November 21, 2018

জুমার খুতবায় নজরদারী না করে পাঠ্যসূচি সংশোধন করুন, সরকারকে হেফাজত

ঢাকাঃ জুমার খুতবায় নজরদারী না করে পাঠ্যসূচি সংশোধন করতে সরকারের প্রতি আহ্বান জানিয়েছে হেফাজতে ইসলাম।

বুধবার গণমাধ্যমে পাঠানো এক বিবৃতিতে হেফাজতে ইসলামের কেন্দ্রীয় সিনিয়র নায়েবে আমির আল্লামা মুহিব্বুল্লাহ বাবুনগরী, নায়েবে আমির আল্লামা শামসুল আলম, আল্লামা আবদুল মালেক হালিম, আল্লামা মুফতি মোজাফ্ফর আহমদ, আল্লামা মোহাম্মদ ইদরিস, মহাসচিব আল্লামা জুনাইদ বাবুনগরী, যুগ্নমহাসচিব মাওলানা সালাহ উদ্দিন নানুপুরী, মাওলানা লোকমান হাকীম, মাওলানা সলিমুল্লাহ, মাওলানা মাহমুদুল হাসান ফতেহপুরী ও কেন্দ্রীয় নেতা মাওলানা আজিজুল হক ইসলামাবাদী

এ আহ্বান জানান। একই সঙ্গে আগামী শুক্রবারের বিক্ষোভ কর্মসূচি সফল করতে উলামায়ে কেরামসহ সকলের প্রতি আহ্বান জানান।

বিবৃতিতে হেফাজত নেতৃবৃন্দ বলেন, হত্যা, সন্ত্রাস, উগ্রবাদ প্রতিরোধে আলেম-উলামা, ইমাম-খতিবরা সবসময় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে আসছেন। মসজিদের মিম্বর থেকে সত্য, ন্যায়, নৈতিকতা, শান্তি ও মানবতার বাণী প্রচার করা হয়। ইসলামের সাথে ঘৃনিত উগ্রবাদ তথা সন্ত্রাসী কর্মকান্ডের কোনো সম্পর্ক নেই। কিন্তু আজ সরকার চলমান ন্যাক্কারজনক সন্ত্রাসী হামলার ইস্যুকে কেন্দ্র করে মসজিদ ও জুমার খুতবার উপর নিয়ন্ত্রণ আরোপের চেষ্টা করছে। এদেশের ধর্মপ্রাণ জনতা ধর্মের উপর কোনরূপ নিয়ন্ত্রণ, নজরদারী কোনভাবেই মেনে নিবে না। জুমার খুতবায় অপ্রয়োজনীয় নজরদারী না করে সবার আগে পাঠ্যসূচি সংশোধন করুন।

তারা বলেন, প্রধানমন্ত্রী দেশের নাগরিকদেরকে নিজ সন্তানদের ধর্মীয় শিক্ষা দেয়ার আহবান জানিয়েছেন। আমরা তার আহ্বানকে স্বাগত জানাই। কিন্তু বর্তমান পাঠ্যপুস্তক থেকে ধর্মীয় বিষয় তুলে দেওয়া হয়েছে। প্রধানমন্ত্রীর নিকট আমাদের আহ্বান আগে শিক্ষার সর্বস্তরে ইসলামী শিক্ষাকে বাধ্যতামূলক করুন। তাহলেই ছাত্র-ছাত্রীরা আদর্শ ও নৈতিক গুনাবলী সম্পন্ন হয়ে সন্ত্রাস ও দুর্নীতি মুক্ত সু-নাগরিক হিসেবে গড়ে উঠবে।

তারা আরও বলেন, ইসলাম ও মুসলমানদের বিরুদ্ধে আন্তর্জাতিক ষড়যন্ত্র চলছে। মুসলিম মিল্লাতকে বিপর্যয়ের হাত থেকে রক্ষা করার জন্য মুসলিম বিশ্বের ক্ষমতাসীনদের ঐক্যবদ্ধ হতে হবে। আমাদের মাতৃভূমি বাংলাদেশের শিক্ষাব্যবস্থাকে ধর্মহীন করার কারণে কলেজ বিশ্ববিদ্যালয়ে মুসলমানদের সন্তানরা ধর্মের সঠিক ব্যাখ্যা না জানার ফলে বিপথগামী হচ্ছে। দেশে সন্ত্রাসী কর্মকান্ড, গুপ্তহত্যা, গুম, খুন, ও রাজনৈতিক জিঘাংসা ইত্যাদি পরিস্থিতিতে নাগরিক হিসেবে আমরা সকলেই আতঙ্কিত ও উদ্বিগ্ন। তাই, শিক্ষার সর্বস্তরে ইসলামী শিক্ষা বাধ্যতামূলক করতে হবে।

Related posts