September 25, 2018

জনস্বার্থে নিজের বাড়ির দেয়াল ভাঙালেন

দেয়াল

সিলেট: সিলেট নগরের কুমারপাড়া এলাকার রাস্তা বড় হবে। কিন্তু শুরুর দিকেই পড়েছে সিটি করপোরেশনের সাময়িক বরখাস্ত হওয়া মেয়র আরিফুল হক চৌধুরীর বাড়ি। ওই বাড়ির দেয়াল ভেঙে অন্তত দেড় ফুট জায়গা রাস্তার জন্য না দেওয়া হলে পুরো প্রকল্প বাস্তবায়ন হবে না।
গতকাল মঙ্গলবার সকালে সিটি করপোরেশনের স্থানীয় কাউন্সিলর বিষয়টি আরিফুল হক চৌধুরীর বাড়িতে গিয়ে তাঁর স্ত্রী সামা হক চৌধুরীকে জানাতেই তিনি নিজে উপস্থিত থেকে দেয়াল ভাঙার ব্যবস্থা করেন। এরপর তাঁকে নিয়েই অনুষ্ঠিত হয় কুমারপাড়া এলাকায় সিটি করপোরেশনের রাস্তা বাড়ানোর প্রকল্পের উদ্বোধন।

সিটি করপোরেশনের প্রকৌশল শাখা জানায়, কুমারপাড়ায় রাস্তা বাড়ানোর প্রকল্পের কাজ শুরু করতে গিয়ে প্রথমে পড়ে আরিফুল হক চৌধুরীর বাড়ি। প্রকল্পের কাজ করতে গিয়ে প্রথমেই তাঁর বাড়ির সীমানাপ্রাচীরের এক থেকে দুই ফুট অংশ ভাঙার প্রয়োজন পড়ে। বিষয়টি স্থানীয় কাউন্সিলরের মাধ্যমে তাঁর স্ত্রীকে জানানো হয়। এরপর সামা হক প্রকল্প এলাকায় উপস্থিত হয়ে নিজ বাড়ির দেয়াল কতটুকু ভাঙতে হবে, তা দেখে ভাঙার নির্দেশ দেন। পরে দেয়াল ভেঙে রাস্তা বাড়ানোর প্রকল্পের উদ্বোধন করা হয়। উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে সিলেট প্রেসক্লাবের সভাপতি ইকরামুল কবির, কুমারপাড়ার প্রবীণ ব্যক্তিত্ব আবদুল কাইয়ুম, আবুল হোসেনসহ সিটি করপোরেশনের প্রকৌশলীরা উপস্থিত ছিলেন।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে ১৮ নম্বর ওয়ার্ডের কাউন্সিলর এ বি এম জিল্লুর রহমান বলেন, ‘বিষয়টি নিয়ে এক ধরনের দ্বিধার মধ্যে ছিল সবাই। কিন্তু সামা হক চৌধুরী অনেকটা আরিফুল হক চৌধুরীর মতো জনস্বার্থে রাস্তা বড় করতে নিজ বাড়ির দেয়াল ভাঙার নির্দেশ দিলে সবাই খুশি হন। পরে তাঁকে নিয়েই উদ্বোধনী অনুষ্ঠান হয়।’
সামা হক চৌধুরী বলেন, ‘রাস্তা প্রশস্ত করার স্বার্থে যতটুকু জায়গা দেওয়া প্রয়োজন, তা দিতে আমরা প্রস্তুত। কেননা একই কাজ আমার স্বামীও নগরবাসীর কাছ থেকে আদায় করেছেন। এখন আমরা যদি নিজের জায়গা আঁকড়ে ধরি, তাহলে আমার স্বামীর ডাকে মানুষ সাড়া দেবে কেন?’
প্রায় ৮৩ লাখ টাকা ব্যয়ে প্রকল্পটি বাস্তবায়িত হবে। বর্তমানে রাস্তার প্রশস্ততা ১৪ ফুট আছে। এটি ১৭ ফুটে উন্নীত হবে। এই প্রকল্প বাস্তবায়িত হলে দুটি গাড়ি অনায়াসে রাস্তা দিয়ে চলাচল করতে পারবে। দুই মাসের মধ্যেই প্রকল্প বাস্তবায়ন হবে বলে জানালেন সিটি করপোরেশনের উপসহকারী প্রকৌশলী মুজিবুর রহমান।

Related posts