November 14, 2018

ছাতনী গণহত্যা দিবস আজ

জুবায়ের হোসেন,
নাটোর প্রতিনিধিঃ
আজ ৪ জুন নাটোরের ছাতনী গণহত্যা দিবস। একাত্তরের সালের এদিন রাতে হানাদার বাহিনীসহ কয়েকশ বিহারী ছাতনী গ্রামসহ আশপাশের ১০টি গ্রামে ঢুকে ঘুমন্ত মানুষদের ধরে পিঠমোড়া করে বেঁধে ছাতনী স্লুইচ গেটে এনে জড়ো করে। প্রথমে গুলি ও ধারালো অস্ত্র দিয়ে খুঁচিয়ে এবং জবাই করে হত্যা করে। তাদের মৃত্যু নিশ্চিত করতে মুখে এসিড দিয়ে ঝলসানো হয়। পরে এসব শহীদদের লাশ ছাতনী স্লুইচ গেটসহ আশেপাশের পুকুর ও ডোবায় মাটিচাপা দেয়া হয়।

১৯৭১ সালের নাটোরের ছাতনী গ্রামের গণহত্যার সেই নৃশংস ও হৃদয় বিদারক কথা আজও এ এলাকার মানুষের মনে নাড়া দেয়।

১৯৭১ সালের ৪ জুন হানাদার বাহিনী ও তাদের দোসরদের হাতে শহীদ হন চার শতাধিক বাঙালি। একাত্তরের মুক্তিযুদ্ধে হানাদার বাহিনীর উত্তরাঞ্চলের হেড কোয়ার্টার ছিল নাটোরে। মুক্তিযুদ্ধের নয় মাস হানাদার বাহিনী ও তাদের দোসর রাজাকার-আলবদররা নাটোরের বিভিন্ন স্থানে গণহত্যা চালিয়েছে। এর মধ্যে নাটোর সদর উপজেলার ছাতনী গ্রামের গণহত্যা ছিল নৃশংস ও হৃদয়বিদারক। নাটোর শহর থেকে প্রায় ৭ কিলোমিটার পশ্চিমে ছাতনী গ্রামের অবস্থান।

হানাদার বাহিনীসহ কয়েকশ বিহারী ৪ জুন গভীর রাতে ছাতনী গ্রামসহ আশপাশের নারীবাড়ি, শিবপুর, পণ্ডিতগ্রাম, বারোঘড়িরা, ভাটপাড়া, আমহাটি, ভাভনি, হাড়িগাছা, রঘুনাথপুর ও বনবেলঘরিয়াসহ ১০টি গ্রামে ঢুকে ঘুমন্ত মানুষদের হত্যা করে। যাদের এতোবড় আত্মত্যাগের বিনিময়ে দেশ স্বাধীন হয়েছে তাদের পরিবারের সদস্যদের ভাগ্যে জোটেনি আজও কোনো সরকারি সাহায্য-সহযোগিতা।

শহীদ পরিবারের সদস্য ও স্থানীয় মুক্তিযোদ্ধাদের আজও মেলেনি রাষ্ট্রীয় স্বীকৃতি। এখানে একটি স্মৃতিস্তম্ভ নির্মাণ করে প্রতিবছর স্থানীয় লোকজন দিবসটি পালন করলেও রাষ্ট্রীয়ভাবে দিনটি পালন করার কোনো উদ্যোগই নেয়া হয়নি।

সবার নাম সংগ্রহ করতে না পারায় মোট ৬৪ জনের নাম খোদাই করে রাখা হয়েছে। স্বাধীনতার ৪৩ বছরেও সরকারি স্বীকৃতি না পাওয়ায় আক্ষেপ করেন স্থানীয়রা। এলাকাবাসী ও মুক্তিযোদ্ধাদের দাবি ছাতনী গণহত্যার দিনটিকে রাষ্ট্রীয়ভাবে স্বীকৃতি দেয়া হোক। সেইসঙ্গে দেশের শুরু হওয়া মানবতাবিরোধীদের সঙ্গে ছাতনী গণহত্যার ইন্ধনদাতাদেরও দ্রুত বিচার শুরু করার দাবি জানান।

ছাতনী গণহত্যায় শহীদ মনির উদ্দিন সরকারের ছেলে দুলাল সরকার জানান, ২০১১-১২ অর্থ বছরে জেলা পরিষদ এখানে একটি স্মৃতিসৌধ নির্মাণ করেন। তবে এখানে আরো সংস্কার প্রয়োজন। তাই শহীদদের তালিকা করে তাদের মূল্যায়ন করা হোক। স্মৃতিসৌধ নির্মাণ হলে নতুন প্রজন্ম ১৯৭১ সাল সম্পর্কে জানতে পারবে।

দ্যা গ্লোবাল নিউজ ২৪ ডটকম/রিপন/ডেরি ৫ মে ২০১৬

Related posts