September 23, 2018

ছবি কথা বলে শিক্ষা অফিস না ডাস্টবিন

এ কে আজাদ,
চাঁদপুর প্রতিনিধিঃ  
একটি ছবিতে অনেক কিছু অনুধাবন করা যায় বিধায় বলা হয়, ছবি কথা বলে।তবে অনুধাবন পরবর্তী প্রতিক্রিয়াটাও সবার একরকম হয় না। এ ধরনের একটি ছবি চাঁদপুর জেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসের সামনে থেকে ধারণ করা হয়েছে।

চাঁদপুর-কুমিল্লা মহাসড়কের দক্ষিণ পাশে শহর অংশে জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের পশ্চিম পাশে জেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিস। সাইনবোর্ডটি না থাকলে হয়তো সাধারণ মানুষের কাছে এটি বড়সড়ো একটি ডাস্টবিনই মনে হতো। এই ময়লার স্তুপ নিয়ে অভিযোগ অনেকেরই।

শহরের অনেক গুরুত্বপূর্ণ স্থানেই মিনি ডাস্টবিন রয়েছে কিন্তু খোদ বড়সড়ো ময়লার স্তুপ হয়ে জলাবদ্ধতার শিকার এখন চাঁদপুর জেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসটি।

চাঁদপুরে যে প্রতিষ্ঠানটি থেকে জেলার বিভিন্ন স্থানে প্রাথমিক শিক্ষা কার্যক্রম পরিচালিত হয়, সরকারি ছুটির দিন ব্যাতিত প্রায়ই শিক্ষকদের আনাগোনা দেখা যায় অফিসটিতে।কিন্তু এর সামনের অংশ এখন যেনো ডাস্টবিন।

প্রতিষ্ঠানটির কর্মকর্তারা জলাবদ্ধতা ও ময়লা আবর্জনার স্তুপে থেকে চরম দুর্গন্ধে অফিস করছেন।

ময়লার আবর্জনার স্তুপের পাশ দিয়ে হেঁটে যাওয়া এক পথাচারী বললেন, ‘রাস্তার মধ্যে থেকে এমন দুর্গন্ধ আমরা নাকে টিপ দিয়ে হাটি, ওনারা (শিক্ষা অফিসের কর্মকর্তারা) কিভাবে অফিস করেন?’

সম্প্রতি বৃষ্টিতে জলাবদ্ধতার সৃষ্টি হয়ে দুর্ভোগের মাত্রা আরো একধাপ যোগ হয়েছে। একটু বৃষ্টিতেই প্রাথমিক শিক্ষা অফিসের সামনের চত্ত্বরে হাঁটু পরিমাণ পানি জমে গেছে। চলাচল করার জন্য আপাতত কাঠের টেবিল রেখে যাতায়াত করছেন অফিসরে লোকজন।

পার্শ্ববর্তী পুকুর গুলো ময়লা আবর্জনায় ভরাট হওয়ায় সামন্য বৃষ্টি হলেই এখন অফিসের সামনে জলাবদ্ধতা স্থায়ীভাবে রূপ নেয়। সেখানকার পরিবেশ এতোটাই নোংরা কোন লোকজন ময়লা আবর্জনার দুর্গন্ধে সেখানে দাঁড়াতে পারে না।

শিক্ষা অফিসের কর্মকর্তারা জানান, প্রতিবছর জলাবদ্ধতার কারনে আমাদের কষ্ট ভোগ করতে হয়। সামনের ডোবাগুলো ময়লা-আবর্জনায় ভরাট হওয়ার কারনে বৃষ্টির পানি আটকে থাকে। কয়েক দিনের অতিরিক্ত বৃষ্টি হওয়ায় জলাবদ্ধতা আরো বেড়ে গেছে। এতে করে অফিসে আসা বিভিন্ন উপজেলার শিক্ষকরা ভেতরে যেতে পারছেন না।

এ ছাড়া সামনে একটি পুকুর ছিলো সেখানে পরিস্কার পরিচ্ছন্ন ভাবে ক’জন ব্যবসায়ী মাগুর মাছ চাষ করতো। কিন্তু বিগত কিছু দিনের মধ্যে সেখানে ডাবের খোসা সহ বিভিন্ন আবর্জনা ফেলে পুকুরটি ভরাট করে ফেলেছে সেখানকার লোকজন। যার ফলে পুরো শিক্ষা অফিসের সামনের পরিবেশটি নষ্ট হয়ে গেছে।’

চাঁদপুর পৌরসভার পক্ষ থেকে যদি এর কোনো ব্যবস্থা না নেয়া হয় তাহলে জেলা শিক্ষা অফিসের সৌন্দর্য অক্ষুন্ন থাকবে না বলে মনে করেন শহরবাসী।

Related posts