September 26, 2018

জকিগঞ্জের হারিয়ে যাওয়া অহংকার-কবি আবদুল গফফার দত্ত চৌধুরী

 

লেখক মো. আবদুল আউয়াল হেলাল.

কবি আবদুল গফফার দত্ত চৌধুরী(১৯১২-১৯৬৬) গতশতকের তিরিশ ও চল্লিশের দশকে যে কবি সিলেট ওকাছাড. অন্চলের পাঠকের কাছে ব্যাপক সমাদৃতহয়েছিলেন; যার কবিতা তসবিহ রেখে দূরে তলোয়ারহাতে নাও/ আল্লাহর রাহে জান কুরবান দাও দাওকিংবা  সিলেটী ভাষায় লেখা গান ওগোল সজনী গোয়াগাছো ট্যাক্স লাগিলো নি/ বাটার উফর ফইলো টাঠা গালভরি ফান খাইতায়নি ইত্যাদি পাঠক শ্রোতাকেআন্দোলিত করেছিলো, তিনি হচ্ছেন বর্তমান প্রজন্মেরকাছে অপরিচিত প্রায় ব্যতিক্রমী এক কবি সত্বা আবদুলগফফার দত্ত চৌধুরী।

জন্ম: ১৯১২ সালে জকিগনজের বাদে কুশিয়ারকুলপরগনার বাগের সাঙ্গন গ্রামে ( দেশ বিভাগ পূর্বকরিমগঞ্জ মহকুমার অন্তর্গত) তিনি জন্মগ্রহন করেন।কবির জন্মসন নিয়ে মতবিরোধ দৃশ্যমান । কোন কোনসূত্রে উল্লেখ রয়েছে ১৯০৬ সালে তাঁর জন্ম। আবারকোন কোন সূত্রে উল্লেখ আছে ১৯১১/১২ বা ১৯১৩সাল। বিভিন্ন তথ্য উপাত্ত ঘেটে কবির জন্ম ১৯১২ সালবলে আমাদের কাছে অধিক যৌক্তিক মনে হয়েছে।

শিক্ষা জীবন: বাগের সাঙ্গন গ্রামের পার্শ্ববর্তী ইমামগঞ্জপাঠশালার কবির প্রাতষ্ঠানিক শিক্ষার সূচনা। পাঠশালাসমাপনান্তে বীরশ্রী ইম ই স্কুলে ( বর্তমান গুরু সদয় দত্তউচ্চ বিদ্যালয় ও কলেজ) ভর্তি হন। পরবর্তীতেকরিমগঞ্জ সরকারী হাই স্কুলে লেখা পড়া করেন। ১৯২৬সাল থেকে ১৯২৭ সালের মাঝামাঝি পর্যন্ত তিনি শিলচরঅবস্থান করেন। এ সময়কালে কোন স্কুলে পড়েছেন কিনা তা জানা যায় না। ১৯২৭ সালের শেষ দিকে তিনিসিলেট সরকারী হাই স্কুলে ভর্তি হন। ১৯৩০ সালে এখানথেকেই মেট্রিক পাশ করেন । এ বছরের জুলাই মাসেটাঙ্গাইলের করটিয়া সাদত কলেজে ভর্তি হন। ১৯৩১সালের অক্টোবর মাসে সিলেট ফিরে এসে এমসিকলেজে  ভর্তি হন। ডিগ্রি প্রথম বর্ষে অধ্যয়ন কালীন১৯৩৩ সালের জুলাই মাসে কলকাতা চলে যান।কলকাতা থেকে ফিরে শিলচর নর্মাল স্কুলে ( টিচারট্রেনিং ) ভর্তি হন। ১৯৩৭ সালের মার্চ মাস পর্যন্ত ট্রেনিংগ্রহন করেন।

কর্ম জীবন: ১৯৪১ সালের শেষ দিকে কবি এ এস আইঅব স্কুল পদে সরকারী চাকরী গ্রহন করেন। ১৯৪২সালের জানুয়ারি থেকে জুলাই পর্যন্ত তিনি  তিনিসুনামগঞ্জ জুবিলি স্কুলে সহকারী শিক্ষক কর্মরতছিলেন। এ বছরের জুলাই মাসে সিলেট সরকারী স্কুলেবদলি হয়ে আসেন। ১৯৪৫ সালে তিনি সুরমা ভ্যালিটেকনিক্যাল স্কীমে পাবলিসিটি সহকারী পদে যোগ দেন।পরবর্তীতে স্কুল পরিদর্শন বিভাগে যোগ দিয়ে সিলেটেরবিভিন্ন থানায় কাজ করেন। ১৯৬০ সালে অসুস্থ হয়েপড়লে তাঁর চাকরী জীবনের সমাপ্তি ঘটে।

