম ওসমানসহ দোষীদের বিরুদ্ধে আদালতের নির্দেশনা অনুযায়ী প্রতিবেদন ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেলের কাছে জমা দেয় নারায়ণগঞ্জ জেলা প্রশাসন।

৪ আগ্নেয়াস্ত্রসহ গ্রেফতার ৪

নারায়ণগঞ্জ র‌্যাব-১১ অভিযান চালিয়ে মুন্সিগঞ্জ জেলা থেকে অবৈধ অস্ত্রসহ ৪ জন সন্ত্রাসী গ্রেফতার করেন। শনিবার (২৮ মে) রাত ৮টায় র‌্যাব-১১ সিপিসি-১ এএসপি শাহ মোঃ মশিউর রহমান পিপিএম নেতৃত্বে মুন্সিগঞ্জ জেলার সদর থানাধীন চরডুমুরিয়া বাজারে সড়কের উপর চেকপোষ্ট করাকালীন অস্ত্রসহ সন্ত্রসীদের হাতে নাতে গ্রেফতার করে।

রবিবার (২৯ মে) মুন্সিগঞ্জ জেলা সার্কিট হাউজে প্রেস কনফারেন্সের মাধ্যমে জানান, গোপন সূত্রের ভিত্তিতে মুন্সিগঞ্জ থ-১১-০৫৩৭ থ্রী-হুইলার (সিএনজি) আটক করে অভিযান পরিচালনা করে অবৈধ অস্ত্রধারীসহ ৪জনকে আটক করেন। ৩ টি বিদেশী পিস্তল, ১ টি বিদেশী ওয়ান স্যূটার গান, ৩ টি ম্যাগাজিন, ১৫ রাউন্ড গুলি, ৫ টি মোবাইল ফোন, ও ১ টি ট্রাভেল ব্যাগসহ, ইদ্রাকপুরের মোঃ আব্দুস সোবাহান হুসাইনের ছেলে মাসুম (২৮), দেওয়ানকান্দি মো আবুল হোসেনের ছেলে আব্দুল কাদির (২০), বিটি হুগলাকান্দির ইউসুফ হাওলাদারের ছেলে হাফেজ মোঃ দেলোয়ার হোসেন (২৮), মিজমিজি কান্দি আওয়াল পীরের ছেলে মোঃ আসলাম পীর (২৬) কে গ্রেফতার করে।

তিনি আরো জানান, ২৮ মে মুন্সিগঞ্জ জেলায় অনুষ্ঠিতব্য ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচন উপলক্ষে নির্বাচনী এলাকায় উল্লেখিত অবৈধ অস্ত্রশস্ত্র ব্যবহার করে এলাকায় বি-শৃংখলা সৃষ্টির মাধ্যমে আইন-শৃংখলা পরিস্থিতির অবনতি ঘটানোর কাজে আসামীরা উল্লেখিত অবৈধ অস্ত্রশস্ত্র জড়ো করেছিল। কিন্তু র‌্যাব এবং অন্যান্য আইন-শৃংখলা রক্ষাকারী বাহিনীর তৎপরতা ও পর্যাপ্ত উপস্থিতির কারনে পরিস্থিতির অবনতি ঘটাতে পারেনি। আসামীরা এলাকার চিহ্নিত অবৈধ অস্ত্রধারী ও সন্ত্রাসী বলে জানা যায় এবং তাদের কতেকের বিরুদ্ধে মুন্সিগঞ্জ থানাসহ অন্যান্য থানায় একাধিক মামলা-মোকদ্দমা রয়েছে বলে জানা যায়। আসামীদের বিরুদ্ধে সংশিষ্ট থানায় আইনানুগ কার্যক্রম গ্রহণের বিষয়টি প্রক্রিয়াধীন।

এসময়ে র‌্যাব-১১ উপ-অধিনায়ক লে: কর্নেল গোলজার আহম্মেদ বলেন, আমরা বিষয়টি তদন্ত করছি। এখনো পর্যন্ত তাদের মুখ থেকে তেমন কিছু বের করা যায়নি। তবে আমরা এর গভীরে যাবো।

আ’লীগের দালালদের বের করতে হবেঃ এড. তৈমূর

বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল বিএনপি’র প্রতিষ্ঠাতা প্রয়াত সাবেক রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের ৩৫তম মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে নারায়ণগঞ্জের বৃহত্তর মাসদাইরবাসীর উদ্যোগে এবং জেলা বিএনপি’র সভাপতি এ্যাডভোকেট তৈমূর আলম খন্দকারের সার্বিক তত্ত্বাবধানে মিলাদ মাহফিল, দোয়া ও কাঙ্গালী ভোজের আয়োজন করা হয়েছে। রোববার (২৯ মে) বাদ জোহর তৈমূর আলম খন্দকারের নিজস্ব বাসভবন মজলুম মিলনায়তনে এ মিলাদ ও দোয়া অনুষ্ঠিত হয়।
দোয়াপূর্বক এক সংক্ষিপ্ত বক্তব্যে জেলা বিএনপি’র সভাপতি এ্যাডভোকেট তৈমূর আলম খন্দকার বলেন, গনতন্ত্রকে গলাটিপে হত্যা করে দেশে এখন একদলীয় শাসন ব্যবস্থা কায়েম করা হয়েছে। যেখানে মানুষের ভোটের অধিকারটুকুও কেড়ে নেওয়া হয়েছে। এই স্বৈরাচারী সরকারের পতন ঘটিয়ে দেশে আবারো গনতন্ত্র পুনঃপ্রতিষ্ঠা করতে হলে গনতন্ত্রের মানসকণ্যা দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়ার নেতৃত্বে সকল জাতীয়তাবাদী শক্তিকে ঐক্যবদ্ধভাবে প্রতিরোধের দেয়াল তুলে দিতে হবে। দলের ভিতরে ঘাপটি মেরে থাকা সরকারী দলের দালালদের চিহ্নিত করে দল থেকে বিতারিত করতে হবে এবং বহুদলীয় গনতন্ত্রের প্রতিষ্ঠাতা শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের আদর্শকে বুকে ধারন করে দেশনেত্রীর হাতকে শক্তিশালী করতে হবে। আজকের এই দিনে এটাই হোক সবার অঙ্গিকার।

