September 21, 2018

জঙ্গিবাদ, আমাদের ঐতিহ্য ও এবারের পহেলা বৈশাখ

অধ্যাপক রবীন্দ্র কুমার বক্সীঃ বিশ্বের ছোট-বড় সকল জাতি নিজস্ব ঐতিহ্য অনুযায়ী শুভ নববর্ষ উদ্যাপন করে থাকে। বাংলাদেশের নৃগোষ্ঠী সম্প্রদায় বোশেখী উৎসবের মধ্য দিয়ে নববর্ষের অনুষ্ঠান শুরু করে।

সারাবিশ্বের খ্রিস্টান ধর্মাবলম্বিরা ৩১ ডেিসম্বর রাত ১২:০১ মিঃ আতশ বাজি ফুটিয়ে ইংরেজি নববর্ষের শুভ সূচনা করে থাকে। রাতভর নাচ, গান হৈ- হুল্লোড় আর ক্লাব রেস্তোরাঁয় গিয়ে নেশাগ্রস্ত হয়ে উম্মাাদনা সৃষ্টি করে নববর্ষকে বরন করে নেয়। অভিজাত বাঙালি পরিবারের কিছুসংখ্যক তরুন-তরুনীকেও ইংরেজি নববর্ষের রাতে বেসামাল অবস্থায় রাস্তাঘাটে-দেখা যায়। এজন্য পুলিশের এ রাতে রাস্তা-ঘাটে ও ক্লাব-রেস্তোরাঁয় বিশেষ নজরদারি রাখতে হয়। প্রাত্যহিক জীবনে বিশ্বের সাথে তাল মিলিয়ে চলার জন্য ইংরেজি ভাষা জানার প্রয়োজন আছে। কিন্তু আমাদের হৃদয়ে থাকবে বাংলাভাষা এবং আমাদের উৎসব হবে বাংলা নববর্ষের উৎসব। ইংরেজি নববর্ষ নিয়ে বাঙালির অতি মাত্রায় মাতামাতি নিজস্ব সংস্কৃতির দীনতারই পরিচয় বহন করে।

পহেলা বৈশাখ বাংলা নববর্ষের শুভ প্রথম দিন। সূর্যোদয়ের সাথে-সাথে বাংলা নববর্ষের অনুষ্ঠান শুরু হয়ে যায়। বাঙালির নববর্ষ উদ্যাপনে অস্থিরতা কিংবা উগ্রতার কোনো স্থান নেই। অনুষ্ঠানের মধ্যে আছে  নির্মলতা আর প্রানের উচ্ছাস। বাঙালি সমাজ সাড়ম্বরে নানান অনুষ্ঠানের মধ্যে দিয়ে এ দিনটি পালন করে থাকে। হৃদয় দিয়ে বরন করে নেয় নববর্ষকে।

নববর্ষের প্রথম দিন পহেলা বৈশাখের খুব ভোরে ঐতিহ্যবাহী সাংস্কৃতিক সংগঠন ছায়ানটের শিল্পীরা রমনার বটমূলে চিরায়ত প্রথা অনুযায়ী বিশ্বকবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের ‘এসো হে বৈশাখ এসো-এসো’ আগমনী গান গেয়ে নববর্ষকে বরণ করে নেয়। এ দিন রমনার বটমূলে ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে মানুষের ঢল নামে। একে অপরকে আলিঙ্গন করে নববর্ষের শুভেচ্ছা বিনিময় করে। এদিন কারো সাথে কোনো ভেদাভেদ কিংবা হিংসা-বিদ্বেষ থাকেনা। নগর কেন্দ্রিক বাঙালিরা নববর্ষের প্রথম দিনের প্রথম প্রহরে প্রানের উচ্ছ্বাসে বটমূলে এসে একাকার হয়ে যায়। রবীন্দ্রনাথের ভাষায় বলতে হয়, ‘ এ যেন এক মহা মিলন ক্ষেত্র’। স্বৈরাচারী রাষ্ট্রনায়ক আইয়ুব খানের শাসনামলে রবীন্দ্রনাথকে বাঙালি জাতিসত্ত্বার অস্তিত্ব থেকে মুছে ফেলার ব্যর্থ ষড়যন্ত্র শুরু হয়। আইয়ুব খানের আজ্ঞাবহ তৎকালীন পূর্ব পাকিস্তানের গভর্নর মোনায়েম খান রবীন্দ্র জন্ম শত-বার্ষিকী পালনের ক্ষেত্রে প্রচন্ড ভাবে বিরোধিতা করেন । কিন্তু এদেশের প্রগতিশীল বুদ্ধিজীবী সমাজ ও সংস্কৃতি মনস্ক মানুষ সকল বাধা বিপত্তিকে উপেক্ষা করে জাঁকজমক ভাবে রবীন্দ্র জন্ম শত-বার্ষিকী পালন করেন । সে সময় ছায়ানট প্রতিষ্ঠানটির কর্মকর্তাবৃন্দ সরকারের বিরুদ্ধে প্রতিবাদী হয়ে বর্ষবরন অনুষ্ঠানের সূচনা করেন । সে সময় থেকে অদ্যাবাধি ঐতিহ্যবাহী সংগঠনটি অত্যন্ত জাঁকজমকের সাথে বর্ষবরন অনুষ্ঠান অব্যাহত রেখেছে। কেবল স্বাধীনতা যুদ্ধের বছরটিতে বর্ষবরন অনুষ্ঠান করা সম্ভবপর হয়নি।