 

সংসার জীবন: কবি আবদুল গফফার দত্ত চৌধুরীছিলেন স্বভাবগত অস্থিরচিত্তের মানুষ। এক ধরণেরচন্চলতা, অস্থিরতা আর খেয়ালীপনা তাঁকে তাড়িতকরেছে সারাটি জীবন।শিক্ষকতাকালীন সুনামগঞ্জঅবস্থানকালে তিনি প্রথম বিয়ে করেন। কিন্তু সেদাম্পত্যজীবন ছিলো ক্ষণস্থায়ী। ১৯৪৩ সালেকরিমগনজের এগারোসতির জেবুন্নেসা চৌধুরীর সাথেদ্বিতিয়বার বিবাহ বন্ধনে আবদ্ধ হন। ১৯৪৪ সালে তাঁরপ্রথম সন্তান জন্মগ্রহন করে মাত্র আড়াই মাসের মাথারমৃত্যু বরণ করে। পরবর্তীতে তিনি ক্রমান্বয়ে চার পুত্র ওতিন কন্যা সন্তানের জনক হন। তাঁর পুত্র আলী মুসতাফাচৌধুরী উচ্চ পদস্থ সরকারী কর্মকর্তা হিসেবে সুনামেরসাথে কর্মরত আছেন।

সাহিত্য জীবন: ১৯২৬ সাল থেকে তাঁর কবিতা চর্চা শুরু।জাতীয় অধ্যাপক দেওয়ান আজফ’র স্মৃতিচারণ থেকেজানা যায়, ১৯২৮ সালে কবি কাজী নজরুল ইসলামদ্বিতিয় বারের মত সিলেট এলে দরগাহ মহল্লারমোশাহিদ উদ্দিন চৌধুরীর বাসায় অবস্থান করেন ।এসময় সিলেট সরকারী স্কুলের ছাত্র আবদুল গফফারদত্ত চৌধুরী কবিতার খাতা নিয়ে কবির সাথে দেখাকরেন। দু’একদিন পর খাতা ফেরত দেয়ার সময় কবিনজরুল ইসলাম তাঁর কবিতার প্রশংসা করেন এবংলেখা চালিয়ে যেতে গভীরভাবে উৎসাহিত করেন ।এমনকি বলেন- চালাও কলম, সফলতার নিশ্চয়তারজন্য আমি দায়ী রইলাম। ১৯৩২ সালে মৌলবী নুরুলহক’র সম্পাদনায় মাসিক আল ইসলাহ প্রকাশিত হয়।প্রথম সংখ্যা থেকে নিয়মিত কবি আবদুল গফফার দত্তচৌধুরীর কবিতা প্রকাশ হয়। ১৯৩৪ সালে খেয়ালী কবিবন্দর বাজারে ধুমপায়ী সখা নামে একটি তামাকেরদোকান শুরু করেন। মাস কয়েকের মধ্যেই দোকানেতালা ঝুলে। ১৯৩৮ সালের অক্টোবর থেকে ১৯৪১সালের মে মাস পর্যন্ত তিনি কলকাতায় অবস্থান করেন।এ সময় মাসিক মোহাম্মাদীতে নিয়মিত তাঁর লেখাপ্রকাশিত হয়। মাসিক আল ইসলাহ, মাসিক মোহাম্মাদীছাড়াও মাহে নও, উদ্বোধন, শিক্ষা সেবক, বাংলার শক্তিএবং বঙ্গলক্ষ্মী প্রভৃতি বিখ্যাত সাহিত্য পত্রিকায় বিভিন্নসময় তাঁর লেখা প্রকাশিত হয়।

