September 24, 2018

জঙ্গি আস্তানার খোঁজে তৎপর গোয়েন্দারা

ঢাকাঃ আগাম তথ্য থাকার পরেও গুলশান হামলা ঠেকাতে না পারায় নড়েচড়ে বসেছে গোয়েন্দারা। তবে পুলিশি তৎপরতার কারণে গ্রেফতার এড়াতে জঙ্গিরা এখন রাজধানীর উপকণ্ঠের এলাকায় আশ্রয় নিচ্ছে। বিষয়টি মাথায় রেখে ব্যাপক তৎপরতা শুরু করেছে গোয়েন্দারা। গোয়েন্দা সূত্রে এ তথ্য জানা গেছে।

সূত্র জানায়, রাজধানীর উপকণ্ঠে আস্তানা গড়তে নারায়ণগঞ্জ, গাজীপুর গার্মেন্ট এলাকা, টঙ্গী, আশুলিয়া, সাভার, কামরাঙ্গীরচর ও কেরানীগঞ্জের বিভিন্ন এলাকাকে নিরাপদ ভাবছে জঙ্গিরা। এসব এলাকায় সামরিক প্রশিক্ষণ দিয়ে জঙ্গি মিশন বাস্তবায়নে বিভিন্ন স্থানে পাঠানো হচ্ছে। যেসব এলাকায় বাসা ভাড়া নেয়া সহজ ও জনবহুল সেসব এলাকাকেই বেছে নেয়া হচ্ছে।

বিভিন্ন সময়ে গ্রেফতার হওয়া জঙ্গিরাও গোয়েন্দা পুলিশকে জানিয়েছে, রাজধানীর উপকণ্ঠে প্রশিক্ষণ নিয়ে রাজধানীসহ বিভিন্ন জেলা ও বিভাগীয় শহরে টার্গেট কিলিং ও নাশকতার মিশন বাস্তবায়নের পরিকল্পনা রয়েছে জঙ্গিদের। এমন পরিকল্পনাতেই সম্প্রতি শোলাকিয়া হামলা ঘটে।

গোয়েন্দা সূত্র জানায়, রাজধানীতে শুদ্ধস্বরের প্রকাশক আহমেদুর রশীদ টুটুলকে হত্যা চেষ্টার মিশনের আগে আনসারুল্লাহ বাংলা টিমের (এবিটি) সদস্যরা টঙ্গীর বর্ণমালা রোডের একটি বাসায় প্রশিক্ষণ নেয়। গত ২১ জুলাই টঙ্গীর আউচপাড়ায় চতুর্থ তলার একটি বাড়িতে জেএমবির একটি আস্তানা থেকে দক্ষিণাঞ্চলের কমান্ডার মাহমুদুল হাসানসহ চারজনকে গ্রেফতার করে র‌্যাব। ওই বাড়িটি প্রশিক্ষণ কেন্দ্র হিসেবে ব্যবহার করে আসছিল জেএমবি।

গত ২৭ ডিসেম্বর গাজীপুরের ভোগড়া বাইপাস এলাকার একটি পরিত্যক্ত বাড়িতে র‌্যাবের সঙ্গে বন্দুকযুদ্ধে দুই জঙ্গি নিহত হয়। এর আগে ২২ অক্টোবর গাবতলীর পুলিশ চেকপোস্টের এএসআই ইব্রাহীম মোল্লাকে কুপিয়ে হত্যায় মাসুদ রানা নামে একজনকে গ্রেফতার হয়। পরে তাকে নিয়ে অভিযান চালিয়ে কামরাঙ্গীরচরের একটি জঙ্গি আস্তানা থেকে বোমা ও বিস্ফোরক উদ্ধার করা হয়।

পুরান ঢাকার হোসনি দালানে বোমা হামলা, আশুলিয়ার চেকপোস্টে হামলা চালিয়ে কনস্টেবল মুকুলকে হত্যার পরিকল্পনাও হয় কামরাঙ্গীরচর ও আশুলিয়ার বিভিন্ন আস্তানায় বসে।

এর আগে গত বছরের ২১ এপ্রিল আশুলিয়ার কাঠগড়া বাজারে বাংলাদেশ কমার্স ব্যাংকের শাখায় ডাকাতি ও আটজনকে হত্যার নেপথ্যে ছিল আব্দুল্লাহ আল বাকী ওরফে মাহফুজ ও আসিফ আজওয়াদ নামের দুই জঙ্গি। তারা দুজনই জেএমবি নেতা। ওই ঘটনায় কয়েকজনকে গ্রেফতার করা হয়েছিল।

তারা জানায়, টঙ্গীর আউচপাড়া, আশুলিয়ার কাঠগড়াসহ কয়েকটি এলাকায় ভাড়াবাড়িতে অবস্থান করে হামলার পরিকল্পনা, প্রশিক্ষণ ও হামলার ছক তৈরি করে তারা।

পরে গোয়েন্দা সূত্র জানায়, ওই দলটিই গত বছরের মার্চে টঙ্গীর বোর্ডবাজার এলাকায় একজনকে হত্যা করে। রাজধানীতে ৫ অক্টোবর পিডিবির সাবেক চেয়ারম্যান চাঞ্চল্যকর খিজির খান খুনের ঘটনায়ও জেএমবি নেতা মাহফুজের নাম আসে। এ দলটিও আশুলিয়ায় বৈঠক করেছিল।

দায়িত্বশীল একাধিক গোয়েন্দা সূত্র জানায়, রাজধানী বাড্ডার সাতারকুল, বনশ্রী, মিরপুরের দারুস সালাম, পল্লবী, মোহাম্মদপুরের পেছনের এলাকা, ডেমরা ও যাত্রাবাড়ীতে জঙ্গিরা আস্তানা গড়ে তুলেছিল। সে কারণে রাজধানীর উপকণ্ঠ এলাকা আরো বেশি ঝুঁকিপূর্ণ।

এ ব্যাপারে কাউন্টার টেরোরিজম ও ট্রান্স ন্যাশনাল ক্রাইম ইউনিটের প্রধান ও ঢাকা মহানগর পুলিশের অতিরিক্ত কমিশনার মনিরুল ইসলাম বলেন, ঢাকায় এখন সুযোগ কম। ব্যাপক নজরদারি ও ব্লক রেইডের কারণে জঙ্গিরা রাজধানীতে সুবিধা করতে পারছে না। তবে রাজধানীর উপকণ্ঠে যাতে জঙ্গি আস্তানা গড়ে তুলতে না পারে সেজন্য নিয়মিত অভিযান চলছে।

Related posts