March 23, 2019

ছাড় দিয়ে সমঝোতা চাইছেন ট্রাম্প, অনড় ডেমোক্র্যাটরা

মেক্সিকো সীমান্তে দেয়াল নির্মাণ এবং সরকারে চলমান আংশিক অচলাবস্থা নিরসনে নতুন প্রস্তাব দিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। তিনি তথাকথিত ড্রিমার প্রজেক্টে কিছু ছাড় দেওয়ার বিনিমনে তাঁর দেয়াল প্রকল্পের জন্য ৫৭০ কোটি ডলার চেয়েছেন। ড্রিমার হিসেবে পরিচিত প্রায় সাত লাখ মানুষ শৈশবে মা-বাবার সঙ্গে অবৈধভাবে যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশ করে। এদের বিষয়ে ডেমোক্র্যাটরা সমব্যথী বলেই পরিচিত।

তবে গত শনিবার এ প্রস্তাব দিয়ে টেলিভিশনে ট্রাম্প ভাষণ দেওয়ার আগেই তা নাকচ করে দেয় ডেমোক্র্যাটরা। যুক্তরাষ্ট্রে চলমান অচলাবস্থা এরই মধ্যে ২৯ দিন অতিবাহিত করেছে। যুক্তরাষ্ট্রের ইতিহাসে এবারের অচলাবস্থাই সবচেয়ে দীর্ঘ। এর কারণে প্রায় আট লাখ ফেডারেল কর্মচারীর বেতন আটকে আছে।

ট্রাম্প তাঁর শনিবারের ভাষণের শুরুতে বলেন, অভিবাসীদের স্বাগত জানানোর দীর্ঘ গর্বিত ইতিহাস রয়েছে যুক্তরাষ্ট্রের। তবে দীর্ঘদিন আগেই এ ব্যবস্থা ভেঙে পড়েছে। তিনি বলেন, এ ব্যবস্থায় যে অচলাবস্থা তৈরি হয়েছে তা তিনি ভাঙতে চান। একই সঙ্গে সরকারে চলমান অচলাবস্থার ইতি টানতে কংগ্রেসকে একটি যথাযথ পথনির্দেশনা দিতে চান তিনি।

এরপর তিনি দেয়াল নির্মাণের প্রয়োজনীয়তা আবারও তুলে ধরেন। তিনি জোর দিয়ে বলেন, সীমান্তে টানা কাঠামো নির্মাণ করা হবে না। বরং প্রয়োজনীয় স্থানগুলোতে ইস্পাতের বেড়া দেওয়া হবে। তবে তাঁর অর্থের চাহিদা আগের মতোই ৫৭০ কোটি ডলার বলে জানান। এর পরিবর্তে তিনি ড্রিমার এবং সাময়িক সুরক্ষা মর্যাদাধারীদের (টিপিএস) আরো তিন বছরের জন্য রেয়াত দেওয়ার প্রস্তাব দেন। এ সময় এ প্রকল্পের লোকগুলোকে বাড়ি ফেরত পাঠানো হবে না। বর্তমানে একটি বিশেষ প্রকল্পের আওতায় এদের যুক্তরাষ্ট্রে বসবাসের সুবিধা দেওয়া হচ্ছে। এর আওতায় তারা কাজ করার বৈধ সুযোগ পাবে, তবে কখনোই তাদের নাগরিকত্ব দেওয়া হবে না। অন্যদিকে টিপিএস প্রকল্পের আওতায় যুক্তরাষ্ট্রে বাস করছে তিন লাখ মানুষ। ট্রাম্প প্রেসিডেন্ট নির্বাচিত হওয়ার আগে থেকেই এ দুটি প্রকল্পের তীব্র বিরোধী। প্রকল্প বাতিল করে দেওয়ার হুমকিও দিয়েছেন বহুবার।

এ ছাড়া ৮০ কোটি ডলারের আরেকটি প্রকল্পের কথা বলেছেন ট্রাম্প। এর মধ্যে রয়েছে মানবিক সহায়তা, আরো আড়াই হাজারেরও বেশি সীমান্তকর্মী নিয়োগ এবং অভিবাসনসংক্রান্ত বিচারকদের দলে ৭৫ জন বিচারক নিয়োগ। এই প্রস্তাবটি ভাষণের পর দেওয়া হয়। ট্রাম্প বলেন, তাঁর প্রস্তাবগুলো যৌক্তিক এবং এতে প্রচুর ছাড় দেওয়া হয়েছে। এগুলো ‘আস্থা ও শুভকামনা তৈরি করবে।’

তবে সিনেটে রিপাবলিকান নেতা মিচ ম্যাককোনেলের সঙ্গে আলোচনা করে দেওয়া ট্রাম্পের প্রস্তাবগুলো ব্যর্থ হবে বলেই মনে করা হচ্ছে। কারণ ডেমোক্র্যাটরা এই প্রস্তাবে আশ্বস্ত নয়। তারা সরাসরি ট্রাম্পের প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করেছে। কংগ্রেসের নিম্নকক্ষ হাউস অব রিপ্রেজেন্টেটিভসের স্পিকার ন্যান্সি পেলোসি বলেন, ‘ট্রাম্পের আগে দেওয়া বেশ কিছু প্রস্তাবের সমন্বয় হলো এবারের প্রস্তাবগুলো, যার বেশির ভাগ অতীতেই প্রত্যাখ্যান করা হয়েছে। এর কোনোটিই গ্রহণযোগ্য নয়। এত দিন ধরে অনিশ্চয়তার মধ্যে থাকা মানুষগুলোর জন্য ট্রাম্পের বক্তব্যে একটি শব্দও খরচ করা হয়নি।’

দুই পক্ষের অবস্থান থেকে এটা স্পষ্ট যে চলমান সংকট খুব তাড়াতাড়ি মিটবে না। ট্রাম্প প্রেসিডেন্ট নির্বাচন শুরু করার সময় থেকেই এই দেয়াল নির্মাণের কথা বলে আসছেন। শুরুতে তিনি বলেন, এর নির্মাণ ব্যয় বহন করবে মেক্সিকো। তবে মেক্সিকো সাফ জানিয়ে দিয়েছে, কোন পয়সা দেবে না তারা। এরপর ট্রাম্প কংগ্রেসের কাছে ৫৭০ কোটি ডলার দাবি করেন। এতে কংগ্রেস রাজি না হলে সরকারের প্রয়োজনীয় তহবিল বরাদ্দে সই করতে অস্বীকৃতি জানান ট্রাম্প। তিনি এ অবস্থান নেওয়ায় গত ২২ ডিসেম্বর থেকে সরকারে আংশিক অচলাবস্থা দেখা দেয়, যা এখনো অব্যাহত রয়েছে। এর মধ্যে বিরোধী ডেমোক্র্যাটদের সঙ্গে বেশ কয়েক দফা বৈঠক হয়েছে সরকারের। তবে কোনো ফলাফল তৈরি হয়নি। এই অচলাবস্থার কারণে প্রায় আট লাখ সরকারি কর্মচারীর বেতন বন্ধ হয়ে আছে। এদের মধ্যে এফবিআইয়ের কর্মী থেকে শুরু করে বিমান ট্রাফিক কন্ট্রোলারও রয়েছে।

Related posts