September 20, 2018

জঙ্গি দমনে ব্লক রেড


ঢাকাঃ  জঙ্গি দমনে সরকার ব্লক রেড দিতে চাইছে। এই জন্য কোন কোন এলাকায় এই রেড দেওয়া হবে সেটা চিহ্নিত করা হচ্ছে। পাশাপাশি জঙ্গিদের অবস্থানও নিশ্চিত করার চেষ্টা চলছে। বড় কোন জঙ্গি নেতা ও তাদের একটি গোষ্ঠীকে ধরার জন্য এই অভিযান পরিচালনা করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। জঙ্গি ছাড়াও শিবিরের নেটওয়ার্ক ভাঙ্গতেও এই অভিযান পরিচালনা করা হবে। এই ব্যাপারে বেশ কয়েকটি গ্রুপ কাজ করছে বলেও সূত্র জানায়।

স্বরাষ্ট্র মন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল বলেন, জঙ্গি দমনে আমরা বিশেষ অভিযান পরিচালনা করছি। এই অভিযানের সংখ্যা আরো বাড়াবো। এর পাশাপাশি আমরা ব্লক রেডও দিতে যাচ্ছি।

কবে নাগাদ ব্লক রেড দিতে পারেন জানতে চাইলে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রী বলেন, এটা আগাম বলতে চাইছি না। সময়টা জেনে গেলেতো জঙ্গিরা পালিয়ে যাবে। বিষয়টি গোপনেই আমরা করছি।

এর আগে জেএমবির প্রধান শায়খ আব্দুর রহমানকে ধরার জন্য সিলেটে ব্লক রেড দেওয়া হয়েছিল। ওই অভিযানে তাকে গ্রেফতার করা হয়। এরপর জেএমবির সেকেন্ড ইন কমান্ড বাংলা ভাইকে ধরার জন্য ময়মনসিংহে ব্লক রেড দেওয়া হয়েছিল। ওই অভিযান করে বাংলা ভাইকেও গ্রেফতার করা হয়। ওই সব অভিযানে র‌্যাব, পুলিশ, গোয়েন্দারা সহ আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর বিভিন্ন সংস্থার সদস্যরা অংশ নেয়। এবারও এই ধরনের অভিযানের পরিকল্পনা করছে সরকার।

তবে বাংলাভাই ও শায়খ আব্দুর রহমানের মতো অত বড় নেতা এখনতো জেএমবির নেই তাহলে কার জন্য এই ধরনের অভিযান জানতে চাইলে স্বরাষ্ট্র বলেন, জঙ্গিরা আগের চেয়ে বেশি মাত্রায় সক্রিয় হয় উঠেছে। বাংলাভাই, শায়খ আব্দুর রহমান না থাকলেও তার পরিবর্তে পরে আরো নেতা তৈরি হয়েছে। তারা জেএমবি পরিচালনা করছে। এছাড়াও তাদের বিভিন্ন পর্যায়েও নেতা তৈরি হয়েছে। আমরা আগে ভাগে এই ব্যাপারে কোন কিছু বলতে চাইছি না। আপনারা বিষয়গুলো দেখবেন।

স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সূত্র জানায়, এসপি বাবুল আক্তারের স্ত্রী মাহমুদ খানম মিতু হত্যার ঘটনা এবং এরপর আরো চারটি হত্যাকান্ডের ঘটনা ঘটেছে। এই কারণে পর পর এক সঙ্গে এতগুলো হত্যাকান্ড সরকারকে ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে ভাবিয়ে তুলেছে। এই জন্য আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর শীর্ষ কর্মকর্তা বৈঠক করেছেন। বিভিন্ন গোয়েন্দা সংস্থার সদস্যরাও এই ব্যাপারে বৈঠক করেছেন। তারা চেষ্টা করছেন জঙ্গি দমনে মাঠ পর্যায়ে কাজ করছেন তাদের কাছ থেকে তথ্য সংগ্রহ করার। প্রয়োজনীয় সকল তথ্য সংগ্রহ করার পরই চুড়ান্ত করা হবে ব্লক রেডের অপারেশনের কর্ম পরিকল্পনা। এর বাইরে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী এই ব্যাপারে বিভিন্নস্থানে অভিযান পরিচালনা করছে।

বিদেশি হত্যা থেকে শুরু করে হিন্দু, বৌদ্ধ, খ্রিস্টান সম্প্রদায়ের লোকজন ও তাদের ধর্মগুরু, মসজিদের ঈমাম, শিয়া মুসলমান, পীর ও পীরের শিষ্য কেউই ঘাতকদের প্রকাশ্য অস্ত্রের আঘাত থেকে রেহাই পাচ্ছে না। দেশে শুরু হয়েছে সিরিয়াল কিলিং। এই পর্যন্ত ৫১ জন টার্গেট কিলিংয়ের ঘটনার শিকার হন। বিএনপি মনে করছে, অবস্থাদৃষ্টে মনে হয়-দেশে যেন প্রতিমুহূর্তে গোরস্থানের পরিসরই বিস্তৃত হচ্ছে। দেশবাসী যেন এক নিরাপত্তাহীন অন্ধকার গুহায় বসবাস করছে। চারিদিকে ভয়, শঙ্কা আর আতঙ্ক নিয়েই দেশের মানুষ এখন অনিশ্চিত জীবনযাপন করছে।

সার্বিক অবস্থা বিবেচনা করে সরকার ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর জঙ্গি দমনে বিশেষ অভিযান পরিচালনা করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। সেই হিসাবে গত কয়েকদিনে অভিযান পরিচালিত হচ্ছে।

Related posts