November 16, 2018

জার্মান নারীদের উপর শরণার্থীদের হামলা!

যুদ্ধবিধ্বস্ত সিরিয়া এবং আশেপাশের দেশ থেকে পালিয়ে যে বিপুল পরিমাণ মানুষ সমুদ্র পাড়ি দিয়ে আশ্রয় নিয়েছে ইউরোপে তাদের মধ্যে প্রায় ১০ লাখ মানুষের সবচেয়ে বড় অংশটিই ঠাই পেয়েছে জার্মানিতে। এর পেছনে সবচেয়ে বড় ভূমিকা পালন করেছেন জার্মান চ্যান্সেলর আঙ্গেলা মেরকেল। কিন্তু ডানপন্থী দলগুলোসহ আরও অনেক জার্মান নাগরিকই এই বিপুল পরিমাণ শরণার্থীদের জায়গা দিতে সম্মত নন। গত ডিসেম্বর মাসের ৩১ তারিখ নিউ ইয়ার্স ইভে জার্মানির কোলোন শহরে নারীদের উপর যৌন হামলা করে কিছু শরণার্থী। নারীদের উপর এই হামলা ছাড়াও শরণার্থীদের দ্বারা চুরি ডাকাতির বেশ কিছু ঘটনা ঘটেছে সম্প্রতি।

নিউ ইয়ার্স ইভের এই ঘটনার পর থেকেই কোলোন শহরের বাসিন্দারা বিক্ষোভ শুরু করেন। বিক্ষোভ চলাকালে ডানপন্থী দলগুলো বোতল এবং পাথর ছুঁড়ে হামলা করে পুলিশের উপর। তারা হামলাকারী ও দুষ্কৃতিকারী শরণার্থীদের বিচারের দাবি জানান। পুলিশ জানিয়েছে, এখন পর্যন্ত ৫শ’ ১৬ জন শরণার্থীর বিরুদ্ধে মামলা করা হয়েছে, যাদের ভিতরে ৪০ শতাংশই যৌন হয়রানির সাথে জড়িত। জার্মানির বিক্ষোভরত জনগণ পুলিশের উপরে যেমন ক্ষ্যাপা, তেমনি অনেকেই চ্যান্সেলর মেরকেলের শরণার্থীদের উপর এই উদারতা নিয়েও প্রশ্ন তুলতে শুরু করেছেন।

আঙ্গেলা মেরকেল শরণার্থীদের এই সমস্ত কার্যক্রমে তীব্র নিন্দা জানিয়েছেন। কিন্তু তারপরেও শরণার্থীদের জায়গা দেয়ার জন্য যে প্রতিশ্রুতি তিনি দিয়েছিলেন তা বরখেলাপ করেন নি। তিনি মনে করেন, যে সমস্ত শরণার্থী জার্মান সমাজ এবং আইনের প্রতি শ্রদ্ধা দেখাতে পারবে তারা সবসময়ই জার্মানিতে স্বাগত।

শরণার্থীদের এই হামলার পরে নিরাপত্তা দিতে ব্যর্থ হওয়ায় সমালোচনার মুখে কোলোন শহরের পুলিশ প্রধান উলফগ্যাং অ্যালবার্সকে চাকরিচ্যুত করা হয়েছে গত শুক্রবার। তাছাড়া কোলোনের মেয়র হেনরিটে রেকার হামলার পরে নারীদের উদ্দেশে বলেছিলেন, অচেনা লোকের কাছে থেকে এক হাত দূরত্ব রেখে হাঁটার জন্য। কিন্তু তার এই প্রস্তাবে আরও অনেকের মতোই জার্মান বিচারকমন্ত্রী হিকো মাস পর্যন্ত অসম্মতি জানান।

তবে দুঃখের বিষয় হচ্ছে, জার্মানির নিউ ইয়ার্স ইভের হামলার পর থেকে ইউরোপের আরও অনেক জায়গায় একইধরনের হামলার খবর পাওয়া যাচ্ছে। বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই নারীরা কিছু কিছু শরণার্থীদের দ্বারা যৌন হামলার শিকার হচ্ছেন। যৌন হামলার পাশাপাশি ঘটছে আরও অন্যান্য চুরি ডাকাতির অপরাধ। আঙ্গেলা মেরকেল এই বিষয়ে ইতিমধ্যে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। তিনি হয়তো এখুনি শরণার্থীদের প্রবেশ নিষিদ্ধ করবেন না। তবে আইন কড়াকড়ি করবেন খুব শিগগিরই।

দি গ্লোবাল নিউজ ২৪ ডট কম/রিপন/ডেরি

Related posts