দোয়া মোনাজাতে প্রয়াত রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের রুহের মাগফেরাত কামনা এবং দেশ ও দেশের মানুষের মঙ্গল প্রার্থনা করা হয়।

এ সময় আরো উপস্থিত ছিলেন জেলা বিএনপি’র সহ সভাপতি বদিউজ্জামান খসরু, যুগ্ম সম্পাদক আনোয়ার হোসেন খান, খন্দকার আবু জাফর, সিদ্ধিরগঞ্জ থানা বিএনপি’র আহবায়ক আলী হোসেন প্রধাণ, নগর বিএনপি’র সংস্কৃতি বিষয়ক সম্পাদক রাসেল আহমেদ মনির, জেলা যুবদলের সভাপতি মোশারফ হোসেন, মহানগর যুবদলের আহবায়ক এবং ১৩নং ওয়ার্ড কাউন্সিলর মাকসুদুল আলম খন্দকার খোরশেদ, যুগ্ম আহবায়ক সানোয়ার হোসেন, সরকার আলম, কার্যকরী সদস্য নাজমূল কবীর নাহিদ, জেলা মহিলা দলের সভানেত্রী রহিমা শরীফ মায়াসহ বিএনপি ও অঙ্গ সংগঠনের বিপুল সংখ্যক নেতাকর্মী এবং বৃহত্তর মাসদাইরবাসী।

যে কারণে কাঁচপুরের ফজল চেয়ারম্যানের পতন!

কাঁচপুর ইউনিয়নের টানা ৪ বারের চেয়ারম্যান। থানা বিএনপি’র শীর্ষ নেতা। তাদের দম্ভোক্তি এবারও কাঁচপুরের চেয়ারম্যনের পদ, তাদেরই থাকবে। ফজলুল হক চেয়ারম্যানের ছেলেদের এমনই দাবি ছিল, বিগত নির্বাচনের মতো এবারও ফজল চেয়ারম্যানই জয়ী হবে। তাদের বিজয় আর ঠেকায় কে?। তাই দলীয় নেতাকর্মীদের পাশাপাশি নিজেদের কর্মীদের সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন ব্যবসা বানিজ্য হাতিয়ে নেওয়া, চাঁদাবাজি, ভূমিদস্যুতাই ছিল ছেলেদের প্রধান আয়ের উৎস। ফজলুল হক চেয়ারম্যান নির্বাচিত হওয়ার পূর্বে যাত্রা দলের সাথে সম্পৃক্ত থাকার কারণে বিবাহিত জীবনে ৩টি বিয়ে করেছেন। তার একাধিক সংসারের ৭ জন ছেলে ও ৪ জন মেয়ের পিতা তিনি। তার ৭ ছেলে মধ্যে ৫ জনই মাদক সেবী ও সন্ত্রাসী। সোনারগাঁও থানা ছাত্র দলের এক সময় সাধারণ সম্পাদক ছিলেন ফজলুল হক চেয়ারম্যানের ছেলে শামীম। ঐ সময়ে সে সোনারগাঁও থানা পুলিশের তালিকা ভূক্ত শীর্ষ সন্ত্রাসী ছিল। সে একাধিকবার পুলিশের হাতে গ্রেফতার হয়েছিল। তার অপর ছেলে হানিফ হক সোহাগ ওরফে মেয়র হানিফ। সে কাঁচপুরের পরিবহন সেক্টরের চাঁদাবাজি নিয়ন্ত্রন করে থাকেন। সেই সুবাধে তার বিরুদ্ধে দ্রুত বিচার আইনে ৩টি চাঁদাবাজিসহ একাধিক মামলা রয়েছে বলে জানা গেছে। সেও সোনারগাঁও থানা পুলিশের তালিকা ভূক্ত শীর্ষ সন্ত্রাসী এবং চাঁদাবাজ। সবার ছোট ছেলে সুমন হক। তার বিরুদ্ধে রয়েছে একাধিক মামলা। সুমন ছোট খাটো চুরি, ছিনতাই ও চাঁদাবাজি করে থাকেন। ঐ চুরি ও ছিনতাইয়ের টাকা দিয়েই নেশা করে থাকনে বলে এলাকাবাসী জানায়।

গত কয়েক বছর পূর্বে র‌্যাব-১১ এর তৎকালিন মেজর আরমান উল্ল্যা ফজল চেয়ারম্যানের বাড়ির পাশ থেকে বিপুল পরিমানে চোরাই রড উদ্ধার করে। ঐ রড ফজল চেয়ারম্যানের ছেলে সুমন চুরি করে ঐ বাড়িতে মজুদ রাখে বলে র‌্যাব জানিয়েছিল। এ ঘটনায় সোনারগাঁও থানা একটি মামলা দায়ের করে র‌্যাব। ঐ মামলায় ফজল চেয়ারম্যানের ছেলে সুমনকে আসামী করা হয়েছিল। ফজল চেয়ারম্যানের ছেলেরা হল-কাঁচপুর ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি হাজী সেলিম হক রমি, নাছিম হক, শামীম হক, হানিফ হক সোহাগ ওরফে মেয়র হানিফ, সমুন হক, ইকবাল হক ও আপলে হক। এর মধ্যে হাজী সেলিম হক রমি, নাছিম হক ও শামীম হক এক সংসারের অন্যদিকে হানিফ হক সোহাগ ওরফে মেয়র হানিফ ও সমুন হক এক সংসারের এবং ইকবাল হক ও আপলে হক এক সংসারের। ইকবাল হক ও আপলে হক ছাড়াও অন্য ৫ ছেলেদের বিরুদ্ধে মাদক সেবনের অভিযোগ রয়েছে।

