November 22, 2018

জাতীয় প্রতিবন্ধী উন্নয়ন ফাউন্ডেশনের পরিচালকের বিরুদ্ধে দুর্নীতির অভিযোগ

মামুন-উর-রশীদ: জাতীয় প্রতিবন্ধী উন্নয়ন ফাউন্ডেশনের সাম্প্রতিক কর্মকান্ড নিয়ে ব্যাপক প্রশ্নের ঝড়। ব্যবস্থাপনা পরিচালকের বিরুদ্ধে নানা অভিযোগ। এক কর্মকর্তার অফিস কক্ষ থেকে জাতির পিতা ও প্রধানমন্ত্রীর ছবি নামিয়ে অদ্যাবধি পুন:স্থাপন করা হয়নি।

bpf-baner

বর্তমান সরকার প্রতিবন্ধীদের উন্নয়নে নানা কার্যক্রম গ্রহন করে জাতীয় ও আন্তর্জাতিক অঙ্গনে প্রশংসা অর্জন করেছে। ৬৪টি জেলায় প্রতিবন্ধী জনগোষ্ঠীর জন্য সেবা ও সাহায্য কেন্দ্র স্থাপন করে বিশেষ দৃষ্টান্ত রেখেছে প্রতিষ্ঠানটি। প্রতিবন্ধী ব্যক্তির অধিকার ও সুরক্ষা আইন ২০১৩ ও নিউরো ডেভেলপমেন্টাল প্রতিবন্ধী সুরক্ষা ট্রাস্ট আইন ২০১৩ শীর্ষক দু’টি আইন প্রনয়ন করেছে সরকার। যে মুহূর্তে সরকার প্রতিবন্ধীদের উন্নয়নে নানা পদক্ষেপ গ্রহণ করে এগিয়ে যাচ্ছে ঠিক সেই মুহূর্তে সংস্থার বর্তমান ব্যবস্থাপনা পরিচালক বেগম কামরুন নাহার খানমের বিরুদ্ধে উঠছে নানা স্বেচ্ছাচারিতার অভিযোগ।

সরেজমিন প্রতিবেদন তৈরীর জন্য সংস্থার মিরপুরের প্রধান কার্যালয়ে গিয়ে জানা যায়, ব্যবস্থাপনা পরিচালক যোগদানের পর থেকেই চলছে নানা দুর্নীতি ও স্বেচ্ছাচারিতার ঘটনা। এর মধ্যে পরিচালক (প্রশাসন ও অর্থ) এর কক্ষ থেকে জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ছবি দুটি তার নির্দেশে নামিয়ে ফেলা হয়। গত ৬ডিসেম্বর ২০১৬ তিনি ঐ নির্দেশ দান করেন।
প্রতিবন্ধী সেবা ও সাহায্য কেন্দ্র চালুর পর থেকে অটোমেশন রিপোর্ট পাঠানোর নিয়ম থাকলেও তিনি এক স্মারকনামা জারি করে সহকারী পরিচালক (অর্থ ও অডিট) কে দায়িত্ব দিয়ে তার ব্যক্তিগত ই মেইলে সেইসব রিপোর্ট প্রেরনের নির্দেশনা দেন। প্রকৃত ঘটনা গোপন করতেই এজাতীয় উদ্যোগ বলে অভিযোগ শোনা গেল।

