November 17, 2018

চ্যালেঞ্জে সিলেটের ৩ মেয়র প্রার্থী!

সিলেটের পৌর নির্বাচনে কঠিন চ্যালেঞ্জের মুখে পড়েছেন বর্তমান মেয়র প্রার্থীরা। নির্বাচনী প্রচারণায় অনেকেই পাননি ভোটারের সাড়া। কেউ কেউ পড়েছেন তোপের মুখে। এ ক্ষেত্রে অনেক বেশি এগিয়ে গেছেন নতুন প্রার্থীরা। তাদের নিয়েই ভোট ময়দানে দাপট দেখিয়েছেন নতুনরা। এ কারণে বর্তমানদের সিংহাসন হারানোর শঙ্কায় ভোটের মাঠে স্বস্তি নেই। উত্তাপ-উত্তেজনার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। ভোটারের মধ্যে শঙ্কা নেমে এসেছে। এই অবস্থায় নির্বাচনের পরিবেশ স্বাভাবিক রাখতে প্রশাসন থেকে বিজিবি, র‌্যাব ও পুলিশের বিশাল বহর গতকাল বিকাল থেকেই মোতায়েন করা হয়েছে।

সিলেটের গোলাপগঞ্জ পৌরসভায় বর্তমান মেয়র আওয়ামী লীগের জাকারিয়া আহমদ পাপলু, কানাইঘাটেও আওয়ামী লীগের মেয়র লুৎফুর রহমান ও জকিগঞ্জের মেয়র জাতীয় পার্টির আবদুল মালেক ফারুক। প্রচারণার শেষ দিন থেকেই গোলাপগঞ্জে ভোটের হিসাব পরিষ্কার হয়ে গেছে। এই পৌরসভায় তিনমুখী লড়াইয়ের আবহ তৈরি হয়েছে। বর্তমান মেয়র ও  আওয়ামী লীগ মনোনীত প্রার্থী জাকারিয়া আহমদ পাপলু এবার কঠিন চ্যালেঞ্জের মুখে পড়েছেন। তার প্রতিদ্বন্দ্বী হিসেবে এখানে দাপট দেখাচ্ছেন বিদ্রোহী প্রার্থী সিরাজুল জব্বার চৌধুরী ও বিএনপির মনোনীত প্রার্থী গোলাম কিবরিয়া শাহীন। বিএনপির ভোট এই পৌরসভায় নীরব ভূমিকা রয়েছে।

আর স্বতন্ত্র হিসেবে চমক দেখাতে পারেন আমিনুর রহমান লিপন। গত এক সপ্তাহ ধরে লিপনের ভোট বেড়েছে বলে নির্বাচনী বিশ্লেষকরা জানিয়েছেন। আর জকিগঞ্জের বর্তমান মেয়র জাতীয় পার্টির আবদুল মালেক ফারুক। এই পৌরসভায় শেষ মুহূর্তের প্রচারণায় এগিয়ে গেছেন বিএনপির প্রার্থী অধ্যাপক বদরুল হক বাদল ও আওয়ামী লীগের বিদ্রোহী প্রার্থী ফারুক আহমদ। আলোচনায় রয়েছেন আওয়ামী লীগ মনোনীত প্রার্থী মুক্তিযোদ্ধা কাজী খলিল উদ্দিনও। কিন্তু স্থানীয় আওয়ামী লীগ নেতারা বিদ্রোহী প্রার্থীর পক্ষে অবস্থান নেয়ার কারণে এই পৌরসভায় বর্তমান মেয়র প্রার্থী এবং আওয়ামী লীগ মনোনীত প্রার্থীর জন্য কঠিন চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি হয়েছেন। গতকাল পর্যন্ত এই পৌরসভায় বিএনপির ভোটাররা নীরব ভূমিকা পালন করেছেন। এ প্রসঙ্গে বিএনপির নেতারা জানিয়েছেন হামলা, মামলার আশঙ্কায় এই পৌরসভার বিএনপির ভোটাররা মুখ খুলছেন না।

