September 25, 2018

জেনে নিন অল্প বয়সে বুড়িয়ে যাওয়া কারণ

Aging

ঘুমের স্বল্পতা, অত্যধিক টিভি দেখা, বেশি মেইকআপ করা এমনকি বালিশে মুখ চেপে ঘুমানোও হতে পারে অল্প বয়সে বুড়িয়ে যাওয়া কারণ।

বন্ধুদের আড্ডায় কেউ কি আপনাকে বলেছে দেখতে বুড়োটে লাগছে! অল্প বয়সে এই মন্তব্য শুনে হতাশ হচ্ছেন। তাহলে স্বাস্থ্যবিষয়ক একটি ওয়েবসাইটে প্রকাশিত তাড়াতাড়ি বৃদ্ধ হওয়ার বদভ্যাসগুলো মিলিয়ে দেখুন। হতে পারে এসবের জন্য দ্রুত হারাচ্ছেন তারুণ্যের ছটা।

অনেকগুলো কাজ একসঙ্গে করা: অনেক কাজ একসঙ্গে করার ভার স্বাস্থ্যের ওপর খুব ভালোভাবেই পড়ে।

ক্যালিফোর্নিয়ার সেন্ট জোসেফ হসপিটালের প্রধান মেডিকল কর্মকর্তা ডা. রেমন্ড ক্যাসিয়ারি বলেন, “মানুষ মনে করে, একসঙ্গে অনেক কাজ করা ভালো। তবে এটা মানসিক চাপ বাড়ানো ছাড়া আর কিছুই করা হয় না।”

বেশ কিছু গবেষণায় প্রমাণিত হয়েছে, ক্রমাগত মানসিক চাপ দেহে ক্ষতিকর ‘মুক্ত মৌল’র উৎপাদন বাড়িয়ে দেয়। এসব মৌল, দেহকোষগুলো নষ্ট করে এবং বুড়িয়ে যাওয়ার জন্য এরাই দায়ী।

ডা. ক্যাসগারির মতে, সব কাজ একসঙ্গে না করে বরং একটা শেষ করে আরেকটা কাজ হাতে নেয়া উচিত।

দৈনিক পাঁচ ঘণ্টার কম ঘুমানো: ঘুমের অবহেলা শুধু চোখের নিচে কালো দাগই তৈরি করে না, সঙ্গে আয়ুও কমিয়ে দেয়।

ডা. ক্যাসিয়ারি বলেন, “ঘুমের জন্য সাত ঘণ্টার সময়সীমা সন্তোষজনক। যদি ঘুমের স্বল্পতা থাকে তাহলে আগে আগে শুতে যাওয়া উচিত।”

তিনি আরও বলেন, “দিনের বেলায় উদ্যমহীনতা, মানসিক আলস্য, মনোযোগের অভাব, ওজন বেড়ে যাওয়া ইত্যাদি হতে পারে ঘুমের অভাবের ফলাফল।”

অধিক টিভি দেখা: ব্রিটিশ জার্নাল অফ স্পোর্টস মেডিসিন’য়ে প্রকাশিত একটি গবেষণা, যাতে অংশগ্রহণ করেছিলেন ২৫ বা তার বেশি বয়সি ১১ হাজার অস্ট্রেলীয় ব্যক্তি। সেখানে আবিষ্কৃত হয়, প্রতি ঘণ্টা টিভি দেখায় সম্ভাব্য আয়ুষ্কাল ২২ মিনিট করে কমে।

শুধু তাই নয়, যেসব ব্যক্তি দৈনিক গড়ে ছয় ঘণ্টা করে টিভি দেখেন, তাদের আয়ু টিভি না দেখাদের থেকে গড়ে পাঁচ বছর কম হয়।

ডা. ক্যাসিয়ারি বলেন, “এইসব প্রভাব যতটা না টিভি দেখার ফলে, তারচেয়ে বেশি অকর্মণ্য বসে থাকার ফলে হয়। যখন আপনি ৩০ মিনিটের বেশি সময় বসে থাকেন, আপনার শরীর তার কোষে চিনি জমা করতে থাকে। যা আপনার মুটিয়ে যাওয়ার সম্ভাবনাকে আরও বাড়িয়ে দেয়।

তিনি পরামর্শ দেন, টিভি দেখতে বসলে আধা ঘণ্টা পরপর উঠে কিছুক্ষণ হাঁটাহাঁটি করা উচিত।

সারাদিন বসে কাটানো: দিনের অধিকাংশ সময় বসে সময় কাটানো ব্যক্তিরা যেসব স্বাস্থ্য ঝুঁকির মধ্যে থাকেন তার মধ্যে আছে- কিডনি রোগ, হৃদরোগ, ক্যান্সার আর স্থূলতা তো আছেই!

