November 21, 2018

জনগণের ঘামঝড়া অর্থ দিয়েই তো আমাদের বেতন-ভাতা – প্রধানমন্ত্রী

ঢাকাঃ প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা সরকারি কর্মচারীদের উদ্দেশ্যে বলেন, আমরা জনগণের সেবক, জনগণের সেবা করবো। জনগণের সেবা করাই আমাদের দায়িত্ব। জনগণের রক্ত ঘামঝড়া অর্থ দিয়েই তো আমাদের বেতন-ভাতা, আমাদের সবকিছু। এই কথাটা এক মুহূর্তের জন্যও যেন আমরা ভুলে না যাই।

বুধবার সকালে জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ৪১তম শাহাদতবার্ষিকী উপলক্ষে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের উদ্যোগে এবং স্বাস্থ্য ও পরিবারকল্যাণ মন্ত্রলালয়ের সহযোগিতায় বাংলাদেশ সচিবালয়ে স্বেচ্ছায় রক্তদান কর্মসূচির উদ্বোধনকালে প্রধান অতিথির ভাষণে তিনি এসব কথা বলেন।

সরকারি কর্মচারীদের সর্বোচ্চ আন্তরিকতা ও নিষ্ঠার সঙ্গে দায়িত্ব পালনের আহ্বান জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, বঙ্গবন্ধুর স্বপ্নের সোনার বাংলা গড়ার মাধ্যমেই তাঁর এবং ৩০ লাখ শহীদের রক্তের ঋণ শোধ করতে হবে। মানুষের সেবার মতো শান্তি দুনিয়ায় আর কিছুতে নেই। কোনো দিন গরিব-দুঃখীর ওপর অত্যাচার করবেন না।

স্বেচ্ছায় রক্তদান কর্মসূচি সম্পর্কে তিনি বলেন, ‘এ উদ্যোগের মতো মহৎ আর কিছু হতে পারে না। জাতির পিতা আমাদেরকে রক্তঋণে আবদ্ধ করে গেছেন, লাখো শহীদ আমাদের রক্তঋণে আবদ্ধ করেছেন। তাদের রক্তের ঋণ আমাদেরকে শোধ করতে হবে। .. আপনারাও রক্ত দিয়ে মানুষের জীবন বাঁচান, মানুষের পাশে দাঁড়ান।’

প্রধানমন্ত্রী বলেন, এদেশের মানুষের কল্যাণে কাজ করতে গিয়েই জাতির পিতা জীবন দিয়ে গেছেন। এই ওয়াদা তিনি ৭ই মার্চের ভাষনসহ বহু জায়গায় করেছেন এবং জীবন দিয়ে রক্ত দিয়ে সেই ওয়াদাই তিনি পালন করে গেছেন।

সচিবালয়ের কর্মচারীদের উদ্দেশ্যে শেখ হাসিনা বলেন, আজ আপনারা একটি মহৎ কাজ করতে যাচ্ছেন-রক্তদান। একজন রক্ত দেবেন আর একটি মানুষের জীবন বাঁচাবেন। রক্ত দিলে কোন ক্ষতি না হয়ে শরীরের জন্য উপকার হয়। নিয়মিত রক্ত দিলে শরীরে নতুন রক্ত কণিতা জন্মে এবং শরীর ভালো থাকে।

প্রধানমন্ত্রী নিজেও ৫৬-৫৭ বছর বয়স পর্যন্ত নিয়মিত রক্ত দিতেন। দেশে ফেরার পর থেকে ১৫ আগস্ট উপলক্ষে প্রতিবছর আয়েজিত রক্তদান কর্মসূচিতে নিজেও রক্ত দিয়েছেন। এখন বয়স হয়ে যাওয়ায় ইচ্ছে থাকলেও আর দিতে পারেন না উল্লেখ করে বলেন প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘রক্ত দেয়ার যদি ক্ষমতা থাকতো তাহলে আমি এখনও রক্ত দিতে প্রস্তুত।’

সরকারি কর্মচারীদের উদ্দেশ্যে প্রধানমন্ত্রী আরো বলেন, যেকোন কাজ আমরা হাতে নেই না কেন তা বাস্তবায়নের দায়িত্ব আপনাদের উপর অনেকাংশে বর্তায়। কাজেই আপনারা আন্তরিকতার সঙ্গে সেই কাজ সম্পাদন করবেন। মানুষের সেবা করুন, মানুষের সেবার মতো শান্তি দুনিয়ায় আর কিছুতে নেই। কোনো দিন গরিব-দুঃখীর ওপর অত্যাচার করবেন না।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘বঙ্গবন্ধু শুধু স্বাধীনতা এনেই দেননি। মানুষের মুক্তির জন্য ব্যাপক কর্মসূচিও হাতে নিয়েছেন। যুদ্ধের পর এ দেশে রাস্তাঘাট, পুল, কালভার্ট ছিলো না। ছিল না অবকাঠামোগত কিছুই। জাতির পিতা সেই বিধ্বস্ত বাংলাদেশকে গড়ে তুলেছেন। আমাদেরকে একটি সংবিধান দিয়েছেন। আন্তর্জাতিক অঙ্গণে বাংলাদেশের স্বীকৃতি আদায় এবং আঞ্চলিক ও আন্তর্জাতিক সংস্থার সদস্য করে গেছেন বাংলাদেশকে।’

প্রধানমন্ত্রী বলেন, যেসব আন্তর্জাতিক শক্তি আমাদের মুক্তিযুদ্ধের বিরোধিতা করেছিলো, পরে তাদের ষড়যন্ত্রেই বঙ্গবন্ধুকে হত্যা করা হয়েছে। আমার মা ফজিলাতুন নেছা, আমার ভাই শেখ কামাল, জামাল, ছোট্ট রাসেলকেও তারা হত্যা করেছিলো।

অনুষ্ঠানে অন্যান্যদের মধ্যে জনপ্রশাসন মন্ত্রী সৈয়দ আশরাফুল ইসলাম এবং স্বাস্থ্য ও পরিবারকল্যাণ মন্ত্রী মোহাম্মদ নাসিম বক্তৃতা করেন। এছাড়া অনুষ্ঠানে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিব কামাল আব্দুল নাসের চৌধুরী স্বাগত বক্তৃতা রাখেন।

জনপ্রশাসন প্রতিমন্ত্রী ইসমত আরা সাদেক, স্বাস্থ্য ও পরিবারকল্যাণ প্রতিমন্ত্রী জাহিদ মালেক এবং মন্ত্রিপরিষদ সচিব মো. শফিউল আলম, প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা, মন্ত্রিপরিষদ সদস্যবৃন্দ, সংসদ সদস্যবৃন্দসহ সরকারের বিভিন্ন মন্ত্রণালয়, বিভাগ ও দফতরের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাসহ সচিবালয়ের কর্মকর্তা-কর্মচারিবৃন্দ অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন।

Related posts