September 23, 2018

জঙ্গিরা যেন না’গঞ্জে আঘাত হানতে না পারে – ইসরাত হোসেন

রফিকুল ইসলাম রফিক         
নারায়ণগঞ্জ প্রতিনিধিঃ
স্থানীয় সরকার বিভাগের উপ-পরিচালক ইসরাত হোসেন খান গুলশান ও কিশোরগঞ্জে জঙ্গি হামলার ঘটনায় তীব্র নিন্দা জানিয়ে বলেন, যারা নিরীহ মানুষকে জিম্মি করে গলা কেটে হত্যা করা মানুষের কাজ হতে পারে না। মানুষকে গলা কেটে নিষ্ঠুর ভাবে হত্যা করা মানবতার অপমান। নারায়ণগঞ্জে জঙ্গিরা যেন কোন ধরনের ঘাঁটি করে আঘাত হানতে না পারে সেদিকে সবাইকে সোচ্চার হতে হবে। আর নব-নির্বাচিত চেয়ারম্যানসহ স্থানীয় জনগন ঐক্যবদ্ধ হয়ে জঙ্গিদের প্রতিরোধ গড়ে তুলতে হবে। তাই এখন থেকে সবাইকে সজাগ থাকতে হবে।

রোববার সকালে কশিপুর ইউনিয়ন পরিষদের নব-নির্বাচিত চেয়ারম্যান এর ক্ষমতা হস্তান্তর অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেন। তিনি আরো বলেন, ইউনিয়ন পরিষদ হচ্ছে স্থানীয় সরকারের একটি গুরুত্বপূর্ন দপ্তর। ইউনিয়ন পরিষদের মাধ্যমে সব ধরনের উন্নয়ন করা হয়। রাস্তাঘাট থেকে শুরু করে অনেক গুরুত্বপূর্ন  কাজ করছেন ইউনিয়ন পরিষদের নির্বাচিত জনপ্রতিনিধিরা। আর ইউনিয়নের যোগ্য ব্যক্তিকেই জনগন ভোট দিয়ে চেয়ারম্যান হিসাবে নির্বাচিত করেন। সেই চেয়ারম্যান জনগনের নাগরিক সেবা প্রদান করেন। তিনি আরো বলেন, কাশিপুরের নবনির্বাচিত চেয়ারম্যান তিনি একজন অভিজ্ঞ রাজনৈতি ব্যক্তি। তিনি জনপ্রতিনিধি না হয়েও রাজনীতির অভিজ্ঞতাকে কাজে লাগিয়ে এলাকার উন্নয়ন করেছেন। এখন তিনি জনপ্রতিনিধি হয়েছেন। তাই আমি বিশ্বাস করি তিনি জনগনের চাহিদা মোতাবেক এলাকার উন্নয়ন করবেন।

অনুষ্ঠানে নব-নির্বাচিত চেয়ারম্যান এম সাইফউল্লাহ বাদল তার বক্তব্যে তিনি বলেন, আমি চেয়ারম্যান না হয়েও কাশিপুর ইউনিয়নে কত গুলো উন্নয়ন মুলক কাজ করেছি তা এলাকাবাসী ও রাস্তায় তার সাক্ষী রয়েছে। চেয়ারম্যান হওয়ার পর কতটুকু উন্নয়ন করতে পারি তা সময় বলে দিবে। আমি জনগনকে নিয়ে সব সময় কাজ করতে চাই। জনগনই আমার সকল কাজের উৎস জোগাবে বলে আমি বিশ্বাস করি। আমি যতদিন বেচে থাকি কাশিপুরবাসীর সেবা করে যেতে চাই। আর কাশিপুর ইউনিয়নকে একটি মডেল হিসাবে গড়ে তুললে চাই। তিনি আরো বলেন, সন্ত্রাস আর জঙ্গিবাদের বিরুদ্ধে কাশিপুরবাসী সোচ্চার আছে এবং আগামীতেও থাকবে। কাশিপুর তথা ফতুল্লা অ লে জঙ্গিদের আস্থানা গড়ে তুলতে দেয়া হবে না। সবাইকে চোখ কান খোলা রাখার আহবান করা হয়। এছাড়া তিনি কাশিপুর ইউনিয়ন একটি মাদক মুক্ত ইউনিয়ন হিসাবে গড়ে তোলার ঘোষনা দেন।

