November 19, 2018

জামায়াতের আমীর নির্বাচন প্রায় চূড়ান্ত

ঢাকাঃ শেষ পর্যন্ত ভারপ্রাপ্ত আমীর মকবুল আহমাদই আমীর হচ্ছেন জামায়াতের। দলের সর্বোচ্চ নীতি-নির্ধারণী ফোরামের মতামতের ভিত্তিতে এই শীর্ষ পদটি চূড়ান্ত করা হয়েছে বলে দায়িত্বশীল সূত্র জানায়। ২০১০ সালে জামায়াতের আমীর মাওলানা মতিউর রহমান নিজামী, নায়েবে আমীর মাওলানা দেলাওয়ার হোসাইন সাঈদী, সেক্রেটারি জেনারেল আলী আহসান মোহাম্মদ মুজাহিদ গ্রেপ্তার হলে ভারপ্রাপ্ত আমীরের দায়িত্ব পান মকবুল আহমাদ। ওই সময় ভারপ্রাপ্ত সেক্রেটারি জেনারেল হন এটিএম আজহারুল ইসলাম। তবে ২০১১ সালের ১৯শে সেপ্টেম্বর এটিএম আজহারুল ইসলাম গ্রেপ্তার হলে দায়িত্ব নেন ডা. শফিকুর রহমান। ২০১২ সালে শফিকুর রহমান গ্রেপ্তার হলে ভারপ্রাপ্ত সেক্রেটারি জেনারেল হন ঢাকা মহানগর আমীর মাওলানা রফিকুল ইসলাম খান। তবে শফিকুর রহমান জামিনে মুক্তি পেলে মাওলানা রফিক স্বপদে ফিরে যান।

দীর্ঘ প্রায় ছয় বছর নানা চড়াই-উৎরাইয়ে ভারপ্রাপ্ত আমীর, ভারপ্রাপ্ত সেক্রেটারি জেনারেল জামায়াতের হাল ধরে আছেন। আত্মগোপনে থেকে বক্তৃতা-বিবৃতিসহ নানা মাধ্যমে দল পরিচালনা করছেন। কিন্তু সাম্প্রতিক সময়ে মানবতাবিরোধী অপরাধ মামলায় দলটির আমীর মাওলানা মতিউর রহমান নিজামী, সেক্রেটারি জেনারেল আলী আহসান মোহাম্মদ মুজাহিদ, দুই সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল মুহাম্মদ কামারুজ্জামান ও আবদুল কাদের মোল্লার মৃত্যুদণ্ড কার্যকর হওয়ার পর দল পুনর্গঠনের দাবি জোরদার হয়। এ পর্যায়ে আভ্যন্তরীণ যোগাযোগের মাধ্যমে তিন সদস্যের আমীর প্যানেলের নির্বাচন সম্পন্ন করা হয়। এতে ২৭৭ সদস্যের মজলিশে শূরার সর্বোচ্চ ভোটে মকবুল আহমাদের নাম চূড়ান্তভাবে বিবেচিত হয়। তবে দলটির গঠনতন্ত্র অনুযায়ী গোপন ভোটের মাধ্যমে এই শীর্ষ পদটি চূড়ান্ত করবে রুকন সদস্যরা।

কারণ আমীর প্যানেলে আরও দু’জনের নাম থাকায় গঠনতন্ত্রের আলোকে আমীর পদের চূড়ান্ত নির্বাচনের জন্য ৪২ হাজার রুকনের ভোট নেয়ার বাধ্যবাধকতা রয়েছে। দলের দায়িত্বশীল সূত্রে এই তথ্য নিশ্চিত করা হয়েছে। তবে কৌশলগত কারণে উদ্ধৃত হতে চাননি কেউ। জামায়াতের এক তরুণ সদস্যের মতে, দলের এই সংকটময় মুহূর্তে সার্বিক বিবেচনায় মকবুল আহমাদের বিকল্প চিন্তা করা হচ্ছে না। একইভাবে সেক্রেটারি জেনারেল পদে ডা. শফিকুর রহমানই সময়ের পরীক্ষায় উত্তীর্ণ। মকবুল আহমাদ আমীর নির্বাচিত হলে ডা. শফিকুর রহমান সেক্রেটারি জেনারেল হতে পারেন। যদিও ইতিপূর্বে আন্দোলন-সংগ্রামে খানিকটা ‘রক্ষণাত্মক’ কৌশল অবলম্বন করায় জামায়াতের একটি অংশ বিশেষ করে তরুণরা শফিকুর রহমানের ওপর তেমন সন্তুষ্ট নন।

Related posts