September 21, 2018

জঙ্গিবাদের শিকড় তুলতে সাংস্কৃতিক জাগরণ সৃষ্টি করতে হবেঃ ওবাদুল কাদের

রিপন হোসেন
ঢাকা থেকেঃ
আজ বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমীর ৬নং গ্যালারীতে ২১ই আগষ্ট গ্রেনেড হামলায় আহত ও নিহতদের স্মরণে বাংলাদেশ আওয়ামী যুবলীগ, ঢাকা মহানগর উত্তর শাখার উদ্যোগে সংবাদ চিত্রপ্রদর্শনী ও আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়। উক্ত সংবাদ চিত্রপ্রদর্শনী ও আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের প্রেসিডিয়াম সদস্য ও গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের সড়ক পরিবহন ও সেতু মন্ত্রণালয়ের মাননীয় মন্ত্রী ওবাদুল কাদের এমপি বলেন- জঙ্গি সন্ত্রাসীদের শেকর সারাদেশে বিস্তৃত। টোকা দিলেই তাদের উপরে ফেলা যাবে না। সাংস্কৃতিক জাগরণের মাধ্যমে এদের মোকাবেলা করতে হবে।

যা যুবলীগ ইতিমধ্যে শুরু করেছে। যুবলীগের এমন সাংস্কৃতিক কর্মকান্ড অব্যাহত রাখতে হবে। তিনি বলেন, যুবলীগ এখন আর কোনো মাস্টানদের সংগঠন নয়, আদর্শিক কর্মীদের সংগঠন। এই সংগঠনের নেতাকর্মীরা এখন পড়ালেখা করে। তাদের মধ্যে সৌজন্যতাবোধ তৈরি হয়েছে। রাজনীতিতে এখন যার বড়ই অভাব। রাস্তা ঘাটে বের হলে দেখা যায় সৌজন্য পোস্টার, সৌজন্য ব্যানার, সৌজন্য তোরণ। কিন্তু রাজনীনিতে আচরণে কোনো সৌজন্যতা দেখা যায় না। তবে বর্তমান নেতৃত্বের কল্যাণে যুবলীগে এখন সৌজন্যতাবোধও তৈরি হয়েছে। উন্নয়ন কর্মকান্ডে ডিজিটাল হলেও আচরণে আওয়ামী লীগের ঐহিত্য অনুযায়ী যুবলীগের কর্মীদের টেডিশনাল থাকার আহ্বান জানান তিনি।

গ্রেনেড হামলা দিবস স্মরণে তিনি বলেন, ২০০৪ সালে আওয়ামী লীগকে নেতৃত্ব শূন্য করতে যে গ্রেনেড হামলা চালানো হয়েছে তা বিএনপি জোট সরকার আর হাওয়া ভবনের কলংক। এই হামলার ফলে তাদের বর্তমান ও ভবিষ্যত রাজনীতি কালিমা। এই কলংক তারা কখনো মুছতে পারবে না। এখনো তার শরীরে ১৪টি স্পিন্টার আছে তাই তিনি নামাজের সেজদায় যেতে পারেন না। তিনি বলেন, সেদিন তারা ধরেই নিয়েছিলো শেখ হাসিনা শেষ হয়ে গেছেন। কিন্তু ইতিহাসের পরিণতি হচ্ছে সেদিন যারা ইতিহাস বদলে দিতে চেয়েছে আজ তারাই ইতিহাস থেকে মুছে যাচ্ছে। বাংলাদেশের ইতিহাস থেকে স্বাধীনতা আর অর্থনৈতিক মুক্তির আন্দোলনের দুই উত্তরাধিকার বঙ্গবন্ধু ও শেখ হাসিনাকে কেউ মুছতে পারবে না।

গত ৪১ বছরে দেশের সবচেয়ে আপোসহীন দৃঢ় চিত্তের স্বাধীনচেতা রাষ্ট্রনায়ক, বিচক্ষণ কূটনৈতিক হচ্ছেন শেখ হাসিনা। তিনি মৃতের ভাগারে দাঁড়িয়েও জীবনের জয়গান গান, ধ্বংসস্তুপের মধ্যে থেকেও সৃষ্টির স্বপ্ন খোঁজেন। তিনি আরো বলেন, ১৫ আগষ্ট আর ২১ আগষ্ট একই ষড়যন্ত্রের ধারাবহিকতা। পচাত্তরের ১৫ আগষ্টের টার্গেট ছিলো জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু আর ২১ আগষ্টের টার্গেট ছিলো তার কন্যা প্রধানমন্ত্রী রাষ্ট্রনায়ক শেখ হাসিনা।

