September 22, 2018

ছাত্রলীগের মিছিলে ‘খালেদার নামে স্লোগান’<<মাথা ফাটল সম্রাটের

ঢাকাঃ  ক্যাম্পাসের বাইরে ছাত্রদলের কর্মসূচিতে দেখা যেত তাকে, আবার ক্যাম্পাসে ছাত্রলীগের কর্মসূচিতেও নিয়মিত ছিলেন তিন; কিন্তু শেষ রক্ষা হয়নি জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের এই ছাত্র ইয়ামিন ওসমান সম্রাটের।

বুধবার দুপুরে ক্যাম্পাসে ছাত্রলীগের একদল কর্মীর বেধড়ক মারধরে আহত হয়ে ইসলামিক স্টাডিজ বিভাগের ১০ম ব্যাচের এই শিক্ষার্থী এখন রাজধানীর কাকরাইলের ইসলামী ব্যাংক হাসপাতালে চিকিৎসাধীন।

সম্রাটকে অনুপ্রবেশকারী আখ্যায়িত করে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রলীগের সাংগঠনিক সম্পাদক সাইদুর রহমান জুয়েল বলেছেন, “ছাত্রলীগের মিছিলে খালেদার স্লোগান দেওয়ায় আমার কর্মীরা তাকে মারধর করেছে।

“ছাত্রলীগকে যে কোনো মূল্যে ছাত্রদল-শিবিরের অনুপ্রবেশকারী মুক্ত করা হবে, আজকের ঘটনা তার দৃষ্টান্ত।”

এর আগে গত ১৭ মে শেখ হাসিনার স্বদেশ প্রত্যাবর্তন দিবসে ক্যাম্পাসে ছাত্রলীগের মিছিলে অংশ নিয়ে এক কর্মী ‘খালেদার সরকার বারবার দরকার’ বলে স্লোগান দিয়ে মারধরের শিকার হন। হাসিবুর রহমান বাঁধন নামে ওই ছাত্রও বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রলীগের যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদক প্রিন্সের অনুসারী।

জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রলীগে অনেক ‘অনুপ্রবেশকারী’ থাকার অভিযোগ সরকার সমর্থক সংগঠনটির কেন্দ্রীয় নেতাদের মুখ থেকেও আসে বহু বার এসেছে।

তবে সম্রাট দাবি করেছেন, তিনি ছাত্রদলের কর্মী, তাকে ‘জোর করে’ ছাত্রলীগের কর্মসূচিতে নিয়ে যাওয়া হত।

সম্রাটের মামা জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রদলের প্রচার সম্পাদক জুয়েল মৃধা বলেন, “সম্রাট আমার কর্মী। বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন এ ঘটনার বিচার না করলে আমরা ধর্মঘট ডাকব।”

সম্রাট বলেন, দুপুর ১২টার দিকে ক্লাস করে বের হওয়ার সময় বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রধান ফটকের কাছে ছাত্রলীগের কর্মীরা তার উপর হামলা চালায়।

হামলাকারীদের নাম জানাতে না পারলেও তিনি বলেন, “আমি তাদের চেহারা চিনি, তারা ছাত্রলীগ করে।”

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানিয়েছেন, সম্রাটকে মারধরের সময় জুয়েলের অনুসারী হাসিব, জুরান, নাসির, রাউসুল, শ্রাবণ, দীপ্ত ও আসিককে দেখা গেছে।

ছাত্রলীগের বিভিন্ন কর্মসূচিতে সম্রাটকে জগন্নাথ ছাত্রলীগের যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদক শাখাওয়াত হোসেন প্রিন্সের সঙ্গে অংশ নিতে বহুবারই দেখা গেছে।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে সম্রাট বলেন, “আমি ছাত্রদল করি। প্রিন্স আমার বিভাগের বড় ভাই। ভয় দেখিয়ে জোর করে ক্লাস থেকে আমাকে ছাত্রলীগের কর্মসূচিতে ডেকে নিয়ে যেত।”

সম্রাটের উপর হামলার বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর ড. নূর মোহাম্মদ বলেছেন, “অভিযোগ পেলে প্রশাসন এ বিষয়ে ব্যবস্থা গ্রহণ করবে।”

Related posts