September 24, 2018

ছাতকে মূল লড়াই আ’লীগ-বিএনপির মধ্যেই!

চানে মিয়া,সুনামগঞ্জ থেকেঃ  ছাতক পৌরসভা নির্বাচনের আর মাত্র চার দিন রয়েছে। ৩০ডিসেম্বর সকাল ৮টা থেকে বিকেল ৪টা পর্যন্ত ১৮টি কেন্দ্রে একটানা ভোট গ্রহন করা হবে। এখানে কাউন্সিলর ও সংরক্ষিত আসনের প্রার্থীদের জয়-পরাজয়ে ভোটারদের কোন মাথা ব্যথা নেই। তারা মেয়র প্রার্থীদের নিয়ে হিসেক-নিকেশ করছেন। এবারে কে- হচ্ছেন শিল্পনগরী খ্যাত ছাতক পৌরসভা মেয়র। ছাতক পৌর নির্বাচনে বর্তমান মেয়র আবুল কালাম চৌধুরী (নৌকা), সাবেক পৌর চেয়ারম্যান ও আ’লীগ নেতা আবদুল ওয়াহিদ মজনু স্বতন্ত্র (মোবাইল) এবং শামছুর রহমান শামছু (ধানের শীষ) প্রতীক নিয়ে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। সংরক্ষিত আসনে ১১প্রার্থীর মধ্যে রয়েছেন ৯জন।

দু’জন তাদের প্রার্থীতা প্রত্যাহার করে নিয়েছেন। কাউন্সিলর পদে ৩১জন মনোনয়নপত্র জমা দিলে সেখান থেকেও ১জন প্রার্থীতা প্রত্যাহার করে নেন। এখন ৩জন মেয়রসহ সংরক্ষিত আসনে ৯ এবং ৩০জন কাউন্সিলর প্রার্থীরা প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। ৩ডিসেম্বর উপজেলা নির্বাচন অফিসে ৩মেয়রসহ মোট ৪৫জন প্রার্থী মনোনয়নপত্র জমা দেয়ার পর ১৪ডিসেম্বর প্রতীক বরাদ্ধ হয়। এরমধ্যে মনোনয়নপত্র যাচাই-বাচাই ও প্রার্থীতা প্রত্যাহারে সময়সীমায় সংরক্ষিত আসনের দু’জন ও কাউন্সিলর পদে ১জন প্রার্থীসহ মোট ৩জন প্রত্যাহার করে নেয়। এরমধ্যে স্বতন্ত্র প্রার্থী সাবেক পৌর চেয়ারম্যান আ’লীগ নেতা আবদুল ওয়াহিদ মজনুকে ঋন খেলাপির কারণে মনোনয়নপত্র বাতিল করে দেয়া হয়।

পরে তিনি উচ্চ আদালতে রিট আবেদন করে প্রার্থীতার বৈধতা পান। এখানে নৌকা এবং ধানের শীষ প্রতীকের মধ্যে নির্বাচনে মূল লড়াইটি অনুষ্ঠিত হবে। পৌরসভায় মোট ২৬হাজার ৩শ’ ৯৫ভোটারের মধ্যে পুরুষ ১৩হাজার ৫শ’ ৫৫ এবং মহিলা ১২হাজার ৮শ’ ৪০জন। আওয়ামীলীগের সাবেক পররাষ্ট্রমন্ত্রী প্রয়াত আবদুস সামাদ আজাদের আর্শিবাদপুষ্ট টানা দু’বারের নির্বাচিত বর্তমান মেয়র আবুল কালাম চৌধুরী বরাবরের ন্যায় এবারের ও হেভিওয়েট প্রার্থী। তার বিপরিতে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করার জন্য বিএনপির একজন হেভিওয়েট প্রার্থীর প্রয়োজন ছিল।

কিন্তু এরপরও বিএনপির নবাগত প্রার্থী শামছুর রহমান শামছু প্রচার-প্রচারনায় ও কোনভাবে পিছিয়ে নেই। বিএনপি যোগ্য প্রার্থী দিলে এখানে তাদের বিজয়ের সম্ভাবনা ছিল বলে অভিজ্ঞমহলের ধারণা। স্বতন্ত্র মেয়র প্রার্থী সাবেক পৌর চেয়ারম্যান আবদুল ওয়াহিদ মজনু স্থানীয় সংসদ সদস্য মুহিবুর রহমান মানিকের আর্শীবাদপুষ্ট বলে জানাগেছে। তিনি চেয়ারম্যান নির্বাচিত হয়ে পৌরসভার অসংখ্য উন্নয়নমূলক কার্যক্রম পরিচালনা করেছেন। তার রয়েছে এমপি মানিক বলয়ের ভোট ব্যাংক। গেল ১৯৯৯সালে ২৭ফেব্রুয়ারী অনুষ্ঠিত প্রথম পৌরসভা নির্বাচনে চেয়ারম্যান পদে আওয়ামীলীগের প্রার্থী আবদুল ওয়াহিদ মজনু নির্বাচিত হন। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বি ছিলেন বিএনপির সৈয়দ মোহাম্মদ তিতুমীর ও বিএনপির অপর প্রার্থী মাহফুজ শিপলু।