বাঙালি সংস্কৃতির বিরুদ্ধে মৌলবাদী গোষ্ঠির ষড়যন্ত্র এখনও চলছে। এরই ধারাবাহিকতায় ১৪০৮ (২০০১) সালের পহেলা বৈশাখ বর্ষবরন অনুষ্ঠান চলাকলীন দেশের অপশক্তি বর্বরোচিত ভাবে বোমা হামলা চালিয়ে কয়েকজন নিরীহ দর্শককে হত্যা করে এবং অনেককে আহত করে যাঁদের মধ্যে কেউ-কেউ চিরতরে পঙ্গু হয়ে যান। এ নৃশংস ঘটনায় বাংলাদেশের বিবেকবান মানুষ স্তাম্ভিত হয়ে যান। সারাদেশের মানুষ এ জঘন্য ঘটনার বিরুদ্ধে ধিক্কার জােিনয়েছিল। আওয়ামীলীগ প্রধান শেখ হাসিনা ও বিএনপির চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া কঠোর ভাষায় এ হত্যাকান্ডের নিন্দা জানিয়েছিল। কিন্তু দুঃখজনক হলেও বলতে হয়, দেশের বিচার হীনতার সংস্কৃতির কারনে দীর্ঘ দেঢ়যুগ পরেও এ নির্মম হত্যাকান্ডের বিচার সম্পন্ন হয়নি। কিন্তু তাতে ছায়ানটের শিল্পীরা হতোদ্যম হন নি , তাঁরা প্রতিবাদী কন্ঠে গান গেয়ে নগর কেন্দ্রিক বাঙালি সমাজকে আবারও রমনার বটমূলে মিলন মেলায় নিয়ে আসতে সমর্থ্য হয়েছেন। শির উঁচু করে দাড়িঁয়ে প্রতিবাদী হতে বাঙালির হৃদয়ে সাহস জুগিয়ে চলেছে। এ হলো ছায়ানটের মহান কীর্তি। বাঙালি জাতি ছায়ানট প্রতিষ্ঠানটির কাছে চির কৃতজ্ঞ থাকবে।

