November 17, 2018

‘জেবুর বক্তব্য রহস্যময়’ পালটা জবাব রোকশানার

947

সিলেটের জেবু চৌধুরীর বক্তব্যের পালটা জবাব দিলেন রোকশানা চৌধুরী। বললেন, ‘জেবু চৌধুরী তার ঘনিষ্ঠজন মিজান এলাহীর প্ররোচনায় গোলায়ালাবাজারের বনেদী চৌধুরী পরিবারের সম্মান লুটার চেষ্টা চালাচ্ছেন। পুলিশকে বিভ্রান্ত  করে প্রথমে মামলা করে। এরপর পুলিশ সত্য বিষয়টি জেনে ফেলায় সংবাদ সম্মেলন করে অপপ্রচার চালিয়েছে। আর এই প্রচারে কেবল চৌধুরী পরিবারই নয় গোটা এলাকার মানুষ জেবুর বিরুদ্ধে ক্ষুব্ধ হয়েছে।’ গতকাল সিলেটে এক জনাকীর্ণ সংবাদ সম্মেলনে রোকশানা চৌধুরী যুক্তি খণ্ডন করে তার বক্তব্য রাখেন। এ সময় রোকশানা বেগম চৌধুরী দাবি করেন, ‘জেবু চৌধুরী কবে, কার সঙ্গে দেশে এসেছেন সেটি কেউ জানেন না। তিনি এখন কার সঙ্গে বসবাস করছেন সেটিও কারও নখদর্পে নেই।’

সংবাদ সম্মেলনে তিনি বলেন, জেবু চৌধুরী ব্যক্তিগতভাবে উগ্র চরিত্রের কারণেই তার প্রথম বিয়ে টিকেনি। দ্বিতীয় স্বামীর সঙ্গেও তার বিরোধ চলছে। এখন মিজান এলাহী নামে একজনের সঙ্গে দেশে এসেছেন। এই মিজান এলাহীর শ্যালকদের সঙ্গে চৌধুরী পরিবারের বিরোধ রয়েছে। পুরনো শত্রুর সঙ্গে এক হয়ে জেবু চৌধুরী এখন নিজের রক্তের সঙ্গে বেঈমানি করছেন বলে দাবি করেন রোকশানা বেগম। সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্যে রোকশানা চৌধুরী বলেন, জেবুর প্রথম বিয়ে হয় কুতুবপুর গ্রামের মনির মিয়ার সঙ্গে। পরপর ৪ সন্তানের মা হওয়ার পর মনির মিয়ার সঙ্গে আর ঘর করা হয়নি জেবু বেগমের। লন্ডনেই জেবু বেগমের ডিভোর্স হয়। এরপর জেবু বেগমের সঙ্গে বিয়ে হয় ফেঞ্চুগঞ্জের মল্লিকপুর গ্রামের দূর সম্পর্কের ভাইপো রবিউলের সঙ্গে। এ তরফেও জেবু বেগমের ৪ সন্তান রয়েছে।

এখন দ্বিতীয় স্বামীর সঙ্গেও জেবু বেগমের বনিবনা হচ্ছে না।’ এদিকে, যে মামলায় আসামি হয়েছেন আমার পিতা ও চাচার পরিবারের সকল সদস্য। এমনকি মা, চাচি, ভাবী, স্বামীর বাড়িতে থাকা আমার চাচাত বোনকেও আসামি করা হয়েছে। তিনি বলেন, জেবু চৌধুরীর এক ইঞ্চি জমি বেদখল হয়নি। তার উপর কোনো হামলার ঘটনা ঘটেনি। আর তার মেয়েকে বিয়ের প্রস্তাবও দেয়া হয়নি। এ ছাড়া পিতা মিফতা চৌধুরী কিংবা ভাইদের বিরুদ্ধে কোনো ডাকাতির মামলা হওয়া তো দূরের কথা, কখনো ফৌজদারি কোনো মামলা হয়নি। এদিকে, গত কয়েক দিন ধরে ভাড়াটিয়া সন্ত্রাসী দ্বারা তার পিতা ও চাচার বাড়ির আশপাশে মহড়া দেয়া হচ্ছে বলে অভিযোগ করেন তিনি। বলেন, কেবলমাত্র ব্যক্তি আক্রোশের কারণেই মিজান এলাহীর প্ররোচনায় ইতিমধ্যে দুই বার র‌্যাব পাঠানো হয়েছে কচপুরাই গ্রামে।

অস্ত্র দিয়ে শহীদুল চৌধুরীকে গ্রেপ্তার করাতে গিয়ে র‌্যাবের হাতে ধরা পড়ে অস্ত্রধারী এক সন্ত্রাসী। এ বিষয়টি নিয়ে এলাকায় তোলপাড় হয়েছে। সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন, এলাকার প্রবীণ মুরব্বি মো. শফিউল আলম দুদু, মো. আকছিস মিয়া, হাফিজ মো. ইউনূস আলী, মো. মুমিন  মিয়া. মো. ফুয়াদ মিয়া, মজনু মিয়া চৌধুরী, সুমন মিয়া, জহুর আলী ও টিটু মিয়া। রোকশানা বেগম দাবি করেন, মিজান এলাহী এখন আমারই গোষ্ঠীর ফুফু জেবু বেগম চৌধুরীর সঙ্গে সম্পর্ক স্থাপন করে মিথ্যা ঘটনা সাজিয়ে মামলা করিয়েছে। আর ওই মিথ্যা মামলায় সাক্ষী করা হয়েছে তারই দুই শ্যালক আসাদ ও রুবেলকে।

এ নিয়ে স্থানীয় ইউপি চেয়ারম্যান, মেম্বার ও এলাকার গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ বারবার বিষয়টি সমাধানের চেষ্টা করেছেন। কিন্তু তাদের ডাকে সাড়া দেয়নি আসাদ ও রুবেল। মামলা করে চৌধুরী পরিবারকে বিপর্যস্ত করার চেষ্টা চালাচ্ছে। এদিকে, গতকাল জেবু বেগম মানবজমিনকে জানিয়েছেন, মিজান এলাহীর সঙ্গে তার পরিচয় আছে। কিন্তু কোনো সম্পর্ক নেই। কিংবা কোনো ইন্ধনও দিচ্ছেন না। আর বোন লুৎফার সঙ্গে তার সম্পর্ক নেই বলে দাবি করেন। বর্তমান স্বামীর সঙ্গে বনিবনা রয়েছে বলে জানান জেবু চৌধুরী।মানবজমিন

দি গ্লোবাল নিউজ ২৪ ডট কম/রিপন/ডেরি

Related posts