কাশিপুর ইউনিয়ন পরিষদের নির্বাচিত চেয়ারম্যান এম সাইফউল্লাহ আনুষ্ঠানিক ভাবে দায়িত্ব গ্রহণ অনুষ্ঠানে সাবেক চেয়ারম্যান মোমেন শিকদারের সভাপতিত্বে বিশেষ অতিথি হিসাবে উপস্থিত ছিলেন ফতুল্লা থানা আওয়ামীলীগের সাধারণ ও বক্তাবলী ইউনিয়নের চেয়ারম্যান সম্পাদক শওকত আলী, নারায়ণগঞ্জ সদরের সহকারী কমিশনার (ভুমি) মাসুম আলী বেগ, নারায়ণগঞ্জ সদর উপজেলার প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার মনিরুল হক প্রমুখ। এসময় আরো উপস্থিত ছিলেন এনায়েত নগর ইউনিয়নের চেয়ারম্যান আসাদুজ্জামান, ফতুল্লা ইউনিয়ন পরিষদের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান লুৎফর রহমান স্বপন, ফতুল্লা থানা আওয়ামীলীগের কৃষি বিষয়ক সম্পাদক ইউনুছ মিয়া, কুতুবপুর ইউনিয়ন আওয়ামীলীগের সভাপতি জসিম উদ্দিন, ফতুল্লা থানা সেচ্ছাসেবক লীগের সভাপতি ফরিদ আহম্মেদ লিটন, থানা ছাত্রলীগের সভাপতি আবু মো: শরীফুল হকসহ অন্যান্য নেতৃবৃন্দ।

আরও কিছু খবর………।

বিতর্কিত তবুও আলোচিত গিয়াস ও নূর হোসেন এপিঠ ওপিঠ

সাত খুন মামলার প্রধান আসামী নূর হোসেন ও বিএনপির সাবেক এমপি মুহাম্মদ গিয়াসউদ্দীন হলেন এপিঠ ওপিঠ। দুজনেই রাজনীতিতে পল্টিবাজ। সেই সঙ্গে দুজনই দখলবাজিতে ওস্তাদ। নূর হোসেন এক সঙ্গে সাত খুন মামলার আসামী হলেও গিয়াসউদ্দীন আহম্মেদও বিভিন্ন সময় বিভিন্ন খুনের মামলা হয়েছিলেন আসামী। বিএনপির রাজনৈতিক কর্মকান্ডে সক্রিয় না থাকলেও গিয়াসউদ্দীন বেশকটি মামলার আসামী হয়েছেন। নূর হোসেন সিদ্ধিরগঞ্জ থানা আওয়ামীলীগের সিনিয়র সহ-সভাপতি ও আর গিয়াসউদ্দিন বিএনপির সাবেক সংসদ সদস্য। নূর হোসেন ছিলেন এক সময় বিএনপিতে আর গিয়াসউদ্দিন ছিলেন আওয়ামীলীগের রাজনীতিতে। দুইজনই দুদিকে পল্টি দিয়েছেন। বিতর্কেও দুজন সমান তালে।

জানা গেছে, নারায়ণগঞ্জে বিএনপির রাজনৈতিক কর্মকান্ডে সক্রিয় না থাকলেও গিয়াসউদ্দীন আহম্মেদ বরাবরই আলোচনায় থাকেন। নারায়ণগঞ্জ বিএনপির পদধারী অনেক নেতাদের চোখের নয়নও গিয়াস। গিয়াসউদ্দীন রাজনীতিতে সক্রিয় না থাকলেও তার গুণকীর্তন করার মত বিএনপির অনেক নেতাই রয়েছেন। ১/১১ এর সময় যদিও গিয়াসউদ্দীন ছিলেন জেলে। জেল থেকে বের হয়ে তারপর রাজনীতিতে পুরোদমে আসতে দেখা যায়নি গিয়াসকে। যদিও দশম জাতীয় সংসদ নির্বাচনের পূর্বে কখনও সোনারগাঁয়ে বা কখনও ফতুল্লা সিদ্ধিরগঞ্জে শোডাউন করেছিলেন গিয়াস। তবে ৪ দলীয় জোট সরকার আমলে জেলা বিএনপির বর্তমান সভাপতি অ্যাডভোকেট তৈমূর আলম খন্দকারের আপন ভাই ব্যবসায়ী নেতা সাব্বির আলম খন্দকার হত্যা মামলায় আসামী হয়েছিলেন গিয়াস। এছাড়াও সিদ্ধিরগঞ্জের বেশকটি মামলায় তিনি আসামী হয়েছিলেন। বর্তমানে ওলামালীগ নেতা আমির ভান্ডারীর ছেলে মোরসালিন হত্যা মামলায় আসামী রয়েছেন। যদিও ইতিপুর্বে এ মামলার অভিযোগ পত্র থেকে অব্যাহতি পেয়েছিলেন গিয়াস ও তার তিন ছেলে। তবে এ অভিযোগ পত্রের বিরুদ্ধে না রাজি পিটিশন দিয়েছেন বাদী।

