September 21, 2018

জুকেরবার্গের সোশ্যাল অ্যাকাউন্ট হ্যাকড্, আপনারটা সুরক্ষিত আছে তো?

সোশ্যাল অ্যাকাউন্ট

নিরাপদ নয় খোদ ফেসবুক প্রতিষ্ঠাতা মার্ক জুকেরবার্গও। সম্প্রতি তাঁর ট্যুইটার, লিঙ্কডইন, পিন্টারেস্টের অ্যাকাউন্ট হ্যাক করে তাঁর পাসওয়ার্ড প্রকাশ করেছে একটি সংগঠন। এরপরই, সকলের মনে একটাই প্রশ্ন উঁকি মারছে। তা হল— যদি জুকেরবার্গের মতো হাই-প্রোফাইল ব্যক্তিত্বের অ্যাকাউন্ট নিরাপদ নয়, সেখানে তাঁদের অনলাইন অ্যাকাউন্টগুলি সত্যিই কতটা সুরক্ষিত?

তবে, সুরক্ষিত থাকতে পারে না বলে তো আর নিরাপত্তা জলাঞ্জলি দেওয়া যায় না। বাংলায় একটা প্রবাদ ভীষণই প্রচলিত — সাবধানের মার নেই! ফলে, নিজেদের সোশ্যাল মিডিয়ার অ্যাকাউন্টের নিরাপত্তাকে যাচাই করাটাও প্রয়োজন। আপনি কি নিশ্চিত যে আপনার ফেসবুক, ট্যুইটার অ্যাকাউন্টটি নিরাপদ?

এক ঝলকে দেখে নিন কী করে নিরাপদ করবেন আপনার অ্যাকাউন্টকে—

প্রথম পদক্ষেপ: ভাল পাসওয়ার্ড বাছাই করুন

কখনও এমন কোনও পাসওয়ার্ড ব্যবহার করবেন না, যা কেউ আন্দাজ করতে পারে। যেমন জন্মদিন, বিবাহবার্ষিকী, স্কুলের নাম বা পরিবারের সদস্যদের নাম ইত্যাদি। হ্যাকাররা সবসময় এধরনের পাসওয়ার্ডের খোঁজে থাকে। পাসওয়ার্ড সবসময় জটিল হওয়া উচিত। অক্ষর, সংখ্যা এবং বিশেষ চিহ্নের সংমিশ্রণ হওয়া উচিত। এটা মাথায় রাখতে হবে যে, পাসওয়ার্ড যত লম্বা হয়, তত তাকে হ্যাক করা মুশকিল।

দ্বিতীয় পদক্ষেপ: এক পাসওয়ার্ড একাধিক সাইটে নয়

কখনও এক পাসওয়ার্ড একাধিক সাইটের জন্য ব্যবহার করবেন না। তা না হলে, একটা সাইট থেকে হ্যাকার-রা বাকি সাইটের পাসওয়ার্ড জেনে ফেলবে। ফলে, কোনও অ্যাকাউন্টই সুরক্ষিত থাকবে না। হতে পারে আপনার সোশ্যাল মিডিয়া সাইটের অ্যাকাউন্ট থেকে হ্যাকাররা আপনার ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্ট হ্যাক করে ফেলবে। তাই সাবধান!

যদি এতগুলি পাসওয়ার্ড মনে রাখা সম্ভব না হয়, সেক্ষেত্রে আপনি ‘লাস্টপাস’ বা ‘ড্যাসলেন’ এর মতো পাসওয়ার্ড ম্যানেজার-এর সাহায্য নিতে পারেন। এই ম্যানেজার অ্যাপ আপনার হয়ে জটিল পাসওয়ার্ডও অক্লেষে মনে রাখবে। তবে, সেখানেও ভরসাই মূল স্তম্ভ। কারণ, গত জুন মাসে লাস্টপাস ঘোষণা করে, তাদের সাইটে কোনও সন্দেহজনক অনুপ্রবেশ ঘটেছে। ফলে, তারা নিজেদের সব কাস্টমারকে মাস্টার পাসওয়ার্ড বদল করার পরামর্শ দেয়।