বিশেষ অতিথির বক্তব্যে যুবলীগ চেয়ারম্যান মোহাম্মদ ওমর ফারুক চৌধুরী বলেন- ২০০৪ সালের ২১ আগষ্ট রক্তের নদী বয়ে গিয়েছিল শেখ হাসিনার জনসভায়। বোমার স্পিন্টার্সের আঘাতে একটি কান জখম হয়ে যায়। চিকিৎসা চালাতে হয়েছে দীর্ঘদিন। আওয়ামী লীগের শীর্ষ নেতাদের অনেকে এই হামলায় আহত হয়েছেন। আজকের অতিথিও আহত হয়েছিলেন। অনেকে এখনো সেই ক্ষত বহন করছেন। আহত, নিহত হয়েছেন অনেকে। সারা জীবনের জন্য পঙ্গু হয়ে গেছে অগণিত মানুষ। নিহতদের তালিকায় শীর্ষে রয়েছেন সাবেক রাষ্ট্রপতি জিল্লুর রহমানের পত্নী আইভি রহমান। তখনকার বিরোধী দলীয় নেত্রীর উপর এই ধরণের বর্বর হামলার নজির সারাবিশ্বে বিরল। বিএনপি তখন ক্ষমতায়। বেগম খালেদা জিয়া প্রধানমন্ত্রী।

সব আলামত সঙ্গে সঙ্গে নষ্ট করে দিয়েছিল। নিলজ্জভাবে প্রচার করেছিল এই হামলা আওয়ামী লীগের অন্তর্দ্বন্ধের ফল। বাংলাদেশে জঙ্গীবাদের মাস্টার মাইন্ড করেন- খালেদা জিয়া। তিনি প্রশ্ন রেখে বলেন- পৃথিবীতে সন্ত্রাস বিরোধী কোন দিবস আছে ? তিনি ২১ আগষ্ট-কে সন্ত্রাস ও জঙ্গীবাদ বিরোধী দিবস জাতীয়ভাবে পালন করার জন্য আহ্বান জানান। তিনি আরো বলেন-মানববন্ধন করে মানুষকে সচেতন করতে হবে।

ঢাকা মহানগর যুবলীগ উত্তর সভাপতি মাইনুল হোসেন খান নিখিল এর সভাপতিত্বে ও সাধারণ সম্পাদক ইসমাইল হোসেন এর পরিচালনায় অনুষ্ঠিত সভায় আরো বক্তব্য রাখেন- বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক আহম্মেদ হোসেন, মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর একান্ত সচিব সাইফুজ্জামান শিখর, বাংলাদেশ আওয়ামী যুবলীগ প্রেসিডিয়াম সদস্য শহীদ সেরনিয়াবাত, মজিবুর রহমান চৌধুরী, মাহবুবুর রহমান হিরণ, আব্দুস সাত্তার মাসুদ, এ্যাড. বেলাল হোসাইন, আতাউর রহমান, অধ্যাপক এ.বি.এম আমজাদ হোসেন, আনায়োরুল ইসলাম, যুগ্ম-সম্পাদক মহিউদ্দিন আহমেদ মহি, সাংগঠনিক সম্পাদক মুহাম্মদ বদিউল আলম, আসাদুল হক আসাদ, ফারুক হাসান তুহিন, সম্পাদক মন্ডলীর সদস্য কাজী আনিসুর রহমান, মিজানুল ইসলাম মিজু, ইকবাল মাহমুদ বাবলু, শ্যামল কুমার রায়, কার্যনির্বাহী সদস্য শেখ ফজলে নাঈম, শেখ ফজলে ফাহিম, রওশন জামির রানা প্রমুখ।

দ্যা গ্লোবাল নিউজ ২৪ ডটকম/রিপন/ডেরি

Related posts