সুতরাং এখনও গিয়াস ও তার তিন ছেলে মামলায় ঝুলন্ত অবস্থায়। এছাড়াও সিদ্ধিরগঞ্জে হেফাজত ইসলামের তান্ডবের ঘটনায় বেশকটি মামলায় আসামী রয়েছেন গিয়াস। গিয়াসউদ্দীনকে নিয়ে কখনও জেলা বিএনপির কমিটি বা কখনও মহানগর বিএনপির কমিটিতে নেতৃত্ব পাচ্ছেন এমন গুঞ্জন সব সময় কর্মীদের মধ্যে। রাজপথে না থাকলেও এ নেতা কর্মীদের মধ্যে প্রভাব বিস্তার করে আছেন। তবে কৃষকলীগ থেকে বিএনপিতে যোগদান করেই বিএনপির মনোনয়ন পেয়েছিলেন গিয়াস। এমপিও হয়েছিলেন তিনি। সিদ্ধিরগঞ্জের সকল বৈধ অবৈধ সেক্টর নিয়ন্ত্রনে ছিলেন গিয়াস। বিতর্কেরও জন্ম দিয়েছিলেন। আর নূর হোসেনকে এমপি হতে হয়নি। তিনি সিটি কর্পোরেশনের একজন ওয়ার্ড কাউন্সিলর হয়েই সরকারের বড় বড় কর্তাদের পোষ মানিয়েছেন। এসপি ডিসিও তার সাথে হাত মিলাতে দৌড়ে গিয়েছিলেন। সিদ্ধিরগঞ্জের সকল বৈধ অবৈধ সেক্টর দখলে নেয় নূর হোসেন। চলাফেরায় ছিল রাজকীয়। কিন্তু সাত খুন মামলার ঘটনায় আসামী হয়ে এখন কারাগারে। অনেক অপকর্মের হোতা নূর হোসেনের করুন পরিনত দেখার অপেক্ষায় শুধু নারায়ণগঞ্জবাসী নয় দেশবাসীও। গিয়াসউদ্দীনও ১/১১ এর সময় দীর্ঘদিন কারাগারে ছিলেন। যদিও সাব্বির হত্যা মামলা থেকেও অব্যাহতি পেয়েছিলেন গিয়াস। এদিকে মোরসালিন হত্যা মামলা নিয়ে বেরাজালে রয়েছেন গিয়াস। বৃহস্পতিবারও তার তিন ছেলেকে নিয়ে আদালতে হাজিরা দিয়েছেন।

অপেক্ষায় ঘোষিত চমক<<শিষ্যকে অনুসরন গুরু আনোয়ারের

‘চমক’ ইস্যুতে এবার শিষ্য নারায়ণগঞ্জ-৪ আসনের সাংসদ শামীম ওসমানের  পথ অনুসরন করলেন গুরু মহানগর আওয়ামীলীগের সভাপতি আলহাজ্ব আনোয়ার হোসেন। জঙ্গিবাদ প্রতিরোধে বর্ধিত সভা থেকে ‘চমক’ আসছে বলে গণমাধ্যম কর্মীদের অবহিত করলেও বাস্তবে সেই সভা থেকে প্রত্যাশিত আনোয়ার হোসেনের ঘোষিত ‘চমক’ চমকই রয়ে গেছে বলে মনে করছেন রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা।