২য় ও ৩য় পর্যায়ে ছাতক পৌরসভা নির্বাচনে আবুল কালাম চৌধুরী বিজয়ী হন। ৩০ডিসেম্বরের ৪র্থ পর্যায়ে পৌর নির্বাচন অনুষ্ঠিত হচ্ছে। ২য় বারের নির্বাচনে আ’লীগের হেভিওয়েট প্রার্থী আবুল কালাম চৌধুরীর সাথে বিএনপির একক প্রতিদ্বন্দ্বি ছিলেন মাহফুজ শিপলু। তিনি পরাজিত হবার পর যুক্তরাজ্য গিয়ে সেখানে স্থায়ীভাবে বসবাস শুরু করেন। ৩য় নির্বাচনে বিএনপি এখানে কোন প্রার্থী দেয়নি। এনির্বাচনে আওয়ামীলীগের আবদুল ওয়াহিদ মজনু, সাইফুর রহমান চৌধুরী খোকন প্রার্থী থাকার পরও অপর আ’লীগের হেভিওয়েট প্রার্থী আবুল কালাম চৌধুরী পূনরায় মেয়র নির্বাচিত হন।

১৬বছরের পথচলা ছাতক পৌরসভা এগ্রেডে উন্নীত হয় এবং পর পর ৩টি নির্বাচনেই আওয়ামীলীগ মেয়র প্রার্থী বিজয়ী হয়। এরমধ্যে প্রয়াত সাবেক পররাষ্ট্রমন্ত্রী আবদুস সামাদ আজাদ বলয়ের আবুল কালাম চৌধুরী টানা দুবার ও সংসদ সদস্য মুহিবুর রহমান মানিক বলয়ের আবদুল ওয়াহিদ মজনু একবার নির্বাচিত হন। এবারের পৌর নির্বাচনে মনোনয়ন দাখিলের পর থেকে প্রার্থীদের প্রচার-প্রচারনায় শহর জুড়ে উৎসবের আমেজ বিরাজ করছে। পোষ্টারে পোষ্টারে ছেয়ে গেছে শহরের পুরো অ ল। প্রচারণার শেষ পর্যায়ে এসে আরো সরগরম হয়ে উঠেছে নির্বাচনী এসব এলাকা। প্রার্থীরা দিন-রাত প্রচারনায় ব্যস্ত সময় পার করছেন। প্রার্থী ও তার সমর্থকরা ঘুরছেন ভোটারদের দ্বারে দ্বারে। তারা বিভিন্ন প্রতিশ্রুতি দিয়ে ভোটারদের কাছ থেকে ভোট আদায়ের চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন।

শহরের বিভিন্ন অলি-গলি, বাসা-বাড়ি, চায়ের দোকান ও হোটেল-রেস্তোরায় ভোটের হিসেব-নিকেশ নিয়ে ব্যস্ত কর্মী-সমর্থক এবং ভোটাররা। কে পরবেন বিজয়ের মালা এ প্রত্যাশায় ৩০ডিসেম্বরের অনুষ্ঠিতব্য নির্বাচনের দিকে চেয়ে আছেন পৌরবাসী। সুনামগঞ্জ জেলা নির্বাচন কমিশনার ও উপজেলা রিটার্নিং অফিসার সাদেকুল ইসলাম বলেন, ছাতক পৌরসভা নির্বাচনে রয়েছে মোট ২৬হাজার ৩শ’ ৯৫ভোট। পুরুষ ভোটার ১৩হাজার ৫শ’ ৫৫ এবং মহিলা ভোটার ১২হাজার ৮শ’ ৪০জন। ৩ মেয়র প্রার্থীসহ প্রতিদ্বন্দ্বিতায় রয়েছেন মোট ৪২জন। ১৮টি কেন্দ্রে ৩০ডিসেম্বর নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। এতে সকল প্রস্তুতি গ্রহণ করা হচ্ছে। দুই তিন দিনের মধ্যে নির্বাচনের সকল সরঞ্জামাদি উপজেলায় পৌঁছার সম্ভাবনা রয়েছে বলে তিনি জানান।

দি গ্লোবাল নিউজ ২৪ ডট কম/রিপন/ডেরি

Related posts