সাহিত্যের বিভিন্ন শাখায় তিনি কাজ করেছেন। প্রবন্ধ,গল্প, কবিতা , গীতিকবিতা, রুবঈ, ফারসি কবিতারকাব্যানুবাদ এবং লোকসঙ্গীত সংগ্রহ করেছেন। তবেতাঁর সবচেয়ে উল্লেখযোগ্য কৃতিত্ব হলো সনেট রচনায়।বাংলা ভাষায় সনেটের যুগ প্রবর্তক কবি মাইকেলমধুসুদন দত্ত (১৮২৪-১৮৭৯) রচিত সনেট সংখ্যা১০৮টি। অথচ কবি আবদুল গফফার দত্ত চৌধুরী রচিতসনেট প্রায় এক হাজার (৯৬৩) । কেবল বাংলাই নয়,পৃথিবীর যত ভাষায় সনেট রচিত হয়েছে তন্মধ্যে কোনএক কবির রচিত এত অধিক সংখ্যক সনেটের সন্ধানএখনো পাওয়া যায়নি। কিন্তু আমাদের দুর্ভাগ্য যে,বর্তমান সময়কাল পর্যন্ত কবির সে অমূল্য রচনাঅধিকাংশই অপ্রকাশিত রয়ে গেছে। ( ২০১২ সালেরনবেম্ভর মাসের মধ্যভাগে কবিপুত্র আলী মুসতাফাচৌধুরী ফোনালাপে বলেছিলেন ১টি কবিতা গ্রন্থ এবংসঙ্গীত গ্রন্থ প্রকাশের উদ্যোগ নিয়েছেন। ফোন নাম্বারহারিয়ে যাওয়ায় দু’টি গ্রন্থের পরবর্তী অবস্থা জানারসুযোগ হয়নি।)

বাংলা ভাষা ও সাহিত্যের স্বার্থে কবির অমূল্য রচনাসমগ্র প্রকাশিত হওয়া জরুরী।

নিম্নে তাঁর প্রকাশিত বই এবং অপ্রকাশিত পাণ্ডুলিপিসম্পর্কে সংক্ষিপ্ত আলোচনা করা হলো।

প্রকাশিত বই

১. মুনাফাখোরের কবি: আন্চলিক ভাষায় লেখা গান।প্রকাশকাল ১৯৪৫।

২.গরীবের গান: আন্চলিক ভাষায় লেখা গান।প্রকাশকাল ১৯৪৫।

৩. শেরোয়া: কবির প্রথম পুত্র শিরণের মৃত্যুর প্রতিকৃয়ায়রচিত গান। প্রকাশকাল ১৯৪৫।

৪. দীওয়ানা: এ বইয়ের উপশিরোনামে লেখা আছে না’তও মদীনা মাহাত্ম্যের গান। প্রকাশকাল ১৯৪৫।

৫. ভোটের লড়াইর কবি: জনপ্রতিনিধি নির্বাচনের ক্ষেত্রেযোগ্য লোক নির্বাচিত করার জন্য গণসচেতনতামূলকগান। প্রকাশকাল ১৯৪৫।

৬. হেলাল: কবির প্রকাশিত বইগুলোর মধ্যে এটিসবচেয়ে আলোচিত। বইটির উপশিরোনাম ইসলামীজাতীয় সঙ্গীতের বই। প্রকাশকাল ১৯৪৬।

৭. মিতালীর গান ১ম খণ্ড: প্রকাশকাল ১৯৪৬।

৮. মোজাহিদের গান: প্রকাশকাল ১৯৪৭।

এ ছাড়া মোজাহিদের গান ২য় খণ্ড ও সন্ধানী নামেকবির আরো দু’টি বইয়ের উল্লেখ পাওয়া যায়। তবে এদু’টি সম্পর্কে বিস্তারিত কিছু জানা যায়নি।

অপ্রকাশিত পাণ্ডুলিপি

কবিতা:

১. মর্মকুসুম: ৩৩টি কবিতা ও ২টি গান। এ পাণ্ডুলিপিতে৩টি গদ্যও সংযুক্ত আছে। রচনাকাল ১৯২৬-১৯২৮।রচনা স্থান: শিলচর, বীরশ্রী ও সিলেট ।