কেননা নারায়ণগঞ্জ রাইফেলস্ ক্লাবে শনিবার মহানগর আওয়ামীলীগের অনুষ্ঠিত বর্ধিত সভা থেকে জঙ্গিবাদ নির্মূলে নেতাকর্মীদের করনীয় বা আসন্ন সিটি কর্পোরেশন নির্বাচন প্রসঙ্গে চমকীয় কোন ঘোষণাই দেননি নেতারা। তাই সিটি নির্বাচনে দলীয় প্রার্থীর নাম ঘোষণার মত জঙ্গিবাদ প্রতিরোধে ঘোষণাকৃত চমক দেখতে আবারো অপেক্ষায় রইলেন নেতাকর্মীরা।

প্রসঙ্গত, জঙ্গিবাদ প্রতিরোধে নারায়ণগঞ্জে কি করছে আওয়ামীলীগ এমন প্রশ্নের জবাবে গত ১৫ জুলাই এ প্রতিবেদককে মহানগর আওয়ামীলীগের সভাপতি আলহাজ্ব আনোয়ার হোসেন জানিয়েছিলেন, সন্ত্রাস ও জঙ্গিবাদ নির্মূলে করনীয় বিষয়ে শনিবারের নীতিনির্ধারনী কমিটির সভা থেকে ‘চমক’ আসছে। তবে জঙ্গিবাদ নির্মূলে কি চমক আসছে এ ব্যাপারে জানতে চাইলে তখন তিনি সেজন্য একটু অপেক্ষা করতে বলেন। কিন্তু বাস্তবে এদিন সভা হলেও ঘোষণা হয়নি কোন ‘চমক’!

কেননা সভা শেষে চমকের ব্যাপারে আনোয়ার হোসেন সাংবাদিকদের ব্রিফ করার কথা থাকলেও তিনি কিছু না বলায় বক্তব্য রাখেন সাংসদ শামীম ওসমান। তিনি বলেন, আওয়ামীলীগের কর্মী বাহিনী ছাড়া প্রশাসনের একার পক্ষে জঙ্গিবাদ নির্মূল সম্ভব নয়। দলের মধ্যে থাকা মোস্তাক মার্কা মুখোশধারী নেতাদেরকে নিয়েই তার যত ভয়! তাই জঙ্গি প্রতিরোধে প্রশাসনের পাশাপাশি আওয়ামীলীগের কর্মীদেরও মাঠে নামার নির্দেশনা দেন তিনি।

এরআগে, নারায়ণগঞ্জ সিটি কর্পোরেশন নির্বাচনে আওয়ামীলীগের মেয়র প্রার্থীর নাম ঘোষণায় ‘চমক’ আছে বলে দলীয় নেতাকর্মীদের উজ্জীবিত করে রেখেছিলেন সাংসদ শামীম ওসমান। যিনি নাসিক মেয়র পদে প্রার্থী ঘোষনার জন্য কয়েকমাস আগে থেকেই বিভিন্ন সভা সমাবেশে বক্তব্য দিয়ে আসছেন। ২৬ মার্চ স্বাধীনতা দিবসের আলোচনা সভায় তিনি বলেছিলেন, ‘চমক’ আছে। সাইনবোর্ডে নির্মিতব্য “ধন্য পিতার ধন্যি মেয়ে” ভাস্কর্য উদ্বোধনের দিন বিশাল সমাবেশে মেয়র প্রার্থীও নাম ঘোষনা করা হবে। কিন্তু অনিবার্য কারনবশ:ত ভাস্কর্য উদ্বোধনের অনুষ্ঠান বাতিল করায় সেদিনও শামীম ওসমানের সে ঘোষনা অসমাপ্ত রয়ে যায়। এরপর মেয়র পদে নৌকার প্রার্থী হওয়ার স্বপ্নে বিভোর মহানগর আওয়ামীলীগের সভাপতি আনোয়ার হোসেন এই রমজানে নিজ উদ্যোগে নারায়ণগঞ্জ ক্লাবে ইফতার পার্টির আয়োজন করেন সাংসদ শামীম ওসমানের মুখ থেকে মেয়র পদে আওয়ামীলীগ থেকে নিজের প্রার্থীতার ঘোষণা শোনার আশায়। কিন্তু সাংসদ সেদিনও বিষয়টি কৌশলে এড়িয়ে যান। ফলে আনোয়ার হোসেনের দাবীকৃত শিষ্য শামীম ওসমানের সেই ‘চমক’ চমক হিসেবেই রয়ে যায়।