২৮ মে নির্বাচনে ২০ হাজার ৯১ ভোট পেয়ে বেসরকারীভাবে কাচঁপুর ইউনিয়নের পরিষদের আওয়ামীলীগ মনোনিত প্রার্থী সোনারগাঁও থানা আওয়ামীলীগ নেতা মোশারফ ওমর নির্বাচিত হন। বিএনপি মনোনিত চেয়ারম্যান প্রার্থী ফজলুল হক (বর্তমান চেয়ারম্যান) পান ৭ হাজার ৮৬৪ ভোট। এলাকাবাসী ফজল চেয়ারম্যানের বিশাল ভরা ডুবির কারণ হিসেবে দেখছেন। যদিও জাল ভোট, কেন্দ্র দখল ও বিএনপির প্রার্থীদের বের করে দেওয়ার অভিযোগ এনে নির্বাচন বয়কট করেছেন বিএনপির মনোনিত প্রার্থী ফজলুল হক। সোনারগাঁও উপজেলা বিএনপির সভাপতি খন্দকার আবু জাফর জানান, কারচুপির অভিযোগে নির্বাচন থেকে প্রার্থীরা সরে এসেছে। তবে এ অভিযোগ অস্বীকার করেছেন আওয়ামীলীগ মনোনিত প্রার্থী সোনারগাঁও থানা আওয়ামীলীগ নেতা মোশারফ ওমর।

সোনারগাঁয়ের কাঁচপুর ইউনিয়ন স্বেচ্ছাসেবক লীগের সিনিয়র সহ-সভাপতি মোঃ বাবুল জানান, কাঁচপুর অনেক বিএনপি ত্যাগী নেতাকর্মীরা বিএনপি মনোনিত প্রার্থী ফজল চেয়ারম্যানকে ত্যাগ আওয়ামীলীগের মনোনিত প্রার্থী মোশারফ ওমরের নির্বাচন করেছেন। তার ছেলেদের দম্ভোক্তি, অপকর্ম, চাঁদাবাজি ও ভূমিদস্যুতার কারণে বিএনপি নেতাকর্মীরা প্রকাশ্যে আওয়ামীলীগের মনোনিত প্রার্থী মোশারফ ওমরের নির্বাচন করেছেন। তাই এ নির্বাচনে বিএনপির কোন কর্মী সমর্থক ছিল না।

সিদ্ধিরগঞ্জে ৫৪ ধারায় গ্রেফতার বাড়ছে

নারায়ণগঞ্জ সদরের তিন থানা ও জেলা ডিবি পুলিশ ৫ মাসে (১ জানুয়ারী থেকে ২৩ মে পর্যন্ত) ৫৪ ধারার ৬৮টি মামলায় অন্তত শতাধিক লোককে আদালতে গ্রেফতার দেখিয়েছেন। এরমধ্যে ১৪ মে থেকে ২৩ মে পর্যন্ত ফতুল্লা মডেল, সিদ্ধিরগঞ্জ থানা ও জেলা ডিবি পুলিশ ৫৪ ধারার ৫টি মামলায় ১৪জনকে গ্রেফতার দেখিয়েছেন।

আদালত সূত্র জানান, ১৭ মে ফতুল্লা মডেল থানা পুলিশ ৮৩৫ নং জিডিতে ৫৪ ধারায় ৪জন, সিদ্ধিরগঞ্জ থানা ২৩ মে ১১৯৬ নং জিডিতে ১জন, ১৮ মে ৯৩৮ নং জিডিতে ৩জন ও ১৪ মে ৭২৫ নং জিডিতে ১জন এবং জেলা গোয়েন্দা পুলিশ ডিবি ১৪ মে ৩৭১ নং জিডিতে ৫জনকে ৫৪ ধারায় আদালতে প্রেরন করেন।

কোর্ট পুলিশের পরিদর্শক হাবিবুর রহমান এর সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন, আগের চেয়ে ৫৪ ধারার মামলা এখন কম। ১৬৭ ধারায় কোন আসামীকে সম্প্রতি রিমান্ডে নেয়া হয়নি। এরমধ্যে অনেক মামলা নিস্পত্তি হয়েছে।

হাইকোর্টের নির্দেশনা: হাইকোটের্র রায়ে ছয় মাসের মধ্যে ৫৪ ধারায় গ্রেফতার ও ১৬৭ ধারায় রিমান্ডে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদের প্রচলিত বিধান সংশোধনের নির্দেশ দেয়া হয়। পাশাপাশি ওই ধারাগুলো সংশোধনের আগে সরকারকে কয়েক দফা নির্দেশনা মেনে চলার জন্য বলা হয়।
হাইকোর্টের দেয়া নির্দেশনাগুলোর মধ্যে রয়েছে- পুলিশ কাউকে ৫৪ ধারায় গ্রেফতার করতে পারবে না। কাউকে গ্রেফতার করার সময় পুলিশ তার পরিচয়পত্র দেখাতে বাধ্য থাকবে। গ্রেফতারের তিন ঘণ্টার মধ্যে কারণ জানাতে হবে। বাসা বা ব্যবসা প্রতিষ্ঠান ছাড়া অন্য স্থান থেকে গ্রেফতারকৃত ব্যক্তির নিকটাত্মীয়কে এক ঘণ্টার মধ্যে টেলিফোন বা বিশেষ বার্তাবাহক মারফত বিষয়টি জানাতে হবে। গ্রেফতার ব্যক্তিকে তার পছন্দসই আইনজীবী ও নিকটাত্মীয়ের সঙ্গে পরামর্শ করতে দিতে হবে।

এছাড়া গ্রেফতার ব্যক্তিকে আবার জিজ্ঞাসাবাদের প্রয়োজন হলে ম্যাজিস্ট্রেটের আদেশক্রমে কারাগারের ভেতরে কাচ দিয়ে নির্মিত বিশেষ কক্ষে তাকে জিজ্ঞাসাবাদ করতে হবে। কক্ষের বাইরে তার আইনজীবী ও নিকটাত্মীয় থাকতে পারবেন। জিজ্ঞাসাবাদের আগে ও পরে ওই ব্যক্তির ডাক্তারি পরীক্ষা করাতে হবে। পুলিশি হেফাজতে নির্যাতনের অভিযোগ উঠলে ম্যাজিষ্ট্রেট সঙ্গে সঙ্গে মেডিকেল বোর্ড গঠন করবেন। বোর্ড যদি বলে ওই ব্যক্তির ওপর নির্যাতন করা হয়েছে তাহলে পুলিশ কর্মকর্তার বিরুদ্ধে ম্যাজিষ্ট্রেট ব্যবস্থা নেবেন এবং তাকে দ-বিধির ৩৩০ ধারায় অভিযুক্ত করতে হবে।