তৃতীয় পদক্ষেপ: নিয়মিত পাসওয়ার্ড বদল করুন

সুস্বাস্থ্যের জন্য যেমন কয়েক মাসের ব্যবধানে টুথব্রাশ বদল করা প্রয়োজন, তেমনই নেট-দুনিয়ায় আপনার সম্পদের সুরক্ষার জন্য নিয়মিত সময় অন্তর পাসওয়ার্ড বদল করুন। একটা পাসওয়ার্ড যত বেশি দিন থাকবে, তত বেশি তা হ্যাক হওয়ার সম্ভাবনা প্রবল হবে। একইসঙ্গে অবশ্যই এটা মাথায় রাখবেন, পুরনো পাসওয়ার্ড কখনই ফিরিয়ে আনবেন না।

যদি আপনার সংস্থা ঘোষণা করে যে তাদের সাইট হ্যাক করা হয়েছে, তাহলে সঙ্গে সঙ্গে নিজের পাসওয়ার্ড বদলে ফেলুন। কারণ, জানা না গেলেও, হতে পারে আপনার অ্যাকাউন্টের তথ্য হ্যাকারদের হাতে চলে গিয়েছে। সবসময় ক্ষতির পরিমাণ প্রথমেই নজরে আসে না। অনেক পরে আসে। ২০১২ সালে লিঙ্কডইন সাইট হ্যাক হওয়ার পর সংস্থার তরফে ঘোষণা করা হয়, ৬৫ লক্ষ অ্যাকাউন্ট ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। পরে জানা যায়, সংখ্যার পরিমাণ প্রায় ১২ কোটি।

চতুর্থ পদক্ষেপ: মাল্টি-ফ্যাক্টর আইডেন্টিফিকেশন

বহু সময়ে অনেক সাইট থেকে পাসওয়ার্ড দেওয়া সত্বেও দ্বিতীয় আইডি পরীক্ষা করার ব্যবস্থা রাখে। যেমন আপনার মোবাইল ফোনে একটি কোড পাঠিয়ে দেওয়া হবে। সেই কোড দিলে তবেই সাইটে ঢোকা যাবে। এক্ষেত্রে সুরক্ষার মান বেড়ে যায়। সাধারণত, সাইটের নিজস্ব নিরাপত্তা ব্যবস্থা এই সফটওয়্যার থাকে। কোনও অজানা কম্পিউটার বা নতুন ব্রাউজার থেকে লগ-ইন করার চেষ্টা হলেই এই দ্বিতীয় আইডি অটো-অ্যাক্টিভেট হয়ে যায়।

পঞ্চম পদক্ষেপ: বাতিল অ্যাকাউন্টগুলি ডি-অ্যাক্টিভেট করুন

যে অ্যাকাউন্টগুলি বর্তমানে ব্যবহার করছেন না, সেগুলিকে ডি-অ্যাক্টিভেট করুন। অনেক সময় হ্যাকাররা এধরনের অ্যাকাউন্ট তথ্য জোগাড় করে অপকর্মের জন্য ব্যবহার করে। আবার অনেক সময় তৃতীয় সংস্থাকে অর্থের বিনিময়ে বিক্রিও করে।

ষষ্ঠ পদক্ষেপ: অপরিচিতকে বন্ধু করার আগে ভাবুন

সোশ্যাল সাইটে, বিশেষ করে ফেসবুকে সকলেই বিভিন্ন আইডি থেকে ‘ফ্রেন্ডশিপ রিকোয়েস্ট’ পাঠিয়ে থাকে। সতর্ক থাকুন। অপরিচিতদের থেকে বন্ধুত্বের অনুরোধ গ্রহণ করার আগে ভাবুন। পাশাপাশি, অ্যাকাউন্ট সেটিংয়ে গিয়ে দেখুন যে আপনার পোস্ট কার কাছে পৌঁছচ্ছে। এটা মাথায় রাখবেন, যাতে আপনার পোস্ট যেন সত্যিকারের বন্ধুর কাছেই পৌঁছয়। অযাচিত কোনও ব্যক্তির কাছে যেন না যায়। ফেসবুকের ‘সিকিউরিটি সেটিংস’ থেকে জেনে নিন, কে আপনার তথ্য দেখতে পাচ্ছে।

Related posts