September 20, 2018

ছোটগল্পঃ “আদিকথা” পর্ব-০১

শাখাওয়াৎ ইবনে হাবিব: বিয়ের মঞ্চ বসে আছি। একাই বলা চলে, বন্ধুরা কেউবা সিগারেট জন্য, কেউবা কারো সন্ধানে , কথার মার প্যচে জমে আছে । বিয়ে বাড়িতে যেমনটি হয় । আমি যাকে বিয়ে করেছি তার নাম রোমনা, প্রথম থেকেই তাঁকে আমার রং রং মনে হলেও, যেদিন দেখতে পেয়েছিলাম সেদিন থেকেই কেমন যেন বেরং মনে হয়েছিলো । তবুও তাকেই আমার পছন্দ হলো, আমি যখন সবার সামনে ঘটক মশাইকে বললাম মেয়ে আমার পছন্দ হয়েছে, রোমানার অবাক কড়া ঘোলাটে চাহনী আমার দৃষ্টি এড়ায়নি । আমি তার হাতে উপহারের থলে ধরিয়ে দিতে দিতে তাঁকে আন্দরে চলে যেতে বললাম। ঘটক আবু সিদ্দিক আমাকে বলেই ফেললেন,“ কথা কইলানা বাত্তা কইলানা এইডা কমুন মইয়া দেখলা বাবা?
-কথা বলবার কি আছে, বাবা-মা, বংশ পরিচয়, মেয়ের যোগ্যতা সবইতো আগে বলেছেন, দেখবার বাকী ছিলো , দেখলাম, ইনি সুন্দর- আমার পছন্দ হয়েছে ।- আমি বললাম ।
আমি আবারও রোমানার দিকে তাকালাম । কিছুক্ষন আগেও রোমানা নতমূখী ছিলো এবার তার মুখটা একটু উচুঁ, চোখের পাতা দুটো কপল ছুঁই -ছুঁই, বুঝলাম আমাকেই দেখছে, রোমানার চেহরায় সন্ধ্যার আবির মাখানো, সুতার শরীরে চঞ্চলতার সুর ভাষছে যেন গভীর ঘুম হতে কোন কিশোরী এইমাত্র তারুন্যে পা দিলো , আমি মুন্ধ হলাম তার জাগরনে। অধর কাঁপিয়ে সে খানিকটা হাসলো- আমি আস্বস্ত হলাম ।
বললাম, আপনি যেতে পারেন ।
প্রত্যেকটি নারীর হাটার ছন্দে তার জীবনের ঘটনা প্রবাহের ছোট্ট ছোট্ট চালচিত্র আঁকা থাকে । আমার ইচ্ছের আয়না রোমানার বারন্ত বয়সের চালচিত্রের খানিকটা পড়তে চাইলো কিন্তু আমি পরজিত হলাম। শিকার ধরবার আকাঙ্খায় আমার চুল হতে শুরু করে পায়ের পাতা পর্যন্ত সবটাই বহুদিনের অভুক্ত মানুষখেকো শিকাড়ী বাঘ হতে চাইলো । উঠে দাড়ালাম , পাগলামী হয়ে যাচ্ছে কিন্তু কিছু করার নেই । রোমানা আন্দরে যাবার আগ মুহুর্ত পর্যন্ত দাড়িয়ে রইলাম। নিজের জৈবিক আকাঙ্খার বহি:প্রকাশ পাচ্ছে সাধারন হয়ে যায় তাই বৈঠকখানায় বসা সকলের মুখপানে নিঃচ্ছিদ্র হাসি ছুড়ে দিয়ে “মাফ করবেন” নামক রোরখার ভদ্রতায় ঢেকে দিলাম নিজেকে।
মনে মনে ভাবলাম এমন ভদ্র পাত্র বাবা এবং মেয়ে চাইলেই পায়ে ঠেলে দিতে পারবে?  অবশ্য রোমানার মা থাকলে হয়তো আমার এই ভদ্রতার মুখোশটা থাকতোনা কেননা মেয়ে মানুষের তৃতীয় একটা চোখ তাদের লম্বা চুলের আড়ালে লুকিয়ে থাকে- যেটা দিয়ে তাঁরা পুরুষের ভিতরের পুরোটাই পড়তে পারে, পিছনের দিকটাও দেখতে পারে । রোমানারও নিঃশ্চই ব্যতিক্রম কিছু ঘটেনি ।

আমি কি অন্য মনষ্ক হয়ে যাচ্ছি ভাবতেই রোমানার বাবাকে উদ্দেশ্য করে ঘটক মশাইকে বললাম, রোমানার যদি আমার ব্যাপারে আপত্তি না থাকে তবে আপনি এক দিন সময় করে আমার বাবা- মায়ের মতামত নিয়ে বিয়ের দিন তারিখ ঠিক করে সম্পর্ক পাকা করে যাবেন । কিন্তু আমাকে কি তার পছন্দ হবে?

আবু সিদ্দিক ঘটক মশাই সংগে সংগে রোমানার বাবাকে বললেন মাইয়াডারে ডাকেন আর একবার, বাবাজি, অহনই তার মতামতটা জাইন্না লও ।
আমি অন্দর মহলের দরজায় দিকে সাবার সাথে তাকালাম । বৈশাখ মাসের পোড়া বিকাল, মাথার উপরে সর্বোচ্চ গতিতে পাখা ঘুড়ছে । টের পেলাম, হাতের মুঠোয় ধরে রাখা দরজার পর্দা মুক্তি পেয়ে পাখার বাতাসের গতি ভঙ্গ করলো, অর্ধেক ছায়া অর্ধেক মানবী রুমানা দাড়িয়ে, পিছন ফিরলো এবং হারালো, জলের পেয়ালার জল তরঙ্গের শব্দ শুনতে পেলাম, আমি নিশ্চিন্ত হলাম।

চলবে-

Related posts