ছায়ানটের পাশাপাশি বিভিন্ন সাংস্কৃতিক ও শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের পক্ষ থেকেও রাজধানীসহ সারা দেশে ঘটা করে বর্ষবরন অনুষ্ঠান পলিত হয় । উদীচী, বুলবুল ললিত কলা একাডেমি, ঋষিজ শিল্পী গোষ্ঠী সহ বিভিন্ন সংগঠনের মনকাড়া অনুষ্ঠান উল্লেখ করার মতো। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের চারুকলা ইনস্টিটিউটের পক্ষ থেকে চারু শিল্পীরা বিভিন্ন ধরনের মুখোশ পরে শান্তির শ্বেত-কপোত হাতে নিয়ে রাজধানীতে বের করে বর্ণঢ্য ও নয়নাভিরাম মঙ্গলশোভাযাত্রা যা নগরবাসীর মনকে গভীর ভাবে আলোড়িত করে। কিন্তু এবার পুলিশের পক্ষ থেকে নিরাপত্তার অজুহাত দেখিয়ে মুখোশ পরা নিষিদ্ধ করা হয়েছে। এথেকে বোঝা যায় মৌলবাদীদের চোরাগোপ্তা আক্রমনের ভয়ে আমাদের আচার অনুষ্ঠান ক্রমশ সঙ্কুচিত হয়ে আসছে। এছাড়াও পুলিশের পক্ষ থেকে বিকাল ৫ টার পরে উন্মুক্ত স্থানে কোনো অনুষ্ঠান না করার জন্য জনগনকে পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। গত বছর পহেলা বৈশাখে সৌহরাওয়ার্দ্দী উদ্যানে মেয়েদের ওপর যৌন হয়রাণির অপরাধে পুলিশ প্রকৃত দোষীকে গ্রেফতার করে আইনে সোপর্দ করতে না পারার ব্যর্থতা ঢাকার জন্যই বিভিন্ন নিষেধাজ্ঞা জারি করে জনগনের দৃষ্টি অন্যদিকে ফিরেয়ে নেওয়ার চেষ্টা করছে বলে মনে হচ্ছে। বাংলা নববর্ষ অনুষ্ঠান ঘিরে আইন শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী যে সব নির্দেশনা জারি করেছে দেশের বিশিষ্ট সংস্কৃতি কর্মীরা এতে বিরূপ প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন। সাংস্কৃতিক ব্যক্তিদের অভিমত এ সব নির্দেশনা জারি করে নতজানু নীতিই অনুসরন করা হচ্ছে। পাশাপাশি সাধারন মানুষকে আহেতুক আতঙ্কের মধ্যে ঠেলে দেয়া হচ্ছে । তবে সরকার এবার থেকে নববর্ষের উৎসব ভাতা চালু করে সব বাঙালিকে এক জায়গায় মিলিত করার চেষ্টা করছে। নিঃসন্দেহে এটি সরকারের একটি প্রশংসনীয় উদ্যোগ।

পহেলা বৈশাখের সকাল বেলায় বাংলা একাডেমির সবুজ চত্বরে কবিতাপাঠের আসর বসে। দেশের প্রথিতযশা কবিরা মানুষের কাছে তাঁদের কবিতায় নববর্ষকে অধিক সুন্দর ও মহিমান্বিত করে তোলেন।
নগর কেন্দ্রিক বাঙালির নববর্ষ উদযাপনের আনুষ্ঠানিকতা থেকে গ্রামীন সমাজে নববর্ষকে বরন করে নেওয়ার আনুষ্ঠানিকতায় কিছুটা ভিন্নমাত্রা পরিলক্ষিত হয়।

পহেলা বৈশাখকে কেন্দ্র করে গ্রামীন জনপদে সারা মাস ধরেই চলে হরেক রকমের অনুষ্ঠান। এ উপলক্ষে গ্রামের বিভিন্ন স্থানে বটবৃক্ষের নিচে বসে বৈশাখী মেলা। এই বৈশাখী মেলা নববর্ষের অনুষ্ঠানকে আনন্দময় ও উৎসবমুখর করে তোলে । এটা মূলত: সর্বজনীন লোকজ মেলা। এটি বাঙালির জনজীবনের অন্যতম একটি প্রধান আকর্ষন ও মিলন স্থান। বিভিন্ন কৃষিজাত পণ্য, কারুপন্য, লোক শিল্পজাত পন্য, হরেক রকমের কুটির শিল্পের সামগ্রী মেলায় পাওয়া যায়। এছাড়াও মাটির তৈরি খেলনা, হরেক রকমের প্রসাধন সামগ্রী, নানান রকমের মিষ্টান্নজাত দ্রব্য মেলার আকর্ষন কে বৃদ্ধি করে তোলে। এছাড়াও নাগরদোলা, পুতুল নাচ, সার্কাস, ঘোড়াদৈাড়, ষাঁড়ের লড়াই অনুষ্ঠান মেলার অন্যতম আকর্ষন। পুরো বৈশাখ মাস ধরেই গ্রামীন জনপদে বর্ষবরনের অনুষ্ঠান চলতে থাকে।