নেতার নামে ইজারা রাতে টোল হয়ে যায় দ্বিগুণ

নারায়ণগঞ্জের নবীগঞ্জ খেয়াঘাটে অনিয়ম, বিশৃঙ্খলা আর যাত্রী হয়রানী চরম আকার ধারন করেছে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। ক্ষমতাশীন দলের এক প্রভাবশালী নেতার নাম ভাঙ্গিয়ে ইজারাদারের লোকেরা যাত্রীদের কাছ থেকে ইচ্ছেমতো ভাড়া আদায় করছে। কেউ প্রতিবাদ করলে সে নেতার ভয় দেখিয়ে তাদেরকে হুমকি প্রদানের মতো ঘটনা ঘটছে। নারায়ণগঞ্জ-৫ আসনের সংসদ সদস্য একেএম সেলিম ওসমানের কল্যাণে যেখানে বন্দর খেয়াঘাট টোল ফ্রি হয়ে গেছে সেখানে নবীগঞ্জ ঘাট দিয়ে পারাপার হওয়া যাত্রীরা ইজারাদারদের হাতে জিম্মি হয়ে আছে। তাই ভুক্তভোগী যাত্রীরা ইজারাদারদের স্বেচ্ছাচারিতার হাত থেকে বচাচতে সাংসদ সেলিম ওসমানের দৃষ্টি আকর্ষণ করেছেন।

সরেজমিনে রোববার (১৭ জলাই) নবীগঞ্জ খেয়াঘাট পরিদর্শণ করে মিলেছে অভিযোগের সত্যতা। এই নদীপথে পার হওয়া নিয়মিত যাত্রীদের কাছ থেকে জানা গেলো, জনপ্রতি টোল ১ টাকা হলেও যাত্রীভেদে আদায় করা হচ্ছে ২ টাকা। রাত নয়টার পরে নেওয়া হচ্ছে ৫ টাকা আর দশটার পরে নেওয়া হচ্ছে ১০ টাকা। নিয়মিত দুইটি ট্রলারের পাশাপাশি ইজারাদাররা আরো ৫টি ট্রলার চালাচ্ছে। আর সে ট্রলারে উঠলে ঘাটভাড়া দেওয়ার পরেও ট্রলার ভাড়া দিতে হচ্ছে আরো ২ টাকা। আর এ নিয়ে প্রায়ই যাত্রীদের সাথে ইজারাদারের লোকদের সাথে হচ্ছে বাক-বিতন্ডা। বাক বিতন্ডার এক পর্যায়ে ‘এই ঘাট আওয়ামীলীগ নেতা জাকিরুল আলম হেলালের, কেউ কিছু বললে খবর আছে’ বলে ইজারাদারের লোকেরা যাত্রীদেরকে হুমকি প্রদান করছে। ঘাটের সামনে কচুরীপানায় ট্রলার, নৌকা আটকে গেলেও তা নিরসনের কোন চেষ্টাই করছে না ইজারাদারের লোকেরা। তাছাড়া ঘাটের দুই প্রান্তে কাঠ ও বাশ দিয়ে নির্মিত জেটি দুটি খুবই নড়বরে। ফলে ট্রলারে উঠতে গিয়ে প্রায়ই যাত্রীদের কেউ কেউ সেই জেটি থেকে পরে যাচ্ছেন নদীতে। কিন্তু এসব সমস্যা সমাধানে কতৃপক্ষের কোন ভ্রুক্ষেপই নেই। বরং যাত্রীদের কাছ থেকে আদায় করা হচ্ছে অতিরিক্ত ভাড়া।