অর্টিজম আক্রান্ত সন্তানদের পিতা-মাতা, অভিভাবক, সেবাদানকারী ও জনসচেতনতায় উদ্বুদ্ধকরনে সংস্থা বছরব্যাপী প্রশিক্ষণ দানের কর্মসূচী পালন করেছে। বিশাল জনগোষ্ঠী এইসব প্রশিক্ষণে উপকৃত হয়েছে। পর্যাপ্ত বরাদ্দ থাকা সত্তে¡ও বর্তমান ব্যবস্থাপনা পরিচালক এই প্রশিক্ষণ বাতিল করেছেন।
প্রতিবছর জাতীয় ও আর্ন্তজাতিক প্রতিবন্ধী দিবস পালন উপলক্ষে ৩-১০ ডিসেম্বর জাতীয় প্রতিবন্ধী উন্নয়ন ফাউন্ডেশন কার্যালয় প্রাঙ্গনে ৮ দিনব্যাপী আলোচনা অনুষ্ঠান ও উত্তরন মেলার আয়োজন করা হতো। গত বছর মেলার আয়োজন করা হলেও আলোচনা পর্বটি অজ্ঞাত কারনে রাখা হয়নি। ২০১৪-১৫ তেও এসব আলোচনায় সরকারের নানা মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বপ্রাপ্ত মন্ত্রী, প্রতিমন্ত্রী, ডেপুটি স্পিকার, সাংসদ ও উচ্চ পর্যায়ের কর্মকর্তা, গণমাধ্যম ব্যক্তিত্ব ছাড়াও অভিভাবকবৃন্দ উপস্থিত থেকেছেন। জানা গেল, ইচ্ছাকৃতভাবে ব্যবস্থাপনা পরিচালক আলোচনা পর্বটি কর্মসূচিতে রাখেননি। এ ছাড়াও ফাউন্ডেশন থেকে একটি প্রকাশনা নিয়মিত প্রকাশ করা হতো। সেটি (নভেম্বর-ডিসেম্বর’১৬) সম্পূর্ন ছাপার জন্য প্রস্তুত করা হলেও ব্যবস্থাপনা পরিচালকের নির্দেশে ছাপা হয়নি। এ সম্পর্কে নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একজন কর্মকর্তা বলেন গত জাতীয় ও আন্তর্জাতিক প্রতিবন্ধী দিবস উপলক্ষে ৩ ডিসেম্বর ২০১৬ “আমরা করবো জয়” পত্রিকা ছাপানোর জন্য খসড়া পত্রিকা ব্যবস্থাপনা পরিচালক মহোদয়কে দেখান হয়। প্রথম পৃষ্ঠায় সায়মা ওয়াজেদ হোসেনের ইউনেস্কো পুরস্কার গ্রহণের ছবি দেখে তিনি নেতিবাচক মন্তব্য করেন এবং ছাপানোর নোটটিতে ‘আপাতত রাখুন’ উল্লেখ করেন।
কোনো অনুমতি ছাড়া কিছু সংখ্যক কর্মচারী নিয়োগের অভিযোগও উঠেছে তার বিরুদ্ধে। বিধি বিধানের তোয়াক্কা না করে তিনি ৩৫টি নতুন প্রতিবন্ধী ও সাহায্য কেন্দ্র খোলার নির্দেশনা থাকা সত্তে¡ও প্রায় ৪ মাস যাবত নথিটি নিজের কাছে ধরে রেখেছেন। শোনা যায়, বেগম কামরুন নাহার খানম জামায়াত ঘরানার কারনে ফরিদপুর জেলার ভাঙ্গা থানা জামায়াতের প্রাক্তন আমীরের পুত্র আব্দুল্লাহ আল জাহির (যিনি আলী আহসান মুজাহিদেও সুপারিশে চাকুরীতে যোগদান করেন) কে দিয়ে সকল প্রকার কেনাকাটা, টেন্ডার ও নিয়োগ বাণিজ্য করিয়ে থাকেন। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একাধিক কর্মকর্তা ও কর্মচারী এই প্রতিবেদককে বলেছেন, বর্তমান ব্যবস্থাপনা পরিচালক আমাদেরকে কারনে অকারনে অসভ্য ভাষায় গালাগাল করেন যেমন- তেমনি প্রতিবন্ধীদের তিনি কানা, খোড়া, বয়রা, লুলা বলে মন্তব্য করেন।
এই সংস্থার একজন কর্মচারীর নাম সেলিম হোসেন। যিনি বহু অভিযোগে অভিযুক্ত। প্রমান থাকা সত্তে¡ও তার বিরুদ্ধে কোন ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়নি যেমন- তেমনি প্রয়োজনে মাতৃত্বকালীন ছুটির আবেদন করেও একাধিক কর্মকর্তা ছুটি পায়নি- এই ফাউন্ডেশনে। বদলী হয়েছেন বহুজনে এমন নজিরও রয়েছে।
এসব অভিযোগ নিয়ে একাধিকবার ব্যবস্থাপনা পরিচালকের কার্যালয়ে যোগাযোগ করলে বলা হয়-এমডি মহোদয় মন্ত্রণালয়ের মিটিং এ রয়েছেন।

Related posts