September 21, 2018

জনগণের শক্তিতে বলীয়ান প্রেসিডেন্ট এরদোগান

ইন্টারন্যাশনাল ডেস্কঃ বিশ্বের যেকোনো স্থানে যখন কোনো সন্ত্রাসী হামলা অথবা অন্য কোনো নিষ্ঠুরতা ঘটে- যাতে নির্দোষ বেসামরিক লোকেরা নিহত হয়, তখন দেখা যায় যুক্তরাষ্ট্র ও ইউরোপীয় নেতৃবৃন্দ সাধারণত এই সহিংসতা ও বর্বরতার জন্য যারা দায়ী তাদের বিরুদ্ধে দ্রুত নিন্দা জানান এবং সেটাই সঠিক। কিন্তু তুরস্কে সেনাবাহিনীর একটি অংশ (যাদের আমেরিকায় স্বেচ্ছায় নির্বাসিত ফতেহউল্লেহ গুলেনের অনুসারী হিসেবে দাবি করা হয়) যখন একটি অভ্যুত্থানের চেষ্টা চালায় এবং তাদের অভ্যুত্থান প্রয়াস ব্যর্থ হলো, তখন কিন্তু গণতন্ত্রের কথিত সূতিকাগারের দাবিদারেরা নীরব ও বধিরের ভূমিকায় অবতীর্ণ হলেন।

একের পর এক হোয়াইট হাউজ থেকে ডাউনিং স্ট্রিট এবং বুনডেস কানজলেরামট থেকে এলিসি প্রাসাদ পর্যন্ত, পাশ্চাত্যের রাজনীতিবিদেরা অত্যন্ত ধীরে তাদের প্রতিক্রিয়া প্রকাশ করেছেন। একটি অবিশ্বাস্য গল্প বলার মতোই যখন অভ্যুত্থানের বিষয়টি দ্রুত স্পষ্ট হতে থাকে, তখনই অভ্যুত্থানের বিরুদ্ধে পশ্চিমা নেতাদের অত্যন্ত দুর্বল ভাষায় নিন্দা জানানোর প্রয়াস ও অস্পষ্টতায় শেষ পর্যন্ত থলের বিড়াল বেরিয়ে আসে।

আমার মনে হয়েছে, তুর্কি প্রেসিডেন্ট রজব তাইয়েব এরদোগান মোটেই বিস্মিত বা অবাক হননি তার দেশে চলতি মাসের প্রথম দিকে যে ঘটনা ঘটেছে তা দ্রুত প্রকাশ পেতে সামষ্টিক রাজনৈতিক নিষ্ক্রিয়তায়। তিনি একজন বাস্তববাদী, যিনি তার ন্যাটো ও ইউরোপীয় মিত্রদের কপটতা এবং দ্বিমুখী আচরণের ব্যাপারে ভালোভাবে অবগত।

পাশের দেশ সিরিয়ার যুদ্ধে বাশার আল আসাদের বিরুদ্ধে ইউরোপ আর আমেরিকার প্রতি সমর্থন দেয়া সত্ত্বেও এবং তার কিছু সামরিক ঘাঁটি কথিত ওই মিত্র দেশগুলোকে ব্যবহার করতে দিয়ে, সিরীয় একনায়কের প্রতি নিঃশর্ত সমর্থন দেয়ায় ইরান ও রাশিয়ার তীব্র সমালোচনা করার পরও এরদোগান বিপদে পড়েছেন। তখন তার জীবন রক্ষার জন্য ওই সব দেশের পক্ষ থেকে কোনো সহায়তা পাওয়া যায়নি। অথচ তার জীবন এবং রাজনৈতিকভাবে বেঁচে থাকাটা মারাত্মক হুমকির মুখে পড়েছিল। ন্যাটোতে তার মিত্রদের দিকে না তাকিয়ে এরদোগান তার জনগণকে সামরিক অভ্যুত্থান নস্যাৎ করে দেয়ার জন্য রাজপথে বেরিয়ে আসার আহ্বান জানান। নিরস্ত্র জনগণের প্রতি এটা ছিল একটা কঠিন আহ্বান; কিন্তু এই আহ্বানে জনগণের সাড়া ছিল অভূতপূর্ব।

এরদোগানের আহ্বানে জনগণ এমনভাবে সাড়া দেয়- যা এই অঞ্চলের প্রত্যেক স্বৈরশাসকের মেরুদণ্ড চূর্ণ-বিচূর্ণ করে দেয়ার জন্য যথেষ্ট।

