December 11, 2018

জ্যামাইকার মসজিদে সন্ত্রাসী হামলাঃ আহত ২ মুসল্লি!

হাকিকুল ইসলাম খোকন,বিশেষ সংবাদদাতাঃ  নিউইয়র্কের বাংলাদেশি অধ্যুষিত জ্যামাইকা মুসলিম সেন্টার ও মসজিদে সন্ত্রাসী হামলায় নামাজ আদায়রত অবস্থায় দুই মুসল্লি আহত হয়েছেন। এদের মধ্যে একজনের অবস্থা আশংকাজনক। গত মঙ্গলবার জোহরের নামাজের সময় কৃষ্ণাঙ্গ এক ব্যক্তি সেজদারত মুসল্লিদের উপর হামলা চালায়। এ ঘটনায় ইয়ামেনি-আমেরিকান ৬৫ বছরের বৃদ্ধ সালেম ইয়া ফাইয়া গুরুতর আহত হন। তাকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। চিকিৎসকরা জানিয়েছেন, মাথায় প্রচন্ড আঘাতে তার মস্তিষ্কে রক্তক্ষরণ হয়েছে। তৃতীয় রাকাত নামাজ আদায়ের সময় এই হামলা হলে ইমাম বাধ্য হয়ে নামাজ বন্ধ করে দেন। মুসল্লিদের প্রতিরোধের মুখে হামলাকারী পালিয়ে গেলেও পুলিশ দ্রুত তাকে গ্রেফতার করতে সক্ষম হয়।

হামলাকারীর নাম মাইকেল বুয়ার্ড বলে পুলিশ সূত্রে জানা গেছে। হামলায় বাংলাদেশ আমেরিকান অ্যাডভোকেসি গ্রুপ-বাগ এর প্রেসিডেন্ট ইঞ্জিনিয়ার কামাল ভুঁইয়া মারাত্মক আহত হন। তার কান দিয়ে রক্ত পড়তে দেখা যায়। সর্বশেষ খবর, গতকাল বৃহস্পতিবার হামলাকারীকে জামিন দিয়েছেন আদালত। পুলিশ জানায়, এ ঘটনাকে হেইট ক্রাইম বলে আমলে নেয়নি আদালত। যে কারণে মাইকেল বুয়ার্ড জামিনে মুক্তি পান। এ ঘটনায় তীব্র প্রতিবাদ ও নিন্দা জানিয়েছেন মুসল্লিরা। গত শুক্রবার জ্যামাইকা মুসলিম সেন্টারে প্রতিবাদে সমাবেশ ও সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করা হয়েছে।

প্রত্যক্ষদর্শী আইটিভিইউএস এর প্রেসিডেন্ট ও সিইও ইসলামী স্কলার  মুহাম্মদ শহীদুল্লাহ কে বলেন, জোহরের নামাজ তখন শুরু হয়েছে কেবল। কিছুক্ষণ পর পিছন থেকে একজনের উচ্চকন্ঠ শোনা যায়। ওই ব্যক্তি ইংরেজিতে অকথ্য ভাষায় মুসলমানদের গালাগালি করতে থাকে। কিছু বুঝে উঠার আগেই আবারো প্রচন্ড শব্দ ও চিৎকারে ইমাম নামাজ বন্ধ করে দেন।  শহীদুল্লাহ জানান, তৃতীয় রাকাত নামাজের সময় সেজদা দিতে গেলে পিছন থেকে মুসল্লিদের কিল ঘুষি মারতে থাকে কৃষ্ণাঙ্গ ওই ব্যক্তি। সে মুসলমানদের ‘টেরোরিস্ট’ বলে চিৎকার করতে থাকে। হামলায় ইয়ামেনি-আমেরিকান সালেম ইয়া ফাইয়া নামে এক বৃদ্ধ মাটিতে লুটিয়ে পড়েন। বাংলাদেশ আমেরিকান অ্যাডভোকেসি গ্রুপ-বাগ এর প্রেসিডেন্ট ইঞ্জিনিয়ার কামাল ভুঁইয়ার কান দিয়ে রক্ত পড়তে থাকে। পরে তাদের দুজনকেই হাসপাতালে নেয়া হয়।

