September 26, 2018

ছবিতে মসুলের আইএস যোদ্ধাদের অজানা জীবন

aএশিয়া ::

ইরাকের মসুল শহরে ইসলামিক স্টেটের তিন জন নিহত সদস্যের ব্যক্তিগত জিনিসপত্ত্রের মধ্যে পাওয়া গেছে এমন কিছু ছবি ও তথ্য যা তাদের জীবনের অজানা দিক বেরিয়ে এসেছে।

বিবিসির কুয়েনটিন সমারভিল ও রিয়াম দালাতির তৈরি করা এক সচিত্র রিপোর্টে এ নিয়ে বিস্তারিত তথ্য তুলে ধরা হয়েছে।

মসুলে টাইগ্রিস নদীর তীরে একটি খামারবাড়ি ও বাংকারের ওপর এক বিমান হামলার পর তিনজন আইএস যোদ্ধার মৃতদেহ পাওয়া যায়।তাদের কাছে যে অস্ত্র পাওয়া গেছে তার মধ্যে আছে এম-সিক্সটিন মেশিনগান – যার গায়ে লেখা ‘মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র সরকারের সম্পত্তি।’

এগুলো খুব সম্ভবত ইসলামিক স্টেট পেয়েছে ইরাক-সিরিয়ার বিস্তীর্ণ এলাকা দখলের সময় পলায়নরত ইরাকি সৈন্যদের ফেলে যাওয়া অস্ত্রভান্ডার থেকে।

একজন নিহত যোদ্ধার পাশে পড়ে ছিল আইএস কর্তৃপক্ষের দেয়া ছুটির অনুমতিপত্র।

একজন আইএস যোদ্ধার অনেকগুলো ছবি পাওয়া গেছে – যাতে তার বিভিন্ন সময়ে তোলা ছবি রয়েছে।

প্রথম দিককার ছবিগুলোতে তার চেহারায় বোঝা যায় -তার তরুণ বয়েসের সারল্য তখনো রয়ে গেছে। তার লম্বা চুল, মাঝখানে সিঁথি কাটা।

আরেকটিতে দেখা যাচ্ছে – পুরোপুরি সৈনিকের পোশাকে। কাঁধে তার রাইফেল।

তার মৃতদেহ তল্লাশি করে একটি মোবাইল ফোনের মেমোরি কার্ড পাওয়া যায়। যাতে আরো কিছু ছবি ছিল।এর মধ্যে একটি ছবি একদল আইএস যোদ্ধার। পরে জানা গেছে এটি মসুলের আইএস যোদ্ধাদের সহযোগী একটি দল। আরেকটি ছবিতে দেখা যাচ্ছে সম্ভবত ওই তরুণটির একজন সহযোদ্ধাকে। সে অপেক্ষাকৃত বয়স্ক, তবে তারও লম্বা চুল এবং মাঝখান দিয়ে সিঁথি কাটা। তার কালো দস্তানা পরা হাত তলপেটের ওপর রাখা। বোঝা যায় যে এখানে তার আত্মঘাতী বোমা বাঁধা রয়েছে এবং তার সুইচটি আড়াল করার জন্যই সে দস্তানা পরে আছে।

তারা যে বাড়িটিতে থাকতো, তাতে আরো ছিল ইসলামিক স্টেটের কর্তৃপক্ষের বিভিন্ন নোটিশ।

নভেম্বরের ১১ তারিখের একটি চিঠিতে দেখা যাচ্ছে আইএসের যুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রী বিশেষ বাহিনীতে আরো অধিকসংখ্যক লোক নিয়োগের আহ্বান জানাচ্ছেন।

একজন ডাবল এজেন্ট – যে ইরাকি বাহিনীর লোক হয়েও যে গুপ্তচর হয়ে ইসলামিক স্টেটের ভেতরে কাজ করেছে, – তার কথায় জানা গেছে দলটির অনেককে সে চিনতো, যার মধ্যে স্থানীয় এবং বিদেশী যোদ্ধা – উভয় ধরণের লোকই ছিল।

এদের মধ্যে কিছু বিদেশী যোদ্ধা স্থানীয় পরিবারের মেয়েদের বিয়ে করেছে এমন ঘটনাও ঘটেছে।

ডিসেম্বর মাসের নোটিশে আছে, যুদ্ধক্ষেত্র থেকে কেউ যাতে পালাতে না পারে তা ঠেকানোর বিভিন্ন নির্দেশ।

আবু আলি নামে একজন যোদ্ধার কাগজপত্র পাওয়া যায়, যে মর্টার শেল নিক্ষেপের প্রশিক্ষণ নিয়েছে। ২০১৬-১৭ সালে মর্টার বিষয়ে ‘পরীক্ষা’ দিয়ে ১০০% সম্বর পেয়ে পাস করেছে – এমন দলিলপত্রও দেখা গেছে।

ছবিতে যে আইএস যোদ্ধাদের দেখা যায় এদের অনেকের বয়সই অত্যন্ত কম। আইএস মনে করে ১৫-১৬ বয়েস হলেই ছেলেরা সৈনিক হবার উপযুক্ত হয়ে যায়।

আইএস নিয়ন্ত্রিত মসুল এখন পতনের মুখে।

বিবিসির সংবাদদাতা কুয়েনটিন সমারভিল দেখেছেন, টাইগ্রিস নদীর কাছে পড়ে থাকা আইএস যোদ্ধাদের তিনটি মৃতদেহ কয়েকদিনের মধ্যেই কুকুর বা অন্য প্রাণীতে খেয়ে ফেলেছে।

এই ছবিগুলোতে যাদের দেখা যাচ্ছে তাদের ভাগ্যে কি ঘটেছে তা জানা যায় নি।

Related posts