আর তাই ইজারাদারদের হাত থেকে পরিত্রাণ পেতে বন্দর ঘাটের মতো নবীগঞ্জ ঘাটও টোল ফ্রি করার জন্য সাংসদ সেলিম ওসমানের সু-দৃষ্টি কামনা করেছেন ভুক্তভোগী যাত্রীরা।
এই ঘাট দিয়ে নিয়মিত পার হওয়া গার্মেন্টস্কর্মী আকতার হোসেন জানান, আমরাতো সাংসদ সেলিম ওসমানে এলাকার লোক। তিনি বন্দরের মানুষের কথা চিন্তা করে সেই ঘাট ফ্রি করে দিয়েছে। এবার আমাদের নবীগঞ্জের মানুষের জন্য এই ঘাটটিও যদি তিনি ফ্রি করে দিতেন, তবে আমরা খুবই উপকৃত হতাম। ইজারাদারদের হাতে আমাদেরকে আর নাজেহাল হতে হতো না।
নবীগঞ্জের অপর এক অধিবাসী জানান, ঘাটে টাকা দেওয়ার পরও ট্রলারে জনপ্রতি ২ টাকা করে নেওয়া হচ্ছে। ঘাটে টাকা দিলে আবার ট্রলারে টাকা দিতে হবে কেন? এই ঘাট নাকি আওয়ামীলীগ নেতা হেলালের। ঘাটের লোকজন এই নেতার কথা বলে আমাদেরকে ভয় দেখায়। আমরা আমাদের এলাকার জনপ্রতিনিধি সেলিম ওসমানের কাছে এর প্রতিকার চাই।

এ বিষয়ে মহানগর আওয়ামীলীগের সাংগঠনিক সম্পাদক জাকিরুল আলম হেলালের মুঠোফোনে যোগাযোগ করা হলে তিনি পুরো বিষয়টি অস্বীকার করে বলেন, আমি এ ঘাটের কেউ না। এ ঘাট ইজারা নিয়েছে কামাল হাজী নামে এক লোক। কেউ আমার নাম বলে থাকলে সে অন্যায় করেছে।

না’গঞ্জে কয়েক ভাগে বিভক্ত বিএনপি<<কোন্দল বাড়ছেই

নারায়নগঞ্জে বিএনপি এখন কয়েক ভাগে বিভক্ত। দলের র্শীষ নেতাদের মধ্যে কোন্দল ও  কাদা ছোড়াছুড়ি এখন প্রকাশ্যে রূপ নিয়েছে। কিছু কিছু নেতা আবার সরকার দলীয় নেতাকর্মীদের সাথে আঁতাত করে প্রকাশ্যে চলাফেরা করে নিজেদের নির্যাতিত দাবী করছেন।এ কারনে দলের মধ্যে দিন দিন কোন্দল বেড়েই চলছে। যার ফলে দলের শীর্ষ নেতাদের সাথে তৃনমূল কর্মীদের দূরত্ব বেড়েছে। এ অবস্থা চলতে থাকলে আগামী দিনের আন্দোলনে নারায়ণগঞ্জের রাজপথে নেতাকর্মী খুজে পাওয়া যাবে না এমন অভিযোগ করেছেন তৃণমূল পর্যায়ের নেতাকর্মীরা ।

তৃনমূল নেতকর্মীরা বলেন, জেলা বিএনপি সহ এর সহযোগী সংগঠনের অনেক নেতা যারা সরকার পতনের সময়, সরকার দলীয় এমপিদের সাথে প্রকাশ্যে মিটিং করছে। কেউ আবার নিজের ব্যবসা ঠিক রাখতে আন্দোলনে নামেন নি। এখন সে সকল নেতাকর্মীরা নিজেদের নির্যাতিত বলে দলের পদ-পদবীর জন্য কেন্দ্রীয় নেতাদের কাছে যাতায়াত করছেন। আর যারা রাজপথে আন্দোলন সংগ্রাম করতে গিয়ে হামলা, মামলার স্বীকার হয়েছে তাদের মূল্যায়ন না করা হলে দলের মধ্যে আরও কোন্দল বৃদ্ধি পেতে পারে। ফলে কেন্দ্রীয় নেতাদের উচিৎ দ্রুততম সময়ের মধ্যে নারায়ণগঞ্জের বিষয়ে তৃনমূল পর্যায়ের নেতাকর্মীদের সাথে মতবিনিময় করে কোন্দল নিরসনের উদ্য্গে গ্রহন করা। তবেই রাজপথে আন্দোলন সংগ্রামে র্দীঘ দিন যারা নির্যাতিত হয়েছে তারা সঠিক মূল্যায়ন পাবে।