শিক্ষিত ও সুশীল সমাজের প্রার্থী হওয়ার কারণে এ পৌরসভায় বিএনপির প্রার্থী বদরুল হক বাদল চমক দেখাতে পারেন। গেলো নির্বাচনেও এই পৌরসভায় বাদল প্রার্থী হয়েছিলেন। তিনি স্বল্প ভোটের ব্যবধানে পরাজিত হয়েছেন। এ পৌরসভায় এগিয়ে রয়েছেন আল ইসলাহর প্রার্থী কাজী হিফজুর রহমান। প্রখ্যাত আলেম আল্লামা আবদুল লতিফ চৌধুরী ফুলতলীর নিজ এলাকা হওয়ায় এখানে আল ইসলাহর ভোট ব্যাংক রয়েছে। আর আল ইসলাহর প্রার্থীর পক্ষে প্রচারণা চালিয়েছেন ফুলতলীর পরিবারের সদস্যরাও। কানাইঘাটে লড়াই হবে আওয়ামী লীগ ও বিএনপির মধ্যে। এ পৌরসভায় আওয়ামী লীগের প্রার্থী লুৎফুর রহমান উন্নয়ন ঘটাতে পারেননি বলে অভিযোগ বেশি। এ কারণে তার ভোট ব্যাংক অনেক কমেছে। একই সঙ্গে এ পৌরসভায় আওয়ামী লীগের বিদ্রোহী প্রার্থী রয়েছেন।

এ কারণে প্রচারনার শুরু থেকে কানাইঘাট পৌরসভায় বিজয় সুনিশ্চিত করতে কেন্দ্রীয় ও জেলা নেতারা ভোট প্রার্থনায় ব্যস্ত ছিলেন। তবে, এ পৌরসভায় বিএনপির বিজয় ছিনিয়ে নেয়ার আশঙ্কা করেছেন বিএনপির প্রার্থী রহিম উদ্দিন ভরসা। একাট্টা বিএনপি শেষ মুহূর্তে লড়াইয়ে অবতীর্ণ হওয়ায় প্রশাসনিক সহযোগিতা পাওয়া যাচ্ছে না বলেও অভিযোগ করেন তিনি। সিলেটের তিনটি পৌরসভায় এবার নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। ওই তিন পৌরসভা হচ্ছে- গোলাপগঞ্জ, জকিগঞ্জ ও কানাইঘাট। এ তিন পৌরসভা থেকে ২১ জন প্রার্থী মেয়র পদে লড়ছেন। এর মধ্যে গোলাপগঞ্জে ৭ জন, জকিগঞ্জে ৬ জন এবং কানাইঘাটে ৮ জন প্রার্থী রয়েছেন।

নিরাপত্তায় ৬ প্লাটুন বিজিবি: তিন পৌরসভায় নির্বাচন অবাধ, সুষ্ঠু ও নির্বিঘ্ন করতে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী কঠোরতর নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণ করেছে। সোমবার থেকে এ তিন পৌরসভায় মোতায়েন করা হয়েছে বিজিবি, র‌্যাব, পুলিশ ও আনসার বাহিনীর সদস্যদের। সিলেটের তিন পৌরসভায় ৬ প্লাটুন বিজিবি, ৩ প্লাটুন র‌্যাব, ৯ শতাধিক পুলিশ ও ৩ শতাধিক আনসার সদস্য মোতায়েন থাকছে। একই সঙ্গে ৩ জন জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট ও ১৮ জন নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট তিন পৌরসভায় দায়িত্ব পালন করবেন। সিলেটের জেলা প্রশাসক জয়নাল আবেদীন সাংবাদিকদের জানিয়েছেন, নির্বাচনকে অবাধ ও সুষ্ঠু করতে সবধরনের প্রস্তুতি নেয়া হয়েছে।

সিলেটের তিন পৌরসভার প্রতিটিতে ২ প্লাটুন করে বিজিবি, এক প্লাটুন করে র‌্যাব দায়িত্ব পালন করবে। এ ছাড়া, বিজিবি’র অতিরিক্ত এক প্লাটুন প্রস্তুত থাকবে। তিনি বলেন, প্রতিটি ভোট কেন্দ্রে পুলিশের একটি মোবাইল টিম দায়িত্ব পালন করবে। থাকবেন আনসার বাহিনীর সদস্যরাও। তিনি বলেন, সিলেটের ৩ পৌরসভার প্রতিটিতে একজন করে জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেটের নেতৃত্বে ৬ জন করে নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট দায়িত্ব পালন করবেন। এ ছাড়া প্রতিটি পৌরসভায় একজন করে অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক অবস্থান করবেন।

দি গ্লোবাল নিউজ ২৪ ডট কম/রিপন/ডেরি

Related posts