December 15, 2018

‘জাতির কাছে ক্ষমা না চাওয়া পর্যন্ত বিএনপির সঙ্গে সংলাপ নয়’

1

ঢাকাঃ হাউস অব কমন্সে ‘বাংলাদেশের অর্থনৈতিক উন্নয়নে রাজনৈতিক দলগুলোর ভূমিকা’ শীর্ষক আলোচনায় বিএনপি চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরীর সংলাপ প্রস্তাবের জবাবে প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক উপদেষ্টা এইচ টি ইমাম দেওয়া এক সাক্ষাতকারে বলেছেন, সংলাপে বসতে হলে বিএনপিকে শুধু জামায়াত ছাড়লেই হবে না, ২০১৩ থেকে ২০১৫ পর্যন্ত তাদের কৃতকর্মের জন্য যদি জাতির কাছে ক্ষমা চায়, গণতন্ত্রের পথে চলবে বলে অঙ্গীকার করে, নির্বাচন পরবর্তী সহিংসতা সৃষ্টি করে পেট্রোল বোমায় নিহতদের পরিবারের কাছে ক্ষমা চায় তাহলে বিএনপির সঙ্গে কথা বলবো।

আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরীর কাছে সংলাপ ও জাতীয় ঐক্যের কোনও রূপরেখা আছে কিনা জানতে চাওয়া হলে আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী বলেন, রাজনৈতিক দলগুলো আলোচনায় বসে রূপরেখা তৈরি করতে পারে। তবে গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠায় নির্বাচনের কোনও বিকল্প নেই বলে দাবি করেন তিনি। অন্যদিকে এইচ টি ইমাম বলেন, নির্বাচন হবে সংবিধান মেনে। সংবিধানের কোথাও কেয়ারটেকার ব্যবস্থার কোনও সুযোগ নেই।

হাউস অব কমন্সের অল পার্টি পার্লামেন্টারি গ্রুপের বাংলাদেশ বিষয়ক চেয়ার অ্যান মেইন এমপি সম্প্রতি গুলশানে জঙ্গি হামলার পর গার্মেন্টস সেক্টরে ব্রিটিশ প্রতিষ্ঠানের পক্ষ থেকে বাংলাদেশে বিনিয়োগের ক্ষেত্রে যে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন, তাদের সন্তুষ্ট করতে বাংলাদেশের কাছে কী উত্তর রয়েছে জানতে চাইলে এইচ টি ইমাম বলেন, সরকার বিনিয়োগের পরিবেশ সৃষ্টি করে গার্মেন্টস শিল্পে কর্মরত শ্রমিকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করেছে। বেতন কাঠামো পুনঃনির্ধারণ করে কর্মঘন্টা নির্দিষ্ট করে দিয়েছে। তাই বিনিয়োগকারীদের হতাশ হবার কোনও কারণ নেই বলে জানান তিনি।

গুলশানে সন্ত্রাসী হামলার সঙ্গে আন্তর্জাতিক জঙ্গি সংগঠন আইএস এর সম্পৃক্ততা অস্বীকার না করে, বরং এই অপশনটিকেও সরকারের বিবেচনায় আনা প্রয়োজন বলে মনে করেন বিএনপির চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী। জবাবে এইচটি ইমাম বলেন, বাংলাদেশে আইএস -এর অস্তিত্ব রয়েছে এবং তারা এগুলো ঘটাচ্ছে এমন তথ্য বিএনপির কাছে থাকলে সেটি তারা প্রদর্শন করলে বিএনপিকে সঙ্গে নিয়ে সরকারের কাজ করতে কোনও বাধা নেই। তবে গুলশানের হামলা বিচ্ছিন্ন কোনও ঘটনা নয়, দাবি করে বিশ্বব্যাপী সন্ত্রাসী হামলার অংশ হিসেবেই বাংলাদেশে হামলা চালানো হয়েছে বলে এইচ টি ইমাম সকলকে সঙ্গে নিয়ে জঙ্গিবাদের বিরুদ্ধে কাজ করার আশাবাদ ব্যক্ত করেন।