নিয়মিত ব্যায়াম স্বাভাবিকবেই এসব ঝুঁকি দূর করে দীর্ঘ আয়ু নিশ্চিত করে।

ব্রিটিশ জার্নাল অফ স্পোর্টস মেডিসিন’য়ে প্রকাশিত একটি গবেষণায় জানা যায়, গবেষণায় অংশগ্রহণকারীদের মধ্যে যারা সপ্তাহে ১৫০ মিনিট বা তার বেশি সময় ব্যায়াম করেছেন তারা অপেক্ষাকৃত অকর্মণ্য দলটির চেয়ে ১০ থেকে ১৩ বছর বেশি সময় বেঁচেছেন।

নিয়মিত সানস্ক্রিন ব্যবহার না করা: নর্থ ক্যারোলিনায় অবস্থিত ওয়েক ফরেস্ট ব্যাপ্টিস্ট মেডিকল সার্ভিস-এর ডার্মাটোলজি বিভাগের সহকারী অধ্যাপক সারাহ এল টেলর বলেন, “মানুষের মুখমণ্ডল সময়ের আগে বুড়িয়ে যাওয়ার এক নম্বর কারণ অতিবেগুনি রশ্মি।”

তিনি বলেন, “এমন কি আকাশ মেঘলা থাকলে বা বৃষ্টি থাকলেও অতিবেগুনি রশ্মি থাকে।”

তাই যখনই বাইরে বের হোন না কেনো, সানস্ক্রিন মেখে বের হোন।

অত্যধিক মেইকআপ: বিশেষত তেলজাতীয় মেইকআপ ত্বকের লোমকূপ বন্ধ করে দেয়। উপরন্তু, ত্বকে ব্যবহার্য অসহনীয় রাসায়নিক ও অ্যালকোহল সমৃদ্ধ প্রসাধনী ত্বকের অকাল বার্ধক্য ও বলিরেখার কারণ।

মুখমণ্ডল বালিশে চেপে ঘুমানো: পেট বা মুখের এক পাশ বালিশে চেপে ঘুমানো বলিরেখার কারণ হতে পারে।

আমেরিকার বোর্ড অফ প্লাস্টিক সার্জারি’র সনদপ্রাপ্ত প্লাস্টিক সার্জন ডা. জেমস সি ম্যারোটা বলেন, “বয়সের সঙ্গে সঙ্গে মুখমণ্ডলের সংযোগকারী কলাসমূহ এবং কোলাজেন দুর্বলতর হয়ে ওঠে এবং কম সহায়ক হতে থাকে।”

তিনি বলেন, “তাই রাতের পর রাত যখন আপনি মুখের একপাশ বালিশে চেপে ঘুমান, আপনার ত্বক আর আগের মতো দ্রুত মসৃণ হয়ে ওঠে না।”

বালিশের কারণে মুখের চামড়ায় এসব ভাঁজ স্থায়ী হয়ে উঠতে পারে। তাই সোজা হয়ে শুয়ে থাকার অভ্যাস করুন।

স্ট্র দিয়ে পান করা: স্ট্র দিয়ে পানীয় পান করলে ঠোঁট ও চোখের চারপাশে অকাল বলিরেখা দেখা দিতে পারে।

আমেরিকান বোর্ড অফ ডার্মাটোলজি কর্তৃক সনদপ্রাপ্ত ডা. জ্যানেট প্রাইটোওস্কি বলেন, “ধূমপানেও একই ব্যাপার হতে পারে।”

চর্বিজাতীয় খাবার বাদ দেওয়া: নিউইয়র্কের ব্রুকলিন থেকে আগত পুষ্টিবিদ ফ্র্যান্সি কোহেন বলেন, “তারুণ্যময়তা ধরে রাখতে কিছু চর্বিজাতীয় উপাদান প্রয়োজনীয়।”

তিনি বলেন, “তেলসমৃদ্ধ মাছ যেমন স্যামন এবং কিছু বাদাম যেমন- আখরোটে হৃদপিণ্ডের সহায়ক ওমেগা থ্রি ফ্যাটি এসিড থাকে, যা ত্বক নমনীয় ও পরিপুষ্ট করে। এভাবে বলিরেখা প্রতিরোধ করে এবং হৃদপিণ্ড ও মস্তিষ্কের স্বাস্থ্য উন্নত করে।”

কুঁজো হয়ে বসা: ক্যালিফোর্নিয়ার হোগ অর্থোপেডিক ইন্সটিটিউট এর অর্থোপেডিক স্পাইন সার্জন ডা. জেরেমি স্মিথ বলেন, “কিবোর্ডের উপর ঝুঁকে ঘণ্টার পর ঘন্টা কাজ করলে সময়ের সঙ্গে সঙ্গে মেরুদণ্ড অস্বস্তিকর এবং ক্ষতিকর ভঙ্গিতে পৌঁছায়।”

তিনি বলেন, “আমাদের মেরুদণ্ডের ভারসাম্যপূর্ণ ইংরেজি ‘এস’ আকৃতিটি আমাদেরকে স্থিতিশীল রাখে ও ভারবহন করে।”

তিনি বলেন, “ত্রুটিপূর্ণ ভঙ্গিতে বা ঝুঁকে বসে থাকার ফলে মেরুদণ্ডের স্বাভাবিক বিন্যাসটি ব্যাহত হয় এবং ফলস্বরূপ পেশি, হাড় ও চাকতিগুলোর উপর চাপ পড়ে।”

এর ফলে পিঠ ব্যথা ও অবসন্নতা হতে পারে, এছাড়াও হতে পারে মেরুদণ্ডের হাড়ক্ষয়, এমনকি স্থায়ীভাবে কুঁজো হয়ে যাওয়া। বসার সঠিক ভঙ্গিটি বজায় রাখতে সময়ে সময়ে নিশ্চিত হয়ে নিন, আপনার কান, কাঁধ ও নিতম্ব একই রেখা বরাবর আছে কিনা।

Related posts