সেলিম ওসমানের যে বক্তব্যে ধোঁয়াশা

নারায়ণগঞ্জের বন্দরে পিয়ার সাত্তার লতিফ উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক শ্যামল কান্তি ভক্ত ইস্যুতে ব্যাপারে বক্তব্য দিতে গিয়ে স্থানীয় এমপি সেলিম ওসমান যিনি একই সঙ্গে ব্যবসায়ী নেতা বলেছেন, ‘ওই ঘটনায় আমি সেলিম ওসমান রাজনৈতিক শিকার। আমাকে ফাঁসানো হয়েছে। ঘটনার পর মেধা খাটিয়ে পুরো বিষয়টি উপস্থাপন করা হয়েছে।’

বৃহস্পতিবার তিনি নারায়ণগঞ্জ ক্লাব লিমিটেডে মতবিনিময় সভায় এসব কথা বলেন। কিন্তু তিনি ওই রাজনৈতিক শিকারের আদ্যোপান্ত ও কারা ফাঁসিয়েছে তা উপস্থাপন করেনি। ফলে প্রশ্ন রয়েই যাচ্ছে। কারা ওই রাজনীতিটি করেছে সেটার প্রশ্ন জনগণের মধ্যেই ঘুরপাক খাচ্ছে।

তদন্ত কমিটির সদস্য জেলা পুজা উদযাপন পরিষদের সভাপতি শংকর কুমার সাহা জানান, তারা গত ১৮ মে থেকে তদন্ত শুরু করেছেন। ৫ কর্মদিবসের মধ্যে তাদের রিপোর্ট দাখিল করার কথা রয়েছে। তারা মসজিদের ইমামসহ স্থানীয় এলাকাবাসীর সঙ্গে কথা বলেছেন। তারা তদন্ত কমিটিকে জানিয়েছেন ঘটনার দিন যারা মসজিদের মাইকে ঘোষণা দিয়েছিল তারা এলাকার কেউ নয়। তারা বহিরাগত ওইদিন স্থানীয় লোকজন বহিরাগতদের আটকাতে গিয়ে আহত হয়েছিল।

নারায়ণগঞ্জের বন্দর উপজেলার কল্যান্দি এলাকায় পিয়ার সাত্তার লতিফ উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক শ্যামল কান্তি ভক্তকে গণধোলাই, ৬ ঘণ্টা অবরুদ্ধ করে রাখা এবং পরে এমপি সেলিম ওসমানের উপস্থিতিতে কানে ধরে উঠবস এর ঘটনায় দেশজুড়ে তোলপাড় চলছে। এদিকে উস্কানিদাতাদের সন্ধানে কাজ করছে উপজেলা প্রশাসনের তদন্ত কমিটি। তবে উস্কানিদাতাদের চিনলেও প্রত্যক্ষদর্শীদের অনেকেই এখন না চেনার ভান করছেন। উস্কানিদাতাদের পেছনে স্থানীয় প্রভাবশালী মহল জড়িত থাকায় অনেকেই মুখ খুলতে সাহস করছেননা। এদিকে স্কুলের প্রধান শিক্ষক ধর্মীয় অনুভূতি নিয়ে কথা বলেছেন এ ধরনের একটি গণস্বাক্ষর নেয়ার চেষ্টা চলছে। প্রধান শিক্ষকের মারধরে আহত স্কুলের ১০ম শ্রেনীর ছাত্র রিফাতসহ অন্যরা ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাতের অভিযোগ না করলেও নাজেহালের শিকার প্রধান শিক্ষককে ধর্মীয় অনুভূতিসহ ৪টি বিষয়ে অভিযোগ এনে সাময়িক বরখাস্ত করেছে স্কুলটির ম্যানেজিং কমিটি।

উস্কানীদাতাদের চিনলেও মুখ খুলছেনা প্রত্যক্ষদর্শীরা: ৮ মে স্কুলের দশম শ্রেণীর বাণিজ্য বিভাগের ছাত্র রিফাত হোসেন ক্লাশে দুষ্টুমি করায় তাকে প্রহার করেন প্রধান শিক্ষক শ্যামল কান্তি ভক্ত। শুক্রবার সকালে উন্নয়ন নিয়ে স্কুল কমিটির আহবান করা সভায় রিফাতের অভিযোগ নিয়ে আলোচনায় উঠে। ওই সময়ে হঠাৎ করে এলাকাতে একটি গ্রুপ ছড়িয়ে দেয় যে প্রধান শিক্ষক ইসলাম ধর্ম নিয়ে কটুক্তি করেছে। ওই এলাকার বায়তুল আতিক জামে মসজিদ, কল্যান্দী বড় মসজিদ ও জিওধরা মসজিদের মাইকে ঘোষণা দিয়ে বিষয়টি দ্রুত ছড়িয়ে দেয়া হলে আশেপাশের লোকজন এসে স্কুল ঘিরে ফেলে ও শ্যামল কান্তি ভক্তকে গণপিটুনি দিয়ে অবরুদ্ধ করে রাখে। তবে কারা মসজিদের মাইকে উস্কানীর বিষয়টি প্রচার করেছে সে বিষয়ে মুখ খুলছেনা প্রত্যক্ষদর্শীরা। স্কুলের পাশেই অবস্থিত বায়তুল আতিক জামে মসজিদের ইমাম মাহমুদুল হাসান জানান, শুক্রবার জুমআর নামাজের দিন সকাল থেকেই মসজিদ খোলা ছিল। সকাল সাড়ে ১০টা কি ১১টার দিকে কয়েকজন যুবক আসে যাদের চেনা যায়নি তারা এসে মসজিদের মাইকে ঘোষণা দেয়া হয়। কল্যান্দী গ্রাম পঞ্চায়েত কমিটির সহ সভাপতি শামসুল হক বলেন, ‘মাইকে ঘোষণা দেয়া হয়েছে যে স্কুলের প্রধান শিক্ষক ইসলাম নিয়ে কটুক্তি করেছে।