হিউম্যান রাইটস ওয়াচের ব্রয়াড অ্যাডামস বলেন, বিএনপি তার শাসনামলে তাদের নিজেদের প্রয়োজনে র‌্যাব সৃষ্টি করেছে। এই র‌্যাব এখন বিচার বর্হিভূত হত্যাকাণ্ড চালাচ্ছে। বাংলাদেশে যখন যে রাজনৈতিক দল ক্ষমতায় থাকে, তারাই আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে নিজেদের প্রয়োজনে ব্যবহার করে। র‌্যাব ও পুলিশ বাহিনীর সদস্যদের বিচার বহির্ভূত হত্যাকাণ্ড এই বাহিনীর সুনাম ক্ষুণ্ন করছে। জবাবে তারানা হালিম এমপি বলেন, নারায়ণগঞ্জ হত্যাকাণ্ডে জড়িত র‌্যাব সদস্যদের গ্রেফতার করেছে সরকার। আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর বিরুদ্ধে কোনও সুনির্দিষ্ট অভিযোগ থাকলে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলেও জানিয়েছেন মন্ত্রী।

ব্লগার হত্যাকাণ্ডের পর দেওয়া সরকারের বক্তব্য জঙ্গিদের পক্ষে গেছে এমন দাবি করে বিএনপি চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী বলেন, ব্লগার হত্যাকারীদের সরকার বিচারের আওতায় নিয়ে আসতে পারেনি বলে গুলশান ও শোলাকিয়ায় এ ধরনের সন্ত্রাসী ঘটনা ঘটেছে। জবাবে তারানা হালিম এমপি বলেন, ব্লগার হত্যার প্রত্যেকটি মামলা বিচারাধীন রয়েছে। ব্লগার রাজিব হত্যা মামলায় সাত জনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। অভিজিৎ হত্যা মামলায় আট জন, অনন্ত বিজয় হত্যাকাণ্ডের সাথে জড়িত চার জনকে গ্রেফতার করেছে সরকার। তাই ব্লগার হত্যাকারীদের শাস্তির ব্যাপারে সরকার আন্তরিক নয় এমন তথ্য সঠিক নয়।

জামায়াতের রাজনীতি নিষিদ্ধ করা ও বিএনপির জামায়াত ত্যাগের প্রসঙ্গে জামায়াতকে জঙ্গি সংগঠন অভিহিত করে তারানা হালিম বলেন, ইউরোপীয় ইউনিয়নও বিএনপিকে জামায়াত ছাড়তে বললে বিএনপি সেই অনুরোধ মানছে না। তারানা হালিম বক্তব্য দেওয়ার পরই ফ্লোর নিয়ে কথা বলার চেষ্টা করেন জামায়াত ইসলামীর ইউরোপের মুখপাত্র আবু বকর মোল্লা। কিন্তু এক পর্যায়ে আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীরা পার্লামেন্টে হৈ চৈ শুরু করলে জামায়াতের ইউরোপের মুখপাত্র মোল্লাকে বের করে দেন স্পিকার অ্যান মেইন। পরবর্তীতে তড়িঘড়ি করে কোনও প্রকার ইতি না টেনেই বিতর্ক শেষ করে দেন লর্ড কার্লাইল। অসুস্থতার জন্য বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বিতর্কে অংশ নিতে পারেননি।

আওয়ামী লীগের প্রতিনিধি দলের অপর সদস্য হিসেবে বিতর্কে অংশ নিয়েছেন প্রধানমন্ত্রীর অর্থনৈতিক উপদেষ্টা ড. মশিউর রহমান, আনিসুল ইসলাম মাহমুদ, প্রাণিসম্পদ বিষয়ক প্রতিমন্ত্রী নারায়ণ চন্দ্র, আওয়ামী লীগ নেতা দীপঙ্কর তালুকদার। অন্যদিকে, বিতর্ক ও প্রশ্নোত্তর পর্বে বিএনপির পক্ষ থেকে বক্তব্য রাখেন বিএনপি চেয়ারপারসনের আন্তর্জাতিক বিষয়ক উপদেষ্টা সাবিহ উদ্দীন আহমেদ, আইনজীবী রুমিন ফারহানা ও হুমায়ূন কবির।

পুনশ্চঃ এই প্রতিবেদন হাউস অব কমন্সের চাটহ্যাম হাউজ ‘ল’ অনুসরণ করে লেখা হয়েছে। হাউস অব কমন্সে বাংলাদেশ বিষয়ক বিতর্কের মূল অনুষ্ঠানের কোনও তথ্য প্রকাশ করার নিয়ম না থাকায়, হাউস অব কমন্সের বাইরে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের দেওয়া সাক্ষাতকারের ওপর ভিত্তি করে প্রতিবেদনটি তৈরি করা হয়েছে।

দ্যা গ্লোবাল নিউজ ২৪ ডটকম/রিপন/ডেরি

Related posts