September 22, 2018

‘জামায়াতের হাল ধরবে তরুণ নেতৃত্ব’

ঢাকাঃ  বাংলাদেশের বৃহত্তম ইসলামী দল জামায়াতে ইসলামীর ভবিষ্যত কী? এ নিয়ে ডয়চে ভেলে বাংলার কাছে মতামত তুলে ধরেছেন জাহাঙ্গীর নগর বিশ্ববিদ্যালয়ের রাষ্ট্রবিজ্ঞানের অধ্যাপক ড. তারেক শামসুর রেহমান এবং ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ড. শান্তনু মজুমদার।

তারেক শামসুর রেহমান উদারপন্থী এবং শান্তনু মজুমদার বামপন্থী বিশ্লেষক হিসেবে খ্যাত।

তাদের দুজনের মতামত তুলে ধরা হলো:

তারেক শামসুর রেহমান মনে করেন, ‘জামায়াতের হাল ধরবে তরুণ নেতৃত্ব। তবে জামায়াত নামটি আর থাকবে না। আমার মন হয়, তারা হয়ত এবার নতুন নামে দল করবে।’

শান্তনু মজুমদার মনে করেন, ‘জামায়াত আবার ঘুরে দাঁড়ালে বিস্মিত হওয়ার কিছু থাকবে না৷ কারণ অতীতেও জামায়াত নিষিদ্ধ হয়েছিল৷ তবে এটা নির্ভর করবে দেশের রাজনৈতিক পরিস্থিতির ওপর।’

যুদ্ধাপরাধের বিচার শুরুর সময় জামায়াতে ইসলামী এবং তাদের ছাত্র সংগঠন ইসলামী ছাত্রশিবির ব্যাপক তৎপর ছিল। তারা হরতাল ডেতে মাঠে থাকত এবং প্রতিরোধ গড়ে তোলার চেষ্টা করত। ট্রাইব্যুনালে জামায়াত নেতা মাওলানা দেলাওয়ার হোসাইন সাঈদীর মৃত্যুদণ্ডের রায়ের পর, তারা দেশে ব্যাপক বিক্ষোভ হয়। কিন্তু ধীরে ধীরে তাদের আন্দোলন এখন প্রতিবাদ এবং কর্মসূচি দেয়ার মধ্যেই সীমবাদ্ধ হয়ে পড়েছে।

ড. তারেক শামসুর রহমানের কথায়, ‘জামায়াতের তরুণ নেতৃত্বের মধ্যে উপলব্ধি এসেছে৷ তারা বুঝতে পারছে য, যুদ্ধাপরাধের দায় মাথায় নিয়ে রাজনীতিতে সক্রিয় থাকা যাবে না৷ জামায়াতের একাত্তর পরবর্তী প্রজন্ম জামায়াতের একাত্তরের দায় নিতে চাইছে না।’

তাই তিনি মনে করেন, ‘জামায়াতে ইসলামী নামে সংগঠনটি থাকবে না। কারণ জামায়াতের নিবন্ধন ইতমধ্যেই বাতিল হয়েছে। অর্থাৎ আগামী নির্বাচনে অংশ নিতে হলে নতুন নামে দল করতে হবে।’

জামায়াতে ইসলামী অতীতে জাতীয় সংসদে উল্লেখযোগ্য সংখক আসন পেয়েছে। তাদের দু’জন নেতা মন্ত্রীও হয়েছেন৷ বিশেষ করে বিএনপির সঙ্গে জোট বেধে নির্বাচন করলে বিএনপি এবং জামায়াত উভয়েই লাভবান হয়৷ সেই প্রেক্ষাপটে জামায়াতের নতুন নেতৃত্বে যারা আসবেন, তাদের মাথায় কি এ কথা থাকবে?

এমন প্রশ্নের জবাবে ড. তারেক বলেন, ‘যদি জামায়াত নতুন নামে আত্মপ্রকাশ করে, তাহলে তাদের রাজনীতির শত্রু-মিত্র কারা হবে তা এখনই নিশ্চিত করে বলা যাচ্ছে না৷’

জামায়াতের ভবিষ্যৎ প্রশ্নে ড. শান্তনু মজুমদার বলেন, ‘জামায়াত নামে দলটি টিকে না থাকলেও তাদের যে ভাবাদর্শ, তা সহজে যাবে বলে মনে হয় না৷ কারণ বাংলাদেশে স্বাধীনতার বিরোধিতা বা যুদ্ধাপরাধের পক্ষে সামাজিক উপাদান আছে।’ উৎসঃ RTNN

Related posts