September 19, 2018

জামায়াতকে নিষিদ্ধ করতে হবেঃ হিন্দু বৌদ্ধ খ্রিস্টান ঐক্য পরিষদ

ঢাকাঃ  ‘মুক্তিযুদ্ধের চেতনা পুরোপুরি বাস্তবায়ন না হলে ধর্মীয় সংখ্যালঘু ও ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীর অধিকার প্রতিষ্ঠা সম্ভব নয়’ বলে মন্তব্য করেছেন বাংলাদেশ হিন্দু বৌদ্ধ খ্রিস্টান ঐক্য পরিষদ আয়োজিত জাতীয় সংলাপে অংশগ্রহণকারী বিশিষ্টজনেরা।’

সংখ্যালঘু নির্যাতন বন্ধ এবং তাদের মর্যাদাপূর্ণ অবস্থান নিশ্চিত করার দাবি জানিয়ে তারা বলেন, ‘স্বাধীন বাংলাদেশে স্বাধীনতা বিরোধীদের রাজনৈতিক অধিকার বন্ধ করার পাশাপাশি জামায়াতের রাজনীতি নিষিদ্ধ করতে হবে।’

শনিবার রাজধানীর সিরডাপ মিলনায়তনে বাংলাদেশ হিন্দু বৌদ্ধ খ্রিস্টান ঐক্য পরিষদ আয়োজিত জাতীয় সংলাপে বক্তারা এ কথা বলেন। ধর্মীয় সংখ্যা লঘু ও ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠীর ৭ দফা দাবীতে এই জাতীয় সংলাপের আয়োজন করা হয়।

সংগঠনের সভাপতি উষাতন তালুকদার এমপির সভাপতিত্বে সভায় আওয়ামী লীগের উপদেষ্টা পরিষদের সদস্য সুরঞ্জিত সেন গুপ্ত, সভাপতিমন্ডলীর সদস্য ও স্বাস্থ্যমন্ত্রী মোহাম্মদ নাসিম, বাংলাদেশের ওয়ার্কার্স পার্টির সভাপতি রাশেদ খান মেনন, পার্বত্য চট্টগ্রাম আঞ্চলিক পরিষদের চেয়ারম্যান জ্যোতিরিন্দ্র বোধিপ্রিয় (সন্তু লারমা), বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য লে. জে. (অব) মাহাবুব উর রহমান, গণস্বাস্থ্য কেন্দ্রের প্রতিষ্ঠাতা ডা. জাফরুল্লাহ চৌধুরী, বাংলাদেশ সমাজতান্ত্রিক দল (বাসদ) এর সাধারণ সম্পাদক খালেকুজ্জমান, বিশিষ্ট সাংবাদিক কামাল লোহানী, তত্ত্বাবধায়ক সরকারের সাবেক উপদেষ্টা সুলতানা কামাল, বাংলাদেশের কমিউনিস্ট পার্টির সভাপতি মুজাহিদুল ইসলাম সেলিম, ঘাতক দালাল নির্মূল কমিটির ভারপ্রাপ্ত সভাপতি শাহরিয়ার কবির, সাম্যবাদী দলের সাধারণ সম্পাদক দিলীপ বড়ুয়া, জাসদের সাধারণ সম্পাদক শিরিন আক্তার এমপি প্রমুখ বক্তব্য রাখেন। জাতীয় সংলাপ সঞ্চালনা করেন আয়োজক সংগঠনের সাধারণ সম্পাদক রানা দাস গুপ্ত।

সংলাপে সুরঞ্জিত সেন গুপ্ত বলেন, ‘দেশের জনসংখ্যার অনুপাতিক হারে জাতীয় সংসদসহ সকল স্থানে ধর্মীয় সংখ্যা লঘুদের অধিকার দিতে হবে। রাষ্ট্র ও প্রশাসনে সমান প্রতিনিধিত্ব থাকতে হবে। তাদের অধিকারও প্রতিষ্ঠা করতে হবে।’

সংখ্যালঘুদের ওপর অত্যাচার করে কেউ পার পাবে না জানিয়ে মোহাম্মদ নাসিম বলেন, ‘যারা সংখ্যালঘুদের ওপর অত্যাচার করে তারা কোনো দলের প্রতিনিধি হতে পারে না। অনেক বাধা থাকার পরও সরকার এ সমস্যা সমাধানের চেষ্টা করে যাচ্ছে। যারা সংখ্যালঘুদের ওপর হামলা-নির্যাতন চালাচ্ছে, তারা এদেশের নাগরিক নয়। তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে সরকার সোচ্চার রয়েছে। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা দেশের সকল ধরনের প্রতিবন্ধকতা দূর করার জন্য কাজ করে যাচ্ছেন।’

বিএনপি নেতাদের উদ্দেশ্য করে নাসিম বলেন, ‘আপনাদের নেতা জিয়াউর রহমানও তো মুক্তিযোদ্ধা ছিলেন। আপনারাতো তুরস্ক ও পাকিস্তানকে উদ্দেশ্য করে বলতে পারেন তাদের এ হস্তক্ষেপের অধিকার নেই। যুদ্ধাপরাধীদের বিচার ইস্যুতে পাকিস্তান ও তুরস্কের সাম্প্রতিক প্রতিক্রিয়ার বিষয়ে বিএনপি’র প্রতিবাদ না করাটা দুঃখজনক বলে মন্তব্য করেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী।’

রাশেদ খান মেনন বলেন, ‘আমরা রাষ্ট্রকে পুরোপুরি অসাম্প্রদায়িক করতে পারিনি এবং পারছি না। এক্ষেত্রে সংবিধানে সাংঘর্ষিক বিধান বাতিল করতে হবে। আর এজন্য জাতি ঐক্যবদ্ধ না হলে এগুতে পারবে না।’

সুলতানা কামাল বলেন, ‘বাংলাদেশে সকল ধর্মের মানুষের সমধিকার থাকতে হবে। এদেশে তারাই রাজনীতি করবে যারা স্বাধীনতা পক্ষের শক্তি। যারা স্বাধীনতা ও মুক্তিযুদ্ধের বিরোধী ছিল, তাদের এদেশে রাজনীতি করার কোন অধিকার থাকতে পারে না।’

অনুষ্ঠানের শুরুতে বাংলাদেশ হিন্দু বৌদ্ধ খ্রিস্টান ঐক্য পরিষদের পক্ষ থেকে জাতীয় ঐক্যেমতের ৭ দফা দাবিনামা পাঠ করা হয়। দাবিগুলো হল, ক্ষমতায়ন ও প্রতিনিধিত্বশীলতা, সাংবিধানিক বৈষম্য বিলোপকরণ, সম-অধিকার ও সমমর্যাদা, স্বার্থবান্ধব আইন বাস্তবায়ন ও প্রণয়ন, শিক্ষা ব্যবস্থার বৈষম্য নিরসন, দায়মুক্তির সংস্কৃতি থেকে উত্তরণ এবং মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় সাম্প্রদায়িকতা, ধর্মান্ধতা, সন্ত্রাসমুক্ত বাংলাদেশ। খবর- বাসস।

দ্যা গ্লোবাল নিউজ ২৪ ডট কম/রিপন ডেরি/১৪ মে ২০১৬

Related posts