November 21, 2018

জামায়াতকে নিষিদ্ধ করলে বিপর্যয়!

শামসুল হুদা নামে এক ব্যক্তি এবং তার কোনো পরিচয় উল্লেখ করা হয়নি

বাংলাদেশে বর্তমান সরকারের কিছু শক্তিশালী মন্ত্রী এবং সরকার সমর্থিত কিছু রাজনৈতিক প্রতিষ্ঠান জামায়াতকে নিষিদ্ধ করার প্রস্তাব উত্থাপন করে। এর মধ্যেই ১৯৭১ সালের স্বাধীনতা যুদ্ধের সময় মানবতাবিরোধী অপরাধের জন্য এই দলের শীর্ষ তিন নেতার ফাঁসি হয়েছে। সুপ্রিম কোর্টের রায়ে ইতিমধ্যে জামায়াতকে সকল প্রকার নির্বাচন থেকে বহিঃস্কার করা হয়েছে এবং বর্তমানে জমায়াতকে নিষিদ্ধ করার সিদ্ধান্ত মানে কাফিনে শেষ পেরেকটি ঠোকা।

এটা শুনতে খুব কঠিন মনে হবে না যে, জামায়াতের যথেষ্ট পরিমাণে শক্তি এবং অর্থনৈতিক সামর্থ আছে যা দিয়ে তারা দেশকে একবার জাগিয়ে তুলতে পারবে। কারণ এটা তাদের অস্তিত্বের বিষয়। যদি জামায়াতকে বাংলাদেশের রাজনীতি থেকে নিষিদ্ধ ঘোষণা করা হয় তাহলে রাজনৈতিক দলটির বিশাল সমর্থকগোষ্ঠী রয়েছে যারা টিকে থাকার জন্যে বা নিজেদের অস্তিত্ব বজায় রাখতে যে কোনো সিদ্ধান্ত গ্রহণ করতে পারে। জামায়াতের নেতা কর্মী বা সমর্থকদের বয়স ৪৫ বছরের কম, তারা মরণপণ লড়াই করতে পিছপা হবে না, কারণ তারা অটলভাবে দলের প্রতি আনুগত্যশীল ও অঙ্গীকারবদ্ধ। জামায়াতকে নিষিদ্ধ করলে নিজেদের অস্তিত্ব রক্ষার জন্যেই এরা গোপনে দেশকে অস্থিতিশীল করতে যে কোনো নাশকতামূলক কাজে জড়িত হয়ে পড়তে পারে।

১২ই ডিসেম্বরে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রফেসর আবুল বারাকাতের একটি গবেষণায় দেখা যায়, জামায়াতে ইসলামী নিয়ন্ত্রিত আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলোর ২০১৪ সালের লাভ প্রায় ১,২৫০ মিলিয়ন সৌদি রিয়াল এবং এই প্রতিষ্ঠানগুলোর বিগত ৪০ বছরের লাভের পরিমাণ প্রায় ৫০ হাজার মিলিয়ন। জামায়াত ইসলামী বাংলাদেশ অনেক পুরাতন একটি দল। সাইয়েদ আবুল আ’লা মওদুদী ১৯৪১ সালের ২৬ আগস্ট লাহরের ইসলামীয়া পার্কে সামাজিক-রাজনৈতিক ইসলামী আন্দোলনের অংশ হিসেবে জামায়াতে ইসলামী হিন্দ নামে সংগঠনটি প্রতিষ্ঠা করেন এবং ১৯৪৭ সালে জামায়াতে ইসলামী পাকিস্তানে রূপান্তরিত হয়। জামায়াতের এই র্দীঘ রাজনৈতিক জীবনে অনেক উত্থান পতনের সম্মুখীন হয়।

এই দলটির জন্য সবচেয়ে বেশি ধাক্কা হলো তারা ১৯৭১ সালে স্বাধীনতা বিরোধী ছিল এবং সফলতা হচ্ছে বিএনপি সরকারের আমলে জামায়াত থেকে দু’জন মন্ত্রী পদে দায়িত্ব পালন করেন। জামায়াতের রাজনৈতিক এবং অর্থনৈতিক দাপট শুধু দেশে নয়, দেশের বাইরেও বিদ্যমান। বাংলাদেশের নাগরিক নানা দেশে অবস্থানরত। শুধুমাত্র সৌদি আরবেই প্রায় ১.৫ মিলিয়ন প্রবাসী বাংলাদেশি অবস্থান করছে। অনেক বৈদেশিক শক্তি জামায়াতকে অর্থনৈতিক এবং নৈতিক সমর্থন দিয়ে আসছে। জামায়াতকে রাজনৈতিকভাবে নিমূর্ল করার পাঁয়তাড়া চলছে। জামায়াতের বিরুদ্ধে এমন সিদ্ধান্তে উদ্বিগ্ন জামায়াত সমর্থিত দেশগুলো।