দুর্বৃত্ত ও বিপথগামী সেনাসদস্যদের হাত থেকে দেশকে রক্ষার জন্য প্রায় ২৫০ জন তুর্কি নাগরিক জীবন দিয়েছেন। এটা ছিল কাঁচা বা অপরিমার্জিত সাহসের প্রদর্শনী। ওই দুর্বার সাহসী, নিরস্ত্র জনতার প্রতিরোধের মুখে ট্যাংক, বন্দুক ও অন্যান্য অস্ত্র অকার্যকর হয়ে পড়ে। তারা জনতার অদৃশ্য শক্তির মাধ্যমে বিক্ষোভ প্রদর্শন করে সবাইকে বিস্ময় বিহ্বল করে দেয়।

তুরস্কের জনগণের মধ্যে এরদোগানের হয়তো এক শ’ শতাংশ নির্বাচকমণ্ডলীর সমর্থন নেই; কিন্তু তার আহ্বানের প্রতি তাদের সাড়া এটাই স্পষ্ট করে দিয়েছে যে, সংখ্যাগরিষ্ঠ জনগণ সামরিক স্বৈরাচারকে তাদের গণতান্ত্রিকভাবে নির্বাচিত নেতার স্থলাভিষিক্ত করতে চায় না। মনে হয়েছে, কেউ যদি মিসরের সামরিক একনায়ক আবদুল ফাত্তাহ আল সিসির মতো তুরস্কের হাল ধরার চিন্তা করে, উদ্দীপ্ত জনগণ রাজপথে নেমে আসবে এবং সামরিক বাহিনীর বিরুদ্ধে দাঁড়িয়ে যাবে।

অভ্যুত্থানের নেতারা বলেছেন- তারা একটা সেকুলার উদার গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠা করতে চেয়েছিলেন; কিন্তু সামরিক অভ্যুত্থানের মাধ্যমে উদার গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠা করা যায় না। তাই সাধারণ তুর্কি জনগণ তাদের মূল্যবান গণতন্ত্র এবং তাদের নির্বাচিত প্রেসিডেন্ট হিসেবে এরদোগানের মর্যাদা রক্ষায় ঝাঁপিয়ে পড়েছিল।

এরদোগানের নেতৃত্বে গত কয়েক দশকে তুরস্কের অর্থনীতি উল্লেখযোগ্য অগ্রগতিসাধন করেছে এবং সরকারিভাবে স্বাস্থ্যসেবার ক্ষেত্রেও বিপুল উন্নতি হয়েছে। এসব সাফল্য ও অগ্রগতির জন্য সাধারণ মানুষ এরদোগান ও তার জাস্টিস অ্যান্ড ডেভেলপমেন্ট পার্টিকে (একেপি) কৃতিত্ব দিচ্ছে।

প্রেসিডেন্টের কিছু সমালোচক অভ্যুত্থান ব্যর্থ হওয়ায় খুবই হতাশ এবং তাকে একজন নেতা করে বলেছে, এরদোগান কুর্দি সংখ্যালঘুদের ওপর দমনাভিযান চালিয়ে যাচ্ছেন এবং মানবাধিকারকে লঘু করে ফেলেছেন এবং মিডিয়া তথা সাংবাদিকদের ওপর নির্যাতন চালাচ্ছেন। এরদোগান যদি অকপটে নির্যাতন চালাতেন এবং তাঁর অধীনে জীবনযাত্রা সত্যিই যদি এত খারাপ হতো তাহলে নিশ্চয়ই অভ্যুত্থান সফল হতো অথবা অন্তত এই অভ্যুত্থান মাত্র কয়েক ঘণ্টা নয়, অনেক দীর্ঘ সময় স্থায়ী হতো। আমাদের পশ্চিমে তথা পাশ্চাত্যে এ ধরনের জাতি গোষ্ঠীকেন্দ্রিক বিষয় বন্ধ করে বা থামিয়ে দিতে হয়। আর ইউরোপ সীমান্তের বাইরে অন্য দেশগুলোতেও পশ্চিমা ধাঁচের গণতন্ত্রের নকল বা অনুকরণ বন্ধ করতে হবে। একই ধরনের গণতান্ত্রিক ব্যবস্থা সব জায়গায় হতে হবে, এমন কোনো কথা নেই। এটা সুস্পষ্ট বাস্তবতা যে, তুর্কিরা তাদের দেশে যে ধরনের গণতান্ত্রিক চর্চা রয়েছে তাতে খুশি। তুরস্কের সংখ্যাগরিষ্ঠ মানুষ কুর্দিদের একটি সন্ত্রাসী হুমকি হিসেবে গণ্য করে এবং কুর্দিদের দাবি অনুযায়ী, তারা নির্বিচার বোমা হামলা ও সন্ত্রাসী আক্রমণ চালিয়ে ইতোমধ্যে শত শত নির্দোষ তুর্কি বেসামরিক নাগরিককে হত্যা করেছে।