এ কথা শুনেই আশেপাশের লোকজন এসে জড়ো হয়। তখন আমরাও যাই। গিয়ে দেখি শত শত লোকজন স্কুলের সামনে মিছিল করছে। পরে আস্তে আস্তে মানুষও বাড়তে থাকে। লোকজন মিছিল করে স্লোগান দিয়ে হেড মাস্টারের ফাঁসি দাবী করে। নামাজের সময়ে আমরা আবার চলে যাই। কিন্তু তখনও কয়েক হাজার মানুষ স্কুলের সামনেই ছিল।’ স্কুলের শিক্ষক প্রতিনিধি মাওলানা বোরহান উদ্দিন বলেন, সকালে আমাদের সভা চলাকালে বাইরে হট্টগোল শুনতে পাই। তখন বাইরে গিয়ে দেখি হেড স্যারের বিরুদ্ধে মিছিল হতে থাকে। তখনই মসজিদের মাইকে ঘোষণা দেওয়া হয়। কিন্তু কারা ঘোষণা দিল সেটা আমাদের অজানা ছিল। লোকজনদের উপস্থিতি ধীরে ধীরে বাড়তে থাকায় আমরাও ভীত ছিলাম। হঠাৎ সাড়ে ১১টার দিতে উশৃঙ্খল কিছু লোকজন আমাদের সভাকক্ষে ঢুকে হেড স্যারকে মারধর করতে থাকে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এলাকাবাসী জানান, প্রধান শিক্ষককে নাজেহালের ষড়যন্ত্রের সঙ্গে স্কুলের ম্যানেজিং কমিটিসহ প্রভাবশালী মহল জড়িত রয়েছে। যেজন্য মসজিদের মাইকে ঘোষণা দেয়া উস্কানীদাতাদের চিনলেও এখন অনেকে ভয়ে মুখ খুলছেনা। মাইকে ঘোষণাকারীদের মধ্যে স্কুলের নাইটগার্ড মোস্তফার ছেলে সোহেলসহ অনেকেই ছিল।

এলাকাবাসী জানান, শ্যামল কান্তি ভক্তকে প্রধান শিক্ষকের পদ থেকে সরিয়ে ম্যানেজিং কমিটির সভাপতি ফারুকুল ইসলামের বোন পারভীন আক্তারকে প্রধান শিক্ষক করতেই ষড়যন্ত্র অব্যাহত ছিল। এছাড়া স্কুলের ম্যানেজিং কমিটির সদস্য মিজান, মোবারক হোসেন, মেজু, মতিউর রহমানরাও দীর্ঘদিন ধরে ষড়যন্ত্রে লিপ্ত ছিল। আর এর পেছনে কলকাঠি নাড়ছিল কলাগাছিয়া ইউপির বর্তমান চেয়ারম্যান দেলোয়ার হোসেন প্রধান, জাপা নেতা সামছুল হক ও তার পুত্র অপু। এর মধ্যে জাপা নেতা সামছুল হকের ছেলে পুলিশের একজন এএসআই পদে রয়েছে। কেউ তার বিরুদ্ধাচরণ করলে পুলিশ দিয়ে হয়রানী করার হুমকী দেন। এছাড়া কলাগাছিয়া ইউপির বর্তমান চেয়ারম্যান দেলোয়ার হোসেন প্রধান হচ্ছে সংসদ সদস্য সেলিম ওসমানের কাছের লোক। তিনি সম্প্রতি জাতীয় পার্টিতে যোগ দিয়ে লাঙ্গল প্রতীকে নির্বাচন করেছেন। যেকারণে অনেকেই মিডিয়ায় উস্কানীদাতাদের নাম বলছে না।

স্থানীয়দের ভাষ্য মতে, সকাল সাড়ে ১০টায় স্কুলের সভা শুরুর পরেই মসজিদের মাইকে ঘোষণা দেওয়া হয় প্রধান শিক্ষক ইসলাম নিয়ে কটুক্তি করেছে। এর পরেই মূলত আশেপাশের লোকজন এসে স্কুলের প্রধান শিক্ষককে মারধর করে লাঞ্ছিত করে একটি কক্ষে আটকে রাখে।

খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয় বন্দর থানা পুলিশ। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রনে আনতে বন্দর থানার ওসি আবুল কালাম স্কুলের ভেতরে বিপুল সংখ্যক পুলিশ মোতায়েন করেন। এর মধ্যে স্কুলে এসে উপস্থিত হন  কলাগাছিয়া ইউনিয়নের চেয়ারম্যান দেলোয়ার হোসেন প্রধান।

ঘটনার প্রত্যক্ষদর্শীরা জানিয়েছেন, পুলিশ ও রাজনৈতিক নেতারা ঘটনাস্থলে আসলেও তাদেরকে তেমন উদ্যোগী হতে দেখা যায়নি। বরং তাদের সামনেই বিক্ষুদ্ধ এলাকাবাসী স্কুলের প্রধান শিক্ষক শ্যামল কান্তি ভক্তের ফাঁসি দাবি ও স্কুল পরিচালনা কমিটির সভাপতি ফারুকুল ইসলামের বহিস্কার দাবি করে স্লোগান দিতে থাকে। ওই সময়টাতে স্কুলের সম্মেলন কক্ষেই অবরুদ্ধ থাকেন প্রধান শিক্ষক। তখন ভেতরে ছিলেন দেলোয়ার হোসেন প্রধান। আর স্কুলের ভেতরে ও বাইরে পুলিশ সদস্যরা অনেকটা নিরবভাবেই পুরো বিষয়টি প্রত্যক্ষ করেছেন।