তাৎক্ষণিক খবর পেয়ে পুলিশ ছুটে এলে হামলাকারী দৌঁড়ে পালিয়ে যায়। মুসল্লিরা হামলাকারীকে আটক করার চেষ্টা করলে সে জেএমসি সংলগ্ন ১৬৮ স্ট্রীট ধরে জ্যামাইকা হাই স্কুলের দিকে দৌড়ে পালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করে। এসময় মুসল্লিদের কেউ কেউ তার পিছু নেয়। ইতিমধ্যে পুলিশ কল করলে সিটি পুলিশ আর ফায়ার সার্ভিসের লোকজন জেএমসিসহ পুরো এলাকাটি ঘিরে ফেলে এবং পুলিশ হামলাকারীকে গ্রেফতার করতে সক্ষম হয়। স্থানীয়রা জানান, গ্রেফতারের আগে হামলাকারী কাপড়-চোপড় খুলে নগ্ন হয়ে পড়ে। সে নিজেকে উন্মাদ বোঝানোর চেষ্টা করে।

এ ঘটনায় প্রতিবাদ জানিয়েছেন, জ্যামাইকা মুসলিম সেন্টার ও মসজিদের ইমাম ও খতিব মাওলানা আবু জাফর বেগ। আজকালকে তিনি বলেন, এ হামলার পিছনে অন্য কোনো ব্যক্তি বা গোষ্ঠী জড়িত আছে কি-না তা খতিয়ে দেখতে হবে।

জ্যামাইকা মুসলিম সেন্টার-জেএমসি’র ট্রাস্টি বোর্ডের চেয়ারম্যান ডা. মাহমুদুর রহমান তুহিন এমডি  বলেন, এ ঘটনায় আবার প্রমাণিত হলো মুসলমানদের নিরাপত্তা খুবই জরুরি। মুসলিমসহ যুক্তরাষ্ট্রের সব ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানে নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করার দাবি জানান তিনি।

জ্যামাইকা মুসলিম সেন্টার-জেএমসি’র প্রেসিডেন্ট ডা. ওয়াহিদুর রহমান এমডি হামলাকারীকে দ্রুত গ্রেফতার করায় নিউইয়র্ক পুলিশ ডিপার্টমেন্টের প্রতি ধন্যবাদ জানান। ডা. ওয়াহিদ আরো বলেন, এ ঘটনায় আমাদের সতর্ক হতে হবে। তিনি ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত ও দোষী ব্যক্তির দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দাবি করেন।

এদিকে, সর্বশেষ খবর গতকাল বৃহস্পতিবার আদালত থেকে জামিনে মুক্ত হন হামলাকারী কৃষ্ণাঙ্গ মাইকেল বুয়ার্ড। ডিস্ট্রিক্ট এটর্নির উদ্ধৃতি দিয়ে পুলিশ জানায়, ঘটনাটিকে হেইট ক্রাইম হিসেবে আমলে না নেয়ায় হামলাকারী জামিন লাভ করেছে।

এ ঘটনায় নিন্দা ও প্রতিবাদের ঝড় উঠেছে মুসলিম কমিউনিটিতে। তাৎক্ষণিক প্রতিক্রিয়ায় জ্যামাইকা মুসলিম সেন্টার-জেএমসি’র জেনারেল সেক্রেটারি আখতার হোসেন জানান, হামলাকারীকে জামিন দেওয়ায় আজ শুক্রবার জুমা’র নামাজের পর প্রতিবাদ সমাবেশ ও সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করা হয়েছে। এতে সবাইকে উপস্থিত থাকার জন্য অনুরোধ জানিয়েছেন আখতার হোসেন।

দ্যা গ্লোবাল নিউজ ২৪ ডট কম/রিপন ডেরি/২৩ এপ্রিল ২০১৬

Related posts