মুগল সম্রাট আকবরের শাসনামলে বাংলা নববর্ষের প্রবর্তন করা হয়। আকবরের নির্দেশে রাজ জ্যোতিষি মহাপন্ডিত আমীর ফথেহউল্লাহ সিরাজী এই সালের উদ্ভাবন করেন। চান্দ্র ও সৌর সালের সাম্মিলন ঘটিয়ে অভিনব বাংলা সনের জন্ম দেন। ১৫৮৪ খ্রিস্টাব্দে আকবর বাংলা বর্ষপঞ্জির প্রবর্তন করেন। এই সময় থেকে নববর্ষকে কেন্দ্র করে বাঙালি সমাজে বিভিন্ন আচার অনুষ্ঠান শুরু হতে থাকে। কৃষকেরা মাঠে ফসল ফলানোর জন্য বাংলা সনের প্রথম মাস বৈশাখ মাসকে কৃষিকাজের জন্য অনুকূল সময় মনে করে মাসের প্রথম দিনকে শুভদিন হিসেবে মাঠে লাঙ্গল দেয়। এজন্য এ সনকে ফসলী সন ও বলা হয়ে থাকে।

এখনও গ্রামে কৃষকদের মধ্যে এ নিয়ম প্রচলিত আছে। সামন্ত যুগে রাজবাড়ীতে পহেলা বৈশাখে পূণ্যাহ অনুষ্ঠান হতো, এখন জমিদারী প্রথা ও নেই, পূণ্যাহ অনুষ্ঠন ও নেই।তবে গ্রামে-গঞ্জে এখনও ব্যবসায়ীদের প্রতিষ্ঠানে হালখাতার অনুষ্ঠান চালু আছে।

বাংলা নববর্ষের অনুষ্ঠান কোনো ধর্ম বা বর্ণের বিশেষ অনুষ্ঠান নয়। আবহমান কাল ধরে এটি বাঙালি সার্বজনীন জাতীয় উৎসব হিসেবে পালিত হচ্ছে । বাঙালির চির কল্যান ও নতুন জীবনের প্রতীক হলো নববর্ষ। অতিতের ভুল ভ্রান্তি ও ব্যর্থতার গ্লানি ভুলে গিয়ে বাঙালি নতুন বৎসরের সুখ-শান্তি ও সমৃদ্ধি কামনায় পালন করে থাকে নববর্ষ। বাঙালির উৎসব, রবীন্দ্রনাথের উৎসব, মানুষে-মানুষের মিলনের উৎসব। উৎসবের মাহাত্ম উপলব্ধি করে তাই রবীন্দ্রনাথ যথার্থই বলেছেন, ‘প্রতিদিন মানুষ ক্ষুদ্র, দীন, একাকী, কিন্তু উৎসবের দিন মানুষ বৃহৎ, সেদিন সে সমস্ত মানুষের সঙ্গে একত্র হইয়া বৃহৎ সেদিন সে সমস্ত মনুষ্যত্বের শক্তি অনুভব করিয়া মহৎ’ ।

রবীন্দ্রনাথ ১৩০৯ সালে শান্তিনিকেতনে প্রথম বাংলা নববর্ষের উৎসব পালন করেন । রবীন্দ্রনাথের বর্ষবরনের উদ্যোগ বাঙালির মানসপটে গভীর আলোড়ন সৃষ্টি করেছে। রবীন্দ্রনাথ বাঙ্গালিকে তাঁর শেকড়ের সন্ধান দিতে সক্ষম হয়েছেন। তিনি বাঙালির মনোজগতে চেতনার উন্মেষ ঘটিয়েছেন। বাঙালি সংস্কৃতির পরিমন্ডলে বিশাল স্থান জুড়ে রয়েছে নববর্ষের বিভিন্ন আচার-অনুষ্ঠান। এসব আচার-অনুষ্ঠান বাঙালিব হৃদয়ে আনন্দ ধারা সৃষ্টি করে। কিন্তু একশ্রেনির লোক যারা মনেপ্রানে ও আচার আচরনে কখনও বাঙালি হতে পারে নি। তারা ধর্মের দোহাই দিয়ে বর্ষবরন অনুষ্ঠানকে কোনো উৎসব বলে মনে করেন না তারা একুশের অহংকারকে অস্বীকার করে। বাঙালির গৌরবোজ্জল ইতিহাসে তাদের কোনো স্থান নেই। বরং ইতিহাস সৃষ্টিতে তারা প্রতিপক্ষের ভূমিকায় অবতীর্ন হয়েছিল। একুশে ফেব্রুয়ারি, ৬৯ এর গন অভ্যুত্থান, মহান মুক্তিযুদ্ধসহ সকল গনতান্ত্রিক আন্দোলনে তারা মীরজাফরের ভূমিকা পালন করেছে। তারা নিজেদের বাঙালি বলে পরিচয় দিতে ও কুন্ঠাবোধ করে।