বিক্ষুদ্ধ এলাকাবাসীকে শান্ত করতে ব্যর্থ হয়ে দুপুর আড়াইটায় বিষয়টি স্থানীয় সংসদ সদস্য সেলিম ওসমানকে অবগত করেন স্থানীয়রা। তখন সেলিম ওসমান মোবাইল ফোনে এলাকাবাসীকে আইন নিজের হাতে তুলে না নেওয়ার আহবান জানিয়ে তাদেরকে শান্ত থাকতে বলেন এবং তিনি নিজে উপস্থিত হয়ে সুষ্ঠু বিচারের আশ্বাস দিলে বিক্ষুদ্ধ এলাকাবাসী শান্ত হয়ে স্কুলের ভেতরে অবস্থান করে থাকেন।

পরে বিকেল ৪টায় পিআর সাত্তার লতিফ উচ্চ বিদ্যালয়ে গিয়ে উপস্থিত হোন সংসদ সদস্য সেলিম ওসমান। সঙ্গে ছিলেন  জেলা জাতীয় পার্টির আহবায়ক আবুল জাহের, বন্দর উপজেলা আওয়ামীলীগের সভাপতি এম এ রশিদ, বন্দর উপজেলার চেয়ারম্যান আতাউর রহমান মুকুল, উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মৌসুমী হাবিব, উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসার একেএম নুরুল আমিন প্রমুখ।

না’গঞ্জে অস্থিতিশীল সুতার বাজার

আন্তর্জাতিক বাজারে কয়েক দফা তুলার দর উঠা নামার কারণে অস্থিতিশীল হয়ে উঠেছে সুতার বাজার। যার ফলে সুতার বাজারে কিছু চাহিদা কম থাকায় স্বাভাবিক বেচাকেনাও হচ্ছে না বলে দাবি করেছেন নারায়ণগঞ্জ শহরের টানবাজার এলাকার সুতা ব্যবসায়ীরা। ব্যবসায়ীদের দাবি তুলার দাম বৃদ্ধির কারণে সুতার দাম বাড়ছে। তবে সেটাও স্থিতিশীল না হওয়া পর্যন্ত চাহিদা থাকা সত্বেও ক্রেতারা বা তাঁতিরা সুতা কিনতে চাইছে না। সুতা তৈরির মিল মালিকেরাও বলছেন একই কথা। তাদের দাবি গত ক’দিনে প্রতি পাউন্ড তুলার দাম ৭ থেকে ৮ টাকা বৃদ্ধি পেয়েছে। শুধু তাই নয় ভ্যাট সংক্রান্ত জটিলতার কারণেও সুতা ব্যবসায়ীরা রয়েছেন চিন্তিত।
নারায়ণগঞ্জ শহরের টানাবাজার এলাকার কয়েকজন সুতা ব্যবসায়ীদের সঙ্গে কথা বললে তারা এসব কথা বলেন।

এদিকে টানবাজারের সুতার বাজার ঘুরে দেখা যায়, রোববার ১০ কাউন্টের সুতা প্রকার ভেদে বিক্রি হয় সর্বনিন্ম ২৬ টাকা থেকে সর্বোচ্চ ৪২ টাকায়। ২০ কাউন্টের সুতা ৫৮ থেকে ৭২ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। ৩০ কাউন্টের সুতা ৭৮ থেকে ৯০ টাকা , ৪০ কাউন্টের ১১২ থেকে ১১৪  ও ৫০ কাউন্টের সুতা ১৩৭ থেকে ১৩৪ টাকায় বিক্রি হয়। এক সপ্তাহ আগে প্রতি কাউন্টের সুতায় ৫ থেকে ৮ টাকা পর্যন্ত কম ছিলো বলে ব্যবসায়ীদের দাবি।

এমএস শামীম এন্টারপ্রাইজের পরিচালক ব্যবসায়ী মো. নাজমুল হুদা শামীম বলেন, ‘বাজার ভালো না। তুলার দাম বৃদ্ধি পাওয়ার কারণেই সুতার দাম বেড়েছে। তবে এটা খুব স্বাভাবিক বিষয়। প্রায় সময় তুলার বাজার কমে আবার বাড়ে। তবে এটাই ছিল অনেক দিন পর তুলার বাজার বাড়ার ঘটনা। প্রায় দীর্ঘদিন পর তুলার দাম বৃদ্ধি পেয়েছে। যার ফলে বাজার স্থিতিশীল না হওয়া পর্যন্ত ক্রেতারা বা তাঁতিরা লোকাল মার্কেট থেকে সুতা কিনে চলছে। যার ফলে বাজারে বেঁচাকেনা তেমন একটা নেই। যখন আবার লোকাল মার্কেটে সুতার সংকট দেখা দিবে তখনি বাজার স্বাভাবিক হবে বলে ধারনা করা যাচ্ছে।’

এদিকে রহমান স্পিনিং মিল লিমিটেডের ম্যানেজার মো. সিরাজদ্দৌলা সুমন জানান, ‘গত এক সপ্তাহে প্রতি পাউন্ডে তুলার দাম ৮ টাকা বৃদ্ধির কারণে সুতার সঠিক দাম পাওয়া যাচ্ছে না। দাম বাড়লেও আগের দামে সুতা বিক্রি করতে হচ্ছে। এছাড়াও মিলগুলোর পরিবর্তে স্থানীয় লোকাল মার্কেট গুলো থেকে সুতা সংগ্রহ করছে ক্রেতা বা তাঁতিরা। যারা ফলে সুতা ব্যবসায় মন্দা ভাব চলছে। যার প্রভাব পড়েছে মিল গুলোতেও।

এর কারণ হিসাবে মো. সিরাজদ্দৌলা সুমন জানান, বিগত বছরের আন্তর্জাতিক বাজারে তুলার দাম বৃদ্ধি পাওয়ার কারণে তুলা আমদানী কম থাকে। এর মধ্যে তুলা আমদানীর খরচও বৃদ্ধি পায়। যার ফলে গুদামজাত করা সুতা দিয়ে দীর্ঘদিন চলতে পারলেও বর্তমানে সুতার চাহিদা থাকায় খরচের আনুপাতিক হারে সুতার দাম কিছুটা বেড়েছে।

