November 13, 2018

জ্বালানি নিয়ে উদ্বেগ; ১০ বছরেই ফুরিয়ে যাবে গ্যাস!

839

আগামী দশ বছরের মধ্যে গ্যাস ফুরিয়ে যাবে বলে দেশের জ্বালানি নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে আলোচকরা। যেসব কূপে এখন গ্যাস পাওয়া যাচ্ছে সেসব কূপেও গ্যাসের আধার কমে আসছে। এই অবস্থায় বিকল্প জ্বালানি ব্যবস্থার দিকে যেতে না পারলে জ্বালানি নিয়ে বড় ধরনের সংকট মোকাবিলা করতে হবে, যার প্রভাব পড়বে জাতীয় অর্থনীতির ওপর। বিকল্প জ্বালানি হিসাবে তারা কয়লা উত্তোলন ও এলএনজি গ্যাস আমদানির কথা তুলে ধরেন। সেইসাথে স্থল ও সমুদ্র উভয় ব্লকে দ্রুত গ্যাস অনুসন্ধানের ওপর জোর দেন। বঙ্গবন্ধু আন্তর্জাতিক সম্মেলন কেন্দ্রে বিদ্যুৎ ও জ্বালানি সপ্তাহ-২০১৫ উপলক্ষে জ্বালানি নিরাপত্তাবিষয়ক সেমিনারে আলোচকরা এ কথা বলেন। এতে প্রধান অতিথির বক্তব্য রাখেন বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ প্রতিমন্ত্রী নসরুল হামিদ। সেমিনারে ‘সুনীল অর্থনীতি : বাংলাদেশ ভূতাত্ত্বিক জরিপ অধিদপ্তরের প্রস্তাবিত কর্মপরিকল্পনা’, ‘এলএনজি : বাংলাদেশে প্রাথমিক শক্তির উৎসের একটি নতুন দিগন্ত’ এবং ‘বাংলাদেশে জ্বালানি বিপণনের ইতিহাস ও বর্তমান প্রেক্ষিত’ শীর্ষক তিনটি প্রবন্ধ উপস্থাপন করা হয়। জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ বিভাগের অতিরিক্ত সচিব নাজিম উদ্দিন চৌধুরীর সভাপতিত্বে অন্যান্যের মধ্যে বক্তব্য রাখেন পেট্রোবাংলার চেয়ারম্যান ইশতিয়াক আহমেদ ও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রফেসার বদরুল ইমাম।

বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ প্রতিমন্ত্রী নসরুল হামিদ বলেন, আমাদের গ্যাসের মজুদ দ্রুত ফুরিয়ে আসছে। বিকল্প ব্যবস্থা করা না গেলে আগামী ১০ বছরের মধ্যে গ্যাস নিয়ে আমরা সংকটে পড়ব। তিনি বলেন, আমাদের যে পরিমাণ গ্যাস রয়েছে, তার যথেষ্ট অপব্যবহারও হচ্ছে। গ্যাস ব্যবহারে আরও সাশ্রয়ী হওয়ার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, নতুন করে গ্যাস অনুসন্ধান থেকে শুরু করে উত্তোলন পর্যন্ত সময় লাগবে দশ বছর। আর দশ বছরের মধ্যে যদি আমরা নতুন গ্যাস উত্তোলন করতে না পারি তাহলে জ্বালানি সংকট প্রকট হবে। প্রতিমন্ত্রী আবাসিক গ্যাস ব্যবহারকারীদের আরও সাশ্রয়ী হওয়ার আহ্বান জানিয়ে বলেন, আবাসিক খাতের গ্যাসের চাহিদা ৭০ ভাগ এলপিজি দিয়ে মেটানো হবে। সেজন্য কাজ চলছে। এতে আমদানি করা গ্যাসের ব্যবহার বাড়বে। নতুন করে তিনটি এলএনজি টার্মিনাল করা হচ্ছে। আমদানি করা এলএনজি দিয়ে শিল্পকারখানা চালানো হবে। পানিবিদ্যুতে আরও এক বিলিয়ন ডলার বিনিয়োগ করা হচ্ছে। অবৈধ বিদ্যুৎ ব্যবহারকারীদের সংযোগ বিচ্ছিন্ন করার অভিযান শুরু হয়েছে বলে তিনি জানান। নসরুল হামিদ আরও বলেন, আগামী দিনের জ্বালানি চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় পেশাদারিত্বের কোনো বিকল্প নেই।

