December 15, 2018

ছাত্রজীবন (ভারতীয় সিরিয়াল ভার্সন)

১.

সাধারণ দৃশ্য: প্রতিবেশীসহ আত্মীয়দের জানিয়ে, আনন্দ-উদ্দীপনা নিয়ে শিশুর স্কুলে ভর্তি হওয়ার মুহূর্ত।
ভারতীয় সিরিয়ালের দৃশ্য: দীর্ঘদিন ধরে প্রচারণা চালিয়ে অবশেষে সিরিয়াল শুরু হলো আজ থেকে।

২.
সাধারণ দৃশ্য: পড়াশোনা এবং স্কুলব্যাগের চাপে শিশু যখন দিশেহারা তখন মা-বাবার বহুল ব্যবহৃত উক্তি, ‘প্রাইমারিটা শেষ করো। হাইস্কুলে উঠলে আর এত পড়তে হবে না।’
ভারতীয় সিরিয়ালের দৃশ্য: নানা দিকের ষড়যন্ত্রে নায়িকা যখন অতিষ্ঠ, হাল ছেড়ে দিয়ে অন্য কোথাও চলে যাবে; এমন মুহূর্তে অনেক খারাপ আত্মীয়ের ভিড়ে হারিয়ে যাওয়া একজন ভালো আত্মীয় এসে বলবে, ‘তোকে এভাবে ভেঙে পড়লে চলবে না। ধৈর্য ধর। তোরও একদিন ভালো দিন আসবে।’

৩.
সাধারণ দৃশ্য: হাইস্কুলের পাঠও প্রায় শেষ। তবুও পড়াশোনার চাপ কমার বদলে দিন দিন দ্রব্যমূল্যের মতো বাড়ছে দেখে ছাত্রের অভিযোগ এবং সেই অভিযোগের প্রত্যুত্তরে মা-বাবা, ‘আরে, এত অধৈর্য হলে চলবে? সামনে এসএসসি পরীক্ষা দিবি। এখন তো একটু পড়তেই হবে। ইন্টারে উঠলে আর পড়তে হবে না, দেখিস।’
ভারতীয় সিরিয়ালের দৃশ্য: নায়িকার ভালো দিন আসার বদলে উল্টো নায়িকার স্বামী আরও দুটি বিয়ে করে ফেলল। এমন মুহূর্তে নায়িকার হতাশার কথা শুনে ভালো আত্মীয়টির উক্তি, ‘হাল ছেড়ে দিস না। ও যদি তোর হয়ে থাকে, তাহলে আরও সাতটা বিয়ে করলেও শেষ পর্যন্ত তোর কাছেই ফিরে আসবে।’

৪.
সাধারণ দৃশ্য: পরীক্ষায় একবার রেজাল্ট খারাপ করাতে প্রতিবেশী আন্টি-সমাজের কাছে ছাত্রের মান আর রইল না। এমনকি ছাত্রের মা-বাবাকেও বহু খোঁচা-সংবলিত লেকচার শুনতে হলো।
ভারতীয় সিরিয়ালের দৃশ্য: নায়িকার কোনো একটা ভুল পাওয়ার পর বাড়ির কোনো এক আত্মীয় এসে ‘ছি ছি’ করবেন। যদিও তিনি কোন সম্পর্কে, কোন যুক্তিতে এ বাড়িতে থাকেন; তা কারোরই বোধগম্য নয়।

৫.
সাধারণ দৃশ্য: এসএসসি পাস করে ছাত্রটা কলেজে উঠে যখন দেখল, এখানে আরও বেশি পড়তে হয়, তখন মা-বাবার আরও একবার সান্ত্বনার বাণী শোনার পর ছাত্রের চেহারার দিকে আর তাকানো যায় না।
ভারতীয় সিরিয়ালের দৃশ্য: যা হওয়ার কথা ছিল, তা না হয়ে অন্য কিছু হওয়াতে চারদিকে বিনা মেঘে বজ্রপাত শুরু হবে এবং সবার চেহারা প্রতিটি বজ্রপাতের সঙ্গে একবার একবার করে ভেসে উঠবে টিভির পর্দায়।

৬.
সাধারণ দৃশ্য: দুই বছরের কলেজজীবন শেষ করে বিশ্ববিদ্যালয়ে উঠে ছাত্র যখন দেখল, পড়াশোনা শেষ হতে আরও পাঁচ-ছয় বছর লাগবে, তখন সে ধরেই নিল, এ জীবন শেষ হওয়ার নয়। সময় কমার পরিবর্তে শুধু বাড়তেই থাকে।
ভারতীয় সিরিয়ালের দৃশ্য: ৩০ মিনিটের নাটক দেখানোর পরিবর্তে এবার একটা মহাসপ্তাহ করে ৬০ মিনিটের নাটক দেখানো যাক। যেখানে নায়িকার দুঃখে জনতা আরও অতিরিক্ত ৩০ মিনিট দুঃখিত হবে।

৭.
সাধারণ দৃশ্য: ছাত্রজীবন শেষ হচ্ছে না। এমন দুঃখের দিনে পরীক্ষাও বারবার পিছিয়ে দেওয়া হচ্ছে।
ভারতীয় সিরিয়ালের দৃশ্য: নাটকে মানুষ যখন আবেগে খুব বেশি দুঃখিত হয়ে পড়ছে এবং এবার একটা ভালো কিছু হবে ভেবেই আগ্রহ নিয়ে তাকিয়ে আছে, ঠিক তখনই টিভির পর্দায় ভেসে উঠল, আগামী পর্বে যা দেখবেন…

৮.
সাধারণ দৃশ্য: যে সময়ের মধ্যে ছাত্রজীবন শেষ হওয়ার কথা, সে সময়ের মধ্যে শেষ না হওয়ায় ছাত্রের মনে অনেক কষ্ট, ক্ষোভ, হতাশা কাজ করছে। তবুও সে ধৈর্য ধারণ করে এর শেষ দেখতে এগিয়ে যাচ্ছে। যদিও এবার আর আশার বাণী কেউ শোনায়নি।
ভারতীয় সিরিয়ালের দৃশ্য: নাটক যেখানে শেষ হয়ে যাওয়ার কথা, সেখানে শেষ না হয়ে অযৌক্তিক বিষয় এনে নাটক দীর্ঘায়িত করা হচ্ছে। আর আমরাও তা ছাত্রের মতো ধৈর্য ধরে গলাধঃকরণ করেই যাচ্ছি।

Related posts