December 14, 2018

জাতিসংঘ আগেই জানত সিরিয়ার অভুক্তদের খবর !

যুদ্ধবিদ্ধস্ত সিরিয়ার দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলীয় শহর মাদায়ায় ৪০ হাজারেরও বেশি মানুষের অভুক্ত থাকার ঘটনায় সম্প্রতি ব্যাপক আলোড়ন সৃষ্টি হয়েছে বিভিন্ন গণমাধ্যমে। ঘটনাটি প্রকাশের পরপরই সেখানে ত্রাণ সহায়তা পাঠানোর পদক্ষেপ নিয়েছে জাতিসংঘ।

গণমাধ্যমগুলোর প্রতিবেদনে বলা হয়, ঘাস খেয়ে জীবন ধারণ করছে মাদায়া শহরের মানুষ। গত বছরের ডিসেম্বরে না খেয়ে মারা গেছে কমপক্ষে ২৩ জন, যাদের মধ্যে ৬ জন শিশুও রয়েছে। অপর এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, সিরিয়ার বাশার বাহিনীর দখলে থাকা মোট ১৫টি এলাকায় প্রায় ৪ লাখ লোক অনাহারে আছে। এ ধরনের কাজকে যুদ্ধাপরাধ হিসেবে আখ্যায়িতও করেছে জাতিসংঘ।

তবে যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক গণমাধ্যম ‘ফরেন পলিসি’র এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, জাতিসংঘের কর্মকর্তারা আগে থেকেই মাদায়া শহরের মানবিক সংকটের কথা জানতেন। অথচ অভুক্তদের ছবি গণমাধ্যমে আসার আগ পর্যন্ত তারা ছিলেন নিশ্চুপ।

গত বছরের অক্টোবরেই স্থানীয় সম্প্রদায়ের নেতারা ১ বছরের কম বয়সী শিশুদের পুষ্টিহীনতার কথা জাতিসংঘের মানবিক সহায়তা সংস্থাকে (ওসিএইচএ) জানিয়েছিলেন। তখন বিষয়টিকে ‘আভ্যন্তরীন সমস্যা’ বলে আখ্যায়িত করেছিল ওসিএইচএ। আন্তর্জাতিক সম্প্রদায় এবং সিরিয়ার ত্রাণ বিভাগের বিরক্তির কারণ হতে পারে বিবেচনা করে এ তথ্য প্রকাশ করা থেকে বিরত থাকে সংস্থাটি।

চলতি বছরের ৭ জানুয়ারি মাদায়ার মানুষের অভুক্ত থাকার খবর বিভিন্ন গণমাধ্যমে প্রকাশিত হলে তা নিয়ে ব্যাপক হইচই পড়ে যায়। ইউনিসেফ জানায়, তাদের ও বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার কর্মীরা পরীক্ষা করে দেখেছে, মাদায়ায় পাঁচ বছরের কম বয়সী প্রতি ২৫ শিশুর ২২জনই মাঝারি থেকে মারাত্মক অপুষ্টিতে ভুগছে। আলাদাভাবে ৬ থেকে ১৮ বছর বয়সী আরও ১০ শিশুকে পরীক্ষা করে দেখা গেছে, তাদের ৬ জনই চরম অপুষ্টির শিকার।

জাতিসংঘের মহাসচিব বান কি-মুন বলেন, সিরিয়ার বিবদমান দলগুলো বিশেষ করে সরকার সেখানে ‘নৃশংস কাজ’ করছে। গৃহযুদ্ধে অনাহারকে অস্ত্র হিসেবে ব্যবহারের নিন্দাও জানান তিনি।

দি গ্লোবাল নিউজ ২৪ ডট কম/মেহেদি/ডেরি

Related posts