September 25, 2018

জাতিসংঘ মহাসচিব পদে কারা লড়ছেন?

হাকিকুল ইসলাম খোকন,বিশেষ সংবাদদাতাঃ  আগামী বছরের মধ্যেই নির্বাচিত করা হবে জাতিসংঘের নয়া মহাসচিব। চলতি বছরের ৩১ ডিসেম্বর শেষ হবে জাতিসংঘের ৮ম ও বর্তমান মহাসচিব বান কি মুনের দ্বিতীয় মেয়াদ। তার আগেই সিদ্ধান্ত নিতে হবে- কে হবেন তার উত্তরসূরি। ঘুরে-ফিরেই তাই প্রশ্ন উঠেছে, কে হচ্ছেন জাতিসংঘের ৯ম মহাসচিব? আগামী বছর পূর্ণমেয়াদে জাতিসংঘের মহাসচিব পদে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন একজন সাবেক প্রেসিডেন্ট, তিনজন সাবেক প্রধানমন্ত্রী, কয়েকজন সাবেক পররাষ্ট্রমন্ত্রী এবং অবসর সময়ে কবিতা লেখেন এমন একজন খণ্ডকালীন কবি। ধারণা করা হচ্ছে, আগামী বছরের নির্বাচনে পূর্ব ইউরোপের কোনো দেশ থেকে মহাসচিব নির্বাচিত করা হতে পারে। সেক্ষেত্রে কোনো নারীকেও এগিয়ে রাখা হবে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা। নিম্নে মহাসচিব পদের জন্য যারা লড়াই করছেন তাদের মধ্যে আটজনের বিস্তারিত দেয়া হল।

ইরিনা বোকোভাঃ ২০০৯ সাল থেকে জাতিসংঘের সাংস্কৃতিক সংস্থা ইউনেস্কোর প্রধান হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন ইরিনা বোকোভা। ১৯৯৬ থেকে ১৯৯৭ সাল পর্যন্ত তিনি ছিলেন বুলগেরিয়ার পররাষ্ট্রমন্ত্রী এবং ফ্রান্স ও মোনাকোতে রাষ্ট্রদূত হিসেবেও নিযুক্ত ছিলেন তিনি। পূর্ব ইউরোপের প্রার্থীদের মধ্যে তাকে বেশ শক্তিশালী বলে ধারণা করা হচ্ছে। ৬৩ বছর বয়সী এই নেত্রী অনেকাংশেই রুশপন্থী বলেও বলা হচ্ছে। তার বাবা ছিলেন সোভিয়েত আমলে বুলগেরিয়ার কমিউনিস্ট পার্টির পত্রিকার সম্পাদক। বোকোভা একাধারে ইংরেজি, ফরাসি, রুশ এবং স্প্যানিশ ভাষায় কথা বলতে পারদর্শী।

হেলেন ক্লার্কঃ  নিউজিল্যান্ডের সাবেক এই প্রধানমন্ত্রী ২০০৯ সাল থেকে জাতিসংঘের উন্নয়ন প্রকল্পের দায়িত্বে ছিলেন। তিনি জাতিসংঘের উচ্চপদস্থ একজন নারী কর্মকর্তা। ৬৬ বছর বয়সী হেলেন ক্লার্ক নিউজিল্যান্ডের প্রধানমন্ত্রীদের মধ্যে সবচেয়ে বেশি (১৯৯৯ থেকে ২০০৮ সাল পর্যন্ত) সময় ক্ষমতায় ছিলেন। যদিও মহাসচিব হিসেবে ক্লার্কের সুযোগ অতটা পরিষ্কার নয়। কারণ অনেক কূটনীতিকদের কাছে তিনি পশ্চিমাপন্থী হিসেবে পরিচিত।

নাটালিয়া ঘেরম্যানঃ  মলডোভার সাবেক পররাষ্ট্রমন্ত্রী নাটালিয়া ঘেরম্যান ইউরোপীয় ইউনিয়নের সঙ্গে বাণিজ্য চুক্তি করার জন্য বেশ পরিচিত। ২০১৩ সাল থেকে চলতি বছরের জানুয়ারি মাস পর্যন্ত ঘেরম্যান মন্ত্রীর দায়িত্বে ছিলেন। ৪৭ বছর বয়সী নাটালিয়া মলডোভার হয়ে অস্ট্রিয়া, নরওয়ে, ফিনল্যান্ড এবং সুইডেনে রাষ্ট্রদূত হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। এছাড়াও স্বাধীন মলডোভার প্রথম সাবেক প্রেসিডেন্ট মিরসিয়া স্নেঘুরের মেয়ে ঘেরম্যান একাধারে ইংরেজি, রুশ এবং জার্মান ভাষায় কথা বলতে পারেন।