এ বিষয়ে জেলা বিএনপির সভাপতি অ্যাডভোকেট তৈমূর আলম খন্দকার বলেন, দলের ঐক্যের জন্য আমি সর্বোচ্চ ছাড় দিতে রাজি আছি। আমি চাই নারায়নগঞ্জের সকল নেতাকর্মী ঐক্যবদ্ধ হয়ে কাজ করুক। আমি কোন পদে থাকতে চাই না, আমাকে বিএনপির একজন কর্মী হিসেবে রাখলেই হবে। দলের চেয়ারপাসন দেশনেত্রী বেমগ খালেদা জিয়া আমকে অনেক দিয়েছে, আমি তার কাছে সারা জীবন ঋনী থাকবো । আমি সকল নেতাকর্মীদের কাছে আহ্বান করবো সকল ভেদাভেদ ভুলে আপনার জিয়া পরিবারের পাশে দাড়ান, এখন দাড়ানোর সময় তাই সকলে ঐক্যবদ্ধ হয়ে কাজ করতে হবে। সামনে সিটি কর্পোরেশন নির্বাচন দল যাবে মনোনয়ন দিবে আমার সবাই ঐক্যবদ্ধ হয়ে দলের প্রার্থীকে বিজয়ী করবো । আমি সিটি নির্বাচন করবো না আগেই বলে দিয়েছি, তারপরে দলের তৃনমূল পর্যায়ের নেতাকর্মী এবং দলের হাইকমান্ড যাকে মনোয়ন দিবে সেটা যেই হউক আমি তার পক্ষে কাজ করবো ।

নগর বিএনরি সাধারন সম্পাদক এটি এম কামাল বলেন, আমি সব সময় দলের মধ্যে ঐক্য চেয়েছি এবং সে চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছি। বিএনপি একটি বড় দল সে দলে মত পার্থক্য থাকতে পারে, আমি আগামী সিটি নির্বাচনের আগে দলের সকল র্শীষ নেতাদের কাছে আহ্বান করবো আপনার এক সাথে বসে র্দীঘ দিনের জমে থাকা সকল কষ্ট দুঃখকে বিলীন করে দলের জন্য ঐক্যবদ্ধ হন। না হলে নারায়ণগঞ্জে বিএনপি অস্তিত্ব রক্ষা করা কষ্ট হয়ে যাবে, আমি তৃনমূল নেতাকর্মীদের নিয়ে কাজ মাঠে কাজ করছি, তারা রাজপথে নামার জন্য প্রস্তুত শুধু মাত্র নেত্রীর নির্দেশের অপেক্ষায় আছে। আমি দলের জন্য সব সময় রাজপথে ছিলাম হামলার মামলা হুমকি দিয়ে আমাকে থামিয়ে রাখতে পারেনি আর আগামী দিনেও পারবে না।

না’গঞ্জ মাদকের রাম রাজ্য!

প্রজন্মের পর প্রজন্ম ধ্বংস করে চলেছে যে মাদক সেই মাদক বিক্রির কোটি কোটি টাকার সম্পদের ভুড়ি গজাচ্ছে অবিরত। চিহ্নিত মানুষ, মানুষ ছেড়ে যান ও যন্ত্রের সঙ্গ বাড়াচ্ছে এবং গতি পাচ্ছে মাদকের হোম সার্ভিস। অভিভাবকত্বের দেউলিয়াত্বে না’গঞ্জ যেন মাদকের “রাম রাজ্য” !