এসব লোকেরা এদেশের আলোবাতাসে বড় হয়ে ওঠেছে, কিন্তু ঘুমের মধ্যে স্বপ্নে লাল-সবুজের পতাকার পরিবর্তে চান তারা পতাকা দেখে। অত্যান্ত দঃখ জনক হলেও সত্য যে, এই মৌলবাদী সাম্প্রদায়িক শক্তি বাংলাদেশের রাজনীতিতে শক্ত অবস্থান নিতে সক্ষম হয়েছে। এরা বাংলাদেশকে মধ্যযুগীয় কায়াদায় অন্ধুকারের অচলায়তনে আবদ্ধ করতে চায়। সম্প্রতি চট্রগ্রামে এক অনুষ্ঠানে মৌলবাদীদের এক নেতা রবীন্দ্রনাথ ও মাস্টার দা সূর্য সেনকে কটাক্ষ করে বক্তব্য রেখেছে।তিনি বলেছেন, ‘বাংলার মাটি রবীন্দ্রনাথ ও সূর্য সেনের মাটি নয়’। বাঙালি জাতির অস্তিত্বের সাথে মিশে আছেন রবীন্দনাথ, তাঁর লেখা গান আমাদের জাতীয় সঙ্গীত।

রবীন্দ্রনাথকে অস্বীকার করা মানে বাঙালি জাতি সত্ত্বাকে অস্বীকার করা। বীর প্রসবিনী চট্রলার সূর্য সন্তান মাস্টার দা সূর্যসেন। সূর্যসেনের জন্মের কারনে চট্রগ্রাম জগদ্বিখ্যাত হয়েছে। সারা বিশ্বের বিপ্লবীরা মাস্টার দা সূর্যসেনের প্রতি বিনম্র শ্রদ্ধায় তাঁকে স্মরন করেন।

মৌলবাদী অপশক্তির ঔদ্বত্যপূর্ন বক্তব্য সকল সীমা ছাড়িয়ে গেছে। কিন্তু সরকার কিংবা বিভিন্ন রাজনৈতিক দল এ ব্যাপারে টুশব্দটি করছেনা। মুক্তমনা ব্লগারদের একে এক কাপুরুষের মতো হত্যা করে উল্লাস করছে। এ পর্যন্ত ৭ জন ব্লগারসহ ও ৩২ জন কে নির্মম হত্যা করেছে । সর্বশেষে হত্যার শিকার হয়েছেন জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র-ব্লগার নাজিম উদ্দিন। জঙ্গিবাদ, মৌলবাদ ও ধর্মান্ধতা সমাজের রন্ধ্রে-রন্ধ্রে ঢুকে পড়েছে।
সামনে বাঙালি জাতির জন্য বড় দুঃসময়ের অশনি সঙ্কত শোনা যাচ্ছে।

এ সময়ে মুক্তিযুদ্ধের পক্ষের সকল মানুয়কে ঐক্যবদ্ধ হয়ে দেশ বিরোধী শক্তির বিরুদ্ধে লড়াই সংগ্রাম শুরু করতে হবে। এক্ষেত্রে তরুন সমাজকে এগিয়ে আসতে হবে।

১৪২৩ সালের শুভ নববর্ষের প্রথম দিন পহেলা বৈশাখে এই হোক আমাদের অঙ্গীকার।

লেখকঃ রবীন্দ্র কুমার বক্সী
সভাপতি, উদীচী শিল্পীগোষ্ঠী, কাপাসিয়া শাখা।

(মুক্তমত লেখকের নিজস্ব মতামত, ইহা আমাদের প্রকাশনা নীতির বহিঃপ্রকাশ নয়। )

Related posts