অ্যান্টনিও গুতেরেসঃ  জাতিসংঘের শরণার্থীবিষয়ক সংস্থা ইউএনএইচসিআরের সাবেক কর্মকর্তা ইউরোপের শরণার্থী সমস্যা মোকাবেলায় গুরত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন। ২০১৫ সালের ডিসেম্বর মাস পর্যন্ত তিনি দশ বছরের জন্য জাতিসংঘের ইউএনএইচসিআর প্রকল্পে দায়িত্বরত ছিলেন। ৬৬ বছর বয়সী এই সমাজতন্ত্রী ১৯৯৫ থেকে ২০০২ সাল পর্যন্ত পর্তুগালের প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। তিনি ব্যক্তিজীবনে একজন প্রকৌশলী। গুতেরেস ইংরেজি, ফরাসি এবং স্প্যানিশ ভাষায় দক্ষ।

সার্গজান কেরিমঃ  মেসেডোনিয়ার এই সাবেক পররাষ্ট্রমন্ত্রীকে জাতিসংঘের পক্ষে বলকান অঞ্চলের রাষ্ট্রদূত বলা হতো। ২০০৭ থেকে ২০০৮ সাল পর্যন্ত তিনি জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের প্রেসিডেন্ট হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছিলেন। এখন পর্যন্ত জাতিসংঘের মহাসচিব পদের জন্য যারা এগিয়ে আছেন তাদের মধ্যে অন্যতম তিনি। ৬৭ বছর বয়সী এই রাজনীতিবিদ ইংরেজি, ফরাসি, জার্মানি, স্প্যানিশ এবং ইতালিয়ান ভাষাসহ মোট নয়টি ভাষায় অনর্গল কথা বলতে পারেন।

ইগর লুকসিকঃ  জাতিসংঘের মহাসচিব পদে লড়াই করা প্রার্থীদের মধ্যে সর্বকনিষ্ঠ ইগর লুকসিক। মাত্র ৩৯ বছর বয়সেই তিনি জাতিসংঘের মহাসচিব পদের জন্য লড়াই করছেন। সর্বশেষ ২০১২ সালে ইগর লুকসিক ছিলেন মন্টিনিগ্রোর পররাষ্ট্রমন্ত্রী। এর আগে তিনি দেশটির অর্থমন্ত্রী ও প্রধানমন্ত্রী হিসেবেও দায়িত্ব পালন করেছিলেন। এ পর্যন্ত তার তিনটি কবিতার বই প্রকাশিত হয়েছে, যার মধ্যে ‘দ্য বুক অব ফিয়ার’ নামের একটি বই রয়েছে। এই বইটি ইতালি এবং ফরাসি ভাষায় অনূদিত হয়েছে। লুকসিক ইংরেজি, ফরাসি, ইতালিয়ান এবং জার্মান ভাষায় দক্ষ।

ভেসনা পুসিকঃ  ক্রোয়েশিয়ার পররাষ্ট্রমন্ত্রী হিসেবে তিনি পাঁচ বছর দায়িত্ব পালন করেন। চলতি বছরের জানুয়ারি মাসে তার মেয়াদ শেষ করেন। ২০১৩ সালে ক্রোয়েশিয়াকে ইউরোপীয় ইউনিয়নভুক্ত দেশ করার ক্ষেত্রে তিনি অগ্রণী ভূমিকা পালন করেছিলেন। একজন সমাজতত্ত্ববিদ হিসেবে পুসিক লৈঙ্গিকবৈষম্য এবং সমকামীদের পক্ষে কথা বলেন। পুসিক ইংরেজি ও জার্মান ভাষায় অনর্গল কথা বলতে পারেন।

ড্যানিলো তুর্কঃ  স্লোভেনিয়ার সাবেক এই প্রসিডেন্ট ১৯৯২ সালে দেশটির প্রথম জাতিসংঘের রাষ্ট্রদূত হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন। ২০০৫ সাল পর্যন্ত তিনি জাতিসংঘের সহকারী মহাসচিব হিসেবেও দায়িত্ব পালন করেছিলেন। ২০০৭ সালে স্লোভেনিয়ার প্রেসিডেন্ট হিসেবে শপথ গ্রহণ করেন এবং ২০১২ সাল পর্যন্ত তিনি ওই পদে বহাল ছিলেন। পরবর্তী সময়ে তিনি আবারও আইন বিষয়ে অধ্যাপনা পেশায় ফিরে যান। ড্যানিলো তুর্ক ফরাসি, ইংরেজি, জার্মান ও সার্ব-ক্রোয়েশিয়ান ভাষায় অধিক দক্ষ।

দ্যা গ্লোবাল নিউজ ২৪ ডটকম/১২ এপ্রিল ২০১৬/রিপন ডেরি

Related posts