September 25, 2018

জাঁকজমক ভাবে পালন হল ব্রাহ্মণবাড়ীয়া তিতাস প্রবাসী সংগঠন এর ১ম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী

Untitled-1

বাবু সাহা,লেবাননঃনদী-মাতৃক বাংলাদেশের মধ্য- পূর্বাঞ্চলের ঐতিহ্যবাহী তিতাস-বিধৌত জেলা ব্রাহ্মণবাড়িয়া।পূর্ব ভারতের ত্রিপুরা রাজ্যের সীমান্ত সংলগ্ন ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় ১৮৬০ ইং সালে মহকুমা প্রতিষ্ঠিত হয়। শুরুতে ত্রিপুরা জেলার অর্ন্তভূক্ত ছিল। ভারত বিভাগের পর কুমিল্লা জেলার একটি মহকুমা হিসেবে থাকে। ১৯৮৪ সালের ১৫ই ফেব্রুয়ারী জেলা হিসেবে প্রতিষ্ঠা লাভ করে।শিল্প-সংস্কৃতি, শিক্ষা-সাহিত্যে দেশের অন্যতম অগ্রণী জনপদ ব্রাহ্মণবাড়িয়া। সুর সম্রাট ওস্তাদ আলাউদ্দিন খাঁ, কথা সাহিত্যিক অদ্বৈত মল্ল বর্মণ, রাজনীতিবিদ আব্দুল কুদ্দুস মাখন, রামমোহন দত্ত, শহীদ ধীরেন্দ্রনাথ দত্ত সহ বহু জ্ঞানী গুনীর জন্মধন্য জেলা ব্রাহ্মণবাড়িয়া। ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলা জাতীয় অর্থনীতিতেও ব্যাপক অবদান রাখছে। তিতাস গ্যাস ফিল্ড দেশের এক-তৃতীয়াংশ গ্যাস সরবরাহ যোগায়। আশুগঞ্জ তাপ বিদ্যুৎ কেন্দ্র দেশের ২য় বৃহত্তম বিদ্যুৎ উৎপাদন কেন্দ্র।  আশুগঞ্জ সার কারখানা দেশের ইউরিয়া সারের অন্যতম বৃহত্তম শিল্প কারখানা। ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলা শিল্প সংস্কৃতির ধারক ও বাহক এবং দলমত নির্বিশেষে ধর্মীয় ও সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির এক উজ্জ্বল মিলন মেলা হিসেবে এ দেশের মানচিত্রে বিশেষ মর্যাদার আসনে অধিষ্ঠিত।এই সংগঠনের মূল লক্ষ্য হল লেবাননে বসবাসরত অন্যান্য জেলার প্রবাসীদের সাথে ভ্রাতৃত্য বন্ধন সৃষ্টি করে একযোগে কাজ করা।

২৬শে ফেব্রুয়ারি রবিবার বিকালে লেবাননের আইন-আল-রোমানী এলাকার ‘‘মাদ্রাসা ফেরে’’ অডিটোরিয়ামে আয়োজিত ব্রাহ্মণবাড়ীয়া তিতাস প্রবাসী সংগঠন এর ১ম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী ও ভাষা সৈনিক শহীদ ধীরেন্দ্রনাথ স্মরণে আলোচনা সভায় রাষ্ট্রদূত সহ সকল বক্তারা এভাবেই ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলাকে অনুষ্ঠানে আগত দর্শকদের মাঝে তুলে ধরেন।

2

ব্রাহ্মণবাড়ীয়া তিতাস প্রবাসী সংগঠন এর সভাপতি আব্দুর রাজ্জাক বজলুর সভাপতিত্বে ও সোহেল মিয়ার পরিচালনায় আলোচনা সভায় প্রধান অতিথি ছিলেন, লেবাননে বাংলাদেশ দূতাবাসের মান্যবর রাষ্ট্রদূত আব্দুল মোতালেব সরকার ও বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ দূতাবাসের প্রথম সচিব সায়েম আহম্মেদ।

বিশেষ অতিথি হিসেবে আরো উপস্থিত ছিলেন, সংগঠনটির সাধারন সম্পাদক কাউসার আলম জনি, উপদেষ্টা আলী আশরাফ ভূঁইয়া, মফিজুল ইসলাম বাবু, আমির হুসেন, ইকবাল হোসেন ভূঁইয়া, সহ-সভাপতি রুবেল হোসেন ভূঁইয়া, ওয়াসিম ভূঁইয়া, সাংগঠনিক সম্পাদক আব্দুর রহিম মতিন।বিশেষ আমন্ত্রিত অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন, আলী আকবর মোল্লা, মোঃ কলিমউল্লাহ, বাবুল মুন্সী সহ আরো অনেকে।

রাষ্ট্রদূত অমর একুশের ভাষা শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধাঞ্জলী জ্ঞাপন করে বলেন, লেবাননে প্রবাসী বাংলাদেশীদের মাঝে শতকরা ৬০ ভাগই ব্রাহ্মণবাড়ীয়া জেলা থেকে আগত।ব্রাহ্মণবাড়ীয়া জেলার জ্ঞানী গুণীরা স্বীয় স্বীয় কর্মের দ্বারা জেলাকে যেভাবে বিশ্ব দরবারে প্রতিষ্ঠিত করেছেন, সে ভাবেই লেবাননে প্রবাসী বাংলাদেশীদের কল্যানে তিতাস পাড়ের সংগঠনটির অগ্রনী ভূমিকা পালন করতে হবে।দূতাবাস সর্বদা আপনাদের পাশে থাকবে।আমি দূতাবাসে যোগদানের পর থেকেই প্রবাসীদের কল্যানে দূতাবাসের সেবা অনেক গুন বৃদ্ধি পেয়েছে।এখন অতি অল্প সময়ের মধ্যে প্রবাসীদের মৃতদেহ দেশে প্রেরন করতে পারছি।এমআরপি পাসপোর্টও অতি তাড়াতাড়ি প্রবাসীদের হাতে দিচ্ছি।

আলোচনা পর্ব শেষে মঞ্চে উপস্থিত সবাইকে নিয়ে বিশাল আকৃতির কেক কেটে ব্রাহ্মণবাড়ীয়া তিতাস প্রবাসী সংগঠন এর ১ম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উদযাপন করা হয়।

আরো উপস্থিত ছিলেন, সংগঠনের সহ সাধারণ সম্পাদক শাহিনুর আলম, বিপ্লব মিয়া, রিপন সরকার, মোঃ আলমগীর, মজিবর হক মজিব, আবু বকর ছিদ্দিক, রানা ভূঁইয়া, নুরুল ইসলাম, ইমতিয়াজ আহমেদ, সুজাত আহমেদ, ওসমান মিয়া, আবুল কালাম আজাদ  প্রমূখ।

উল্লেখ্য, বিগত বছরের  ২১শে ফেব্রুয়ারি  লেবাননে অবস্থানরত  সকল ব্রাহ্মণবাড়ীয়া বাসীর অংশ গ্রহনের মাধ্যমে সংগঠনটি আত্মপ্রকাশ করে।

Related posts