২. শিরোনাম পৃষ্ঠা লুপ্ত। তবে শীর্ষপত্রে বিসমিল্লাহ, সূরাফাতেহা, কালিমা তায়্যিবা ও কালিমা শাহদাতেরকাব্যানুবাদ আছে। এ ছাড়া আছে ৪২ টি কবিতা এবং২টি গান। রচনাকাল: ১৯২৬-১৯২৮। রচনা স্থান: শিলচরও সিলেট।

৩. মর্মভেরী: ৩৮টি কবিতা । রচনাকাল: ১৯২৮। রচনাস্থান: সিলেট।

৪. মর্মান্জলী: ৪০টি কবিতা ও ৬টি গান। রচনাকাল :১৯২৮। রচনা স্থান: সিলেট, বাগেরসাঙ্গন, মাইজগাঁওএবং বীরশ্রী থেকে ফেনচুগনজ যাবার পথে নৌযানে।

৫. ঝিনুক: ২৮টি কবিতা ও ৬টি গান। রচনাকাল:১৯২৮-১৯২৯। রচনা স্থান: নন্দনগন্ধা, ফাজিল পুর ওসিলেট।

৬. কাকলী: ২৮টি কবিতা ৬টি গান। রচনাকাল: ১৯২৯।রচনা স্থান: সিলেট।

৭. বেণু: ৩৫টি কবিতা ও ১টি গান। রচনাকাল:১৯২৯-১৯৩০। রচনা স্থান: সিলেট, বাগেরসাঙ্গন,কাদিমলিক ও ফাজিলপুর।

৮. কেতু: ২৯টি কবিতা ও ১১টি গান। রচনাকাল :১৯২৯-১৯৩০। রচনা স্থান: বাগেরসাঙ্গন, ফাজিলপুর,ঘিলাছডা ও সিলেট।

৯. হেনা : ২২টি কবিতা, অসম্পূর্ণ কবিতা ১টি।রচনাকাল: ১৯৩০। রচনা স্থান: করটিয়া, চারাবাডি থেকেসিরাজগঞ্জ যাবার পথে ষ্টিমারে, সিলেট।

১০. ময়লা : ১০টি দীর্ঘ কবিতা, ৬৮টি চতুষ্পদী কবিতা,সনেট ১টি, অনুবাদ কবিতা ১০টি এবং গান ১০টি।রচনাকাল : ১৯৩২। রচনা স্থান : সিলেট, বাগেরসাঙ্গন,মাটিকাটা ও কুলাউড়া ।

১১. অগ্নিশিখা : ১৩টি কবিতা ও ৪টি গান। রচনাকাল :১৯৩২-১৯৩৬। রচনা স্থান : সিলেট ও শিলচর।

১২. ঝরাফুল : ১৭টি কবিতা, ১১টি চতুষ্পদী কবিতা,সনেট ৮টি, অনুবাদ কবিতা ৮টি ও ৮টি গান। রচনাকাল :১৯৩৩। রচনা স্থান : বাগেরসাঙ্গন ও সিলেট।

১৩. অশ্রুঅর্ঘ্য : ৮৩টি চতুষ্পদী, ২টি চতুর্দশপদী, ১৫টিকবিতা ও ৯টি অনুবাদ কবিতা। রচনাকাল : ১৯৩৪-১৯৩৫। রচনা স্থান : সিলেট ও কলকাতা।

১৪. দীওয়ান ই হাফিজ : বিশ্ববিখ্যাত কবি হাফিজ’র১৩টি গজল ফারসি থেকে কাব্যানুবাদ । অনুবাদকাল :১৯৩৫। স্থান : তাতিকোনা, ছাতক।

১৫. ছায়াপথ : ৩১টি কবিতা, ১টি চতুর্দশপদী কবিতা,১টি অনুবাদ কবিতা ও ১টি গান। রচনাকাল :১৯৩৫-১৯৩৭। সিলেট, ছাতক ও শিলচর।

১৬. দিওয়ান : ১৮টি দীর্ঘ কবিতা,১টি চতুর্দশপদী, ৫০টিচতুষ্পদী ও ৫টি অনুবাদ কবিতা । রচনাকাল :১৯৩৭-১৯৩৯। রচনা স্থান : সিলেট, দুহালিয়া ওকলকাতা।

১৭. আবছায়া : শিরোনাম বিহীন ৩০টি  অষ্টাদশপদীকবিতা। রচনাকাল : ১৯৩৭-১৯৩৯। স্থান : সিলেট ওকলকাতা।

