November 20, 2018

জাবির সেই তিন ছাত্রলীগকর্মীর বিচার চাইলেন শিক্ষকরা

Combo

জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ে ‘ছাত্রীর লাঞ্ছনা ঠেকাতে গিয়ে শিক্ষক লাঞ্ছিত’ হওয়ার ঘটনায় জড়িত ছাত্রলীগকর্মীদের শাস্তি দাবি করেছেন একদল শিক্ষক।

মঙ্গলবার কলা ও মানবিকী অনুষদের শিক্ষক লাউঞ্জে ‘আধিপত্য, বৈষম্য ও নিপীড়নের বিরুদ্ধে শিক্ষক সমাজ’ ব্যানারে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এ দাবি জানানো হয়।

এসময় তারা শিক্ষক লাঞ্ছনা ও শিক্ষার্থীকে নির্যাতনের বিচারসহ ছয়দফা দাবি বাস্তবায়নে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনকে সাত দিন সময় বেঁধে দেন। অন্যথায় কঠোর কর্মসূচি দেওয়ার হুমকিও দেন তারা।

অভিযোগ উঠেছে, গত বৃহস্পতিবার বিকালে চৌরঙ্গী মোড় এলাকায় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের এক ছাত্রীকে নিপীড়ন ও তার বন্ধুকে মারধর করেন ছাত্রলীগকর্মী সরকার ও রাজনীতি বিভাগের ৪০তম আবর্তনের শিক্ষার্থী মো. আবু সাদাত সায়েম, ৪৩তম আবর্তনের আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিভাগের জামশেদ আলম ও বাংলা বিভাগের জাহিদ হাসান। তাদেরকে থামাতে গিয়ে লাঞ্ছনার শিকার হন ইতিহাস বিভাগের অধ্যাপক মোজাহিদুল ইসলাম।

পরে শনিবার দুপুরে অধ্যাপক মোজাহিদুল ইসলাম এক ছাত্রীর লাঞ্ছনা ঠেকাতে গিয়ে লাঞ্ছিত হওয়ার বিচার চেয়ে প্রক্টর বরাবর লিখিত অভিযোগপত্র দেন। সেদিনই বিশ্ববিদ্যালয়ের আল-বেরুনী হলের ওই তিন শিক্ষার্থীকে প্রক্টর অফিস থেকে কারণ দর্শানোর নোটিস দিয়ে তিন কার্যদিবসে জবাব দিতে বলা হয়।

সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন দর্শন বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক রায়হান রাইন।

তাদের দাবিগুলোর মধ্যে রয়েছে- শিক্ষক লাঞ্ছনাকারী ও শারীরিক নির্যাতনকারী শিক্ষার্থীদের বিশ্ববিদ্যালয় থেকে চিরতরে বহিষ্কার করা, যৌন নিপীড়ন সেলে নিয়ে তদন্তের মাধ্যমে যৌন নিপীড়নকারীদের সর্বোচ্চ শাস্তি দেওয়া, শিক্ষক লাঞ্ছনা ও শিক্ষার্থীকে শারীরিক নির্যাতনের বিচার সাত দিনে করা, হাই কোর্টের নির্দেশ অনুযায়ী নির্দিষ্ট সময়ে যৌন নিপীড়নের ঘটনার বিচার শেষে দোষীদের শাস্তির আওতায় আনা।

সংবাদ সম্মেলনে প্রতি বছর নবাগত শিক্ষার্থীরা র‌্যাগিংয়ের মাধ্যমে যে নিপীড়নের শিকার হয় তা প্রতিহত করতে হাই কোর্ট প্রণীত যৌন নিপীড়নবিরোধী নীতিমালা ও র‌্যাগবিরোধী নীতিমালা বাস্তবায়নের দাবি জানান শিক্ষকেরা।

রায়হান রাইন বলেন, “র‌্যাগিং রোধে গৃহীত তৎপরতার অংশ হিসেবে উপাচার্যের প্রবেশিকা বক্তৃতার পাশাপাশি হাই কোর্ট প্রণীত যৌন নির্যাতনবিরোধী নীতিমালা ও র‌্যাগবিরোধী নীতিমালার একটি করে কপি শিক্ষার্থীদের দিতে হবে।”

লিখিত বক্তব্যে আরও বলা হয়, “নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে বিচার কার্য শেষ না হলে কিংবা নিপীড়কদের পৃষ্ঠপোষকতার চেষ্টা করা হলে কঠোর কর্মসূচির মাধ্যমে তা প্রতিহত করা হবে এবং এতে ক্যাম্পাস অস্থিতিশীল হলে প্রশাসনই দায়ী থাকবে।”

বৃহস্পতিবারের ঘটনায় প্রক্টরের ভূমিকার সমালোচনা করে রায়হান রাইন বলেন, “নিপীড়কদের বিরুদ্ধে অভিযোগ স্পষ্ট হলেও প্রক্টর ছাত্রলীগের পক্ষ নিয়েছেন। একজন শিক্ষকের সাক্ষ্যকে অবজ্ঞা করে তিনি নিপীড়িত নারী শিক্ষার্থীকে সবার সামনে আনার চেষ্টা করেছেন।”

সংবাদ সম্মেলনে অন্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন ‘আধিপত্য, বৈষম্য ও নিপীড়নের বিরুদ্ধে শিক্ষক সমাজ’ এর আহ্বায়ক সহযোগী অধ্যাপক স্বাধীন সেন, সদস্য সচিব অধ্যাপক এএসএম আনোয়ারুল্লাহ ভূঁইয়া, ইতিহাস বিভাগের সভাপতি অধ্যাপক এ টি এম আতিকুর রহমান, অধ্যাপক মো. শরিফ উদ্দিন, অধ্যাপক মোহাম্মদ মোজাহিদুল ইসলাম, অধ্যাপক শামীমা সুলতানা ও সহযোগী অধ্যাপক মোহাম্মদ গোলাম রব্বানী।

বৃহস্পতিবারের ঘটনার বিচার দাবি করেছে বিশ্ববিদ্যালয়ের বিএনপিপন্থি শিক্ষক সমাজ এবং ছাত্র ইউনিয়নও।

Related posts