তবে বাংলাদেশের নির্বাচন কমিশন জামায়াতকে নির্বাচনে অংশগ্রহণে নিষিদ্ধ করার মধ্যে দিয়ে দলটির দুটি হাত কেটে ফেলার মত অবস্থা সৃষ্টি করেছে। এবার জামায়াত নিষিদ্ধ ঘোষণা করলে দলটির নেতা কর্মীদের অস্তিত্ব রক্ষার লড়াই শুরু হতে পারে। কারণ জামায়াতের অর্থনৈতিক ও রাজনৈতিকভাবে অবস্থান শুধু বাংলাদেশেই নয় বিদেশে বিভিন্ন দেশে রয়েছে। ভারতীয় উপমহাদেশে জামায়াত খুবই পুরোনো রাজনৈতিক দল। যার শাখা ভারত ও পাকিস্তানেও রয়েছে। বাংলাদেশে ও বিদেশে রাজনৈতিকভাবে জামায়াতের শিকড় অনেক গভীরে প্রোথিত এবং অনেক রাজনৈতিক উত্থান ও পতনের সঙ্গে জামায়াত জড়িত ছিল বলে দলটির নেতাকর্মীদের অভিজ্ঞতা রয়েছে।

একই সঙ্গে রাজনৈতিক দলটির অন্তত ১০ মিলিয়ন শুভাকাক্সিক্ষ, সক্রিয় সদস্য ও একনিষ্ঠ সমর্থক পারস্য উপসাগর, মধ্যপ্রাচ্য, ব্রিটেন, যুক্তরাষ্ট্র, অস্ট্রেলিয়া, কানাডা সহ বিভিন্ন দেশে বাস করছে। শুধু সৌদি আরবেই বাস করছে ১৫ লাখ বাংলাদেশি প্রবাসী এবং ব্রিটেনে রয়েছে ৫ লাখ বাংলাদেশি যাদের একটা সিংহভাগ জামায়াতকে অর্থনৈতিক ও নৈতিকভাবে সমর্থন দিয়ে যাচ্ছে। এ বিষয়টি বাংলাদেশের বর্তমান সরকারের জন্যে উদ্বেগের বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে।

বাংলাদেশ সরকারের পক্ষ থেকে বেশ কয়েকটি দেশের সরকারকে এ ব্যাপারে সতর্ক করা হয়েছে। ব্রিটিশ সরকারকে বাংলাদেশ সরকার ইতিমধ্যে সতর্ক করে দিয়েছে যে দেশটিতে বসবাসরত প্রবাসী বাংলাদেশিদের একটা বিরাট অংশ জামায়াতের সঙ্গে জড়িত। একই সঙ্গে বাংলাদেশের ক্ষমতাসীন সরকার বিরোধী দল বিএনপির জোট থেকে জামায়াতকে এক ঘরে করার চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে। বিরোধীদল হিসেবে বিএনপি জামায়াতকে ত্যাগ করলে দলটি আরো দুর্বল হয়ে পড়বে বলেই বাংলাদেশের সরকার বিশ্বাস করে। জামায়াতকে নিষিদ্ধ করার বিষয়টি বাংলাদেশের সরকার সময়ের ব্যাপার মাত্র মনে করছে এবং এর ফলে দলটির বিশাল নেতাকর্মী ও সমর্থক গোষ্ঠী দলছুট হয়ে পড়বে কিংবা অন্য রাজনৈতিক দলে যোগ দিতে বাধ্য হবে বলে মনে করা হচ্ছে।

কিন্তু জামায়াতের যে দেশে ও বিদেশে প্রবল রাজনৈতিক ভিত্তি ও শক্তি রয়েছে তা রাজনৈতিকভাবেই মোকাবেলা করা হবে বুদ্ধিমানের কাজ। এমনকি কেউ কেউ এমন মনে করছেন যে ষোল কোটি জনগোষ্ঠীর দেশ বাংলাদেশে সিংহভাগ মুসলিম হওয়ায় এবং যুদ্ধাপরাধী হিসেবে জামায়াতের শীর্ষ নেতাদের ফাঁসি হবার পর দলটি ইসলামী আদর্শ অনুসরণ করেই একটি প্রধান রাজনৈতিক দলে রূপান্তরিত হয়ে উঠতে পারে।

আমাদের সময়
দি গ্লোবাল নিউজ ২৪ ডট কম/রিপন/ডেরি

Related posts