১৮. উপহাস : ২২টি দীর্ঘ কবিতা ও ৩টি অনুবাদ কবিতা।রচনাকাল : ১৯১৯৩৮-১৯৪১। স্থান : কলকাতা, শিলং ওসিলেট।

১৯. শিরোনাম পৃষ্ঠা লুপ্ত : ২২টি দীর্ঘ কবিতসহ মোট২৮টি কবিতা। রচনাকাল :১৯৪২-১৯৪৯। স্থান :সুনামগঞ্জ, সিলেট ও কুলাউড়া ।

২০. অমাবস্যা : শিরোনাম বিহীন ৩২টি অষ্টাদশপদীকবিতা। রচনাকাল ও স্থান উল্লেখ নেই।

২১. শিরোনাম পৃষ্ঠা লুপ্ত : ১৩টি কবিতা ও ৮২টি সনেট।রচনাকাল : ১৯৬০। স্থান : কাদিমলিক ও সিলেট।

উল্লেখ্য যে, এই কবিতাগুলো ১৯৬০ সালের ১৬ জুলাইথেকে ২৪ অক্টোবরের মধ্যে রচিত। এই লেখাগুলো কবিজীবনের শেষ রচনা।

শিশুতোষ কবিতা

১. খোকাখুকু : শিশুপাঠ্য ১১টি কবিতা। রচনাকাল :১৯৩২-১৯৩৪। স্থান : উল্লেখ নেই।

সনেট

১. অশ্রুলেখা : ৭৫টি সনেট । উৎসর্গ পত্রটিও সনেটেরআঙ্গিকে লেখা। রচনাকাল : ১৯৩০-১৯৩২। স্থান :বাগেরসাঙ্গন ও সিলেট।

২. অন্জলি : ৬১টি সনেট এবং ২৭টি কবিতা ও গান।রচনাকাল: ১৯৩৩। স্থান : সিলেট, কলকাতা ওময়মনসিংহ যাবার পথে ট্রেনে।

৩. শেফালী : ২৫টি সনেট । এ ছাড়া অন্য কবিতা ও গান৬৬টি। রচনাকাল : ১৯৩৩- ১৯৩৪। স্থান : কলকাতা,করিমগনজ ও সিলেট।

৪. অশ্রুমালা : ৮৮টি সনেট। রচনাকাল :১৯৩৪। স্থান :বাগেরসাঙ্গন ও সিলেট।

৫. শিরোনাম পৃষ্ঠা লিপ্ত : ১৭টি সনেট। রচনাকাল :১৯৩৪। স্থান: সিলেট।

৬. পথের বাণী : ৮২টি সনেট। রচনাকাল : ১৯৩৪-১৯৩৫।স্খান : সিলেট, কলকাতা, ছাতক ও মোগলাবাজার।

৭ মায়ামৃগ : উৎসর্গপত্রসহ ৮৯টি সনেট। রচনাকাল :১৯৩৬। স্থান : শিলচর, বাগেরসাঙ্গন ।

৮. পাথেয় : ৮৮টি সনেট। রচনাকাল : ১৯৩৫-১৯৩৬।স্থান : ছাতক, সিলেট ও শিলচর।

৯. ছায়াপথ : ৮৮টি সনেট। রচনাকাল : ১৯৩৬-১৯৩৭।স্থান : শিলচর ও সিলেট।

১০. অশ্রুপথ : ৫৪টি সনেট। রচনাকাল :১৯৩৭। স্থান :বাগেরসাঙ্গন ও সিলেট।

১১. মরুমায়া : ৪০টি সনেট। রচনাকাল : ১৯৩৭। স্থান :সিলেট।

১২. মুসাফির : ৭৮টি সনেট। রচনাকাল : ১৯৩৭-১৯৩৮।স্থান : সিলেট।

১৩. বেদুঈন : ৮৮টি সনেট। রচনাকাল : ১৯৩৮। স্থান :দুহালিয়া, সিলেট ও কলকাতা।

১৪. ভুঁইচাঁপা : ৮৮টি সনেট। রচনাকাল : ১৯৪০-১৯৪২।স্থান : কলকাতা, সিলেট, শিলং ও সুনামগঞ্জ ।

