September 23, 2018

জামায়াতের ফাঁসির পর এবার বিএনপির দণ্ড শুরু!

ঢাকাঃ দ্বিতীয় বৃহৎ বিরোধী দল জামায়াতে ইসলামীর শীর্ষ নেতাদের মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় ফাঁসি ও আমৃত্যু কারাদণ্ড দেয়ার পর বিএনপির শীর্ষ নেতাদের কারাদণ্ড দেয়া শুরু হয়েছে।

অর্থপাচারের মামলায় নিম্ন আদালতের রায়ে সম্পূর্ণ খালাস পাওয়ার পরেও বিএনপির দ্বিতীয় শীর্ষ নেতা তারেক রহমানকে সাত বছরের কারাদণ্ড ও ২০ কোটি জরিমানা করেছেন হাইকোর্ট।

বৃহস্পতিবার বিচারপতি এম ইনায়েতুর রহিম ও বিচারপতি আমির হোসেনের হাইকোর্ট বেঞ্চ এই রায় ঘোষণা করেন।

একইসঙ্গে তারেকের বন্ধু ও বিতর্কিত ব্যবসায়ী গিয়াসউদ্দিন আল মামুনের সাত বছরের কারাদণ্ডও বহাল রাখা হয়েছে। তবে তাকে বিচারিক আদালতের দেওয়া ৪০ কোটি টাকার অর্থদণ্ড কমিয়ে ২০ কোটি টাকা করা হয়েছে।

হাইকোর্টের রায়ে বিচারিক আদালতকে তারেক রহমানের বিরুদ্ধে সাজা পরোয়ানা জারির নির্দেশ দেওয়া হয়। পলাতক তারেক রহমান আত্মসমর্পণ করলে বা তাকে গ্রেফতার করা গেলে সেই সময় থেকে তার দণ্ড কার্যকর হবে বলে হাইকোর্ট জানিয়েছে।

এই রায়ের মধ্য দিয়ে যুক্তরাজ্যে নির্বাসিত তারেক রহমান আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করার সুযোগ বন্ধ হয়ে গেল।

এখন বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া আসন্ন কয়েকটি দুর্নীতি মামলার রায়ে দণ্ডিত হলে কার্যত বাংলাদেশে বিরোধী দলীয় রাজনীতি পুরোপুরি বিপর্যস্ত হয়ে পড়বে।

ঘুষ হিসেবে আদায়ের পর ২০ কোটি টাকা বিদেশে পাচারের অভিযোগে ২০০৯ সালের ২৬ অক্টোবর ঢাকা ক্যান্টনমেন্ট থানায় এই মামলাটি করে দুদক।

মামলার অভিযোগে বলা হয়, টঙ্গীতে প্রস্তাবিত ৮০ মেগাওয়াট বিদুৎকেন্দ্র স্থাপনের কাজ পাইয়ে দেওয়ার জন্য নির্মাণ কনস্ট্রাকশন কোম্পানি লিমিটেডের মালিক খাদিজা ইসলামের কাছ থেকে গিয়াসউদ্দিন আল মামুন ২০ কোটি ৪১ লাখ ২৫ হাজার ৮৪৩ টাকা নেন। সিঙ্গাপুরে এ টাকা লেনদেন হয়। মামুন ওই টাকা সিঙ্গাপুরের একটি ব্যাংকে তার হিসাবে জমা করেন।

এতে আরও বলা হয়, এই টাকার মধ্যে তারেক রহমান ৩ কোটি ৭৮ লাখ টাকা খরচ করেন।

বিচার শেষে ২০১৩ সালের ১৭ নভেম্বর ঢাকার বিশেষ জজ আদালত-৩-এর বিচারক মো. মোতাহার হোসেন অর্থপাচার মামলার রায়ে তারেক রহমানকে খালাস এবং গিয়াস উদ্দিন আল মামুনকে সাত বছরের কারাদণ্ডাদেশ ও ৪০ কোটি টাকা জরিমানার আদেশ দেন।

ওই রায়ে বলা হয়, ওই টাকা খরচ করার কথা তারেক রহমান অস্বীকার করেননি। ২০০৭ সালে দুদকে দাখিল করা তারেকের হিসাব বিবরণীতে তার উল্লেখ রয়েছে। কিন্তু তিনি যে মানি লন্ডারিং আইনে অপরাধ করেছেন তা প্রমাণ হয়নি। এছাড়া পাচার করা ২০ কোটি ৪১ লাখ ২৫ হাজার ৬১৩ টাকা রাষ্ট্রের অনুকুলে বাজেয়াপ্ত করারও নির্দেশ দেওয়া হয়।

এরপর একই বছরের ৫ ডিসেম্বর তারেক রহমানকে খালাসের রায়ের বিরুদ্ধে হাইকোর্টের সংশ্লিষ্ট শাখায় আপিল দাখিল করে দুদক। অপরদিকে দণ্ডাদেশের বিরুদ্ধে আপিল করেন গিয়াস উদ্দিন আল মামুন।

দুদকের করা আপিল ও দণ্ডাদেশের বিরুদ্ধে মামুনের করা আপিলের ওপর চূড়ান্ত শুনানি শেষে গত ১৬ জুন এই মামলাটি রায়ের জন্য অপেক্ষমাণ (সিএভি) রেখেছিলেন হাইকোর্ট।

ওইদিন রাষ্ট্রপক্ষে শুনানি করেন অ্যাটর্নি জেনারেল মাহবুবে আলম, ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল শেখ এ কে এম মনিরুজ্জামান কবির ও সহকারী অ্যাটর্নি জেনারেল শহীদুল ইসলাম খান। আদালতে মামুনের পক্ষে ছিলেন সিনিয়র আইনজীবী এ জে মোহাম্মদ আলী ও ব্যারিস্টার কায়সার কামাল।

দুদকের পক্ষে ছিলেন অ্যাডভোকেট খুরশীদ আলম খান। তারেক রহমান ‘পলাতক’ থাকায় তার পক্ষে কোনো আইনজীবী ছিলেন না।

অনলাইন বাংলা

Related posts