তিনি আরো জানান, সুতার দাম বৃদ্ধির জন্য বিদ্যুৎ, শ্রমিক, ট্রান্সপোর্ট খরচ, যন্ত্রপাতি সহ আনুষাঙ্গিক সকল কিছুও আছে। বিগত দিনগুলোতে প্রচন্ড বিদ্যুত বিভ্রাটের কারনেও উৎপাদন কম হয়েছে কিন্তু খরচ বেশি হয়েছে। এছাড়াও বর্তমানে ট্রান্সপোর্ট খরচ, শ্রমিক খরচ সহ সকল খরচ বেড়ে গেছে। যার আনুপাতিক হারে সুতার উপর প্রভাব পরেছে।

আড়াইহাজারে কেন্দ্রে যায়নি কোন ভোটার!

আড়াইহাজার উপজেলার ১০টি ইউনিয়ন পরিষদের নির্বাচন শনিবার অনুষ্ঠিত হয়েছিল। এর  মধ্যে ২টি কেন্দ্রের ফলাফল হাস্যরসের সৃস্টি করেছে ভোটারদের মনে।

নির্বাচন অফিস সূত্রে জানা গেছে, আড়াইহাজার উপজেলার দুর্গম চর এলাকায় অবস্থিত কালাপাহাড়িয়া ইউনিয়নের ৭, ৮ ও ৯নং ওয়ার্ডটি  গঠন করা হয়েছে ৪টি কেন্দ্র নিয়ে। কেন্দ্রগুলো হলো ৭নং ওয়ার্ডে কালাপাহাড়িয়া সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়। ৮নং ওয়ার্ডে হাজীরটেক সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয় এবং ৯ নং ওয়ার্ডে খালিয়ারচর সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয় (১) এবং খালিয়ারচর সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয় (২)। এই ইউনিয়নে বিনা প্রতিদ্বন্ধিতায় চেয়ারম্যান এবং ৯নং ওয়ার্ডে সাধারণ সদস্য নির্বাচিত হয়েছেন। ৯নং ওয়ার্ডে শুধু মাত্র সংরক্ষিত সদস্য পদে নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়।

রিটার্নি কর্মকর্তা মামুন মজুমদার জানান, খালিয়ারচর সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয় (১)। এই কেন্দ্রে  ভোটারের সংখ্যা ১৮১৭টি। ভোট পড়েছে ১৭টি। এর মধ্যে সূর্যমুখী প্রতীকে মাকসুদা পেয়েছে ৯ ভোট। তালগাছ প্রতীকের নারগিছ পেয়েছে ২ ভোট, হেলিকপ্টার প্রতীকের তাসলিমা পেয়েছে ৪ ভোট এবং ক্যামেরা প্রতীকের রিনা বেগম পেয়েছেন ২ ভোট। এই কেন্দ্রে ৯ ভোট পেয়ে মাকসুদা বিজয়ী হয়েছেন। কেন্দ্রের নাম খালিয়ারচর সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়(২)। এখানে ভোটারের সংখ্যা ১৭২৫টি। এই কেন্দ্রে কোন ভোটার যায়নি এমকি কোন প্রার্থী পোলিং এজেন্টও দেয়নি। নির্বাচনী দায়িত্ব থাকা কর্মকর্তাগণ অসল সময় পার করেছেন। এলাকাবাসীর বরাত দিয়ে রিটানিং কর্মকর্তা মামুন মজুমদার জানান, ওই ২টি কেন্দ্র ছাড়াই ফলাফল ভাল হবে এই ধারণায় কোন পোলিং এজেন্ট দেয়নি প্রার্থীরা। অপর দিকে যেহেতু কোন প্রার্থী ভোটারদের নিকট ভোট চাইনি। তাই  ভোটাররাও কেন্দ্রে যায়নি। উপজেলা নির্বাচন কর্মকর্তা মোহাম্মদ মোরশেদ আলম এই ঘটনার সত্যতা স্বীকার করে বলেন, কেন ভোটার আসেনি তার বুছতে পারলাম না।

ঈদ অসন্নঃ  ভাঙ্গা লঞ্চে চলছে জোড়াতালি

পবিত্র ঈদুল ফিতর সামনে রেখে প্রতিবছরের মতো এবারও নারায়রয়ণগঞ্জসহ ঢাকার কেরানীগঞ্জের বিভিন্ন ডকইয়ার্ডে পুরোনো ও ভাঙাচোরা ল  রং করার কাজ চলছে। চলছে দায়সারা ও জোড়াতালির মেরামত।

অভিযোগ উঠেছে, ঈদে ঘরমুখী মানুষের চাপ সামাল দিতে কোনো কোনো অসাধু ল মালিক চলাচলের অনুপযোগী বেশ কিছু ল  সংস্কার করছেন।

কেরানীগঞ্জের তেলঘাট থেকে মীরেরবাগ পর্যন্ত প্রায় ৩০টি ডকইয়ার্ড রয়েছে এছাড়াও শীতলক্ষ্যার বিভিন্ন স্থানে রয়েছে আরো ২০টির মত। এর মধ্যে গত রোববার প্রায় নয়টি ডকইয়ার্ড ঘুরে দেখা গেছে, ঈদ সামনে রেখে অনেক মালিক দুই মাস আগে ল  ডকইয়ার্ডে ওঠানোর বায়না দিয়ে রেখেছেন। প্রতিটি ডকইয়ার্ডেই বিভিন্ন নৌযান তৈরি, সংস্কার ও রঙের কাজ চলছে। এর মধ্যে অধিকাংশ ডকইয়ার্ডেই চলছে পুরোনো লে  রং ও মেরামতের কাজ।