তথ্যমতে, না’গঞ্জ জেলার প্রত্যন্ত এলাকা জুড়ে মাদকের সিন্ডিক্যাট এখনো সক্রিয় এবং  ভয়াবহ মাদকের সংস্পর্শে চিহ্নিত সিন্ডিক্যাট ক্রমশ ভয়াবহ হয়ে উঠচ্ছে । আইন শৃঙ্খলা বাহিনীর তৎপরতায় যৎকিঞ্চিত মাদক জব্দ হলেও বহুগুণ বেশি ছড়াচ্ছে মাদক বাজারে । চিহ্নিত পাইকারি মাদক বিক্রেতারা সংশ্লিষ্ট এলাকার প্রভাবশালীদের ছত্রছায়ায়, অসাধু পুলিশদের লভ্যাংশের ভাগ দিয়েই অবিরত মাদক ব্যবসা প্রসার করে চলেছেন বলে পত্র পত্রিকায় খবর প্রকাশ হলেও অদ্যাবধি অভিযুক্ত শ্রেণির কাউকে গ্রেফতার বা জিজ্ঞাসাবাদের খবর পাওয়া যায়নি, দু’চার জন ক্যারিয়ার আটক ছাড়া । তবে নিরীহ লোকজন হয়রানীর খবর পাওয়া যায় । অথচ প্রশাসনের নাকের ডগা দিয়ে হেরোইন, প্যাথিডিন, গাজা, ফ্যান্সিডিল ও ইয়াবা নামক মাদকের ছোট বড় অসংখ্য চালান জেলার নাভি হতে প্রান্তর ব্যাপী ছড়িয়ে থাকা পাইকারি ও খুচরা বিক্রেতাদের কাছে পৌছে দেয়া হচ্ছে ।

অতঃপর “হোম সার্ভিস” এর মাধ্যমে মাদক ঢুকে যাচ্ছে ঘরে ঘরে । আর সহজে বহনযোগ্য হওয়ায় আগেই সহজলভ্য হয়ে আছে নিষিদ্ধ ইয়াবা ট্যাবলেট এ কথা বলার অপেক্ষা রাখে না । শত বর্ষের প্রাচীন সমৃদ্ধ ঐতিহ্যের নারায়নগঞ্জকে “ডিডি” বা “ডাবল ডি” অর্থাৎ ড্রাগস্‌ ডিস্ট্রিক বলে কটাক্ষ করা হচ্ছে। না’গঞ্জবাসি এধরনের কলঙ্ক-কোড মেনে নিতে নারাজ বলে জানা গেছে ।

সূত্র জানায়, হাতে গোনা মুষ্ঠিমেয় ক’জন পাইকারি বিক্রেতা ঈদ বা পূজা পার্বণ উপলক্ষ্যে স্পেশ্যাল জোট বেঁধে না’গঞ্জ সদর, বন্দর, রূপগঞ্জ, আড়াইহাজার, সোনারগাঁ, ফতুল্লা, সিদ্ধিরগঞ্জ‘র প্রত্যন্ত অ ল বিস্তৃত পুরা না’গঞ্জ জেলার মাদক বাজার নিয়ন্ত্রন করতে অন্য সময়ের চাইতে ক্রমশঃ বহুগুণ বেশী অর্থ বিনিয়োগ করে চলেছেন, যাদের অনেকেই চিহ্নিত ।
সূত্র আরো জানায়, মাদকের এমন “রাম রাজ্য”-এ ওষ্ঠাগত প্রানধারি না’গঞ্জবাসির চায়ের টেবিলে ক্ষোভের ঝড় উঠেছে জেলা প্রশাসনে ঘুমিয়ে থাকা বা অন্য কর্মে বন্দী হয়ে পড়া সুশিক্ষিত ক্যাডারদের শুভ ইচ্ছা সম্পর্কে ।

না’গঞ্জ সিটি কর্পোরেশনে নির্মাণাধীন বঙ্গমাতা ফজিলাতুন নেছা লেকের পাড়ে “চুনকা ক্যান্টিনে” চা পান কালে এ প্রসঙ্গে স্থানীয় একজন মুরব্বী অবাক সুরে বলেন, “বন্দুক ওয়ালা বা টেকা ওয়ালা একটা মাদক বেপারীরেও প্রশাসন চিনতে পারেন নাই এত্তদিনে ?  এইডা কুন কতা অইলো ? আরে ভাই, ম-তে মাদক, ম-তে মৃত্যু এ কতাতো বেবাকতেরই জানা ! তারপরও মাদকের হাত ধরে মৃত্যুর সহযাত্রা দেখতে হবে প্রজন্মান্তর  ? ইহা দমন জরুরী ।

দ্যা গ্লোবাল নিউজ ২৪ ডটকম/রিপন/ডেরি ১৭/০৭/২০১৬

Related posts