কুর্দিদের ওপর দমনাভিযান এরদোগানের ভোটে জয়লাভে সহায়ক হয়েছে। যুক্তরাজ্যের কথিত আইরিশ সঙ্কটের সময় সাবেক প্রধানমন্ত্রী মার্গারেট থ্যাচার যখন আইআরএর ব্যাপারে কঠোর অবস্থান গ্রহণ করতেন তখন তার পক্ষে ভোট বেড়ে যেত। তেমনি কুর্দিদের ওপর দমনাভিযান চালালে এরদোগানের পক্ষে ভোট বেড়ে যায়। এভাবে অবশ্য স্থায়ী কিছু হবে না। কারণ, ইতিহাস আমাদের শিক্ষা দেয়- কুর্দি প্রশ্নে সমাধানের জন্য এবং শান্তি প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে একমাত্র পথ হচ্ছে আলোচনার টেবিলে বসা। যদি কখনো সেটা ঘটে- অবশ্যই তা হতে হবে এরদোগানের উদ্যোগে ও তার অধীনে। কেউ ধারণাই করতে পারবে না- অন্যান্য দেশের প্রেসিডেন্ট ও প্রধানমন্ত্রীরা থ্যাচারকে উত্তর আয়ারল্যান্ড সঙ্কট কিভাবে মোকাবেলা করবেন সে ব্যাপারে পরামর্শ দেয়ার চেষ্টা করলে তিনি কিভাবে প্রতিক্রিয়া দেখাতেন।

উল্লেখ্য, উত্তর আয়ারল্যান্ড যুক্তরাজ্যেরই অংশ। পশ্চিমারা তুর্কিদের ওপর সেকুলার গণতন্ত্র চাপিয়ে দিতে পারে না। কারণ তুর্কিদের সাংস্কৃতিক, ধর্মীয় ও অন্যান্য মূল্যবোধ এ ধরনের তৎপরতার সাথে মানায় না। তুরস্কে একটি সামরিক অভ্যুত্থান ঘটানোর খবর প্রকাশ হয়ে পড়ার কিছুক্ষণের মধ্যে বিশ্বের কোনো দেশ থেকে বিবৃতি দিয়ে এর নিন্দা না জানানোটা লজ্জাকর। অধিকন্তু সামরিক বাহিনীর বিদ্রোহী সদস্যরা তাদের এই অভ্যুত্থানকে ‘সেকুলার’ হিসেবে বর্ণনা করলেও এর পেছনে সত্যতা থাকতে পারে না। কারণ এই অভ্যুত্থানের প্রধান সন্দেহভাজন হচ্ছেন কথিত ধর্মপ্রচারক ফতেহউল্লাহ গুলেন। তিনি যুক্তরাষ্ট্রে অবস্থান করেই এই ষড়যন্ত্রে মদদ দিয়েছিলেন এবং সেখান থেকেই অর্থসহায়তা পেয়েছেন বলে সন্দেহ করা হচ্ছে।

পশ্চিমা সরকারগুলো অভ্যুত্থানের খবর ছড়িয়ে পড়ার পর নিজেদের মধ্যে সক্রিয় হয়ে ওঠে। আমরা মন্ত্রিসভার অনেক জরুরি বৈঠক ডাকার খবর শুনতে পেরেছি। ওই সব বৈঠকে জানতে চাওয়া হয়েছে- ‘ওই গুলেন কি আমাদের মধ্যকার কেউ?’ এ ধরনের আরো অনেক প্রশ্ন উত্থাপন করা হয়েছে- এসব তৎপরতা দেখে ভবিষ্যদ্বাণী তথা ইঙ্গিত দেয়া যায়। এর অর্থ কি তুর্কি উদ্বাস্তুদের প্রবাহ ইউরোপের দিকে যাবে? এ ধরনের ঘটনায় তেলের মূল্য কিভাবে প্রভাবিত হতে পারে? আমরা কি আরো অধিক অস্ত্র বিক্রি করতে পারব? নতুন এই ব্যক্তি কি এরদোগানের চেয়েও আমাদের ইচ্ছা পূরণে অধিকতর সহায়ক হবেন? আমরা কি পুতিনকে দোষারোপ করতে পারি? ওই সময়ে অভ্যুত্থানপ্রয়াস ব্যর্থ হয়ে একটি অসন্তোষজনক পরিণতির দিকে ধাবিত হওয়ার পরিপ্রেক্ষিতে পশ্চিমা সরকারগুলোর পক্ষ থেকে কয়েক দিনের মধ্যে কড়া ভাষায় বিবৃতি আসতে শুরু করে। যে নেতৃবৃন্দ তুরস্কের প্রেসিডেন্টের ব্যর্থ অভ্যুত্থানকে তার রাজনৈতিক শত্রুদের ঘায়েল করার মিথ্যা অস্ত্র হিসেবে ব্যবহার করা থেকে বিরত থাকার জন্য হুঁশিয়ার করে দেন। তুরস্কের প্রেসিডেন্ট এই ব্যর্থ অভ্যুত্থানকে তার ক্ষমতাকে আরো সুদৃঢ় করার অজুহাত হিসেবে ব্যবহার করার সুযোগ পাবেন বলে উদ্বেগ প্রকাশ করা হয়।

