November 13, 2018

জিহাদি জনের অবস্থানে বিমান হামলার দাবি আমেরিকার

গলা কেটে খুন করার আগে চাকু হাতে জিহাদি জন (ফাইল ছবি)

‘জিহাদি জন’ হিসেবে খ্যাত কুখ্যাত দায়েশ (আইএসআইল) সন্ত্রাসী মোহাম্মাদ এমওয়াজি’র অবস্থানে বিমান হামলা চালানোর দাবি করেছে আমেরিকা। সিরিয়ার দায়েশ নিয়ন্ত্রিত রাক্কা শহরে পাইলটবিহীন বিমান বা ড্রোন দিয়ে এ হামলা চালানো হয়েছে বলে মার্কিন প্রতিরক্ষা দফতর বা পেন্টাগন জানিয়েছে।

কুয়েতি বংশোদ্ভূত ব্রিটিশ নাগরিক জিহাদি জন গলা কেটে মানুষ হত্যার ভয়ঙ্কর ভিডিও ছড়িয়ে দিয়ে কুখ্যাত হয়েছিল।

পেন্টাগনের প্রেস সচিব পিটার কুক বৃহস্পতিবার রাতে জানিয়েছেন, জনের অবস্থান সম্পর্কে মোটামুটি নিশ্চিত হওয়ার পরই এ হামলা চালানো হয়েছে। তবে হামলায় ওই জঙ্গি নিহত হয়েছে কিনা তা বলতে পারেনি পেন্টাগন। কুক জানিয়েছেন, হামলায় এমওয়াজি নিহত হয়েছে কিনা সে সম্পর্কে খোঁজখবর নিচ্ছে ওয়াশিংটন।

এদিকে নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক আরেক মার্কিন কর্মকর্তার বরাত দিয়ে ওয়াশিংটন পোস্ট জানিয়েছে, বৃহস্পতিবার রাতের মার্কিন হামলাটি চালানো হয় জিহাদি জনসহ দায়েশের ইংরেজি জানা একদল জঙ্গির ওপর। জঙ্গিদের এই দলটি ব্রিটিশ উচ্চারণে ইংরেজিতে কথা বলার কারণে তাদের হাতে অপহৃত ব্যক্তিরা দলটির নাম দিয়েছে ‘দ্যা বিটল্‌স। ইংল্যান্ডের লিভারপুল-ভিত্তিক একটি পপ গ্রুপের নাম দ্যা বিটল্‌স।

২০১৪ সালের আগস্টে মার্কিন সাংবাদিক জেমস ফোলিকে গলা কেটে হত্যা করে জিহাদি জন। তখন থেকে থেকে উগ্র তাকফিরি জঙ্গি গোষ্ঠী দায়েশের পক্ষ থেকে প্রকাশিত সাতটি লোমহর্ষক ভিডিও’তে জনকে এ ধরনের নৃশংস হত্যাকাণ্ড চালাতে দেখা গেছে। ওই বছরেরই সেপ্টেম্বর মাসে সে গলা কেটে হত্যা করে আরেক মার্কিন সাংবাদিক স্টিভ সটলফ ও ব্রিটিশ ত্রাণকর্মী ডেভিড হেইনেসকে।

এই নির্দয় জঙ্গিকে ২০১৪ সালের অক্টোবরে প্রকাশিত একটি ভিডিওতে ব্রিটিশ ত্রাণকর্মী অ্যালান হেনিং ও একজন সিরিয় সেনাকে হত্যা করতে দেখা যায়। এরপর ওই বছরের নভেম্বরে সে হত্যা করে মার্কিন ত্রাণকর্মী আব্দুর রহমান ক্যাসিংকে। ওই ত্রাণকর্মী পিটার ক্যাসিং নামেও পরিচিত ছিলেন। এরপর চলতি বছরের জানুয়ারিতে এমওয়াজি জাপানি নাগরিক কেনজি গোতো’কে গলা কেটে হত্যা করে। ওই ঘটনার পর থেকে আর জিহাদি জনকে প্রকাশ্যে মানুষ হত্যা করতে দেখা যায়নি।

Related posts