November 17, 2018

জাতীয় সম্পদের উপর বিদেশীদের খবরদারী বাড়ছে – জেএসডি

আয়েশ আক্তার রুবিঃ জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দল জেএসডি কেন্দ্রীয় কার্যকরী কমিটির সভার প্রস্তাবে বলা হয়েছে, জাতীয় ঐক্য না থাকার কারনে সন্ত্রাস –জঙ্গীবাদের বিস্তার ঘটছে, তেল-গ্যাস-বন্দর সহ আমাদের জাতীয় সম্পদের উপর বিদেশীদের খবরদারী বাড়ছে। সরকার জঙ্গীবাদের উৎস নির্মূল করবেনা কারন তারা এটাকে ক্ষমতায় থাকার ইস্যু হিসেবে ব্যবহার করতে চায়।

দুই জোটের ক্ষমতার কাড়াকাড়িই জাতীয় ঐক্যের পথে প্রধান বাধা। ক্ষমতার এ অনৈতিক লড়াইয়ের কারনে দুই জোটই পরাশক্তিসহ আ লিক শক্তি সমুহকে খুশী করার জন্য জাতীয় সম্পদের উপর তাদের কর্তৃত্ব প্রতিষ্ঠার সুযোগ বৃদ্ধি করার প্রতিযোগিতায় নেমেছে। এ ক্ষেত্রে জাতীয় স্বার্থ রক্ষা করে কার্যকর উন্নয়ন ও কর্মসংস্থান নিশ্চিত করার জন্য উপ আ লিক সহযোগিতা জোট গড়ে তোলার উদ্যোগ জোরদার করতে হবে

সভার প্রস্তাবে বলা হয়,সরকার গণতন্ত্র, মানবাধিকার, আইনের শাসন ও সুশাসনের পথ একের পর এক রুদ্ধ করে চলছে। ফারাক্কা বাঁধের মাধ্যমে ভারত শুষ্ক মৌসুমে দেশকে শুকিয়ে মারছে আর বর্ষাকালে দেশকে ডুবিয়ে দিচ্ছে। এর বিরুদ্ধে সরকার কোন প্রতিবাদ করছেনা। তিস্তাসহ ভারত থেকে প্রবাহিত নদীসমুহের পানির ন্যায্য হিস্যা আদায়ের প্রশ্নেও সরকার তেমন উদোগী নয়।

প্রস্তাবে বলা হয়, সরকার উন্নয়নের নামে লুটপাট ও পরিবেশ বিনষ্ট করছে। রামপালে কয়লা ভিত্তিক বিদ্যুৎ কেন্দ্র নির্মানের উদ্যোগ উন্নয়নের নামে সুন্দরবন ধ্বংসসহ পরিবেশ বিনষ্টের সবচেয়ে বড় উদাহরন। জেএসডি এ প্রকল্প রামপাল থেকে সরিয়ে কমপক্ষে ৫০ কিলোমিটার দুরে কোথায়ও স্থাপন করার প্রস্তাব করছে এবং একই সাথে রামপাল নিয়ে গড়ে উঠা আন্দোলনের প্রতি সমর্থন জ্ঞাপন করছে। এ ইস্যুতে জেএসডি নিজেও অবিলম্বে কর্মসুচী ঘোষনা করবে।

জেলা পরিষদ নির্বাচন সম্পর্কে প্রস্তাবে বলা হয়, সরকারকে প্রথমে সিদ্ধান্ত নিতে হবে তারা দেশের উন্নয়ন কার্যক্রম উপজেলা কেন্দ্রিক না জেলা কেন্দ্রিক করতে চান? বাংলাদেশের আর্থ সামাজিক বাস্তবতায় উপজেলাই হতে হবে উন্নয়নের কেন্দ্রবিন্দু। এ ক্ষেত্রে জেলা পরিষদ শুধু সমন্বয়ের দায়িত্ব পালন করতে পারে।জেলা পরিষদ সমন্বয়কারী সংস্থা হলে তা মেম্বার-চেয়ারম্যান, মেয়র-কাউন্সিলরদের ভোটে নির্বাচিত হতে পারে। কিন্তু জেলা পরিষদকে উন্নয়নের কেন্দ্রবিন্দু করতে চাইলে এ ধরনের নির্বাচন হবে আইয়ুবী আমলের মৌলিক গণতন্ত্রের সামিল , যা এ দেশের জনগন কোন দিনই মেনে নেবেনা।

এ ক্ষেত্রে জাতীয় স্বার্থ রক্ষা করে কার্যকর উন্নয়ন ও কর্মসংস্থান নিশ্চিত করার জন্য উপ আ লিক অর্থনৈতিক জোট গড়ে উদ্যোগ জোরদার করতে হবে। দুই জোটের স্বার্থবাদী রাজনীতির কবল থেকে দেশকে রক্ষার জন্য তৃতীয় রাজনৈতিক শক্তি গড়ে তোলার জন্য সকল গনতান্ত্রিক-প্রগতিশীল দল ও সমাজশক্তি সমুহকে এগিয়ে আসতে হবে।

সভায় সরকারের জেলা পরিষদ নীতি ও রামপালে কয়লাভিত্তিক বিদ্যুৎকেন্দ্র নির্মানের প্রতিবাদে নিন্মরূপ কর্মসুচী গৃহীত হয়

১। ২৪ সেপ্টেম্বর, শনিবার জেলা পরিষদ নীতি এবং তেল-গ্যাসের মুল্যবৃদ্ধির প্রতিবাদে সারা দেশে সমাবেশ, মানব বন্ধন ও বিক্ষোভ মিছিল;

২। ১২ নভেম্বর , শনিবার রামপালে কয়লা ভিত্তিক বিদ্যুৎ কেন্দ্র নির্মান প্রয়াসের উপর সাংবাদিক সম্মেলন;

৩। ১৯ নভেম্বর বাগেরহাটে জনসভা করে রামপাল অভিমুখে যাত্রা।

আজ সকাল ১০টায় দলের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত জেএসডি কেন্দ্রীয় কার্যকরী কমিটির সভায় এ সকল প্রস্তাব ও কর্মসূচী গৃহীত হয়। জেএসডি সভাপতি আ স ম আবদুর রব এর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সভায় বক্তব্য রাখেন জেএসডি সাধারন সম্পাদক আবদুল মালেক রতন, এম এ গোফরান, আতাউল করিম ফারুক, মো: সিরাজ মিয়া, মিসেস তানিয়া ফেরদৌসী, শহীদ উদ্দিন মাহমুদ স্বপন, এ্যাড. আবদুর রহমান মাষ্টার, আবদুল জলিল চেয়ারম্যান, খোশলেহাজ উদ্দিন খোকা, আশীষ কুমার সরকার, সৈয়দ মোহাম্মদ আলী, নুরুল ইসলাম খোকন, শফিউল আলম, এ কে এম মুজিবুর রহমান প্রমুখ।

Related posts