November 16, 2018

জার্মানিতে মুসলমান শরণার্থীরা নিশ্চিন্তে থাকতে পারবেন<<ইফতার মাহফিলে জার্মান প্রেসিডেন্ট

ইন্টারন্যাশনাল ডেস্কঃ  বার্লিনের কয়েকশ’ রোজাদার মুসলমানের জীবনে অনেকদিন স্মরণীয় হয়ে থাকবে গত সোমবারের সন্ধ্যাটা। কারণ সেদিন তাদের সঙ্গে ইফতার করেছেন জার্মানির প্রেসিডেন্ট ইওয়াখিম গাউক। জার্মানির অভিবাসী মুসলমানদের শুধু প্রেসিডেন্টের সঙ্গে ইফতার করার আনন্দ নয়, এর চেয়েও বেশি কিছু এনে দিয়েছে ওইদিন। মুসলিম শরণার্থীদের তিনি জানিয়েছেন, জার্মানি সব শান্তিপ্রিয় মানুষের জন্য। সুতরাং মুসলমান শরণার্থীরাও জার্মানিতে নিশ্চিন্তে থাকতে পারেন। দেশটির গণমাধ্যমের খবরে বলা হয়েছে, গত প্রায় দেড় বছরে ১০ লাখেরও বেশি শরণার্থী এসেছে জার্মানিতে। আগত শরণার্থীদের বেশিরভাগই মুসলমান।

বার্লিনেও অনেক মুসলমানের বসবাস। সেখানকার মোয়াবিট অঞ্চলে সোমবার এক ইফতার পার্টিতে গিয়েছিলেন জার্মানির প্রেসিডেন্ট ইওয়াখিম গাউক। শুধু ইফতার করাই নয়, মুসলিম শরণার্থীদের তিনি জানিয়েছেন, জার্মানি সব শান্তিপ্রিয় মানুষের। সুতরাং মুসলমান শরণার্থীরাও জার্মানিতে নিশ্চিন্তে থাকতে পারেন। মোয়াবিটের ইফতার পার্টিতে জার্মান প্রেসিডেন্ট আরো বলেন, আজ এখানে যারা একত্রে ইফতার করছেন, তারা এক মনে এ কথাও ভাবতে পারেন এক সঙ্গে বাস করা সত্যিই সম্ভব। প্রেসিডেন্ট গাউকের সঙ্গে তার জীবনসঙ্গিনী ডানিয়েলা শাটও গিয়েছিলেন বার্লিনের ইফতার পার্টিতে। জানা গেছে, জার্মানিতে শরণার্থীবিরোধী ডানপন্থী দল এএফডি জনমনে মুসলমান বিদ্বেষ আর আতঙ্ক ছড়াচ্ছে।

গত রোববার অরল্যান্ডোয় সমকামীদের নাইটক্লাবে হামলা চালায় এক মুসলিম তরুণ। হামলাকারীসহ সেখানে মোট ৫০ জন নিহত হয়। তারপরই বার্লিনে ইফতার করতে গিয়ে গাউক বলেন, কিছু মানুষের কাছে ইসলামী জঙ্গিবাদে আতঙ্ক আর মুসলিম-আতঙ্ক এক হয়ে যাচ্ছে। এটা ঠিক নয়। পরস্পরের প্রতি অবিশ্বাস উসকে দেয়ার এই সময়ে এমন সম্মিলন খুবই গুরুত্বপূর্ণ। জার্মানদের সঙ্গে শরণার্থীদের দূরত্ব ঘুচানোর প্রয়োজনীয়তার ওপর জোর দিতে গিয়ে গাউক বলেন, দূরত্ব ঘুচানোর কাজে সহাবস্থান অনেক সময় দীর্ঘ আলোচনার বিকল্প হিসেবেও কাজ করে।

বিশেষ করে যদি ধর্মের প্রধান এবং মৌলিক বিষয়গুলো মেনে চলে সবাইকে বলি, আমরা অন্যের কাছ থেকে যে ব্যবহার আশা করি, সেই ব্যবহার অন্যদেরও করব তাহলেই কিন্তু অনেক কিছু অন্যরকম হয়ে যায়। পবিত্র রমজান মাসে ইফতারকে কেন্দ্র করে প্রেসিডেন্ট গাউকের শুভেচ্ছা বিনিময় জার্মানিতে আগত মুসলিম শরণার্থীদের জন্য স্বস্তিদায়ক আশার দিগন্তু খুলে দিয়েছে বলে মনে করছেন সেখানকার শরণার্থীরা।

ডিডব্লিও।

Related posts