অভ্যুত্থানের ষড়যন্ত্রকারীদের কয়েকজনকে গ্রেফতার করার পর তাদের অন্তর্বাস ছিঁড়ে ফেলা ও তাদের পেছন থেকে হাতবাঁধা অবস্থায় টেলিভিশনে ছবি দেখার পর বারাক ওবামা বলেন, তিনি বিশেষভাবে উদ্বিগ্ন। এতে কোনো সন্দেহ নেই যে, তুরস্ক এবং সারা বিশ্বের মানুষ মার্কিন প্রেসিডেন্টের এই বক্তব্য শুনেছেন; কিন্তু তারা গুয়ানতানামো বে বন্দিশিবিরে শত শত নির্দোষ মানুষের ওপর ‘৯/১১’-এর ঘটনার পর যে লোমহর্ষক নির্যাতন চালানো হয়েছিল, তা এখনো স্মরণ করেন। বিস্মিত হই, তৎকালীন মার্কিন প্রেসিডেন্ট জর্জ বুশের পক্ষ থেকে এ ধরনের বর্বরতা ও নৃশংসতাকে কিভাবে স্বাগত জানানো হয়েছিল? কৃষ্ণাঙ্গদের প্রতি খোলামেলাভাবে বর্ণবৈষম্য প্রদর্শন করার কারণে বিশ্বের কোটি কোটি মানুষ আতঙ্কিত হয়েছে। আমেরিকার ল্যাটিনো ও মেক্সিকানদের প্রতি এই বৈষম্যমূলক আচরণ করা হয়েছে; কিন্তু তারা এ জন্য বাইরের কোনো হস্তক্ষেপ সহ্য করা হবে না বলে জানিয়ে দিয়েছে। পরিস্থিতি যখন এই পর্যায়ে গিয়ে পৌঁছেছে, তখন ওবামার মতো মানুষের ভালো কিছু বলা অথবা চুপ থাকা উচিত। এসব ব্যাপারে তার দেশের গৌরব করার মতো কোনো রেকর্ড নেই।

প্রকৃতপক্ষে, এখন ইউরোপীয় রাষ্ট্রগুলো এবং উত্তর আমেরিকানরাই মানবাধিকারের পথে প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করার সময়। এখন তাদের যুদ্ধবাজ মানসিকতা এবং গণতন্ত্রের নামে হত্যাকাণ্ড চালানো বন্ধ করার সময়। যাদের বন্ধু বা মিত্র বলে গণ্য করে, তাদের প্রতি আন্তরিকতা দেখানোর সময় এখন। তাদের বর্তমান নীতির ফল বা পরিণাম প্রায় সর্বত্র দেখা যাবে।

উদাহরণস্বরূপ- মধ্যপ্রাচ্যের একটি বৃহত্তম ট্র্যাজেডি হচ্ছে মিসর। গণতন্ত্রের জন্য কঠিন ও রক্তক্ষয়ী সংগ্রামের পর দেশটি এখন বর্বর সামরিক স্বৈরাচারের পিচ্ছিল পথে অবস্থান করছে।

সামরিক নিয়ন্ত্রণ ও একনায়কতন্ত্রের দীর্ঘ ইতিহাস অতিক্রম করে দেশটিতে উদার গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠিত হয়েছিল। এটা স্পষ্ট হয়েছিল যে, মিসরের প্রথম গণতান্ত্রিকভাবে নির্বাচিত প্রেসিডেন্ট মোহাম্মদ মুরসি ধীরে ধীরে দেশটিতে পরিবর্তনের সূচনা করতে চেয়েছিলেন। কিন্তু তিনি ধীরগতিতে অগ্রসর হওয়া এবং তেমন কিছু করতে না পারার জন্য সমালোচিত হন। কিন্তু তিনি যখন দ্রুত অগ্রসর হতে চাইলেন, তখন তাকে স্বেচ্ছাচারী হিসেবে অভিযুক্ত করা হয়।