সমুদ্রবিজয় আমাদেরকে এক লাখ ১৮ হাজার ৮১৩ বর্গকিলোমিটার এলাকা দিয়েছে। সেখানে বিদ্যমান সম্পদ অনুসন্ধান করতে সরকার নানাবিধ উদ্যোগ নিয়েছে এবং নিচ্ছে। ক্লিন ও গ্রিন জ্বালানি এখন সময়ের চাহিদা, সে বিবেচনায় এলএনজির প্রয়োজনীয়তা উত্তরোত্তর বৃদ্ধি পাচ্ছে। তিনি বলেন, এলএনজি নিশ্চিত করতে মহেশখালী ও খুলনায় দুটি টার্মিনাল করা হচ্ছে। প্রতিমন্ত্রী বলেন, কয়লার বর্তমান বাজারমূল্য ও উত্তোলন খরচ বিবেচনা করে আমদানিকৃত কয়লা দিয়ে আমাদের জ্বালানি চাহিদা মিটাতে হবে। অফশোরে ১১, ১৬ ও ২১ নং ব্লক নিয়ে বিভিন্ন কোম্পানির সাথে নেগোসিয়েশন চলছে। কিছুদিনের মধ্যে একটি সিদ্ধান্তে আসা যাবে। তিনি বলেন, বিদ্যমান সম্ভাবনাগুলোর বিষয়ে তৎপর হয়ে দ্রুত ও সাহসী সিদ্ধান্ত নিতে হবে। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রফেসার বদরুল ইমাম বলেন, বাংলাদেশে সমন্বিত জ্বালানি নীতি দরকার। এখানে প্রাথমিক জ্বালানি যা আছে তা ফুরিয়ে যাচ্ছে। আমদানি করা জ্বালানিই সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার পেতে পারে। পাশাপাশি দেশীয় কয়লা উত্তোলনের উদ্যোগ নিতে হবে। মূল প্রবন্ধে বলা হয়, বর্তমানে দেশের বেশিরভাগ বিদ্যুৎকেন্দ্র, সার কারখানা ও শিল্প কারখানা জ্বালানি ব্যবহারের ক্ষেত্রে অদক্ষ।

এক্ষেত্রে দক্ষতা অর্জন করা গেলে জ্বালানি সাশ্রয় করা যাবে। গত কয়েক বছরে নতুন করে কোনো গ্যাসের সন্ধান পাওয়া যায়নি। বর্তমানে যে মজুদ আছে তা দিয়ে ৫০ শতাংশ চাহিদা পূরণ করা হচ্ছে। তিনি বলেন, জ্বালানির চাহিদা ও উৎপাদনের মধ্যে ঘাটতি পূরণ করতে বিকল্প জ্বালানি আমদানি করতে হবে। মূল প্রবন্ধে আরও বলা হয়, তরল প্রাকৃতিক গ্যাস (এলএনজি) আমদানি করে শিল্পে গ্যাসের চাহিদা যেমন পূরণ করা যায়, তেমনি কয়লা ও তেলভিত্তিক বিদ্যুৎকেন্দ্র স্থাপন করে বিদ্যুৎ উৎপাদনে বিকল্প জ্বালানির ব্যবহার বাড়ানো সম্ভব। অন্যদিকে আবাসিকে পাইপলাইনে গ্যাসের পরিবর্তে এলপিজি ব্যবহার করতে হবে। এক্ষেত্রে এলপিজির দাম নির্ধারণ ও চাহিদা অনুযায়ী সরবরাহ করা জরুরি।

দি গ্লোবাল নিউজ ২৪ ডট কম/রিপন/ডেরি

Related posts