November 20, 2018

জাপানের মেলায় বাংলাদেশের প্রযুক্তি

জাপান থেকে : সীমানা ছাড়িয়ে বাংলাদেশের হাইটেক প্রযুক্তি এখন জাপানে প্রদর্শিত হচ্ছে। ২৮-২৯ জুলাই জাপানের টোকিও শহরের টোকিও ইন্টারন্যাশনাল ফোরাম হলে অনুষ্ঠিত হয়েছে ক্যাবল টেক শো-২০১৬ মেলা। মেলায় জাপানের স্বনামধন্য ইলেকট্রিক প্রতিষ্ঠান ফুরুকাওয়া ইলেকট্রিকের সাথে যৌথভাবে অংশ নিয়েছে বাংলাদেশের হাইটেক প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠান অ্যাপলম্বটেকবিডি।

তথ্যপ্রযুক্তিতে বাংলাদেশের অগ্রগতি এখন দৃশ্যমান। ইন্টারনেট ব্যবহার করে ঘরের ইলেকট্রিক পণ্য নিয়ন্ত্রণের প্রযুক্তি তৈরি হচ্ছে দেশে। অত্যাধুনিক প্রযুক্তি হওয়ায় তা সীমানা ছাড়িয়ে বিদেশেও ঠাই নিচ্ছে। ২ মেলার স্টলে রোবটের সাহায্যে জাপানি ভাষায় কমান্ড দিয়ে বাসা বা অফিসের লাইট, ফ্যান, এসি অন/অফ করা, তাদের গতি নিয়ন্ত্রণ করা দেখানো হয়। এ কাজে ফুরুকাওয়া তৈরি করেছে রোবট এবং অ্যাপলম্বটেকবিডি তৈরি করেছে বাসা বা অফিসের লাইট, ফ্যান, এসি, পর্দা অন/অফ করার পদ্ধতি।

পাশাপাশি মেলায় অ্যাপলম্বটেকবিডি বাংলাদেশে তৈরি করা তাদের বিভিন্ন পণ্য প্রদর্শন করে। মেলায় দর্শনার্থীরা অ্যাপলম্বটেকবিডির এ ধরনের উদ্ভাবনের পণ্য আগ্রহের সাথে প্রদর্শন করেন। বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান অ্যাপলম্বটেকবিডির সাথে কাজ করতে আগ্রহ প্রকাশ করে। ইতোমধ্যে ফুরুকাওয়ার সাথে বাড়ির বিভিন্ন ইলেকট্রিক যন্ত্রপাতি ইন্টারনেটের মাধ্যমে নিয়ন্ত্রণে গবেষণা সংক্রান্ত চুক্তি সম্পাদিত হয়েছে।

জাপানের অন্যতম সেরা ইলেকট্রিক কোম্পানির সাথে অ্যাপলম্বটেকবিডির  টেক শোতে অংশগ্রহণ বাংলাদেশের হাইটেক প্রযুক্তি বিশ্বজনীন গ্রহণযোগ্যতা হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।জাপানে  ফুরুকাওয়া ইলেকট্রিকের বেশ নামডাক রয়েছে। ৫০ হাজার কর্মচারী সরাসরি এ প্রতিষ্ঠানে কাজ করছে। ১৮৮৪ সালে প্রতিষ্ঠিত এ কোম্পানির বার্ষিক আয় ৮৭০ কোটি মার্কিন ডলার। জাপানের স্বনামধন্য এ প্রতিষ্ঠান অ্যাপলম্বটেকবিডির সাথে যৌথ উদ্যোগে  কাজ করাকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে বাংলাদেশের এগিয়ে যাওয়ার অন্যতম দৃষ্টান্ত হিসেবে দেখা হচ্ছে ।

অ্যাপলম্বটেকবিডির সিইও সাইফ সাইফুল্লাহ জানান, ‘অ্যাপলম্বটেকবিডি ইন্টারনেট ব্যবহার করে বাড়ি বা অফিসের লাইট, ফ্যান, এসি অন/অফ করা, স্পিড বাড়ানো কমানোর কাজ করে আসছে। আমাদের তৈরি এলইডি লাইট, ২৫৬ রংয়ের রেইনবো লাইট, স্মার্ট ট্যাংক, স্মার্ট সুইচসহ প্রভৃতি পণ্য বাংলাদেশেই তৈরি হচ্ছে। পণ্যগুলোর প্যাকেটের গায়ে মেইড ইন বাংলাদেশ লেখা থাকে। জাপানের নামকরা কোম্পানি আমাদের সাথে কাজ করা মানে বাংলাদেশের সাথেই কাজ করা। যা তথ্যপ্রযুক্তিখাতে বাংলাদেশের অগ্রযাত্রাকে স্বীকৃতি দিচ্ছে।’

২০১২ সাল থেকে বাংলাদেশে ইন্টারনেট ব্যবহার করে বিভিন্ন ইলেকট্রিক পণ্য তৈরিতে গবেষণা করছে। ইতোমধ্যে ইন্টারনেট ব্যবহার করে মোবাইলের সাহায্যে লাইট, ফ্যান, পর্দা অন/অফ, পানির অপচয় রোধে বাসার ছাদের জন্য স্মার্ট ট্যাংক, একটি লাইট থেকে ২৫৬ রংয়ের আলো পাওয়ার ব্যবস্থা, কোন ইলেকট্রিক পণ্যে কি পরিমাণ বিদ্যুৎ খরচ হচ্ছে এবং একসাথে ছয়টি লাইট,ফ্যান নিয়ন্ত্রণ করার জন্য স্মার্ট সুইট তৈরি করেছে।

জাপান ক্যাবল টেকনোলজি ইঞ্জিনিয়ারিং অ্যাসোসিয়েশন, জাপান ক্যাবল টেলিকমিউনিকেশন অ্যাসোসিয়েশন এবং জাপান স্যাটেলাইট ব্রডকাস্টার অ্যাসোসিয়েশনের উদ্যোগে এই মেলা অনুষ্ঠিত হয়।

Related posts