তেলঘাট এলাকার শরিফুল্লাহ ডকইয়ার্ডে ‘দীপরাজ-৪’, সাত্তার খান ডকইয়ার্ডে ‘নিউসান’, চর খেজুরবাগ এলাকার রহমত উল্লা ডকইয়ার্ডে ‘রাজদূত-৭’, রহমান মিয়ার ডকইয়ার্ডে ‘এমভি প্রিন্স আওলাদ’ ও ‘বোগদাদিয়া-১’ এবং চর কালীগঞ্জ অগ্রগতি ডকইয়ার্ড অ্যান্ড শিপবিল্ডার্সে ‘পারাবত-১০’, ‘সেনার তরী-২’ ও ‘ময়ূর-২’ নামের তিনটি লে র মেরামতকাজ চলছে। ওই লঞ্চ গুলো তিনতলা। এ ছাড়া একতলার অনেক লঞ্চে ও চলছে মেরামতকাজ।

নিউসান লঞ্চের সংস্কারকর্মী মো. শাহিন বলেন, ‘১৫ দিন ধইরা ঘষামাজার কাজ করতাছি। মালিক কইছে, আগামী ২২ রমজান রাইতে লে  টিপ (যাত্রী) লইবে। কিন্তু সব কাজ শেষ করতে আরও বেশি সময় লাগবে।’

পারাবত-১১ লঞ্চের ক্লার্ক বাবুল মিয়া জানান, ঈদ মৌসুমে সাধারণত লঞ্চ গুলোকে রং-চুনাসহ পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন এবং সংস্কারের কাজ করা হয়।

খোঁজ নিয়ে জানা যায়, সদরঘাট থেকে লঞ্চ যোগে প্রতিদিন দেশের দক্ষিণা লঞ্চে ১৫ থেকে ২০ হাজার লোক যাতায়াত করে। আর ঈদ মৌসুমে তা বেড়ে দাঁড়ায় প্রায় অর্ধলাখে। এ সময় অতিরিক্ত যাত্রীর লোভে কিছু অসাধু লঞ্চ মালিক লক্কড়- ঝক্কড়, চলাচলে অনুপযোগী ল  সংস্কার ও রং করে চাকচিক্য করে তোলেন।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক ডকইয়ার্ডের মালিক বলেন, ঈদ এলেই এলাকার সব ডকইয়ার্ডে মেরামত ও রং করার চাপ বাড়ে। অনেকে কয়েক বছর ধরে বসা লঞ্চ ও নিয়ে আসেন।
অবশ্য এ অভিযোগ স্বীকার করেছেন ডকইয়ার্ডে ওঠানো একটি লঞ্চের মালিক। তিনি বলেন,  দোতলার একটি লঞ্চ সংস্কার ও রং করতে চার থেকে পাঁচ লাখ টাকা খরচ হয়। ঈদের আগে ওই লঞ্চ টি নামাতে পারলে এক মৌসুমে পুরো খরচই উঠে আসে। কিন্তু অন্য সময় ওই টাকা ওঠানো অনেক কঠিন। তাই ঈদের মৌসুমেই সংস্কার করার সঠিক সময়।

ফিটনেসবিহীন নৌযান চলাচলের সুযোগ দেওয়া হবে না বলে বরাবরই জানিয়ে আসছেন সমুদ্র পরিবহন অধিদপ্তর। তারা বলেন, লঞ্চ  ও জাহাজের ফিটনেস পরীক্ষা করতে বিআইডব্লিউটিএ, কোস্টগার্ড, নৌ-নিরাপত্তা পুলিশের সমন্বয়ে একটি কমিটি গঠনের কাজ চলছে। কমিটি গঠনের পর এসব লঞ্চ ও জাহাজে অভিযান পরিচালনা করা হবে।

সোনারগাঁয়ে চেয়ারম্যান হলেন যারা

সোনারগাঁয়ে কেন্দ্র দখল করে জাল ভোট প্রদান, ব্যালট বাক্স ছিনতাই, ককটেল বিস্ফোরণ, কেন্দ্র থেকে এজেন্ট বের করে দেয়াসহ বিচ্ছিন্ন ঘটনার মধ্য দিয়ে  শনিবার ১০টি ইউনিয়ন পরিষদে নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়েছে।

এ সময় কারচুপির অভিযোগ এনে কাঁচপুর ইউনিয়নে বিএনপির চেয়ারম্যান প্রার্থী ফজলুল হক, সাদিপুর ইউনিয়নে বিএনপির চেয়ারম্যান প্রার্থী কামরুজ্জামান ভূঁইয়া মাসুম ও পিরোজপুর ইউনিয়নে বিএনপির চেয়ারম্যান প্রার্থী রফিকুল ইসলাম ভোট বর্জন করেছেন।
এদিকে উপজেলার সনমান্দী ইউনিয়নে আওয়ামীলীগের চেয়ারম্যান প্রার্থী জাহিদ হাসান জিন্নাহ বিপুল ভোটের ব্যবধানে বিজয়ী হয়েছেন।

অন্যদিকে শম্ভুপুরা ইউনিয়নে জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যান প্রার্থী আব্দুর রউফ, পিরোজপুর ইউনিয়নে আওয়ামীলীগের প্রার্থী ইঞ্জিনিয়ার মাসুদুর রহমান মাসুম, বৈদ্যেরবাজার ইউনিয়নে স্বতন্ত্র প্রার্থী ডা. আব্দুর রউফ, নোয়াগাঁও ইউনিয়নে স্বতন্ত্র প্রার্থী ইউসুফ দেওয়ান, কাঁচপুর ইউনিয়নে আওয়ামীলীগের প্রার্থী মোশারফ ওমর, মোগরাপাড়া ইউনিয়নে আওয়ামীলীগের প্রার্থী আরিফ মাসুদ বাবু, জামপুর ইউনিয়নে আওয়ামীলীগের প্রার্থী হামীম শিকদার শীপলু, বারদী ইউনিয়নে আওয়ামীলীগের চেয়ারম্যান প্রার্থী জহিরুল হক বে-সরকারীভাবে বিজয়ী হয়েছেন।

দ্যা গ্লোবাল নিউজ ২৪ ডটকম/রিপন/ডেরি ২৯ মে ২০১৬

Related posts