গান

১. ব্রজগীতি : ৩০টি গান। রচনাকাল : ১৯৩২-১৯৪৫।স্থান : ছাতক, সিলেট ও শিলচর।

২. শিরোনাম পৃষ্ঠা লুপ্ত : ১২৫ টি গান। রচনাকাল :১৯৩৫-১৯৩৮। স্থান : সিলেট, রফিপুর, তাঁতিকোনা,দুবাগ, ছাতক, শিলচর ও শিলং।

৩. গীতিমালা : ৭৫টি গান। রচনাকাল : ১৯৩৯- ১৯৪০।স্থান : কলকাতা, আনাইর হাওর, দুহালিয়া ও দুহালিয়াথেকে সিলেটের পথে ষ্টিমারে ।

৪. গীতিশতক : ১০৫টি গান। রচনাকাল : ১৯৩৮-১৯৩৯।স্থান : দুহালিয়া, সিলেট ও কলকাতা।

৫. সুর শারাব : ৪৬টি গান। রচনাকাল : ১৯৪১- ১৯৪২।স্থান : সিলেট , পাথারকান্দি ও বাগেরসাঙ্গন ।

৬. সুর সুধা : ৪৯টি গান। রচনাকাল : ১৯৪২-১৯৪৪।স্থান: করিমগনজ, সিলেট ও সুনামগঞ্জ থেকে সিলেটেরপথে ষ্টিমারে ।

৭. শিরোনাম পৃষ্ঠা লুপ্ত : ২১টি গান। রচনাকাল ও স্থানউল্লেখ নেই।

৮. শিরোনাম পৃষ্ঠা লুপ্ত : ১০টি গান ও ৬টি কবিতা।প্রতিটি গানই ইসলামী ভাবধারায় সমৃদ্ধ। রচনাকাল ওস্থান উল্লেখ নেই।

৯. গফফার গাতিকা : বিভিন্ন পাণ্ডুলিপি থেকে কবিরস্বনির্বাচিত ৬২টি গান।

 

গল্প

১. লখিয়া : ১০টি গল্প । মাতৃহারা শিরোনামে একটিগল্পের জন্য ৩ পৃষ্ঠা খালি রাখা আছে । রচনাকাল :১৯৩৫-১৯৩৮। স্থান : দুহালিয়া ও শিলচর।

গদ্য

১. মর্ম্মবাঁশরী : ১১টি নিবন্ধ । রচনাকাল : ১৯২৮। স্থান :উল্লেখ নেই।

সংগৃহিত গান:

১. শিরোনাম পৃষ্ঠা লুপ্ত : সিলেটের লোকসঙ্গীত সংগ্রহ।এতে শতাধিক লোককবির ৪২৫ গান এবং কবিরস্বরচিত ১৩ গান আছে।

মৃত্যু : ১৯৬০ সালে কবি অসুস্থ হয়ে পড়েন । দীর্ঘ রোগভোগের পর ১৯৬৬ সালের ১ ডিসেম্বর গুলনি চা বাগানেবড় মেয়ের বাসায় ইন্তিকাল করেন।

তথ্যসূত্র:

১ কবি আবদুল গফফার দত্তচৌধুরী স্মারক গ্রন্থ

মো. আবদুল আজিজ ( সম্পাদক)

২. সিলেটের কাব্য সাধনা

ফজলুর রাহমান

৩. সিলেটের আরও একশ একজন

ফজলুর রাহমান

৪. সিলেটের সাহিত্যাঙ্গন

অধ্যাপক নন্দলাল শর্মা

৫. সিলেটের সাহিত্য : সৃষ্টি ও স্রষ্টা

অধ্যাপক নন্দলাল শর্মা

৬. সিলেটে নজরুল

নৃপেন্দ্রলাল দাশ

৭. জকিগনজ মনীষা

মো. আবদুল আউয়াল হেলাল

অধ্যক্ষ মাওলানা আবদুল হাকীম ( সম্পাদনা)

লেখক: মো. আবদুল আউয়াল হেলাল

প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি- জকিগনজ লেখক পরিষদ।

বিশিষ্ট আলেমেদীন,গবেষক ও কলামিস্ট,সিনিয়রশিক্ষক দারুল হাদিস লতিফিয়া লন্ডন.

২০/০১/ ২০১৭

Related posts