কঠিন সময়ে যখন প্রয়োজন ছিল, তখন প্রেসিডেন্ট মুরসি এবং তার দেশকে পশ্চিমারা কোনো সমর্থন দেয়নি। মুরসি তার দেশের গণতান্ত্রিক প্রতিষ্ঠানগুলোকে যখন গড়ে তোলার চেষ্টা করলেন, পশ্চিমারা তখন এগিয়ে আসেনি। তাই সহজে সেখানে সামরিক অভ্যুত্থান ঘটে। অর্থনৈতিকভাবে এবং আন্তর্জাতিকভাবে মিসর হচ্ছে এখন একটি বাস্কেট কেইস এবং ইরাক, সিরিয়া ও আফগানিস্তানের মতো একটি ব্যর্থ রাষ্ট্র। পশ্চিমা হস্তক্ষেপের ইচ্ছাপত্র হিসেবেই মিসর এখন দাঁড়িয়ে আছে।

এরদোগান অভ্যুত্থানের রাতে ওয়াশিংটন, লন্ডন, বার্লিন বা প্যারিসের পরিবর্তনশীল বন্ধুদের প্রতি আহ্বান না জানিয়ে তার নিজের জনগণকে আহ্বান জানিয়ে সঠিক কাজই করেছেন। রাজনৈতিক দল-মত নির্বিশেষে এসব নিরস্ত্র বীরেরাই তুরস্কের গণতন্ত্র রক্ষায় জীবন দিয়েছেন। এখনো যারা এরদোগানকে স্বৈরশাসক বলে গলাবাজি করছেন, তাদের নিজেদেরই এটা জিজ্ঞেস করা উচিত : তার সমালোচকদের দাবি অনুযায়ী। তিনি এতই মন্দ লোক হলে এ ধরনের মানুষের মর্যাদা রক্ষায় কেন মানুষ অগ্রসরমান ট্যাংকের সামনে শুয়ে পড়ল এবং বন্দুকের নলের সামনে নিজেদের বুক পেতে দিলো? তুরস্কের জনগণ আমাদের সবাইকে গণতন্ত্রের শিক্ষা দিয়েছে। পশ্চিমাদের অবশ্যই এটা থেকে শিক্ষা গ্রহণ করে এটাকে স্বাগত জানানো উচিত।

ইভন রিডলি একজন ব্রিটিশ সাংবাদিক। তিনি সাংবাদিক হিসেবে The Sunday Times, The Independent on Sunday, The Observer, The Mirror I The News of the World-এ লেখালেখি করতেন। তিনি Wales on Sunday-এর ডেপুটি এডিটর ছিলেন। ২০০১ সালে তিনি আফগানিস্তানে রিপোর্টিংয়ের দায়িত্ব পালনকালে তালেবানদের হাতে আটক হন। এর একপর্যায়ে তিনি ইসলাম গ্রহণ করেন। ইসলাম গ্রহণের আগে রিডলি চারবার বিয়ে করেন। তার স্বামীদের মধ্যে প্রথম জন ছিলেন পুলিশ কর্মকর্তা, দ্বিতীয়জন ছিলেন এক করপোরেট অফিসের সিইও, তৃতীয়জন ছিলেন একজন ফিলিস্তিনি শরণার্থী কর্মী এবং চতুর্থজন ছিলেন ইসরাইলি ইহুদি। মুসলমান হওয়ার পর থেকে তিনি আলজেরীয় স্বামীর সাথে সংসার করছেন। তিনি সন্ত্রাসবিরোধী যুদ্ধ, নারী অধিকার, ইরাক, ইসরাইল, আফগানিস্তান, কাশ্মির, চেচনিয়া, উজবেকিস্তান-সংক্রান্ত বিষয়ে লেখালেখি করেন এবং বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ে লেকচার দেন। বর্তমানে তিনি মিলান ও জেনেভা-ভিত্তিক ইউরোপিয়ান মুসলিম লিগের ভাইস প্রেসিডেন্ট। তার এই লেখাটি ‘মিডল ইস্ট মনিটর’ থেকে ভাষান্তর করেছেন মুহাম্মদ খায়রুল বাশার।

Related posts