November 14, 2018

জগন্নাথপুরে নিখোঁজের ১৪ঘন্টা পর মাদ্রাসা ছাত্রের ক্ষত বিক্ষত লাশ উদ্ধার

jagannathpur-pic-14-02-2017

বিশ্বনাথ ( সিলেট ) প্রতিনিধি :: জগন্নাথপুর উপজেলার আশারকান্দি ইউনিয়নের জয়দা গ্রামে নিখোঁজের ১৪ঘন্টা পর মঙ্গলবার (১৪ ফেব্রুয়ারী) সকাল ৯টায় মাদ্রাসায় ৮ম শ্রেনীতে পড়–য়া ছাত্র মাহফুজুর রহমান সোহাগের ক্ষত বিক্ষত লাশ গ্রামের চেন্নী হাওরের ধানী জমি থেকে উদ্ধার করেছে পুলিশ। নিহত মাহফুজুর রহমান সোহাগ জয়দা গ্রামের কৃষক তৈয়বুর রহমান টিটু মিয়ার পুত্র। সে ঐ গ্রামের জয়দা দাখিল মাদ্রাসার ৮ম শ্রেনীর ছাত্র। এলাকাবাসী জানান, নিহত মাহফুজুর রহমান সোহাগের বাড়ির অর্ধ কিলোমিটার অধূরে চেন্নী হাওরের ধানী জমিতে ক্ষত বিক্ষত সোহাগের লাশ স্থানীয় কৃষকরা দখতে পায়।

ঘটনাটি দ্রুত পুরো গ্রামে ছড়িয়ে পড়লে শত শত নারী-পুরুষ, শিশু-কিশোররা সেখানে ভীড় জমায়। এসময় নিহ সোহাগের বাবা-মা-ভাই বোন আত্মীয় স্বজনদের বুকফাঁটা করুন আহাজারীতে সেখানে হৃদয় বিদারক দৃশ্যের সৃষ্টি হয়। ঘটনাটি জগন্নাথপুর থানায় জানানো হলে থানার ওসি (তদন্ত) মঈন উদ্দিন মইন ও উপ-পরিদর্শক আনোয়ার হোসেনসহ একদল পুলিশ দ্রুত সেখানে পৌছে নিহত মাহফুজের ক্ষত বিক্ষত লাশটি উদ্ধার করেন।

নিহত সোহাগের বাবা তৈয়বুর রহমান টিটু মিয়া জানান, তার পুত্র মাহফুজুর রহমান সোহাগ সোমবার সন্ধ্যা রাতে পার্শ্ববর্তী বাড়ির নজমুলের সাথে বেরিয়ে যায়। গভীর রাত হলেও সোহাগ ঘরে না ফেরায় ধারনা হয় কোথায় ওয়াজ মাহফিলে গিয়েছে। সকাল ৭টা হলেও সোহাগ বাড়িতে না ফেরায় সন্দেহ হয়।

এসময় পাশ্ববর্তীর বাড়ির নজমুলকে সোহাগ কোথায় গিয়েছে জানতে চাইলে নজমুল জানায় সে জানেনা। বিষয়টি গ্রামে আত্মীয় স্বজনকে জানানো হলে হৈ চৈ পড়ে যায়। শুরু হয় খোজা খুজি। সকাল অনুমান ৮টায় গ্রামের পাশ্ববর্তী চেন্নী হাওরে কৃষকরা ধানী জমিতে কাজ করতে গেলে সোহাগের ক্ষত বিক্ষত লাশ দেখতে পায়। নিহত সোহাগের বাবা আরো জানান, হত্যাকারীরা তার পুত্র সোহাগকে নৃশংস কায়দায় হত্যা করেছে। সোহাগের সারা শরীরে ধারালো অস্ত্রের আঘাত ছাড়াও গলা কাটাঁ রয়েছে। তিনি হাউ মাউ করে কান্না জড়িত কন্ঠে বলেন, গ্রামে কারো সাথে আমার কোন বিরোধ নেই।

কি কারনে আমার ছেলেকে হত্যা করা হয়েছে আমি এখনও বুঝে উঠতে পারছিনা। কৃষি কাজ করে ছেলে মেয়েদের লেখা পড়াসহ পরিবারের ভরন পোষন চালিয়ে যাওয়া ৪ছেলে ১মেয়ের জনক তৈয়বুর রহমান টিটু তার বড় ছেলেকে হারিয়ে বার বার জ্ঞান হারিয়ে ফেলেন। এদিকে সোহাগের মা ও ছোট ভাই বোনদের করুন আহাজারীতে লাশ দেখতে আসা মাদ্রাসার ছাত্র শিক্ষকরা ও এলাকার লোকজন ধুকঁরে ধুকঁরে কান্নায় ভেঙ্গে পড়েন। এদিকে পুলিশ লাশের সুরতহাল শেষে ময়না তদন্তের জন্য সুনামগঞ্জ হাসপাতাল মর্গে প্রেরন করেছেন।

ঘটনাস্থলে লাশ উদ্ধারের পর থেকেই জগন্নাথপুর থানার ওসি (তদন্ত) মঈন উদ্দিনের নেতৃত্বে পুলিশদল ঘটনার রহস্য উদঘাটনে মাঠে কাজ করছেন। এদিকে জয়দা মাদ্রাসার ৮ম শ্রেনীতে পড়–য়া ছাত্র মাহফুজুর রহমান সোহাগের আত্মার মাগফেরাত কামনা করে বাদ জোহর জয়দা মাদ্রাসার শিক্ষক ও ছাত্রদের উদ্যোগে খতমে কোরআন দোয়া মাহফিল অনুষ্টিত হয়েছে বলে মাদ্রাসার সুপার মাওলানা মকছুছুল করীম জানিয়েছেন।

Related posts